
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
এই বইটি পড়া এক অনন্য , অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। যাঁরা শশব্যস্ত , তাঁদের জন্যে এই বই নয়। যাঁরা একটু থেমে দম নিতে চান , শিল্পীর (খেয়াল করুন , লেখক বলছি না ) চোখ দিয়ে আবারো কিছুটা চেনা, অনেকটা অচেনা এক দেশ দেখতে চান যেখানে মানুষ আর প্রকৃতি এক বিচিত্র , রহস্যময় সংকেতে মিলেমিশে আছে , তাঁদের জন্যে এই বই। বইটি কিনুন , সংগ্রহে থাকুক। এই বইটি বারবার পড়ার বই অনেকটা জীবনানন্দের কবিতার মতো।
Was this review helpful to you?
or
আদরের দিন খুব তাড়াতাড়ি শেষ হলে প্রকৃতির নিয়মে সম্মুখীন হতে হয় কঠোরতা ও বিপন্নতার। "অক্ষয় মালবেরি"লেখকের আত্নজীবনীমূলক বই। লেখকের শৈশব হতে বাইশ বছর অব্ধি প্রামাণ্য চিত্র ও চরিত্রের সংকলন। গ্রামীণ সমাজের জীবন সম্মন্ধে লেখকের বর্ণনা এক ধরনের বিভ্রমের সৃষ্টি করেছিলো প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে। ★" ভাসাও তরুণী হে কর্ণধার। ছবির সেই প্রিন্টটির বাষট্টি বছর হল। এখনও সযত্নে রেখে দিয়েছি" আমার কাছে অদ্ভুত চরিত্র ছিলো লেখকের বাবা! কিছু সময় আমি কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে যায়, বয়ঃসন্ধিকালের সময় উল্লেখ্য কিছু পদক্ষেপ ও চিন্তাধারা দেখে! এমন পদক্ষেপই জানান দেয় শুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত হবার সোপান খুলছে ধীর পায়ে, "শক্তিজীবনি" পাঠ চার আনা দিয়ে "ব্রহ্মচর্য" কিনে পাঠ "মরনং বিন্দুপাতেন, জীবনং বিন্দুধারণাৎ। ★স্রস্টা নিয়ে ছিলেন তিনি বস্তুবাদী! ঈশ্বরভক্তি নয়, সাধুতত্ত্ব নয়, লেখকের টানতো সাধুর জীবন! ঐটিই শিল্পীর জীবন, যোদ্ধার জীবন, পুরুষের জীবন। তুলির ডগায় একটু এঁকেবেকে আচড় দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন নিজের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশবিশেষ! ফৌজদারিতে নিজেকে আত্ননিয়োগ করলেও, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নিজ ইচ্ছায় ফৌজদারিতে স্তফা দেন। " কলকাতায় ফিরে, ধোয়ার পরেও,বোতলটাতে বহুদিন রামের গন্ধ লেগে ছিল।আমার ভালো লাগত। একটা দূরে রেখে আসা জীবনের কথা মনে পড়ত।" সময় সল্পতার জন্য, ধীরে ধীরে শেষ হলো একধরনের অমোঘ মেঘ! সুখাদ্য হিসেবে "অমৃত" বললেও কম হয়!
Was this review helpful to you?
or
চমৎকার একটা বই
Was this review helpful to you?
or
স্মৃতিকথা এতো সুন্দরও হতে পারে!
Was this review helpful to you?
or
কবি মণীন্দ্র গুপ্তর জন্ম ১৯২৬ সালে অবিভক্ত বাংলার বরিশালের গৈলা গ্রামে। কৈশোর কাটিয়েছেন আসামের বরাক উপত্যকায় মামার বাড়িতে। একই সঙ্গে কবি, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী মণীন্দ্রবাবু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। 'অক্ষয় মালবেরি' তাঁর আত্মজীবনী। ঘটনা বর্ণিত হয়েছে জন্মের মুহূর্ত থেকে বাইশ বছর বয়স পর্যন্ত। তাঁর প্রাঞ্জল লেখা ও কাব্যিক বর্ণনা পাঠককে ধরে রাখে এক ঘোড় লাগা মায়াতে। অনুভূতি, বলে বোঝানো মুশকিল হবে বোধহয়। অনেকদিন পর একটি বই পড়ে বেশ তৃপ্তি পেয়েছি। কয়েক ঘণ্টা ঢুঁকে গিয়েছিলাম বইয়ের পাতায়। বইটা আরও বিস্তৃত হতে পারত। অনেকেই এ অনুরোধ করেছিলেন। সে দায় অবশ্য মিটিয়ে দিয়েছেন লেখক। অবভাস প্রকাশনীর অখণ্ড বইটির শেষে লেখক জানিয়ে দিয়েছেন সে কথা। ২০১৮ সালে কবি মনিন্দ্র গুপ্ত মৃত্যুবরণ করেন।
Was this review helpful to you?
or
' শত শরদ মানুষের আয়ু। কিন্তু দুঃখী -সুখী - ভ্রষ্টাচারী ততদিন বাঁচে না। মরণের আগে বোকাচোখে তাকিয়ে দেখে: সমস্তই অসম্পূর্ণ, তার রাকাশশী অসংলগ্ন বালি হয়ে উড়ে যায়। তবু এইটুকু জীবনের মধ্যে কত কি যে ঘটেছিল - কত মুগ্ধতা, সন্তাপ, উল্লাস, দ্রবণ! ভোলা যায় না। ' কবি মণীন্দ্র গুপ্তের আত্মকথা শেষ করে নিজেই নিজেকে সওয়াল করছি, সবকিছু কি ভোলা যায়? জওয়াব আপনাআপনি চলে এল। 'না'। দুই দশকের কিছু বেশি অর্থহীন জীবনে আমারই তো সব ভুলে থাকবার জো নেই। হৃদয়পটে অমোচনীয় অক্ষরে শৈশব, কৈশোর আর নিত্যকার জীবনের কত স্মৃতিই তো হঠাৎ ঘাঁই দিয়ে ওঠে। সাত দশক পেরিয়ে আসা মণীন্দ্র গুপ্তও ভুলতে পারেন নি নিজের বিগত হওয়া দিনগুলির কথা। অম্লানবদনে তাই লিখেছেন অমৃত-গরল যুগের কথা। অবিভক্ত ভারতের খুলনার এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে নিজের বেড়ে ওঠা। চারপাশের দুঃখী, সুখি মানুষগুলোকে ঘিরে নিজের জীবনকে কোনক্রমে টেনেটুনে বয়ে নিয়ে যাওয়া। মা মরা ছেলে। আসামে নানা-নানির গৃহে আশ্রয় জুটলো। খাওয়া,পড়ার নিশ্চিন্ত বন্দোবস্ত। আসামের স্কুল পড়ুয়া কিশোর অমনোযোগী মণীন্দ্র গুপ্তের কথকথা তো ঢেউহীন নদীর জলের মতো নিশ্চল, স্থির নয়৷ আচমকা জলের বান ডাকে শান্তস্নিগ্ধ মণীন্দ্র গুপ্তের জীবনে। আবার হঠাৎই অসম্ভব ধীরতা। থার্ড ডিভিশনে পাশ করলেন মাধ্যমিক। কলেজে কে পড়াবে? পিতৃগৃহে ফিরলেন। আবিষ্কার করলেন পিতার সামর্থ্য দিনমানে তেল,নুন,লকড়ি আনতেই ফুরোয়। নানাবাড়ির সকলে চলে এসেছে কলকাতায়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের তোড় চারদিকে। ব্রিটিশসরকার সৃষ্ট ভয়ংজর দুর্ভিক্ষ তখনও আঘাত হানেনি বাংলায়। চাউলের মজুত চলছে লুকিয়ে ছাপিয়ে।দুর্ভিক্ষ খুশিতে দাঁতে শাণ দিচ্ছে লোকক্ষয় করতে।বোমাতঙ্কে কলকাতা উজার। যুদ্ধের বাজারে চাকরির রমরমা। মাধ্যমিক পাশ মণীন্দ্র ঢুকলেন কেরানি অফিসে। সে চাকরি বেশিদিন রইল না। কপাল বুঝি এত সুখ সইতে পারছিল না। দেবী শীতলা মুখদর্শন করলেন মণীন্দ্রের। সপ্তাহতিনেক ভোগান্তি চলল। দেবীপক্ষ বিদায়ের সাথে সাথে চাকরিখানাও সঙ্গে নিয়ে গেলেন। ঝাড়া হাত-পা মণীন্দ্র গুপ্ত। সিদ্ধান্ত নিলেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভোকেশনাল ট্রেনিং নেবেন। ভর্তিও হলেন। কিন্তু মন বেচারা টিকতে চাইবে কেন? তাই এলেন পালিয়ে। বাঙালি সন্তানদের দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ এক সুযোগ এনে দিয়েছিল৷ ইংরেজ সরকার নিজেদের প্রয়োজনেই দলেদলে লোক ভর্তি করছিল সেনাদলে। নানা প্রলোভনে অনেকে যোগও দিচ্ছিলেন। এই রিক্রুট তথা রংরুটেদের কথা বরেন বসুর কালজয়ী উপন্যাস 'রংরুটে' অত্যন্ত উজ্জ্বলতর ভঙিতে আছে। আমাদের মণীন্দ্র গুপ্তও রংরুট হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে যুক্ত হলেন। এই বইয়ের সবচেয়ে সুখপাঠ্য অংশ হলো মণীন্দ্র গুপ্তের সেনাবাহিনীতে অবস্থানের বর্ণনা। কিছুদিন কলকাতায় পর লাহোরে সেনাজীবনের প্রস্তুতিপর্ব খুবই ভালো লেগেছে। কবি মণীন্দ্র গুপ্ত তাঁর মুগ্ধতা সৃষ্টিকারী গদ্যের জাদুতে একেবারে মাত করে দিয়েছেন৷ আমরা যারা ব্রাত্যজন। সেনাবাহিনীর কাঠখোট্টা জীবন সম্পর্কে ভাসাভাসা জ্ঞানে ভাসি। তাদের কথা ভেবেই হয়তো মণীন্দ্র গুপ্ত এতটা সাবলীলভাবে লিখে গেছেন নিজের কয়েকটি বছরের সেনাজীবনের ভালো-মন্দের মিশেলে অভিজ্ঞতার কথা। কবি মণীন্দ্র গুপ্তের শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনের কিয়দাংশই 'অক্ষর মালবেরি'। এত সহজবোধ্য লেখনী নিঃসন্দেহে পাঠককে হিপনোটাইজ করে রাখবে। পাঠক হয়তো বুঝতেই পারবেন না, কখন শেষ হলো 'অক্ষয় মালবেরি '৷




