
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
best
Was this review helpful to you?
or
মহিউদ্দিন আহমদ সুলেখক। রাজনীতি সকলের জন্য এত সহজভাবে লিখে আমাদের সবাইকে ঋণী করেছেন। বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর সময়টা নির্মোহভাবে বুঝতে গেলে এই বইটার কোন তুলনা হয়না!
Was this review helpful to you?
or
নির্মোহ ইতিহাস জানার জন্য খুব সুন্দর বই
Was this review helpful to you?
or
A Historical Classic.
Was this review helpful to you?
or
ভালো লেগেছে। তবে আরও একটু গোছালো প্রত্যাশা করেছিলাম।
Was this review helpful to you?
or
সময়ের বর্ণনায় সেসময়ের শ্রেষ্ঠ বই এটি!
Was this review helpful to you?
or
বঙ্গবন্ধুর স্বৈরাচারী দুঃশাসন নিয়ে বইটি কিছু লিখেছে_
Was this review helpful to you?
or
খুব তাড়াতাড়ি খুব সুন্দরভাবে পৌঁছেছে। প্যাকিং’ও ভালো ছিল...💜
Was this review helpful to you?
or
লেখকের নির্মোহ দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা এবং প্রতিটি ঘটনার একাধিক রেফারেন্স বইটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
Was this review helpful to you?
or
#বেলা_অবেলা পড়া হল 'বেলা - অবেলা - বাংলাদেশ ১৯৭২-১৯৭৫ / মহিউদ্দিন আহমদ । ' বেলা-অবেলা বাংলাদেশের ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ইতিহাস । একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ও মূল্যায়ন । বলা যেতে পারে এ সময়ের ইতিহাস ঘটনাবহুল যার অধিকাংশই রক্ত দিয়ে লেখা । এ সময়ের ইতিহাসে কার রক্ত নাই - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সহ তাঁর পরিবারের রক্ত, নেতা-কর্মী, বিদ্রোহী, সৈনিক সবার । এ বইয়ে লেখকের নিজস্ব মূল্যায়ন ও দৃষ্টিভঙ্গি যৎসামন্য । ঘটনা প্রবাহের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, মূল্যায়ন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত সূত্র ব্যবহার করেছেন । বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে একত্রিত করেছেন। সংগ্রহে রাখার মতো বই । ' বেলা- অবেলা' বইটি খুবই প্রয়োজন ছিল । একটু দেখে আসি 'বেলা - অবেলা - বাংলাদেশ ১৯৭২-১৯৭৫ ভিতর থেকে : লেখক শুরু করেছেন এভাবে ¤ " পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ ভোরে লন্ডনে উপস্থিত হন । তাঁর মুক্তির পর বাংলাদেশে খুশির বন্যা বয়ে যায় । পুরো জাতি তখন তার অপেক্ষায় । ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর লন্ডনে তাদের হাইকমিশনারকে বার্তা পাঠিয়ে জানায় যে , শেখ মুজিবকে লন্ডন থেকে দিল্লি ও পরে ঢাকায় নিয়ে আসতে ভারত সরকার এয়ার ইন্ডিয়া অথবা ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটা বিমান পাঠাতে চায় । শেখ মুজিব এই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি । তিনি একটি বৃটিশ বিমানে আসবেন বলে জানান । তাঁর এই সিদ্ধান্ত ছিল যৌক্তিক । তিনি ভারতের উপর নির্ভরশীল- জনমনে এমন একটি ধারণা হোক তা তিনি চাননি ।( Dexit , J.N ) ¤ বাংলাদেশের নবযাত্রার প্রথম প্রহরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সঙ্গে তাজউদ্দিদের দুরত্ব তৈরি হল । সিরাজুল আলম খানের ভাষ্য অনুযায়ী, ' মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল শেখ মুজিবের নামে । কিন্তু যুদ্ধকালীন সময়ে নেতা ছিলেন তাজউদ্দিন । অথচ মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ক্যাজুয়ালিটি তিনিই ।" ( পৃষ্ঠা ২১) ¤ ভারত - বাংলাদেশ চুক্তির সমালোচনা করে কয়েকটি রাজনৈতিক দল এই 'চাপিয়ে দেওয়া গোপন চুক্তির ' প্রবল বিরোধীতা করে বলেছিল, বাংলাদেশ ভারতের করদ রাজ্য হয়েগেছে । একটি মন্তব্য বলা হয়, শেখ মুজিব নিরপক্ষে বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করবেন এটা জানতে পেরে ভারত বাংলাদেশের ওপর এই চুক্তি চাপিয়ে দেয়।( মনিরুজ্জামান তালুকদার) , দীক্ষিতের বর্ণনায় জানা যায়, এই চুক্তি হয়েছিল শেখ মুজিবের আগ্রহে এবং এটা কোন গোপন বিষয় ছিল না । ( Dexit , J.N ) ¤ বাংলাদেশে স্বাধীন করার জন্য সিরাজুল আলম খান যে ' নিউক্লিয়াস ' গড়ে তুলেছিলেন সেখানে তাঁর প্রধান সহযোগী ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমদ । বাহাত্তুরের ফেব্রুয়ারি - মার্চেই এই নিউক্লিয়াস কার্যত ভেঙে যায় । শেখ মনি ও সিরাজুল আলম খানকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের মধ্যে যে মেরুকরণ হচ্ছিল, তার প্রকাশ ঘটে ১৯৭২ সালের ৬ মে ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে । (পৃষ্ঠা ৫০) সে (শেখ মনি) মুজিব ভাইকে সরাসরি বলেছিল, ' আপনি যদি সিরাজের সঙ্গে যান , রাজনীতির উত্তরাধিকারের প্রশ্নে তা ঠিক আছে । যদি আমাকে সমর্থন দেন , রাজনীতির উত্তরাধিকার তো আছেই , রক্তের উত্তরাধিকারও থাকছে । ( পৃষ্ঠা ৫২) # মূলত এই বিভক্তিই জাসদ এর জন্মকে ত্বরান্বিত করতে পারে । ¤ ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি মাইলফলক তৈরি হলো । গণপরিষদে গৃহীত হল সংবিধান । ৬ নং অনুচ্ছেদ বল হলো , বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাঙালি বলিয়া পরিচিত হইবেন ।' (পৃষ্ঠা ৬০) । শ্রী মানবেন্দ্র নায়ারণ লারমা বলেছিল, আমরা আমাদেরকে বাংলাদেশি মনে করি এবং বিশ্বাস করি । কিন্তু বাঙালি বলে নয় । ( পৃষ্ঠা ৬২) ¤ শেখ মুজিব চেয়েছিলেন , সংসদে যা কিছু আলোচনা হোক তা সংসদীয় দলের সভায় অনুমোদিত হতে হবে । ফলে সংসদ হয়ে দাঁড়ালো একটা ' বোবার সমাবেশ '।(পৃষ্ঠা ৮৮) ¤ (শেখ) কামাল বাংলাদেশ ব্যাংকে ডাকাতি করতে গিয়ে গুলি খেয়েছেন, এমন একটা গুজব ছাড়ানো হয়েছিল । অভিযোগটি ভিত্তিহীন ।(পৃষ্ঠা ১০১) ¤ গাজী সাহেব মেজর ডালিম ও তার স্ত্রীকে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে তলে আনে । ( এ ঘটনাটি শেখ কামালের নামে প্রচলিত আছে) । শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগে মেজর ডালিম ও মেজর নুর চৌধুরীর বাধ্যতামূলক অবসর । (পৃষ্ঠা ১৩৩-১৩৫) # এমনি ভাবে এ বইটিতে উঠে এসেছে ¤ রক্ষীবাহিনীর গঠন ও অপব্যবহার ¤ ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ¤ বাকসাল গঠণ ( মুজিব ভাই আমার হাত ধরে বললেন, সিরাজ , তুই জলিল আর রবকে আমার দলে দে । তোরা তো এটাই চেয়েছিলি। আমি বললাম, আমি তো আপনারই ছিলাম । জাসদ তো আপনারই দল । কিন্তু আপনি যেটা করতে চাচ্ছেন, তার সঙ্গে আমরা একমত না । (পৃষ্ঠা ১৫৪) ¤ লাহোরে ইসলামী ঐক্য সংস্থার সম্মেলন যোগদান উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু : আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম দেশ । কী করব , না করব আমরাই সাব্যস্ত করব । কাউকে ট্যাক্স দিয়ে চলার জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি । পিন্ডির গুহা থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে দিল্লির গর্তে ঢুকব - আমার জীবদ্দশায় তা হবে না । তোমরা যে যা মনে কর , আমি ইসলামাবাদ যাব এবং সরাসরি যাব - দিল্লি থামব না । ( পৃষ্ঠা ১৬৭) এ প্রসঙ্গে তৎকালীন চিফ হুইপ শাহ মোয়াজ্জেম মন্তব্য করেছেন " যেদিন তিনি লাহোর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, সেদিনই তিনি তাঁর মৃত্যু পরোয়ানায় সই করলেন ' ¤ অভ্যুত্থান: স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা । ফারুক (মেজর) অনেক দিন থেকেই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেছিল । তার সহকর্মীদের কেউ কেউ এটা জানতেন । সিজিএস খাদেদ ( কর্ণেল খালেদ মোশাররফ) তো অবশ্যই জানতেন । ( পৃষ্ঠা ২৩৩) ' র' এর প্রধান আর এন কাও " আমি মুজিব কে বললাম, আমাদের কাছে তথ্য আছে যে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে । কিন্তু তাঁর মধ্যে উদ্বেগ ছিল না । বললেন , আমার কিছুই হবে না । ওর তো আমারই লোক । ,,,, কিন্তু মুজিব বিশ্বাস করেননি । তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের জাতির জনক ; তাঁর লোকেরা তাঁকে খুন করতে পারেনা ।( পৃষ্ঠা ২৮৪) ¤ ক্ষমতার পালাবদল: খন্দকার মোশতাকের ক্ষমতা গ্রহণ । ¤ ২ নভেম্বর রাতে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে সামনে রেখে সেনাবাহিনীতে আরেকটি অভ্যুত্থান হয় । ¤ জেলে জাতীয় চার নেতার হত্যা ¤ ৫ নভেম্বর রাতে ' বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা'র পক্ষ থেকে ঢাকা সেনানিবাসে প্রচারপত্র বিলি করা হয় এবং সেনাবাহিনীর জোয়ানদের ক্ষোপকে ' উজ্জীবিত ও সংহত ' করে প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয় । জিয়াকে সামনে রেখে সিপাহিরা ৬ নভেম্বর রাতে অভ্যুত্থান ঘটায় । এই অভ্যুত্থানে গণবাহিনীর কমান্ডার লে, কর্নেল( অব) আবু তাহেরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ।(পৃষ্ঠা ২৯৭) তবে সাধারণ সৈনিকদের কাছে জাসদ , তাহের, কিংবা 'বিপ্লব ' নিয়ে তেমন ভাবাবেগ ছিল না । তাঁরা ছিলেন প্রচণ্ডরকম ভারত বিরোধী এবং গৃহবন্দি জিয়া তাঁদের কাছে ছিলেন জনপ্রিয় সেনাপতি ।( পৃষ্ঠা ২৯৮) জিয়া এবং তাহের একে অপরকে ব্যবহার করেছিলেন । ২১ জুলাই ১৯৭৬ তাহেরকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি দেওয়া হয় । # লেখক উপসংহারে লিখেছেন: স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগই গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংবিধান দিয়েছে এবং নূন্যতম সময়ের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করেছে । ( পৃষ্ঠা ৩২০) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু আওয়ামী লীগের প্রাণপুরুষ ছিলেন না । বাংলাদেশের রাজনীতির নাটাইটা তাঁর হাতেই ছিল । তাঁকে নিয়ে যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির জন্ম হয়েছিল, তা আধুনিক সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না । দেশ চালানোর জন্য দলকে ব্যবহার করেছেন বেশি । ফলে তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের রাজনীতিকের মতোই জনপ্রিয়তা বজায় রেখে তিনি দক্ষতার সঙ্গে সরকার চালাতে পারেননি ।( পৃষ্ঠা ৩২১) ( এমাজউদ্দিন আহমদ) ¤ পরিশেষে লিখেছেন: স্বাধীনতার পর " সবার 'প্রাপ্য ' চটজলদি মেটানোর ক্ষমতা দারিদ্র্য-পীড়িত এই দেশটির ছিল না । লোভ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার লাগাম টেনে ধরার সক্ষমতা ছিল না রাজনৈতিক নেত্রীত্বের । ফলে দেশ দ্রুত ধাবমান হলো অনিশ্চয়তার দিকে । # বেলা - অবেলা - বাংলাদেশ ১৯৭২-১৯৭৫ বইটি প্রকাশ করেছে : বাতিঘর প্রকাশনী মূল্য: ৭০০ টাকা @ ফিরোজ মাহমুদ পাঠক
Was this review helpful to you?
or
সামগ্রিক ভাবে এই সনের অনেক বই পড়েছি। তবে এটাও ভালো লেগেছে।
Was this review helpful to you?
or
Excellent
Was this review helpful to you?
or
আমার চোখে লেখকের সেরা বই এখন পর্যন্ত। এর আগে সবচেয়ে প্রিয় ছিলো "জাসদের উত্থান পতন : অস্থির সময়ের রাজনীতি" বইটি৷ বেলা-অবেলা তাকে অনেক দূর ছাড়িয়ে গেছে৷ ১৯৭২-১৯৭৫ এর অস্থির সময়ের রাজনীতি কে এত এত মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা আসলেই প্রশংসনীয়। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ইতিহাস পাঠে এই বই একটা দলীল হয়ে থাকবে অনেক বছর।
Was this review helpful to you?
or
#রকমারি_রিভিউ_প্রতিযোগ আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ, যুদ্ধ পূর্ববর্তী, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নিয়ে রচিত ইতিহাস গ্রন্থের পরিমাণ কম নয়। গত দশ বছরে সে সংখ্যা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। অবশ্য তার সবই ইতিহাস কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। অনেক কিছুই একপেশে, কিছু অতি আবেগের রসে সিক্ত। কিন্তু এর মাঝেও যুদ্ধ পরবর্তী সময় নিয়ে বইয়ের সংখ্যা অনেক কম। যাও কিছু আছে তার কিছু ফিকশন-ভিত্তিক, কিছু বিষোদ্গার ভিত্তিক। মহিউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন অনেকদিন ধরে। তিনি কাজ করেছেন বাংলাদেশের তিন প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাসদ নিয়ে। প্রতিটি বইয়েই চমৎকার করে তিনি ফ্যাক্টস তুলে এনেছেন, করেছেন যৌক্তিক বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক নেতাদের আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা বাদ দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল নিয়ে বইয়ের ক্ষেত্রে লেখকের চারটি বই (আওয়ামী লীগ দুই খণ্ডে) এগিয়ে থাকবে। একাত্তর পরবর্তী অবস্থা বিশেষত ১৯৭২-১৯৭৫ সময়াকালে শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ নিয়ে রয়েছে প্রচলিত অনেক কথা। সময়টাই এমন ডামাডোলের যে সে সময়ে ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনা এবং এর ডালপালার কারনে মূল চিত্রটা দেখা কঠিন হয়ে যায়। সে সময়টাকেই লেখক নিয়ে এসেছেন ‘বেলা-অবেলায়’। শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে এলেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটাকে তিনি গড়ে তুলতে চাইলেন কিন্তু যাদের নিয়ে গড়ার কথা তারা কেউ কেউ ব্যক্তি স্বার্থের দিকে এতোই মনযোগী হয়ে পড়লেন যে দেশের চেয়ে তাদের কাছে ব্যক্তি বড় হয়ে গেল। আবার তাদের স্বার্থান্বেষী মনোভাবের কারনে অনেক ব্যক্তি নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিলেন। এসব কথা খুব সহজে বলা যায় না, যদি না আপনার ওই সময়টা জানা থাকে। তবে আজকে কথাগুলো বলা সহজ হয়েছে কেননা সে সময়টার পর্যালোচনা এখন হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এমন একটা পরিবেশের মধ্যে বোর হয়েছি যেখানে একদিকে শেখ মুজিবুর রহমান একজন অবিসংবাদিত নেতা, একজন বড় মাপের মানুষ। অন্যদিকে অনেকের কাছে তিনি একজন স্বার্থান্বেষী একনায়ক। মুজিবুর রহমান অবিসংবাদিত নেতা, এতে কোন যুক্তি জিজ্ঞাসার প্রয়োজন হয় না কিন্তু তাঁকে স্বার্থান্বেষী কিংবা একনায়ক বলতে গেলে যুক্তি দিতে হতো এবং যারা এ কথা বলে (এখনও) তাদের কাছে যুক্তি আছে। সে যুক্তি হলো বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত। দুর্ভিক্ষ থেকে বাকশাল। একটা সময়ে, যখন ছোট ছিলাম, এই যুক্তির উত্তরে, ‘একটা যুদ্ধ পরবর্তী দেশে আর কত করা যায়’ গোছের একটা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতাম। এর বেশি তথ্য উপাত্ত বা ফ্যাক্টস হাজির করা সম্ভব হতো না। সার্বিক অবস্থার একটা যুক্তিগ্রাহ্য বিশ্লেষণ আমি পেয়েছিলাম মহিউদ্দিন আহমদের ‘জাসদের উত্থান পতন এবং অস্থির সময়ের রাজনীতি’ বইয়ে। আমি জানি না তাঁর আগে অন্য কেউ এই সময়ের বিশ্লেষণ এভাবে উপস্থাপন করেছিলেন কিনা তবে আমার জন্য একাত্তর পরবর্তী সময়ের চমৎকার উপস্থাপন ছিল ওই বই। ‘বেলা-অবেলা’ ঠিক একই সময়ের কথা বলে। তবে পূর্বোক্ত বইয়ে সময়টা দেখানো হয়েছিল জাসদের আলোচনার মধ্য দিয়ে আর এবার কেন্দ্রে ছিলেন খোদ শেখ মুজিবুর রহমান। মহিউদ্দিন আহমদের লেখা তথা বিশ্লেষণ, সময়ের প্রেক্ষিতে যথাসম্ভব নির্মোহ। তিনি যে সময়ের ইতিহাস লিখেছেন সেই সময়ের, পরিস্থিতির আলোকে ততোখানি ফ্যাক্ট দেখিয়েছেন যতখানি আজকে দেখানো সম্ভব। যেমনটা আগে বলেছি, সময়টাই ছিল এলমেলো, তাই সব চিত্র স্পষ্ট দেখা যায় না কিন্তু লেখক অনেকটাই স্পষ্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে আপনাকে পুরোটা বুঝতে হলে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। নবীশদের পড়ার বই এটা নয়। সাতটি আলাদা অধ্যায়ে বিভক্ত করে লেখক সে বেলার কিংবা অবেলার গল্প বলেছেন যা শুরু হয়েছে মুজিবুর রহমানের ফিরে আসা থেকে। এরপর তাঁর গৃহীত একেকটি পদক্ষেপ, সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করেছেন লেখক। উপস্থাপন করেছেন সে সময়ের কর্তাব্যক্তিদের মন্তব্য, অভিমত, সাক্ষাৎকার। আমরা দেখতে পাই একজন অবিসংবাদিত মানুষ কীভাবে ধীরে ধীরে বিসংবাদে জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁর আশেপাশের মানুষেরা সে সময় কী ভূমিকা পালন করেছিল। এমনকি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরের অবস্থাও বাদ দেননি লেখক। সেখানেও তাঁর কী ভূমিকা ছিল (বা থাকতে পারত), কে লাভবান হয়েছিল, দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। ‘বেলা-অবেলা’ আপনাকে নিয়ে যাবে ইতিহাসের সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যা নিয়ে আজও অনেকে কথা বলতে কুণ্ঠিত হয়। আমাদের জ্যেষ্ঠরা কুণ্ঠিত হন কেননা তারা নিজেদের রাজনৈতিক মত বাদ দিয়ে বিচার করতে অক্ষম আর সমবয়েসিরা তো জানেই না কিছু। সেই অক্ষমতার কারনে ইতিহাসের একটা সময় শূন্য হয়ে গিয়েছিল যেখানে লেখক রাখলেন একটি চমৎকার কাজ। এ বইয়ের রিভিউ হয় না, পাঠ প্রতিক্রিয়াও হয় না বরং এমন একটি বই দাবি করে পাতার পর পাতা আলোচনা। আশা করি, হবে।
Was this review helpful to you?
or
রাজনৈতিক বই লিখার ক্ষেত্রে মহিউদ্দিন আহমেদের নাম সবসময় রকমারির বেস্টসেলিং লিস্টে থাকেই। বেলা অবেলা বইটিতে ফুটে ওঠেছে ১৯৭১ পরবর্তী যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে তিলে তিলে গড়ে তোলার কাহিনী। আবার কখনো বা ক্ষমতা রক্ষা করতে ব্যার্থতা । ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘটা সকল ঘটনার সারমর্ম আছে বইটিতে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগমনের মাধ্যমে কাহিনী শুরু বইয়ের। যুদ্ধের স্বীকৃতি এবং দেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য সরানোর কারণও লেখক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। আওয়ামীলীগ একসময় বিভাজিত হয়ে যায় দুটি দলে। একটি শেখ মণির দল অন্যটি প্রতিনায়ক সিরাজের দল। বঙ্গবন্ধু শেখ মণির দলের সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিলে হারান সিরাজকে। এই থেকে তৈরি হয় জাসদ। এছাড়া চলার পথে লাল বাহিনী , রক্ষী বাহিনীর কথা ফুটে ওঠেছে। তাদের কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ ছিল আর্মির অফিসাররা। এমনকি মেজর ডালিমকে অবসর প্রদান করা হয় এই নিয়ে। এসবের কারনে সেনাবাহিনী ফুঁসতে শুরু করেছিল।আর এরই ফলশ্রুতিতে হয় অভ্যুত্থান। মেজর ডালিম সরকার পতনের ৩ টি কারণ উল্লেখ করেছেন। তা জানা যাবে বইটি পড়লে । যাই হোক দিন শেষে একটি কথাই মুখ্য- “স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করাটাই কঠিন।“
Was this review helpful to you?
or
১৫ আগস্ট কেন ঘটেছিল, এর সাফাই (কিংবা বর্ণনা) বোধহয় অনেকভাবে দেয়া যাবে। বঙ্গবন্ধু শুধু বাগাড়ম্বর ছিলেন, করিৎকর্মা ছিলেন না— এমন একটা মনোভাব আছে অনেকের মধ্যে। ‘কেন, ওই সময়ের পেপার-পত্রিকার হেডলাইনগুলো পড়লেই তো তাঁর ইনকম্পিটেন্সি ধরা পড়ে!’ — মাথায় ঘিলু থাকা প্রণিমাত্রই ইহা স্বীকার করিবেন, রাজনীতি কখনো এতো সোজা না। লেখক মহিউদ্দিন সাহেব তার বইতে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন জনের আলাপ-আলোচনা তুলে ধরে ৭২-৭৫ সালের একটা সম্যক চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। কখনো কখনো তিনি সফল। এবং স্বাভাবিকভাবেই কিছু কিছু সময় তার ঘাটতি রয়ে গেছে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের শুরু পর্যন্ত তিনি চমৎকারভাবে এগিয়ে হঠাৎ করেই যেন কিছু একটা হারিয়ে ফেলেছেন বলে মনে হয়। দোষটা প্রকৃতপক্ষে তার না অবশ্য। প্রখর ব্যক্তিত্বের অধিকারি তুমুল জনপ্রিয় এক নেতা কিভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, কেনই বা তার পতন– সেই ইতিহাস বড়ই বিতর্কিত, ধোঁয়াশাময় এবং একইসাথে ভয়ংকর বললেও ভুল হবে না। সেসময়ের চিত্রনাট্যের নায়করা কখনোই মুখ খোলেনি, যবনিকা-পতন পরবর্তী তাদের কর্মকাণ্ড হয়তো ধামাচাপা দেয়া হয়েছে, নতুবা প্রোপাগান্ডা দিয়ে বিস্মৃত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে প্রত্যেক সরকারই। এতো বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও কিভাবে আমাদের ইতিহাসবিদগণ নিরপেক্ষ ইতিহাস লিখলেন, এটা ভেবে বড়ই অদ্ভুত লাগে। এই ইতিহাস আদৌ সঠিক কিনা– সেটাও কিন্তু চিন্তার বিষয়। সেদিক থেকে তাই বোধ করি এই বই একটু ব্যতিক্রম। iবেলা-অবেলা/iয় লেখক ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরেছেন, ইতিহাসের সাক্ষীদের জবানবন্দী নিয়েছেন, তবে বিচার-বিবেচনা কিংবা মন্তব্যের গুরুদায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন পাঠকের কাছেই। এটাই বোধহয় হয় বইটার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা। তাছাড়া ৭৫ এর ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মনে হয় ৪-৫ টা বই লিখে ফেলা সম্ভব, মাত্র শেষের ১০০ পৃষ্ঠায় লেখক এর কতটা বিচার করতে পেরেছেন সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে অবশ্য। তিনি শুধু প্রশ্ন তুলেছেন, কিন্তু হেঁয়ালিপনা করে যেই উত্তর রেখেছেন প্রশ্নের আড়ালে — আর আমার মাথায় যা এসেছে সেটা কি লেখকের মাথাতেও ছিল কিনা– এমন দোটানায় পড়তে হয়েছে মাঝেমধ্যেই। ১৯৭৫ এর আগস্ট পূর্ববর্তী ঘটনা জানার জন্য বইখানা চমৎকার। আগস্ট পরবর্তী ঘটনায় কোথায় যেন একটা কিছু ছিল না। এর দায়ভার কি লেখককে দিবো, নাকি ডকুমেনটেশনের অভাবকে?– বলা মুশকিল। এখনকার রাজনৈতিক অঙ্গনকেও বোধহয় এর জন্য একটু-আধটু ভালোই দোষারোপ করা যেতে পারে। মোটামুটি নিরপেক্ষভাবে ইতিহাস বলার চেষ্টা ছিল বইতে। সেজন্য মহিউদ্দিন আহমদ সাধুবাদ প্রাপ্য। তবে লেখক যেভাবে উত্তর অপেক্ষা অধিক প্রশ্ন জাগিয়ে মনের ভিতর এক ইতিহাস-ক্ষুধাবোধ জাগ্রত করেছেন— তারজন্য তাকে ধন্যবাদ দিব নাকি অভিসম্পাত করবো, এ নিয়ে আমি ভয়ানকভাবে দ্বিধান্বিত।




