
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
ওবায়েদ হক রচিত 'তেইল্যা চোরা' একটি অসামান্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, যা সমাজের তথাকথিত নিচু শ্রেণী ও চোর হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও রূপান্তর তুলে ধরে। ফজর আলী নামের এক পেশাদার চোরের জীবনের গল্প, তার আত্মোপলব্ধি এবং যুদ্ধের অস্থির সময়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামের এক অনন্য দলিল এই বইটি।বইয়ের মূল বৈশিষ্ট্য ও রিভিউ:ভিন্ন দৃষ্টিকোণ: প্রথাগত মুক্তিযোদ্ধা বা রাজাকারকেন্দ্রিক কাহিনীর বাইরে, সমাজের অপাঙক্তেয় ও নিচু শ্রেণীর মানুষের জবানবন্দিতে যুদ্ধের চিত্র ফুটে উঠেছে।চরিত্রের গভীরতা: ফজর আলী, আমেনা, পাগলা প্রফেসর—প্রতিটি চরিত্রই জীবন্ত। চোর হয়েও ফজর আলীর ভেতরের মানুষটি, বিশেষ করে তার ছেলের চেহারা ভুলে যাওয়ার যাতনা পাঠককে আবেগাপ্লুত করে।ধূসর চরিত্রায়ণ: লেখক চরিত্রগুলোকে শুধু সাদা বা কালো (ভালো বা খারাপ) হিসেবে দেখাননি, বরং তাদের লোভ, লালসা, দুর্বলতা ও দেশপ্রেমের মিশ্রণ দেখিয়েছেন।ভাষা ও প্রেক্ষাপট: গ্রাম্য ভাষার সাবলীল ব্যবহার এবং গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, ধর্মান্ধতার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।মূলভাব: অপরাধী কি জন্মগত, নাকি সমাজ তাদের অপরাধী বানায়—এই প্রশ্নটিই উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু।সামগ্রিকভাবে, 'তেইল্যা চোরা' একটি গভীর, বাস্তবমুখী ও আবেগঘন উপন্যাসের স্বাদ দেয়, যা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।
Was this review helpful to you?
or
চমৎকার একটি বই।আমার প্রিয় বইয়ের তালিকায় থাকবে।লেখকের লেখা অসাধারণ।
Was this review helpful to you?
or
ভালো বই। একটা চোরের জীবন কেমন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গ্রাম বাংলার সিচুয়েশন কেমন ছিলো তা জানা যাবে বইটা পড়লে।
Was this review helpful to you?
or
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উপন্যাস কিংবা ছোটগল্পের শেষ নেই। 'তেইল্যা চোরা' উপন্যাস টি সেই তালিকার আর একটি নতুন সংযোজন। 'তেইল্যা চোরা' উপন্যাসটি তে মুক্তিযুদ্ধকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উপন্যাসটি তে যেমন একজন চোর আর তার পরিবারের দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধ ফুটে উঠেছে, একই সাথে কিছু ভঙ্গহৃদয় মানুষের জীবনের ছবিও প্রকাশ পেয়েছে। উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রকেই অনেক সুন্দর ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এবং উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধান চরিত্র (ফজর আলী)-কে যেমন প্রাধান্য দেয়া হয়েছে তেমনি ভাবে অন্যান্য চরিত্রগুলোকেও উপন্যাসে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পাগলা প্রফেসর, সুজন মাস্টার, নসু মাঝি, রোশনী, হুরমতি চরিত্রগুলোর চিত্রায়ন অনেক অল্প হলেও উপন্যাসে তাদের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। পাকিস্তানিরা কখনো মুসলমান হত্যা করবে না বলা ইউসুফ মুন্সীর উপস্থিতিও ছিল অনেক প্রবল। উপন্যাসটি নিয়ে অভিযোগ করার মত তেমন কিছুই নেই। তবে জেলখানায় পাগলা প্রফেসরের শেষ পরিণতি কি হয় সেটা জানতে পারলে ভালো লাগতো। একই সাথে উপন্যাসের শেষ দিকে ফজর আলীর সাথে তার স্ত্রী (আমেনা) ও পুত্রের (মজিদ) দৃশ্যায়নটা আরেকটু বড় হলে ভালো লাগতো। বইয়ের সাথে থাকুন, বইয়ের সাথে বাঁচুন।
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ লিখেছেন ওবায়েদ হক। আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে চিরাচরিত গল্প বা ঘটনাবলীর উর্ধ্বে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালকে যে ভিন্ন মাত্রায় উপস্থাপন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ একটি বই,আমার হৃদয় ছুয়ে গেছে।
Was this review helpful to you?
or
মন ছুঁয়ে গেছে গল্পটা
Was this review helpful to you?
or
A very well written book!
Was this review helpful to you?
or
** spoiler alert ** আপনে রাইতে শুইয়া আছেন ঘরের দরজা জানালা বন্ধ কইরা। ঘুম আইতেছে না। এমন সময় আপনের কানে শব্দ আইলো। শাবল দিয়ে মাটি খোড়ার শব্দ। বুঝতাছেন কোনো চোরের পুত আপনার ঘরের সিদ কাটতেছে। এখনকার যারা শহুরে লোকজন, হেরা তো বুঝবো না সিদ কি জিনিস। এইডা কেমনে কাইটা চোর ঘরের ভেতরে ঢুইকা সব মালসামান নিয়া আপনারে হাইকোর্ট দেখায়। আগের দিনে মাটির ঘরের তলার মাটি শাবল দিয়ে কাইটে চোর ঘরের মধ্যে ঢুকতো। এইডারে কইতো সিদ কাটা। এইবার মনে হয় বুঝতে পারছেন। যাইহোক। কোন এক কুচকুচা কালো রাইতে এক চোর বাপ তার বেটারে নিয়া চুরি করতে বের হয়। কালো রাইতে ভাগ্য ও হইয়া যায় কুচকুচা কালো। চোর ব্যাটা ধরা খায়ে মাইনসের মার সইতে না পাইরা বেঘোরে প্রান ত্যাগ করে। তার পোলায় যায় পালায়ে। সেই পোলা বড় হইয়া বাপের নাম রাখে। বাপের চেয়ে বড় চোর হয় সে। নাম হয় তেইল্যা চোরা। বিয়া করে আরেক চোরের মাইয়া আমেনা বেগমরে। এমনেই গল্প আগাইতে থাকে। একদিন বিরাট চোরা তেইল্যা চোরা তার পোলার মাথায় হাত রাইখা প্রতিজ্ঞা করে আর চুরি করবো না। গতরে খাইটা খাবে। কিন্তু সে কি পারে শেষ পর্যন্ত চুরি না করে জীবন কাটায়ে দিতে? কদিন বাদে মাতব্বরের বাড়ি কামলার কাজ নেয়। সেই দিন মাতব্বরের বৌয়ের গহনা যায় হারায়ে। লোকজন তেইল্যা রে সন্দেহ কইরা পিডায় আদমরা কইরা থানায় চালান দেয়। সেইহানে তার জেল হয় সাড়ে পাচ বছরের। এইবারের গল্পটা জেলখানার। আজব কিসিমের মাইনষের লগে তার পরিচয় হয়। মাস্টর সুজন, দাড়িওয়ালা মুন্সি, পাগলা প্রফেসর, পাকিস্তানি বাচ্চু। প্রফেসরের মত লোকরে সবাই পাগলা কয় কেন? তার মত ইজ্জত ওয়ালা লোক কোন দোষে আইলো জেলে? দেশে তখন যুদ্ধের দামামা। পুব-পশ্চিমের যুদ্ধ বাধছে। নানান খবর আসে জেলের মধ্যে। সাচ্চা খবর, মিছা খবর। জেলের অর্ধেক লোক পাক আর্মির পক্ষে, বাকি অর্ধেক মুক্তিগো পক্ষে। ইউসুফ মুন্সি সক্কলরে বুঝাইবার চেষ্টা করে পাকিস্তানিরা হচ্ছে আমাগো আসল বন্ধু। হেরা আর আমরা মসুলমানরা ভাই ভাই। দেশে এখন ধর্ম রক্ষার যুদ্ধ হইতাছে। মুন্সি ঘোষণা দেয় যদি জেল হইতে বের হইবার পারে তাহলে সে রাজাকারে যোগ দিবে। জেলের অর্ধেক মুন্সির সিদ্ধান্তে মারহাবা কয়, বাকি অর্ধেকের মুখ বেজার হয়। এমনে চলে দিন কাল। এর মধ্যে ঘটে অন্য ঘটনা। মুক্তিযোদ্ধাগো ধইরা আইনা জেলের মধ্যে গুলি কইরা মারে পাঞ্জাবী জেলার। সেই লাশ পুইতা ফেলার জন্য ডাক পড়ে তেইল্যা চোরা আর মজিদের। তারা বুঝতে পারে দেশের অবস্থা কোনদিকে যাইতেছে। নিজ বাড়ির জন্য সক্কলে ছটফট করতে থাকে। পাগলা প্রফরসরের নেতৃত্বে সক্কলে জেল পালানোর সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু পাগলার উপর আস্থা রাখতে পারে না। এমনে এক দিন মাস্টার সুজন জেলের মধ্যে এক মুক্তিযোদ্ধারে পানি খিলায়। সেই অপরাধে তারে মাইরা প্রায় লাশ বানায় ফালায় জেলের পুলিশ৷ দু এক দিন যায়। তারপর আসে পালানোর সময়। আধমরা সুজন অন্য সব সাথীদের লগে জেলের দেয়াল টপকে পালায় প্রফেসরের বুদ্ধিতে৷ কিন্তু প্রফেসর পালায় না, থাইকা যায় জেলের মধ্যেই।কিন্তু কেন? জেল হইতে পালানো কি এইরকম পানির লাহান সহজ? তাইলে পালাইলো কেমনে? জেল থেকে পালানোর পর শরীরে মাইরের ধকল শইতে না পাইরা এক নির্জন স্থানে মারা যায় মাস্টর সুজন। মরবার আগে শেষ ইচ্ছার কথা কইয়া যায় তেইল্যা চোরা রে। সে মুক্তিযোদ্ধা হইতে চাইছিল। মরবার পর কি মাস্টরের জানাজা হইছিলো? ইউসুফ মুন্সি তখনও জোর গলায় বইলা যায় দেশের বেবাক মানুষ মারতেছে মুক্তি বাহিনী। পাঞ্জাবী রা হচ্ছে আমাগো আসল বন্ধু। এমন অটল এক বিশ্বাস নিয়া মুন্সি বাড়ি গিয়া তার মায়ের কাছে জানতে পারে তার মাইয়া আর জোয়ান বৌ ডারে পাক বাহিনী ক্যাম্পে লইয়া গেছে। শুইনা পাগলের মত দৌড়াতে থাকে। দৌড়ায়ে একাই ক্যাম্পে চইলা গেলে তারে পাঞ্জাবিরা বাইন্ধা রাখে লেংটা কইরা। তার সামনেই তার মেয়ে বৌ রে নিয়া পশুত্ব খেলায় মেতে ওঠে। পড়তে গিয়া আমার মত আপনের চোখেও পানি আইবো। পানি মুইছা আবার ঢু মারবেন কাহিনীতে৷ সেই রাইতে তেইল্যা চোরা আর রাজাকার বাচ্চুর সাহায্যে ক্যাম্প থেইকা পালায় মুন্সি। রাজাকার হইয়াও বাচ্চু কেন তারে পালাইবার লাইগা সাহায্য করলো? পালানোর আগে মুন্সি নিয়া যাইতে চায় নিজের মাইয়া আর বৌডারে। কিন্তু দরজা খুইলা দেখে তারা শাড়ি পেঁচাইয়া গলাত ফাঁস নিছে। মুখ চোয়াল শক্ত হইয়া যায় মুন্সির। কসম খায়, কয়েকটা পাঞ্জাবি মাইরা তারপর মরবে সে। এদিকে মুক্তি বাহিনীতে যোগ দিবার লাইগা মুন্সি আর তেইল্যা চোরা যাত্রা করে অন্য খানে। সেইখানে চোরা এক নৌকায় আবিষ্কার করে তার পোলা আর বৌ আমেনারে। তার বৌ বেডা কেমনে বাড়ি ছাইড়া এইহানে আইল? নৌকার এক লোক কইয়া ওঠে ঔ যে তেইল্যা চোরা আইতেছে। তেইল্যা চোরা নিজের ছাওয়ালডারে আদর কইরা বৌরে কয় তুমি ওরে দেইখা রাইখো বৌ। আর যুদ্ধের পর দেশে ফেতর আইসো। বৌ তখন তারে জিগায় কই যাবা তুমি? সে গলার রগ ফুলায়া কয় আমি মুক্তিফৌজ হমু। চোরের বেডী, চোরের বৌ আমেনারে জীবনে কানতে দেখে নাই কেউ। সেই আমেনা এই কথা শুইনা ডুকরে কাইন্দা ওঠে। মারে দেইখা পোলাও কাইন্দা ওঠে। যে পোলার মাথায় হাত রাইখা চুরি ছাড়ছিলো তেইল্যা চোরা৷ তেইল্যা চোরা পোলারে কইয়া ওঠে, কান্দিস না। তোরে আর কেউ চোরের বেডা কইবো না, কইবো মুক্তিযোদ্ধার বেটা। নৌকায় থাকা সক্কলে তার দিকে ইজ্জতের দৃষ্টিতে তাকায়৷ মুক্তি বাহিনী তে যোগ দিবার গেলে কমান্ডার তার নাম জিগায়। তেইল্যা চোরা উত্তর দেয় তার নাম সুজন মাস্টর। তার বন্ধু মরবার আগে শেষ ইচ্ছার কথা তারে কইয়া গেছিলো। বন্ধুরে সে কইছিলো তোর নাম মুক্তি সুজন। মুক্তি সুজন নাম কানে নিয়া সুজন মাস্টর মইরা গেছিলো। বন্ধুর শেষ ইচ্ছা বজায় রাখতে নিজের নাম বিসর্জন দেয় তেইল্যা চোরা।। এরমধ্যে আর নানা চরিত্র আইবো ঘুরে ফিরে। সব জানতে হইলে পইড়া ফেলুন। তবে প্রথম দিকে গল্পের ধাঁচ কিছুডা খাপছাড়া লাগছে। পরে কিছুডা কভার করছে লেখক। তারপরের পড়ার পর মনে হয়, লেখকের লেখা শেষ করবার একটা তাড়া ছিল। আরেকটু ডিলেইড কইলে মনে হয় গল্পডা মানুষরে আরো স্পর্শ করতো। যাইহোক আমি সাধারণ পাঠক। সাহিত্যের কিছুই বুঝিনা। নিজের কিছু মতামত দিলাম শেষ সময় আইসে। সময় নিয়া পড়বার লাইগা ধন্যবাদ । শেষে ডিজনি সাহেবের একখান কথা মনে পড়তাছে “There is more treasure in books than in all the pirate’s loot on Treasure Island.”
Was this review helpful to you?
or
নিঃসন্দেহে অসাধারণ একটি বই। একাত্তরের আবহ খামচি দেয় বুকের ভেতর!
Was this review helpful to you?
or
📚বুক রিভিউ 📚 বইয়ের নাম :- তেইল্যা চোরা লেখক :- ওবায়েদ হক ধরন :- মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সামাজিক উপন্যাস 📝ভূমিকা :- ফেসবুকের কল্যাণে 'ওবায়েদ হক' এর অনেক প্রশংসা শুনলেও এতো দিন বিভিন্ন কারণে লেখকের কোন বই পড়া হয়নি। এটাই আমার পড়া লেখকের প্রথম বই। উপরে ধরণ এর জায়গায় লিখছি "মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সামাজিক উপন্যাস", এটা অবশ্য আমার নিজস্ব মতামত। কারণ মুক্তিযুদ্ধের অংশ কমই আছে উপন্যাসে। বরং লেখক তুলে ধরছেন একজন সাধারণ চোরের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা এবং যুদ্ধের চলাকালীন সময় তার চোখে দেখা যুদ্ধের কিছু অংশ। একারণেই এই বইকে মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে সামাজিক উপন্যাস বলাটাই বেশি মানায় যাতে মুক্তিযুদ্ধের কিছু গল্প আছে। 📖 কাহিনী সংক্ষেপ :- কাইল্যা চোরা'র ছেলে তেইল্যা চোরা ওরফে ফজর। কাইল্যা চোরা ছিল দশ গ্রামের মধ্যে বিখ্যাত চোর,সবাই এক নামে চিনত। কিন্তু এক রাতে প্রথমবার ছেলে ফজর'কে নিয়ে যায় নিজের পৈত্রিক বিদ্যা শিখাতে, আর সেদিনি ধরা পড়ে গণধোলাই এ প্রাণ দিতে হয় তাকে। ❤️পাঠ প্রতিক্রিয়া :- ঘরে থাকুন, বেশি বেশি বই পড়ুন❤️❤️ Stay Home, Be Safe❤️❤️ বই হোক সব সময়ের সঙ্গী ❤️❤️ Happy Reading ❤️❤️
Was this review helpful to you?
or
খুব সুন্দর
Was this review helpful to you?
or
বইটা একজন লোকের ভেতরকার জেদটা বের করে আনে। কীভাবে মানুষ নিজেরে বদলে ফেলে তার বহিঃপ্রকাশ আছে এই বইটাতে। সত্যি অনেক ভালো একটা বই।
Was this review helpful to you?
or
বই : তেইল্যা চোরা লেখক : ওবায়েদ হক প্রকাশনী : বায়ান্ন মুদ্রিত মূল্য : ২২২ টাকা পৃষ্ঠা : ১১৯ ব্যক্তিগত রেটিং : ৫/৫ ছবিস্বত্ব : ফৌজিয়া লিমা 'চোরের ছেলে চোর হবে, রাজার ছেলে রাজা' এলাকার নামকড়া চোর কসর আলি। তবে চুরিবিদ্যার জন্যই হোক আর শরীরের কুচকুচে কালো রঙের জন্যই হোক - লোকে তাকে 'কাইল্যা চোরা' বলেই বেশি চেনে। তার ছেলে ফজর আলি। ছেলেকে চাইলেই প্রফেসর-ব্যারিস্টার বানানো সম্ভব নয়। চোরের ছেলেক শুনলেই নাক সিটকায় লোকে; কাজ কে দেবে? ফলে চোরের ছেলে চোরই হল। বাবার পেশাটা সমুজ্জ্বল রাখলো সে। তেল চিটচিটে শরীরে ফজর আলী হয়ে উঠলো 'তেইল্যা চোরা'। তেইল্যা চোরা ওরফে ফজরের স্ত্রীর এখানে ঘোর বিরোধ। চোরের বউ তকমা শুনতে কারোই ভালো লাগে না। তবু একদিন সত্যি সত্যিই চুরি পেশা ত্যাগ করবে বলে ঘোষণা দেয় ফজর। সেখানেই ঘটে বিপত্তি। নিতান্ত মন্দ ভাগ্যবশত তার স্থান হয় জেলহাজতে। সাল উনিশশো একাত্তর। দেশ তখন উত্তাল। এরমধ্যেই জেলের ভেতর চার পাঁচজন আসামির সাথে ফজর আলির ঘনিষ্ঠতা হয়। এরমধ্যে একজন উচ্চশিক্ষিত প্রফেসরও আছেন যে কিনা নিজের স্ত্রীকে হত্যা করেছে। আরও আছেন ইউসুফ মুন্সী। তার বিশ্বাস পাকিস্তানীরা মুসলমান কখনও হত্যা করবে না। দেশে অরাজকতার কারণ হিন্দু ও ভারতীয় দালাল রা। আরো আছে বাচ্চু ও সুজন। ফজর আলীর সাথে তারাও যুক্ত হয় এই পাখির মত বন্দীদশা থেকে মুক্ত হতে। যে করেই হোক জিল থেকে পালাতে হবে। তারা কি পারবে জেল থেকে মুক্তি পেতে? নাকি জেলের বাইরে আরেকটা জেলে বন্দি হয়ে পড়বে তারা? পাঠ প্রতিক্রিয়া ---------------------------- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসংখ্য গল্প আছে। একেকটা একেক দৃষ্টিভঙ্গিতে লেখা। 'তেইল্যা চোরা' বইটির প্লটও ঠিক একইভাবে একজন চোরের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। সমাজের সাথে তার যোগ-বিয়োগ, স্মৃতি-বিস্মৃতির টানাপোড়েন, আবেগ, ভালোবাসা ও ভীষণ প্রতিশোধের এক গল্প বলেছেন লেখক এই বইতে। ● বইটির ভালো দিক ▪ প্লট মুক্তিযুদ্ধের প্লট সবসময়ই আমার ভালো লাগে। এই বইয়ের প্লটটা একটু বেশি ই আকর্ষণীয়। একজন চোরের দৃষ্টিভঙ্গিতে মুক্তিযুদ্ধ ই শুধু ফুটে ওঠেনি এই বইতে ; বরঞ্চ উঠে এসেছে অনেকগুলো ভগ্ন হৃদয়ের মানুষের জীবনভাবনা। ▪ চরিত্রায়ন স্বল্প পরিসরে প্রতিটি চরিত্র লেখক বেশ সুন্দরভাবে ডেভেলপ করেছেন । ফলে প্রতিটি চরিত্র আমার কাছে খুব বেশি বাস্তবিক লেগেছে। বিশেষত মূল চরিত্র ফজর আলি ছিল খুব বেশি বাস্তবিক। অন্যান্য প্রায় প্রতিটি চরিত্র লেখক বেশ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষত প্রফেসর চরিত্রটি অল্প সময়ে খুব বেশি সুন্দর ছিল। এছাড়া রোশনী, নসু মাঝি, ইউসুফ মুন্সী - এই চরিত্রগুলো ছিল মনে দাগ কাটার মত । ▪ ভাষাশৈলী ও সংলাপ বইটির ভাষাশৈলী ই এর মূল জাদু। প্রতিটি চরিত্রের ডায়লগ ডেলিভারিগুলো খুব বেশি সুন্দর লেগেছে। বিশেষত প্রতিটি চরিত্রের মনস্তত্ত্ব অনুযায়ী লেখক সংলাপ যোগ করেছেন। ▪ স্টোরিটেলিং ও বর্ণনাভঙ্গি লেখকের গল্প বলার ভঙ্গীমাই এই বইয়ের মূল আকর্ষণ। খুব ধীরেসুস্থে গল্প এগিয়েছে এবং প্রতিটা অধ্যায়ের শেষে লেখক কিছুটা আকর্ষণ রেখে পরের অধ্যায় শুরু করেছেন। বর্ণনাভঙ্গি ছিল বেশ ডিটেইলড্। সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোও লেখক খুব সুন্দরভাবে তলে ধরতে পেরেছেন। বিশেষত ট্রাজিক পার্ট গুলো খুব বেশি ভালো লেগেছে আমার। সুজনের চিৎকার কিংবা ইউসুফ মুন্সীর আহাজারি - সর্বোপরি চোরের উর্ধ্বে একজন বাবাকে লেখক যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ▪ পরিণতি গল্পের শুরুটা গতিশীল হওয়াতে আমার খুব বেশি ভালো না লাগলেও গল্পের পরিণতি ছিল খুব সুন্দর। ▪ প্রকাশনীর প্রোডাকশন বইটা এসেছে বায়ান্ন প্রকাশনীর মলাটে। বায়ান্ন প্রকাশনীর করা পৃষ্ঠার মান, বাঁধাই ও প্রচ্ছদ সবকিছুই বেশ ভালো লেগেছে। প্রচ্ছদটা সাদামাটা হলেও খারাপ নয়। ● বইটির মন্দ দিক মন্দ দিক নিয়ে বলতে গেলে খুব বেশি অভিযোগ করার জায়গা নেই। লেখকের ওপর ও নেই ই। তবে টুকটাক বানান ভুল ও বিরামচিহ্নজনিত ত্রুটি চোখে পড়েছে । এছাড়া সবকিছু ঠিকঠাক। সব মিলিয়ে 'তেইল্যা চোরা' বইটি চৌর্যবৃত্তি ছাপিয়ে একজন দায়িত্বশীল স্বামীর গল্প, একজন স্নেহপরায়ণ বাবার গল্প, দেশের স্বার্থে একজন মুক্তিযোদ্ধার গল্প। লেখক ঠিকই বলেছেন একটা বইয়ের শেষ পৃষ্ঠা উল্টে কখনও লেখকের পরিচয় পাওয়া যায়না। লেখকের পরিচয় দুই মলাটের মাঝের পৃষ্ঠাগুলোর কালো হরফগুলোতে ফুটে ওঠে। আর আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি এই বইটির মাধ্যমে ওবায়েদ হকের পরিচয় আমি পেয়ে গিয়েছি। তার জন্য শুভকামনা রইল।
Was this review helpful to you?
or
লেখকের ৩ টি উপন্যাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এইটা। গা শিউরে উঠার মতো উপন্যাস। লেখকের জন্য শুভকামনা।
Was this review helpful to you?
or
অনেক বেশি সুন্দর। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা এতো সাবলীল গল্পের মাধ্যমেও যে এতো সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা সম্ভবব তা এই বই না পড়লে হয়তো বুঝতে পারতাম না কখনো। মাস্ট রিড একটা বই।
Was this review helpful to you?
or
অসাধারন একটা বই,মাস্ট রিড
Was this review helpful to you?
or
সত্যি বলতে বইয়ের নাম শুনে বুঝতে পারিনি বইটা কী নিয়ে ছিল! আমাদের চট্টগ্রামের ভাষায় তেলাপোকাকে তেইল্যাচোরা বলে। কিন্তু বই পড়ে বুঝলাম এখানে তেলাপোকার নাম গন্ধ নেই! আমি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অসংখ্য গল্প উপন্যাস পড়েছি। তেইল্যা চোরা যে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হবে পড়ার আগ পর্যন্ত জানতাম না। একটা চোর দিয়ে কাহিনী শুরু করে কীভাবে সেটা মুক্তিযুদ্ধের দিকে নিয়ে গিয়েছে সেটা না পড়লে বুঝাই যাবেনা। শুধু যে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী ছিলো এমন না, শেষের দিকেই শুধু মুক্তিযুদ্ধের কথা ছিল বলতে গেলে মুক্তিযুদ্ধের আবহটা এখানে চমৎকারভাবে এসেছে। প্রথম দিক থেকে আমাদের সমাজ আর সমাজের মানুষের আচার-আচরণগুলো দেখানো হয়েছে। আশা করি আপনাদেরও অনেক ভালো লাগবে বইটি।




