
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ উপন্যাস। আমার খুব ভালো লেগেছে।
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ উপন্যাস অসাধারণ অনুবাদ । যা বলে শেষ করার মত না। ধন্যবাদ লেখক এবং অনুবাদক কে
Was this review helpful to you?
or
চমৎকার
Was this review helpful to you?
or
it's the best book of Murakami sir,i have ever read
Was this review helpful to you?
or
sundor boi eta
Was this review helpful to you?
or
চমৎকার একটা উপন্যাস। আলভীর অনুবাদও অনন্য। অনেক সঙ্গে থাকার মতন বই এটি৷ অগ্রসরমান পাঠকরা নিসন্দেহে কাছে রাখতে পারেন এই মাস্টারপিসটা।
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ একটা উপন্যাস। আর অনুবাদ অত্যন্ত চমৎকার। আমার ধারনা এই উপন্যাসের যতগুলো বাংলা অনুবাদ আছে তার মধ্যে এটা সবচেয়ে ভালো। বইটার প্রিন্ট কোয়ালিটি এবং পাতার মানও অনেক ভালো।
Was this review helpful to you?
or
বইটি may তে রেস্টিক হওয়ার কথা।কবে restock হবে
Was this review helpful to you?
or
এতো সাবলিল অনুবাদ অনেকদিন পড়ি নাই...কখনোই মনে হয়নি অন্য ভাষা থেকে অনুবাদ হয়েছে, ৩ দিনে শেষ করতে পারছি এই কারনে
Was this review helpful to you?
or
masterpiece
Was this review helpful to you?
or
হারুকি মুরাকামির "নরওয়েজিয়ান উড" একটি সুন্দর বিষণ্ণ উপন্যাস যা প্রেম, ক্ষতি এবং পরিচয়ের অনুসন্ধানের জটিলতার মধ্যে পড়ে। ১৯৬০ এর জাপানের পটভূমিতে রচিত উপন্যাসটি তোরু ওয়াতানাবেকে অনুসরণ করে যখন তিনি তার চারপাশের সম্পর্ক এবং আবেগের জটিল জাল ও সমীকরণ রচনা করেন। মুরাকামির উপন্যাসটি চমৎকার, একটি অশান্ত যুগের একটি প্রাণবন্ত ছবি আঁকা এবং চরিত্রগুলির অভ্যন্তরীণ সংগ্রামের সারমর্মকে ধারণ করে। উপন্যাসটি মৃত্যুর প্রভাব এবং স্মৃতির ওজনের একটি মর্মস্পর্শী অন্বেষণ, যেখানে ভুতুড়ে বিষাদময় বিটলসের গান "নরওয়েজিয়ান উড" পুরো আখ্যান জুড়ে পুনরাবৃত্তিমূলক মোটিফ হিসাবে কাজ করে। মুরাকামি মানুষের আবেগের একটি সূক্ষ্ম ট্যাপেস্ট্রি বুনেছেন, চরিত্রগুলিকে গভীরতা এবং সংবেদনশীলতার সাথে চিত্রিত করেছেন। গল্পের অন্তরঙ্গ এবং অন্তর্মুখী সুর পাঠকদের তাদের প্রেম এবং ক্ষতির নিজস্ব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন করতে আমন্ত্রণ জানায়। যদিও আখ্যানটি মর্মান্তিক এবং মননশীল হতে পারে, এটি একটি আসছে-যুগের গল্প যা সর্বজনীন থিমের সাথে অনুরণিত হয়। মুরাকামি দক্ষতার সাথে জাপানি সংস্কৃতি, দর্শন এবং সঙ্গীতের উপাদানগুলিকে অন্তর্ভূক্ত করে, একটি সমৃদ্ধ এবং নিমগ্ন পাঠের অভিজ্ঞতা তৈরি করে। "নরওয়েজিয়ান উড" একটি নিরবধি এবং উদ্দীপক উপন্যাস হিসাবে দাঁড়িয়েছে যা জীবনের ক্ষণস্থায়ী মুহুর্তের তিক্ত সারাংশকে ক্যাপচার করে।
Was this review helpful to you?
or
সাল ১৯৬৮,জাপানে রাজনৈতিক আন্দোলন চলাকালে ১৯ বছর বয়সী তরুণ তরু ওয়াতানাবে টোকিও আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে। সেই সময়টায় তার জীবনে আসা দুই নারী নাওকো এবং মিদোরি কে নিয়ে গল্প গড়াতে থাকে। মৃত বন্ধু কিজুকির প্রেমিকা নাওকোর সাথে ধীরে ধীরে গভীর প্রেমে জড়িয়ে পড়ে ওয়াতানাবে। অন্যদিকে মিদোরির মত চমৎকার বন্ধুর বন্ধুত্বের বলয়ে বাঁধা পড়ে ওয়াতানাবে। প্রচণ্ড গভীর মনস্তত্ত্বের একটি বই অথচ কাহিনীশৈলী আপাতদৃষ্টিতে সরল। ভালবাসা ও প্রেম কে সাথে নিয়ে উপচে পড়া যৌনতা পুরো গল্প জুড়ে এক প্রকার মাদকতা ছড়িয়ে রেখেছিল। ওয়াতানাবের পুরো সময় জুড়ে নাওকোর প্রতি ভালবাসা শেষ পর্যন্ত এক বিষন্ন পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি প্রত্যেকটি চরিত্রকে রিলেট করতে পেরেছি আর গল্পে আমি ভীষন মাত্রায় ডুবে গিয়েছিলাম। গল্পের বিষয়বস্তু মূলত ভালবাসা আর বিষন্নতাকে ইঙ্গিত দিলেও মুরাকামি গল্পকে বলেছেন এমনভাবে যেন মৃত্যু জীবনের বিপরীত নয় বরং মৃত্যু জীবনেরই অংশ। বইয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ন অংশ লেখক জীবন মৃত্যুকে পাশাপাশি রেখে একটা সুই সাইড স্টাডি করে চলেছেন যেখানে ওয়াতানাবের মত কেউ চাইছে জীবনকে ধরে রেখে এগিয়ে যেতে আরেক পক্ষ চাচ্ছে জীবন থেকে দূরে গিয়ে মৃত্যুর সাথে বাস করতে। প্রাকটিক্যাল ফোকাস পয়েন্ট থেকে সরে এসে শুধুমাত্র আবেগে জায়গা গুলো ভীষণ মাত্রায় সেনসিটিভ এন্ড ভালনারেবল। বইটা শেষ করতেই মন টা এমন খারাপ হয়েছে বলার মত না। ৩৫০ পেজের বইটা যারা স্লো ডিপ কনসেপ্টের বই পছন্দ করেন তাদের জন্য ভালো হবে। ওয়াতানাবের টোকিওর দিনগুলো ও মিদোরির কার্যকলাপ সত্যিই অন্য রকম একটা সৌন্দর্য্য বইটার। সবকিছু মিলিয়ে বইটা ভারী চমৎকার। অনুবাদ আর বাতিঘর প্রকাশনীর কাজ ফার্স্ট ক্লাস ছিল। গভীর জীবনবোধ,ভালোবাসা বন্ধুত্ব সবমিলিয়ে আমার কাছে নরওয়েজিয়ান উডের চরিত্রগুলোর দুই জগতে বিচরণ আর গল্পটা খুব ভালো লেগেছে সেই সাথে প্রচন্ড মাত্রায় মন ভার করে তুলেছে।
Was this review helpful to you?
or
মাস্টারপিস।
Was this review helpful to you?
or
Fantastic
Was this review helpful to you?
or
Undescribable
Was this review helpful to you?
or
অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম বইটা পরবো অবশেষে বই টা কিনলাম। চমৎকার অনুবাদ। পড়তে পড়তে কখন ইম্যাজিনেশন এ ঢুকে যায় বোঝায় যায় না। মাঝে মাঝে মনে হয় আমিও আছি কোথায় ওয়াতানাবের আশেপাশে তাদের সব কিছুই যেনো চোখে দেখতে পাচ্ছি। অনুবাদক কে অসংখ্য ধন্যবাদ।
Was this review helpful to you?
or
একদমই ভালো লাগে নাই হুদাই এত টাকা দিয়ে কিনলাম🥴🥴🥴🥴
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ একটা বই।বইটা পড়বার শেষে পাবেন এক গভীর বিষাদ আর পরিশেষে এক নান্দনিক তৃপ্তিবোধ। ফেনোমেনাল এক জিনিস।
Was this review helpful to you?
or
বইটির মলাট। বাধাই এর মান। এবং কাগজ। চমৎকার অনুবাদক আলভী আহমেদ এর অনুবাদ এক কথায় বলতে গেলে অত্যন্ত উঁচুমানের হয়েছে। উপন্যাসের কাহিনী। আমার কাছে ভালো লেগেছে।
Was this review helpful to you?
or
#আড্ডাখানায়_রকমারি #রিভিউ_২০২৩ "আমি চাই, তুমি আমাকে সারাজীবন মনে রাখবে; আমি থাকি বা না থাকি। তোমার কি মনে থাকবে, আমি একসময় ছিলাম? তোমার ঠিক পাশে, এভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে?" মেয়েটি জানে, স্মৃতি মলিন হয়ে যায় একসময়। তবুও তার একটাই চাওয়া—ছেলেটির মনের ভেতর সে যেন বেঁচে থাকে সবসময়। মানুষ সবার মাঝে বেঁচে থাকতে চায় এটা যেমন সত্য, ঠিক তেমনই এটাও সত্য যে, সে কারো মাঝে বিশেষভাবে বেঁচে থাকতে চায় একজন একান্ত মানুষ হয়ে। হোক সেটা মৃত্যুর পূর্বে কিংবা তারও পরবর্তী সময়ে। সে আবদারটাও করে বিশেষ মানুষটার কাছে, যাকে সে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, যার ওপর রয়েছে তার অগাধ আস্থা। তার চাওয়াটা এমন মানুষের কাছে, যে তাকে বিশ্বাস করে, শ্রদ্ধা করে, সম্মান করে, বুঝতে পারে। সে শুধু মানুষটার মধ্যমণি হয়ে বাঁচতে চায়। যখন মানুষটা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন সে নিজেকে মানুষটার ভেতর জিইয়ে রাখার আবদারটুকু করে। মানুষটা যখন তাকে নিশ্চয়তাটুকু দিয়ে দেয়, তখন সে আত্মিক প্রশান্তি অনুভব করে। সেই অনুভূতি নিয়ে হাসতে হাসতে মৃত্যুকেও মুহূর্তের ভেতর আলিঙ্গনে বাঁধতে পারে সে। একজন মানুষের জীবনে এই নিশ্চয়তাটুকুর প্রয়োজন আছে...সুন্দরভাবে মত্যুবরণ করার জন্য হলেও। একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে সারাক্ষণ দেখে রাখতে পারে না। একটা সময় সে বিরক্ত হবেই। তবুও মানুষের আদিম সত্তা চায়—কেউ সর্বক্ষণ তাকে দেখে রাখুক, তার উপর থেকে চোখের পলক না ফেলুক, তাকে আগলে রাখুক, পছন্দ করুক, ভালোবাসুক, যত্ন করুক, তার দায়িত্ব নিক, তার জন্য পাগলামি করুক, তার সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটাক। একটা মানুষ আরেকটা মানুষের জন্য এসব করতে গিয়ে মাঝে যখন ন্যূনতমও দূরত্ব রাখবে না, তখনই একপর্যায়ে সমস্ত কিছুতে একঘেয়েমি, বিরক্তি চলে আসবে অপর মানুষটার। তার কাছে সবকিছু বিস্বাদ লাগতে শুরু করবে। মধুর যন্ত্রণা থেকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে চাইবে। আর সেটা করতে গিয়ে অনেকসময় সে বড়ো কিছু হারিয়ে বসে। এক সময় অপরাধবোধ আর অনুশোচনারা তাকে ছিঁড়েখুঁড়ে গিলে ফেলতে চায়। আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের হৃদয় কঠিন, কিন্তু পাষাণ নয়। তাদের কঠিন হৃদয়েও আবেগ-অনুভূতির অস্তিত্ব আছে। অনেক সময় কাঠিন্যের আধিপত্য চালাতে গিয়ে তারা নিজেদের ভেতরের সত্তাকে ভুলে যায়, অনুভূতিশূন্য প্রাণী হয়ে ওঠে ভুল করে বসে, যার ফলে তাকে হারাতে হয় অনেককিছু; এমনকি কাছের মানুষকেও। ভুলের মাশুল কোনো না কোনোভাবে তাকে দিতে হয়। একটা সময় পর তার ঘুমন্ত সত্তা জেগে ওঠে টনক নাড়িয়ে দেয়। ভুলগুলোর কথা মস্তিষ্কে ভাসিয়ে তুলে আর ব্যথার দাগ কেটে দেয় হৃদয়ে। সেখান থেকে যে ক্ষত সৃষ্টি হয় তা পীড়া দেবে প্রচন্ডভাবে। এমনকি জীবনের শেষ দিনক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে এ ধারা। অনেক সময় তা সহ্য করতে না পেরে কেউ কেউ মুক্তির পথ বেছে নেয়। আর মৃত্যু-ই তাদের একমত্র মুক্তি। ❛নরওয়েজিয়ান উড❜ একটা নির্দিষ্ট বয়সেরই গল্প, যে বয়সটা সবাইকে পার করতে হয়। বয়সটা আঠারোর-ই, তারুণ্যে পদার্পণ করার বয়স। তখন চোখে-মুখে হাজারো স্বপ্ন ভাসে, ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে বিশ্বজয় করার ইচ্ছা জাগ্রত হয়। শরীরের ভেতরের রক্তগুলো উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হতে থকে, টগবগ করে ফুটতে থাকে উত্তেজনা। এ থেকে ভুল হয়, আবারও সঠিকও হয়। ভুল কিংবা সঠিক, ব্যক্তির দ্বারা যে কাজটা হোক না কেন, সবকিছু বয়সের দোষের নিচে চাপা পড়ে যায়, তাতে দোষারোপ করার মতো কোনো বিষয় থাকে না। বয়সটা আঠারোর-ই, এখানে ভুলের অস্তিত্ব আছে। বয়সটা পা পিছলে পড়ারও, এখানে একবার ভুল করে পা পিছলে গর্তে পতিত হলে সেখান থেকে উঠে দাঁড়ানোর জো নেই। ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়। অনেকে সেই ব্যথা সহ্য করতে না পেরে একটা পথ অবলম্বন করে একবারে নিজের মৃত্যু নিজেই নিশ্চিত করে নেয়। এ বয়সে আঘাত আসবে, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য-ও তার কবিতা ❛আঠারো বছর বয়স❜-এ বলেছেন— আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে অবিশ্রান্ত; একে একে হয় জড়ো, এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো। তব আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি, এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে, বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে। ◉ পাঠ - পর্যালোচনা :- কিছু উপন্যাস আছে, যেগুলো হৃদয়ে এমনভাবে দাগ কেটে দিয়ে যায় যার ক্ষত কখনো শুকায় না আর শুকালেও তার চিহ্ন রয়ে যায় অনির্দিষ্টকাল, যা মনে করিয়ে দেয় উপন্যাসটার অস্তিত্বের কথা। ❛নরওয়েজিয়ান উড❜ এমন একটা উপন্যাস, যার পুরোটাই জীবনদর্শন দিয়ে মোড়ানো যা হৃদয়ে প্রবলভাবে দাগ কাটার পাশাপাশি অবচেতন মনের ভাবনাগুলোকেও নাড়িয়ে দেবে। ❛নরওয়েজিয়ান উড❜ ঘোরলাগা এক অনুভূতিতে আচ্ছন্ন করার সমস্ত উপকরণ নিয়ে হাজির হয়েছিল। ❛নরওয়েজিয়ান উড❜ এমন একটা উপাখ্যান যেখানে, —একজন আবেগ-অনুভূতিকে তুচ্ছ মনে করলে অন্য আরেকজনের কাছে আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা, এসবের মূল্য অনেক বেশি। —কাউকে হারানোর পর যে শূন্যস্থান তৈরি হবে, সেটার ভয়ে কেউ একজন সেই মানুষটাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতেও পারে না। —কেউ কঠিন জীবনের কঠিন সমস্যা আর দায়িত্বকে পাশ কাটানোর উপায় খুঁজে বেড়াবে। —এক জীবনে হাজারো কষ্টে জর্জরিত হওয়া মানুষ একটা সময় পর কষ্ট পাওয়া থেকে পালানোর পথ খুঁজে বেড়াবে। শেষ কষ্টটাকে গ্রহণ করে সুখী হওয়ার পথে পা বাড়াতে চাইবে। —কেউ ভালোবাসার পাগলামির জন্য অপেক্ষা করবে, কেউ অপেক্ষা করবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। —মাত্র বিশ বছর বয়সে স্বপ্নভঙ্গ হয়ে যাওয়ার বেদনা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে নতুনভাবে নিজেকে গড়তে চাইবে কেউ একজন। —কেউ মুক্তির জন্য মাত্র সতেরো বছর বয়সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে। —কেউ একজন কারো মাঝে একান্ত মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে চাইবে, হোক সেটা মৃত্যুর পূর্বে কিংবা তারও পরবর্তী সময়ে। এটা এমন একটা উপাখ্যান, যেখানে কেউ তার সুন্দর মুহূর্তগুলো হারানোর বেদনায় জর্জরিত হয়ে আক্ষেপের সাগরে পতিত হবে, তখন জীবনের নানা ভাবনা এসে ভর করবে তার মাথায়। সময়, বন্ধু, প্রিয়জনের শূন্যতা গ্রাস করবে তাকে। একটা সময় তাদের না ফেরার বেদনা তার ভেতরটাকে হাহাকারে রূপান্তরিত করবে। ❝শ্বাস নেওয়ার সময় ফুসফুসে যেভাবে ধুলো ঢোকে, সেভাবে মৃত্যু ঢুকে যায় আমাদের অগোচরে। এই যে জীবন, সেটা মৃত্যুর চারপাশেই ক্রমাগত ঘুরপাক খায়।❞ মৃত্যু সংবাদ শোকের হলেও সুন্দর একটা মৃত্যুর সাক্ষী হতে পারা সৌভাগ্যের ব্যাপার। যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর চেয়ে ভয়ানক মৃত্যু আর হতে পারে না। যাতনা নিয়ে মৃত্যুর দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার মতো দুরূহতম পথও আর নেই। স্নিগ্ধ মৃত্যুর মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার মতো দুর্দান্ত ব্যাপার আর কী হতে পারে! ❛নরওয়েজিয়ান উড❜-এ এমন কাউকে দেখা যাবে, যে পীড়া সহ্য করতে না পেরে মৃত্যু কামনা করবে আর মৃত্যু ভিক্ষায় ছটফট করতে থাকবে। ❝পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা নিজের ওপর অন্যের চাপ নিতে পছন্দ করে। তারা মুখে বলবে, চাপ নেবে না। কিন্তু তারা চায়, তাদের ওপর জোর করা হোক।❞ মানুষের ঘাড়ে দায়িত্বের বোঝা চাপলে নুয়ে পড়া দেহটাকে বাঁচানোর জন্য সে পালাতে চায়, এমনটা কিন্তু সবসময় সত্য নয়। কখনো কখনো নিজের জন্যও পালাতে চায় মানুষ। তখন কাছের মানুষগুলোকেও দূরে ঠেলে দেয় সম্পূর্ণ একা থাকার জন্য। সে একান্ত সময় কাটাতে চায় নিজের সাথে। নিজেকে পুরোপুরি পড়তে চায়, ভাঙতে চায়, গড়তেও চায় নতুনভাবে, নতুন রূপে। ❛নরওয়েজিয়ান উড❜-এ দুই ধরনের মানুষই দেখা যাবে—এক ধরনের মানুষ নিজের জন্য পালাতে চাইবে, আরেক ধরনের মানুষ দায়িত্বের বোঝা নিজের ঘাড়ে চাপানোর জন্য উতলা হয়ে থাকবে। এ উপাখ্যানের পাতায় দুই মেয়ের অবাধ বিচরণ দেখা গিয়েছে, যাদের একজন বরাবরই ভালোবাসার কাঙাল। সে এমন একজনকে বেছে নিতে চায়, যে তাকে শর্ত ছাড়া বছরের তিনশো পঁয়ষট্টি দিনই ভালোবাসবে। সে মানুষটাকে অনেক জ্বালাবে, কিন্তু মানুষটা এক ফোঁটাও প্রতিবাদ করবে না। আরেকজন মেয়ে নীরবে-নিভৃতে কাউকে ভালোবেসে যাবে, প্রকাশ করবে কম। ভালোবাসার মানুষটার সাথে অচেনা-অজানা উদ্দেশ্যে ঘুরে বেড়াতে এবং সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে সে। সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে এ দুই মেয়ের দুই গল্পের শেষ পরিণতিও বিদ্যমান রয়েছে। কোনো চরিত্রের কথার জাদুতে আকৃষ্ট করে ফেলার ক্ষমতা শুধু বইয়ের চরিত্রগুলোকে নয়, পাঠককেও মুগ্ধতার আবেশে আবিষ্ট করতে বাধ্য। আবার কোনো চরিত্রের কিছু আবদার, কিছু পাগলামির মধ্যে এক মায়াময় আবহ বিদ্যমান। কিছু কিছু হাস্যরসাত্মক সংলাপ মিটিমিটি হাসাতে পারঙ্গম। অপরাধবোধ, প্রেমের মধ্যকার জটিলতা, মানসিক বিপর্যস্ত, আত্মহত্যা, ভালোবাসার মধ্যকার পাগলামি, সন্দেহ, অধিকার, দায়িত্ব, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, যৌনতার এক সরস উপাখ্যান ❛নরওয়েজিয়ান উড❜। ❛নরওয়েজিয়ান উড❜ শুধু একটা প্রজন্মের গল্প নয়, একটা বয়সেরও গল্প, যে বয়সটাকে মানুষ চাইলেও এড়িয়ে যেতে পারে না। সেই বয়সের জালে মানুষকে আটকা পড়তেই হয়। হারুকি মুরাকামি সেই বয়সটাকে এখানে জীবন্ত করে তুলেছেন। সেই বয়সে কিংবা বয়সটা পার হওয়ার পর মানুষ যেসব কর্মকাণ্ড করে, তা বইয়ের পাতায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। গল্পটা আমার, তোমার, আপনার; তাই ভোলার কোনো সুযোগ নেই। ◉ সমাপ্তি :- কেউ বইয়ের মাঝপথে এসে যখন গল্পের সমাপ্তি সম্পর্কে বুঝে যায়, তখন তার মেজাজটা কেমন হবে? বিজয়োল্লাসে ফেটে পড়বে? না। তার নিজেকে নিজে বাহবা না দিয়ে গলা চিরে উল্টো আক্ষেপের সুর বেরিয়ে আসবে। মেজাজ বিগড়ে যাবে, নিজের চুল নিজে ছিঁড়তে চাইবে। ❛নরওয়েজিয়ান উড❜ এর মাঝপথে এসে আমিও গল্পের সমাপ্তি বুঝে গিয়েছিলাম। এক্ষেত্রে আমার হয়েছে ব্যতিক্রম। মেজাজ বিন্দুমাত্র বিগড়ে যায়নি। উল্টো আগ্রহ আর পড়ার গতি আরও বেড়েছে। সমাপ্তি দেখার জন্যও তর সইছিল না। কারণ—সেই সমাপ্তিতে রয়েছে ❛নরওয়েজিয়ান উড❜র অমরত্ব। হারুকি মুরাকামি এমন সমাপ্তি দেওয়ার কারণে নরওয়েজিয়ান উড অমরত্ব পেয়েছে। পাঠক বইটাকে মনে রাখবে বহুকাল। ◉ লিখনশৈলী :- হারুকি মুরাকামির একটা বিশেষত্ব হচ্ছে—আচমকা কোনো পরিস্থিতির অবতারণা করা আর সেটা কোনো মানুষের উপর কেমন প্রভাব ফেলতে পারে তা দেখানো। অনেকটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মতো। ❛নরওয়েজিয়ান উড❜-এও সুক্ষ্ণভাবে এমন দৃশ্যপটের অবতারণা করেছেন তিনি। পরিস্থিতি তৈরি করে যা যা ঘটছে সবকিছুর বিশ্লেষণও কথোপকথনের মাধ্যমে দিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে দারুণ। কোনো শিক্ষকের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানটা ততক্ষণ-ই বিরক্তিকর হয় না, যখন তিনি পুরো শ্রেণিকক্ষকে মাতিয়ে রাখেন কোনো না কোনোভাবে। হারুকি মুরাকামি-ও কাহিনির ভেতর নিজস্ব জাদু মন্ত্রবলে হাস্যরসাত্মক সংলাপ প্রবেশ করিয়ে দিয়ে পুরো গল্পটাকে মাতিয়ে রেখেছিলেন শেষ পর্যন্ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হল লাইফের দৃশ্যপট আর বর্ণনা এতটা নিখুঁত ছিল যে, পড়ার সময় মনে হচ্ছিল—দৃশ্যপটে উপস্থিত থেকে নিজের চোখের সবকিছু অবলোকন করছি। পারিপার্শ্বিক আবহ থেকে শুরু করে শেষ পৃষ্ঠা অবধি আকৃষ্ট করে রাখার মতো বর্ণনা আসলেই প্রশংসার দাবিদার। ◉ অনুবাদ :- একজন অনুবাদকের তৃপ্তি কোথায়? নিঃসন্দেহে সফল অনুবাদ করায়। সেইদিক থেকে বলতে হয়, আলভী আহমেদ ❛নরওয়েজিয়ান উড❜ এর একটা সফল অনুবাদ করেছেন। লেখক যে রকমের মেজাজ-মর্জি-ছন্দ-গতি দিয়ে গল্পটি লিখেছেন, অনুবাদক দক্ষতার সাথে সেই রেশটা ধরে রাখতে পেরেছেন তার লেখায়। শব্দের ছন্দময় মেলবন্ধন ও সাবলীল বর্ণনাভঙ্গির মাধ্যমে ভিনদেশি বইটি বাংলাভাষায় সুখপাঠ্য করে তোলেন তিনি। ❛নরওয়েজিয়ান উড❜-কে মাতৃভাষায় পড়তে পারার সু্যোগ করে দেওয়ায় অনুবাদকের প্রতি কৃতজ্ঞ। ◉ একনজরে :- ▪️বই : নরওয়েজিয়ান উড ▪️লেখক : হারুকি মুরাকামি ▪️প্রচ্ছদ : সব্যসাচী মিস্ত্রী ▪️জনরা : উপন্যাস ▪️প্রথম প্রকাশ : সেপ্টেম্বর, ২০২০ ▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৩৫২ ▪️মুদ্রিত মূল্য : ৬৬০ টাকা ▪️প্রকাশনা : বাতিঘর ❝জ্ঞানের আলোয় পৃথিবী ভালো মানুষের হোক।❞
Was this review helpful to you?
or
অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়েছি,ভাষা বর্ণনা চমৎকার ছিল। প্রকৃতির বর্ণনাও অসাধারণ ছিল। এসবের জন্য একেবারে শেষ পর্যন্ত পড়তে বাধ্য হয়েছি। তরুর চরিত্রায়ণ বর্তমান জেনারেশনের প্রতিনিধিত্ব করে বলা যায়। সে দুজনের প্রেমে পড়ে। এটা খারাপ লাগে নাই। হতেই পারে। নাওকোর কিছু মানসিক সমস্যা ছিল যে কারণে তাদের সম্পর্কে বেশ কিছু সমস্যার দেখা দেয়। তরু তার জন্য অপেক্ষাও করতে চেয়েছিল। কিন্তু অপেক্ষার সময়টুকু অনেক বেশি কষ্টের ছিল। তরুর কষ্টগুলো শেয়ার করার মতো তেমন কেউ ছিল না। সে ইন্ট্রোভার্ট একটা ছেলে সেটা কাহিনী থেকে বুঝতে পেরেছি। মাঝে দিয়ে ক্লাসমেট মিদোরির সাথে তার ভালো বন্ধুত্ব হয় এবং সেটা ধীরে ধীরে প্রণয়ে পরিণত হয়। কিন্তু তরু সৎ থাকতে চেয়েছিল নিজের কাছে। সে মিদোরির প্রতি প্রবল টান অনুভব করে অন্যদিকে নাওকোকে ছাড়ার কথা ভাবতেও পারে না। তাই মিদোরিকে অপেক্ষা করতে বলে। কাহিনি এভাবে আগাচ্ছিল আমারো ভালোলাগা চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। কিন্তু মাঝে বাধ সাধলো নাওকোর আকস্মিক মৃত্যু। নাওকোকে হারিয়ে তরু পাগলপ্রায় হয়ে একমাস টোকিওর বাইরে থেকে ঘুরে আসে। সে প্রতিটা মুহূর্তে নাওকোকে নিজের কাছে অনুভব করে। একসময় সে টোকিও ফিরে এসে রেইকোর চিঠি পায়। রেইকো হচ্ছে সাঁইত্রিশ বছরের মহিলা যিনি নাওকোর সাথে একটি বিশেষ জায়গায় থাকতেন। যেখানে সব ত্রুটিপূর্ণ মানুষ একসাথে থাকে, আশেপাশের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের মতো করে। তরু সে বিশেষ জায়গায় দুইবার গিয়ে দুইদিনের জন্য বেড়াতেও গিয়েছিল। সেখানে নাওকোর খোঁজখবর নেবার পাশাপাশি রেইকোর সাথে তার বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রেইকো টোকিওতে এসে সরাসরি তরুর সাথে দেখা করতে চায় এবং তার বাসায় উঠে আসে একরাত থাকার জন্য। এরপরে যা ঘটে তাতে আমার তরুর প্রতি যে ভালোলাগা, তার অনুভূতির উপর শ্রদ্ধাবোধ ছিল তা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। শেষ দু'পৃষ্ঠা পড়ার পর মনে হয়েছে পুরো সময়টা নষ্ট হয়েছে আমার। প্রচন্ড রাগ লাগছে। শেষে আবার ফিনিশিংটাও অগোছালো লেগেছে। হুট করেই শেষ হয়ে গেলো মনে হয়েছে। রেইকোর সাথে একরাত কাটানোর পরে মিদোরিকে কল দিলো সে সবকিছু নতুন করে শুরু করার জন্য। ব্যাপারটা ভালো ছিল। মাঝে দিয়ে রেইকোকে না টানলেও পারতেন লেখক। নাওকোর আত্মহত্যার কোনো মূল্য ছিল না, তার স্যাক্রিফাইসের কোনো মূল্য ছিল না। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হচ্ছে।
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ উপন্যাস। অসাধারণ অনুবাদ। অনুবাদ যে কত সাবলীল হতে পারে, এই উপন্যাসটা না পড়লে বুঝতে পারতাম না। আলভী আহমেদের অনুবাদ করা মুরাকামির কিছু ছোটগল্প "প্রথম আলো" পত্রিকায় আমি পড়েছি। কিন্তু, উপন্যাস এবারই প্রথম। মুরাকামি বিশ্বমানের লেখক। তার এমন দারুণ, ঝরঝরে অনুবাদ করে আমাদের মাঝে পৌঁছে দেবার জন্য আলভী আহমেদকেও ধন্যবাদ।
Was this review helpful to you?
or
উপন্যাসের মূল চরিত্র ওয়াতানাবে। তার হাইস্কুল বন্ধু বলতে ছিল মাত্র দুইজন। কিজুকি আর কিজুকির গার্লফ্রেন্ড নাওকো। কিজুকি অজ্ঞাত কারণ বশত (আমিও ভেবে চলেছি কারণটি কী) আত্মহত্যা করে। এর এক বছর পর একলা নাওকোর সাথে একদিন টোকিওতে দেখা হওয়ার পর তাদের সম্পর্ক গড়ে উঠতে থাকে। লক্ষ্যণীয়, উপন্যাসটির নামকরণ করা হয়েছে নাওকোর প্রিয় গান নরওয়েজিয়ান উডের সাথে মিল রেখে। নাওকোর সেই মানসিক আঘাতটা ধীরে ধীরে মানসিক ব্যধিতে পরিণত হয়। স্যানেটেরিয়ামে যেতে হয় নাওকোকে। দূরত্ব বেড়ে যায়, শূণ্য স্থান তৈরি হয়। আর এই শূণ্য স্থানে আসে মিদোরি। নাওকোর শান্ত, ধীর, ভাবুক চেতনাধারার ঠিক উল্টো প্রবাহে মিদোরি আসে উপন্যাসে; প্রাণ সঞ্চার করবার জন্য। মূলত এই তিন জনকে নিয়ে উপন্যাসটি হলেও উপন্যাসটি শুধুমাত্র তিন জনের আশে পাশেই ঘুরপাক খায়নি। সুযোগ পেলেই লেখক পাঠকদের ঘুরে নিয়ে এসেছেন অন্য উপগল্পে। হারুকি মুকারামি এই উপন্যাসের মাধ্যমে হয়তবা প্রেমের পুরাতন সঙ্গাই নতুন ভাবে ব্যাখ্যা করে দিয়ে গেছেন। পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গিকে করে তুলেছন আরও প্রেমময় আরও পরিশীলিত। এবার আসি বাংলা অনুবাদ আর অনুবাদকের কাছে। বইটি অনুবাদ করেছেন আলভী আহমেদ। আমার জানা মতে, হারুমি মুকারামি একজন সাবলীল লেখক। তার কলমের ভাষা সমুদ্রের পানির মতো স্বচ্ছ হলেও সমুদ্রের মতো গভীর। তার লেখনী জনপ্রিয় হয়ে ওঠার মূল কারণই হয়তবা এই সাবলীলতা। আর হারুকি মুকারামির সেই সাবলীলতা বাংলা অক্ষরে বেঁধে এমন একটি চমৎকার অনুবাদ প্রকাশ করার পাণ্ডিত্য দেখে অনুবাদকের প্রতি মুগ্ধ হয়েছি। অনুবাদে কোনো প্রকার আড়ষ্টতা খুঁজে পাইনি। বাংলা ভাষার সর্বোচ্চ সামর্থটুকু ব্যবহার করে উপন্যাসটি লেখা হয়েছে এ নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই। কিছু অনুচ্ছেদ পড়ে মনে হয়েছে যেন বাংলা সাহিত্য পড়ছি যার প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গ আর চরিত্রগুলোও বাঙ্গালি এমনকি আবেগগুলোও এই বাংলার মাটি প্রসূত। সাবলীল করার উদ্দেশ্যে অনুবাদক বাংলা চলতি কিছু আবেগ প্রকাশন বাক্য সংযোজন করেছেন যা পড়ে ওয়াতানাবেকে আর মিদোরিকে টোকিওর নয় বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্বের বিদ্যার্থী লেগেছে। যেন ওরা টোকিও শহরে টইটই করে ঘুরে বেড়ায় না, ওরা ঢাকাতে ঘোরে। ওরা শিঞ্জুকু স্টেশনে না বরং কমলাপুরে ট্রেন ধরে। আমার মনে হয়েছে চরিত্রগুলোর নাম বাঙ্গালিকরণ করলেই এটি কোন বিখ্যাত জাপানিজ উপন্যাসের অনুবাদ না বরঞ্চ বাংলা সাহিত্যের মৌলিক উপন্যাস হয়ে যেত। আমার রিভিউ পড়েই বুঝতে পারছেন আমি বইটর লেখক আর অনুবাদকের রীতিমত ভক্ত বনে গেছি। আপনিও পড়ুন; ভালো লাগতে বাধ্য।




