User login

Sing In with your email

Email Address
Password
Forgot Password?

Not Account Yet? Create Your Free Account

Send

Recipients:
Message:

Share to your friends

Copy link:

    Our Price:

    Regular Price:

    Shipping:Tk. 50

    • Size:
    • Color:
    QTY:

    প্রিয় ,

    সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
    মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?

    Please Login to Continue!

    Our User Product Reviews

    Share your query and ideas with us!

    Customer Reviews

      By Maliha Tasneem

      11 Jan 2026 05:10 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      চমৎকার

      By sanjana

      14 Feb 2025 04:39 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      অনেক আগেই পড়েছিলাম বইটা... ভালো লেগেছে অনেক

      By Rejoan Ahmed

      03 Jun 2024 08:59 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      ‘এখানে রোদ নেই’— অন্ধকারে আলোকপাত ‘এখানে রোদ নেই’ একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের চার মেয়ের নানামুখী বঞ্চনার জীবনগল্প। উত্তম পুরুষ এবং লেখকবয়ানের সুষম ব্যবহারে দুটো সমান্তরাল ধারায় কাহিনি এগিয়ে গেছে তরতর করে। আমাকে যদিও একাধিক বিচ্ছিন্ন পাঠে পুরোটা শেষ করতে হয়েছে, তবুও একথা স্বীকার করতে হবে যে মৌলী আখন্দের আর সব লেখার মতো এ লেখাটাও এক বসায় একটানে পড়ে ফেলার যোগ্য। লেখকের কাহিনি নির্মাণের একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ইতিবাচক, আশাব্যঞ্জক সমাপ্তি। সে ধারায় ‘এখানে রোদ নেই’ এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তবে এ ধরনের সমাপ্তিতে আসার পথটা পঙ্কিল হয়েছে কিছু সহৃদয়হৃদয়সংবেদী বিবরণ ও সংলাপের ছাপে। শুরুতে যে দুটো সমান্তরাল ধারার ইঙ্গিত দিয়েছি, তা মোহনা ও সান্ত্বনার জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে দিয়েছে। ‘এখানে রোদ নেই’-এর গল্পবিবরণ প্রধানত এ দুটি ধারাতেই বয়ে চলেছে সমাপ্তির পথে। সমাপ্তির অসুস্থতার ক্ষুদ্র আখ্যানভাগ গ্রহণের শিকার হয়েছে কোথায়? এ প্রশ্নের উত্তরেই নিহিত রয়েছে মোহনা আর সান্ত্বনার ঘটনার বিকাশ। এখানে উল্লেখ্য যে ‘এখানে রোদ নেই’ উপন্যাসকে চরিত্রপ্রধান উপন্যাস না বলে ঘটনাপ্রবণ উপন্যাস বলাই শ্রেয়। আমরা এ উপন্যাসে তিনটি পরিবার দেখি— মোহনাদের পরিবার, আসিফের পরিবার এবং নিয়াজের পরিবার। ময়মনসিংহের ব্যাংক অফিসারে মোজাম্মেল সাহেবের পরিবারে ছেলে নেই। চার মেয়ের ভাগ্য নিয়ে নাসরিনের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন অফিসার। মোহনা, সান্ত্বনা, প্রেরণা আর সমাপ্তিদের সচরাচর একটা প্রশ্নই কুরে খেত— “ভাই নেই?” এই নিদারুণ পুরুষতান্ত্রিক বাস্তবতার বেশিটারই সাক্ষ্য দিয়েছে প্রেরণা। তার জবানিতেই বারবার উঠে এসেছে পরিবারটির ভোগান্তি। পাড়াপ্রতিবেশী, পুরোনো-নতুন আত্মীয়স্বজন সকলেরই মুখে এই আশ্চর্য কৌতূহল আদিমতা ছড়িয়েছে। ঘরপরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে হাসপাতালে পর্যন্ত গড়িয়েছে ব্যাপারটা। কোনো পরিবারে ছেলেসন্তান না থাকতে যদি একের পর এক মেয়ের জন্ম হয়, তখন হাসপাতালের আল্ট্রাসনো রুমেও সে পরিমাণ সাবধানতা অবলম্বন করে মন্তব্য করা হয়ে থাকে। এ এক অদ্ভুত রঙ্গমঞ্চ, যেখানে মায়ের পেটে মেয়েশিশুর অস্তিত্ব জন্ম দেয় আশ্চর্য কূটনীতির— ছেলে না মেয়ে বোঝা যাচ্ছে না। একটি ছেলের আশায় পরপর মেয়েসন্তান জন্ম দিতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মধ্যবিত্ত পরিবারে শেষের দিকের সন্তানেরা অবহেলার শিকার হয়। সমাপ্তির ক্ষুদ্র আখ্যানেই তা প্রমাণিত। এই স্পর্শকাতর সংকট পরের দিকে মোহনার শ্বশুরবাড়িতেও হানা দিয়েছে— ভাই নাই, এমন জায়গায় বিয়ে হলো আমার ছেলের! পরিবারের প্রত্যাশা সন্তানের মাথায় বোঝার মতো চেপে বসার বাস্তবতা মোহনার আখ্যানে পরিলক্ষিত। তাকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্নে বিভোর ছিলেন বাবা-মা। কিন্তু আমরা দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ছে সে। পড়াশোনা আর ক্যারিয়ার নিয়ে পরিবারের প্রত্যাশা যে অমূলক, তার প্রকাশ ঘটেছে মোহনার প্রেমিক আসিফের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়লেও যে জীবন শেষ হয়ে যায় না, সে কথাই সে বলতে চেয়েছে একাধিকবার। মোহনা ক্যারিয়ারের মতো জীবনসঙ্গী নির্বাচনেও ব্যক্তিগত ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়েছে। পরবর্তীতে প্রেমিক আসিফ আর জীবনসঙ্গী আসিফের মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ফারাক উঠে এসেছে মোহনার শ্বশুরালয়ের দিনগুলোতে। শুরুতে আসিফকে যতখানি নায়কোচিত লাগে, পরের দিকে যেন তা ফিকে হয়ে যায় পারিবেশিক প্রভাবে। কিন্তু শুধু পারিবেশিক প্রভাবের ওপর দায় চাপিয়ে দিলেই ব্যাপারটি ঠিক বার্তা দেয় না বোধকরি। এটা প্রকারান্তরে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দাম্পত্যজীবনের প্রকৃত সমাজচিত্রই ফুটিয়ে তোলে। যথারীতি সেখানেও পুরুষশাসনের জয়জয়কার। মোহনা এবং আসিফের আখ্যানভাগের জরুরি একটি বিষয় হচ্ছে মোহনার আত্মনির্ভরশীল হবার ইচ্ছের প্রকাশ। সে শুরুতে কিছুদিন আসিফের টাকায় চললেও একপর্যায়ে নিজে কিছু করে উপার্জন করবার বাসনা প্রকাশ করে। মোহনা-আসিফের আখ্যানের একপর্যায়ে রোজার মাস প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন লেখক। যেহেতু সমান্তরালেই প্রেরণার বয়ানে মোজাম্মেল সাহেব এবং নাসরিনের সংসারের আখ্যান চলেছে, সেহেতু সেই সংসারেও রোজার মাসের বাস্তবতা তুলে ধরাটা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছি। এ ব্যাপারটি সম্ভবত ‘এখানে রোদ নেই’ উপন্যাসের বড়ো খামতির জায়গা। কিন্তু সমালোচনা করতে গিয়ে এই বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিলে বোধহয় এ উপন্যাসের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশটিকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়। বোধকরি এ অংশেই উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা। ডেলাইট ফটোগ্রাফিতে রোদের আলোকেই লাইট সোর্স ধরা হয়। রোদ না থাকলে ডেলাইট ফটোগ্রাফি অর্থহীন। রোদ একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ আলোক উৎস। ‘এখানে রোদ নেই’ বলতে তাই ‘এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয় না’ বোঝানো হয়েছে। ঠিকই তো। সমকালীন সমাজবাস্তবতায় এক নবপরিণীতার শোবার ঘরে তারই সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে ‘নির্মম’ বলে আখ্যা দেবে এমন কে আছে? পাঠক, ‘এখানে রোদ নেই’ উপন্যাসে বৈবাহিক ধর্ষণের বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে। সমকালে আরও একাধিক উপন্যাসে আমি এ বিষয়ে পড়লেও ‘এখানে রোদ নেই’কে সবার ওপরে রাখব। কারণটা হচ্ছে ঘটনা পরম্পরার বিন্যাস এবং চরিত্রমনস্তত্ত্বের অসাধারণ প্রকাশ। ‘এখানে রোদ নেই’ উপন্যাসের সান্ত্বনা এবং নিয়াজের আখ্যানে যে করুণরস, তা আমরা এই বর্ণনাগুলোতে পাই— ক. ... আরো কিছুক্ষণ শরীরী খেলা শেষে অভিজ্ঞ নিয়াজ যখন তাকে সঠিক নিয়মে পা ভাঁজ করা শেখাচ্ছিল তখন একবার ব্যথায় যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠেছিল সান্ত্বনা। কেবল তখনই প্রথম চোখ মেলে তাকালো সে। চোখ পড়ল নিয়াজের চোখে। সেই চোখে কোনো ভালোবাসা নেই। শুধু অভ্যস্ততা। শুধু প্রয়োজন। খ. ... দু’পায়ের ফাঁকে অসম্ভব যন্ত্রণা, মাটিতে পড়ে থাকা ব্লাউজ আর পেটিকোট তুলে নিয়ে পা ফাঁক করে কোনোমতে ওয়াশরুমে গেল সে। পুশ শাওয়ারের পানির ধারায় জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে শরীরের নিচের অংশ। কমোডে এক ফোঁটা রক্ত পড়ল। এটা কি ভয়ের কিছু? ... এই বিবরণদুটো যদি প্রমাণ করে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ নারীকে পুরুষ শরীরী সুখের নামে অসুখ দেয়, তবে নিচের বিবরণটি প্রমাণ করে অন্য একটা কিছু। গ. ... প্রায় সাথে সাথেই নিয়াজ জড়িয়ে ধরল সান্ত্বনাকে। সান্ত্বনা প্রায় আর্তনাদ করে উঠল, “আবার? প্লিজ, আর না!” “কেন না? আগেরবার তো তাড়াতাড়ি হয়ে গেল, কিছু বুঝতেই পারলাম না! এবার আর বেশি ব্যথা পাবে না দেখো!” সান্ত্বনার কী হলো কে জানে, শরীরের সব শক্তি দিয়ে সে নিয়াজকে প্রতিরোধ করতে শুরু করল। শুরু হয়ে গেল এক অসম ধস্তাধস্তি। নিয়াজ শান্ত মুখে বলল, “তুমি আমাকে দিতে বাধ্য! আমি যতবার চাইব ততবার!” এই যে নিয়াজের শেষ সংলাপটা, এটা কী প্রমাণ করে? এটা কি পুরুষতন্ত্রের অসভ্যতম চর্চা নয়? ‘এখানে রোদ নেই’ উপন্যাসের কেন্দ্রভাগে এই যে আচমকা আলোকসম্পাত, তা সমাজের, বলা ভালো পরিবারের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে? জীবনঘনিষ্ঠ লেখা বোধহয় এ ধরনের ফিকশনই হয়ে ওঠে। সান্ত্বনা-নিয়াজের আখ্যানভাগের ধারাবাহিকতায় আমরা একটি ডাক্তার চরিত্র দেখতে পাই। ক্যামিও ধরনের এই চরিত্রের দৃঢ়তায় আমি মুগ্ধ হয়েছি। এ অংশের একটা প্লটহোল চোখে পড়েছে আমার। উপন্যাসের ন্যারেটিভের অনুসরণে সান্ত্বনার শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রসঙ্গে যে পারিবারিক বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো তার শ্বশুরালয়ে, তা অনুপস্থিত ছিল। অল্প করে হলেও এ বর্ণনা আশা করেছিলাম। এ আখ্যানভাগ পড়ে পাঠক যদি সংক্ষুব্ধ হন, তবে হয়তো এর পরিণতি পাঠককে ভাবাবে— অন্য কোনোভাবে কি সমাপ্তি টানা যেত? এবারে একজন লেখক হিসেবেই বলি, আমি হয়তো সেই অন্য কিছুই ভাবতাম। লেখার একেবারে শেষে মোটা আখরে লেখা ‘শেষ নাকি শুরু’। এটা কীসের ইঙ্গিত? ‘এখানে রোদ নেই’-এর দ্বিতীয় কিস্তি আসবে? না কি লেখক চান আর কেউ এর ধারাবাহিকতায় নতুন কিছু লিখুক? © রেজওয়ান আহমেদ, মিরপুর, ঢাকা।

      By marjiya

      18 Nov 2023 12:49 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই ঘুরে ফিরে একই ধরনের গল্প আমার বিশেষ একটা ভালো লাগতো না। এখানে রোদ নেই বইটা যে এতো চমৎকার হবে আগে বুঝিনি। এতো দেরি করে পড়লাম কেনো আফসোস হচ্ছে। দারুন কনসেপ্ট নিয়ে লেখা। মৌলী আপুর লেখা আমার অনেক আগ থেকেই ভালো লাগতো এই বইটা পরে অন্ধ ভক্ত হয়ে গেলাম মনে হচ্ছে। নিয়াজ চরিত্র টা কে এত্তো ভাল লাগছে , যে ভিলেন সেই হিরো! বিশেষ করে চিঠিটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। সুপার বাজেট ফ্র্যান্ডলি এই বইটা না পড়া মানে বিসাল লস। অনেক দেরি করে রিভিউ দিলাম😢 রকমারিতে রিভিউ শেয়ার করা ভুলে গিয়েছিলাম।

      By Kazi Hasan Jamil

      17 Aug 2023 10:01 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      "দুঃখ তাদেরই থাকে, যারা কখনও না কখনও সুখের রাজ্যে বসবাস করে। যারা ছোটোবেলাতেই বুঝে যায় পৃথিবীটা কঠিন জায়গা, এখানে বেঁচে থাকতে হলে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হবে, তাদের দুঃখ বিলাসিতার সময় থাকে না।" ------------------------------------------------ প্রাইভেট ব্যাংকের সামান্য কেরানি মোজাম্মেল সাহেব এবং তার স্ত্রী নাসরিন বেগমের কোল আলো করে এলো প্রথম সন্তান "মোহনা।" প্রথম সন্তানদের নিয়ে বাবা-মায়ের আবেগ-ভালোবাসা একটু বেশিই হয় সাধারণত; হাজার হোক এই সন্তানের কারণেই তারা প্রথম পিতৃত্ব-মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করে। মোজাম্মেল-নাসরিন দম্পতিও এর ব্যতিক্রম নয়, নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে বড় করেছেন মোহনাকে। একারণেই হয়তো মোহনা একটু বেশিই আহ্লাদী, অভিমানী; কারো মুখের উপর কিছু বলতে পারে না, উল্টো কেউ কিছু বললে কেঁদে দেয়। মোহনার পর জন্ম হয় সান্ত্বনার। পুত্র সন্তান না হওয়ার কারণেই হয়তো বাবা-মা মেজো মেয়ের নাম রেখেছিলেন সান্ত্বনা। দুই কন্যাসন্তানের পর একটা ছেলে সন্তান পৃথিবীতে আনার আশায় প্রেরণা আর পরবর্তীতে সমাপ্তির জন্ম৷ বড়ো মেয়ে মোহনা অনেক ভালোবাসা পেয়েছে পরিবারের। কিন্তু যখন সে মেডিক্যালে চান্স পায় না, পরিবারের সাথে সম্পর্ক একদিকে হতে থাকে নড়বড়ে অন্যদিকে আসিফের সাথে বন্ধন হয়ে ওঠে পাকাপোক্ত। আসিফের ঘোর থেকে মোহনা বের হতে পারবে নাকি নিয়ে নেবে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত? সান্ত্বনার কিশোরী মনে স্বপ্ন থাকে লাল টুকটুকে বউ সেজে বিয়ে করবে। কিন্তু বিয়ের পর তার জীবনে শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। যে ঝড় তাকে ঠেলে দেয় মৃত্যুমুখে। কী হয় ছোট্ট সমাপ্তির? প্রেরণা কি পারবে এই বিধ্বস্ত পরিবারে প্রেরণার আলো নিয়ে আসতে? ◑ পাঠ প্রতিক্রিয়া: আমাদের সমাজে মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়াই একটা অপরাধ। জন্মের পর থেকেই মেয়েদের সংগ্রাম করতে হয়। কেউকে "তোমরা কয় ভাই-বোন?" - এই প্রশ্ন করলে জবাবে "দুই বোন, তিন বোন, চার বোন" বললে আমরা পালটা প্রশ্ন করি "ভাই নেই?" ২১শ শতাব্দীতে এসেও মেয়েদের বোঝা মনে করা হয়, বিয়ে দিয়ে দিতে পারলেই যেন সব দায়িত্ব শেষ। বিয়ের পর স্বামীর সংসারে যাই ঘটুক না কেন, তার সাথে মেয়েদেরই মানিয়ে নিতে হবে। স্বামী ছেড়ে দিলে বিয়ের পরেও বাপের বাড়ি এসে থাকলে লোকে কী বলবে? আর তালাকপ্রাপ্ত মেয়েদের এই সমাজই বা কোন চোখে দেখে? "এখানে রোদ নেই" বইটির মাধ্যমে লেখিকা আমাদের সমাজের একটা অন্ধকার অংশের কথা উল্লেখ করেছেন যেখানে এখন পর্যন্ত আলো পৌছায় না, এক ধরনের পরাধীনতা, বিষন্নতা বিরাজ করে। মূলত বর্তমান সমাজে নারীদের অবস্থান, অনেক নারীর না বলা কথা গুলো যা তারা সমাজের ভয়ে মুখ ফুটে বলতে পারে না, জন্মের পর থেকেই প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাওয়াসহ নারীদের নিয়ে সমাজের কুসংস্কার এর বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। চার বোনের গল্পের মাধ্যমে দেখা গিয়েছে নারীদের নিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার ধারণা; মধ্যবিত্ত, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা-মাতার সমাজের কাছে অসহায়ত্ব। বইটা খুব বেশি বড় না হওয়ায় এবং শুরু থেকেই কাহিনির মধ্যে ডুবে যাওয়ায় একদিন সন্ধ্যায় বসেই শেষ করতে পেরেছি। সবশেষে "এখানে রোদ নেই" গল্পটি চার বোনের, যারা নিজ নিজ জায়গা থেকে লড়ে যাচ্ছে। গল্পটি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের, গল্পটি এক কন্যাদায়গ্রস্ত বাবার এবং সংসারের ঘানি টানটে টানতে ক্লান্ত এক মায়ের যাদের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয় নিজেদের সাথে, সম্পূর্ণ সমাজব্যবস্থার সাথে। ◑ চরিত্রায়ন: বইটা ভালো লাগার অন্যতম কারণ হলো এর চরিত্রায়ন। খুব অল্প সময়ের মাঝেই লেখিকা চমৎকার চরিত্রায়ন করেছেন। লেখিকা চরিত্রগুলোকে বাস্তবিক মানবীয় আবেগ দিয়ে পূর্ণতা দিয়েছেন এবং বাস্তব চরিত্র হিসেবে তৈরী করেছেন। প্রত্যেকটা চরিত্রকে গড়ে তুলেছেন স্বতন্ত্র ভাবে। মা হিসেবে নাসরিন বেগম কে কিছুটা বেশিই কঠোর মনে হয়েছে। পাশাপাশি সমাপ্তি কে নিয়ে বাবা-মা দুইজনের উদাসীনতাই লক্ষণীয় ছিল। তবে সবথেকে ভালো লেগেছে "প্রেরণা" কে। যেখানে বড় বোন মোহনা আহ্লাদী, মেজো বোন সান্ত্বনা থাকে ফ্যান্টাসি নিয়ে সেখানে এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রেরণাকে বেশ পরিণত এবং বাস্তববাদী লেগেছে। পরিস্থিতি তাকে শক্ত করে গড়ে তুলেছে। বইয়ের এক জায়গায় প্রেরণা বলে,"আমি প্রেরণা কারো খেলার পুতুল হবো না। না কোনো মানুষের, না নিয়তির।" প্রেরণা চরিত্রটা কতটা শক্তিশালী এবং ম্যাচিউর তা এই একটি কথার মাধ্যমেই আন্দাজ করা যায়। পাশাপাশি ছোটবোন সমাপ্তির মায়ের আদর না পাওয়ার কষ্টটা প্রেরণাই ঘুচিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, সবসময় আগলে রাখে সমাপ্তি কে। এছাড়া ছিল নিয়াজ এবং আসিফ। কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে বদ্ধপরিকর, পূর্বে করা ভুল শোধরাতে সচেষ্ট আবার কেউ সময়ের সাথে সাথে ভুলে যায় পুরোনো কথা। সময় মানুষ বদলে দেয় এটা যেন প্রতিধ্বনিত হয় বইয়ের পাতায়। ◑ লেখনশৈলী: লেখিকা মৌলি আখন্দের লেখা এই প্রথম পড়লাম। বইয়ের ভূমিকা পড়ার পরেই মনে হয়েছে যে তিনি পাঠকদের একটি গল্প বলতে চান। সত্যিকারের গল্প, যা আমাদের চারপাশে অহরহ ঘটে যায়, সচেতন ভাবে তাকালেই যা চোখে পড়ে। আমার মতে লেখিকা শতভাগ সফল। তিনি একটি গল্প বলতে চেয়েছিলেন যা তিনি সাবলীল ভাবে বলে গিয়েছেন। তার লেখার ভঙ্গিমা, শব্দচয়নও বেশ ভালো লেগেছে। অনেকদিন পর এই ধরনের সমকালীন উপন্যাস পড়লাম। ◑ প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন, বানান ও অন্যান্য: বইটির প্রচ্ছদ করেছেন প্রচ্ছদশিল্পী আবুল ফাতাহ মুন্না। খুবই সাধারণ একটা প্রচ্ছদ তবে কেন জানি এই প্রচ্ছদটা ভালো লেগেছে। বইটি পড়ার পর মনে হলো প্রচ্ছদেও কেন জানি এক ধরনের বিষাদের ছাপ। সাথে আশার আলো, একদিন অন্ধকার এই কোণে রোদ এসে পৌঁছাবে। ভূমিপ্রকাশ প্রকাশনীর গতানুগতিক প্রোডাকশন এই বইয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রোডাকশন নিয়ে অভিযোগের অবকাশ নেই। এছাড়া বইয়ে তেমন বানান ভুলও চোখে পড়েনি। ◑ পরিশেষে: এই আধুনিক যুগে বসবাস করেও একদল মানুষ আছে যারা পুরোনো ধ্যান-ধারণাকে আকড়ে ধরে থাকতে পছন্দ করে। তাদের কাছে আজও নারীরা পুরুষদের ভোগ পণ্য, দুর্বল। তারা নারীদের উপরে উঠতে দিতে চায় না। বইয়ের ফ্ল্যাপে একটি প্রশ্ন রয়েছে, সেটা দিয়েই শেষ করি। পরিবার ও সমাজের যে অন্ধকারময় কোণে কখনও রোদ এসে পৌঁছায় না, সেখানে কি কখনো এসে পৌঁছাবে এক টুকরো রোদ? ◑ ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৪/৫ ◑ বই পরিচিতি: ▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬ ➠ বইয়ের নাম: এখানে রোদ নেই ➠ লেখক: মৌলি আখন্দ ➠ জনরা: সমকালীন উপন্যাস ➠ প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ ➠ প্রচ্ছদশিল্পী: আবুল ফাতাহ মুন্না ➠ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬ ➠ মুদ্রিত মূল্য: ২৯০ ৳

      By Zamsedur Rahman

      24 Oct 2022 03:39 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      ‘এখানে রোদ নেই’ মূলত চার বোনের গল্প। এই চারজনের রয়েছে চারটি পৃথক জগৎ। আবার চারটি জগৎ মিলে একটি জগৎ। একই সুঁতোয় গাঁথা কিছু সংখ্যক মানুষ এবং তাদের অসংখ্য ছোটবড় ঘটনা নিয়ে এই উপন্যাসের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। মোজাম্মেল-নাসরিন দম্পতির বড় কন্যা মোহনা পরিবারে সবচেয়ে বেশি আদর-ভালোবাসায় বড় হয়েছে। কোনোপ্রকার অভাব অনটন তাকে স্পর্শ করেনি। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে তার ঘাড়ে এসে পড়ে বাবা-মায়ের প্রত্যাশার চাপ। মেডিকেলে চান্স না পাওয়ার কারণে পরিবার থেকে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ব্যক্তি জীবনেও প্রণয়ঘটিত সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে। হতাশা, একাকীত্ব, অস্তিত্বের টানাপোড়েনে হতবিহ্বল মোহনা এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে, যা তাকে প্রতিকূলতার ঘূর্ণিঝড়ে ফেলে দেয়। নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়? মোহনার জীবনে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় তার পরিবারেও আঘাত হানে। অষ্টাদশী মেজো কন্যা সান্ত্বনা এইচএসসি পরীক্ষার্থী। স্বভাবে লাজুক ও চঞ্চল এই মেয়েটির চোখে-মুখে হাজার স্বপ্ন। সাজসজ্জার প্রতি রয়েছে ভীষণ আগ্রহ। আর দশটা সাধারণ কিশোরী মেয়ের মতো সে স্বপ্ন দেখে ভবিষ্যতে লাল শাড়িতে নববধূ সেজে নতুন সংসারে যাবে। সেই স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না। ঘটনাক্রমে বড় বোনের জন্য আসা বিয়ের সম্বন্ধে সে আটকা পড়ে। বিয়ের পর তার জীবনে শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। যে ঝড় তাকে ঠেলে দেয় মৃত্যুমুখে। দুই কন্যাসন্তানের পর পুত্রসন্তানের আশায় সেজো কন্যা প্রেরণা এবং ছোট কন্যা সমাপ্তির জন্ম হয়। ফলে তারা দুজন পরিবারের অনাদর অবহেলায় বড় হয়েছে। যদিও উপন্যাসের সবচাইতে শক্তিশালী চরিত্র হিসেবে প্রেরণাকে এগিয়ে রাখা যায়। যেকোনো পরিস্থিতিতে তার অবিচল মনোভাব, পরিবার-পরিজনের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য ও ভালোবাসা তার ব্যক্তিত্বকে অনেক বেশি মজবুত করেছে। মেয়েটি প্রায় একাই কোলে-পিঠে করে বড় করেছে ছোটবোনকে। বোনদের মাঝে সেতুবন্ধনে তার উপস্থিতি এবং বাবা-মাকে আগলে রাখার যে প্রয়াস তার ভেতর দেখা যায়, তা ভীষণ আবেগময় এবং প্রশংসনীয়। হয়তো একারণেই প্রেরণা চরিত্রের ধারাবর্ণনায় উপন্যাসের গল্প এগিয়ে গেছে। সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য সমাপ্তির চরিত্রটা ছোট হলেও তার উপস্থিতি এবং নামের সার্থকতা মেলে। একটি সাজানো সংসার যখন প্রায় ধ্বংসের পথে, চার বোনের জীবন যখন উত্তাল এবং বিক্ষিপ্ত, ঠিক সেই সময়ে এই মেয়েটি সকলকে একত্রিত করে একটি সরল সমাপ্তির দিকে টেনে নিয়ে যায়। অথচ জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সে নিজেও সংগ্রাম করে যাচ্ছে প্রতিটি মুহূর্ত। তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো কীরকম? তারা কী জীবনের সকল বাধাবিপত্তি পেরিয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে? এই উপন্যাসের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর লেখনশৈলী ও চরিত্র। এতটা স্পষ্ট, সুন্দরভাবে চরিত্রগুলো সৃষ্টি ও বর্ণনা করা হয়েছে যে মনে হবে এরা কালি-কলমে নয়, রক্ত-মাংসে গড়া চরিত্র; মানুষ। লেখিকা খুব যত্নসহকারে তাদের মাঝে আবেগ অনুভূতি তুলে ধরেছেন। অবশ্য খেয়াল করলে দেখা যায়, এ ধরনের চরিত্র বা মানুষ আমাদের আশেপাশেই রয়েছে। কিন্তু তাদেরকে কখনো এতটা কাছ থেকে জানা হয়নি। তাদের গল্পগুলো এভাবে কেউ কখনো বলেনি। প্রতিটি মানুষের জীবনেই সংগ্রাম রয়েছে। বেঁচে থাকার সংগ্রাম, প্রতিষ্ঠিত হবার সংগ্রাম, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। অথচ বর্তমান সমাজে মেয়ে জন্মানোটাই যেন নিজে থেকে ভিন্ন এক সংগ্রামের সৃষ্টি করে। সেটা বুঝতে খুব একটা ঘাম ঝরানোর দরকার পড়ে না। নিজের পরিবারের দিকে একবার তাকালেই বুঝতে পারবেন। মা, বোন, স্ত্রী, কন্যার মুখের দিকে তাকান। মনের ভেতর কি এক ধরনের সংশয়-শঙ্কা তৈরি হয় না? এর কারণ কী? এখনকার সময়, সমাজ, কুসংস্কার, রীতি-রেওয়াজ? এই ভাবনার জায়গাটুকু সফলভাবে সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন লেখিকা। উপন্যাসে এমন অনেক বিষয় উঠে এসেছে যেগুলো আমাদেরকে ভাবতে বাধ্য করে। পুত্র সন্তানের আশায় একাধিক সন্তান গ্রহন, পরিবারে মেয়েদেরকে বোঝা হিসেবে দেখা, বৈবাহিক ধর্ষন, কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ, ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা, লিঙ্গ বৈষম্য, পারিবারিক নৈতিকতার অভাব, মানবিক অবক্ষয়, অন্যায়-অনিয়ম ইত্যাদি উপন্যাসের রশদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শুধু সমস্যাই তুলে ধরা হয়নি, তার সমাধানও সঠিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মূল কাহিনির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বইয়ের ফ্ল্যাপে একটি প্রশ্ন ছিল এমন- ‘পরিবার ও সমাজের যে অন্ধকারময় কোণে কখনও রোদ এসে পৌঁছায় না, সেখানে কি এসে পৌঁছাবে এক টুকরো রোদ?’ প্রশ্নটা পাঠকের জন্যও রইল। বইটা পড়ে থাকলে আপনার উত্তর জানাবেন। সুন্দর একটি দিন কেটেছে এই উপন্যাসের সঙ্গে। আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগবে। যারা সমকালীন বা সামাজিক উপন্যাস পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘এখানে রোদ নেই’ বইটি সাজেস্ট করব। হ্যাপি রিডিং। . বই: এখানে রোদ নেই লেখক: মৌলী আখন্দ প্রচ্ছদ: আবুল ফাতাহ ধরন: সমকালীন উপন্যাস প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬ মলাট মূল্য: ২৯০ টাকা

      By Nowshin Tasnuva Aurpa

      02 Mar 2022 07:19 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      "এখানে রোদ নেই" বইয়ের একটা লাইন আমার আজীবন মনে থাকবে। ****"আচ্ছা আজকে আপনাদের একটা প্রশ্ন করেই ফেলি।কারো মুখে " দুই বোন" বা "তিন বোন" বা "চার বোন" শুনলে আপনারা আবার পাল্টা প্রশ্ন করেন কেন, "ভাই নাই?" জানার জন্য প্রশ্ন করেন? নাকি ইচ্ছা করে পিত্তি জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশ্ন করেন?"**** এই বইটি মূলত চার বোনের গল্প। মোহনা, সান্ত্বনা, প্রেরণা আর সমাপ্তি এই চারজনই মূলত এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। বর্তমান সমাজেও পুত্র সন্তানের আসায় দম্পত্তিরা সন্তান উৎপাদন করে থাকেন। এখনও মেয়েরা সমাজের বোঝা হিসেবেই গণ্য হয়ে আসছে। একটা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে পার করে দেওয়াটাই যেনো বাবা-মায়ের বড় সাফল্য। কিন্তু বিয়েই কি একটা মেয়ের জীবনে সুখ বয়ে আনতে পারে? নাকি এখনও বিয়ের পর স্বামীর কাছেই ধর্ষণের স্বীকার হয়ে ক্ষয় হয়ে যায় কোন চঞ্চল প্রাণ! মেয়ে জন্মটাই যুদ্ধের, সংগ্রামের। এ গল্পে মোহনা চরিত্রটা পরিবারের সবচেয়ে বেশি আদর, ভালোবাসা পেয়েছে; বড় সন্তান হিসেবে। কিন্তু মোহনার সংগ্রামটাও কোন অংশে কম মনে হয়নি আমার কাছে। তার মাথার উপর ছিল পরিবারের প্রত্যাশার চাপ, বাবা-মা এর স্বপ্ন পূরণ না করতে পারার ব্যর্থতা, পরিবারের সাথে দূরত্ব, প্রেম-ভালোবাসার বন্ধনকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। একটা রেজাল্ট তাকে পরিবার থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে দিয়েছে দূরে, অনেক দূরে। আর সেই একাকীত্বে পরে সে নিয়ে বসেছে চরম ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু সিদ্ধান্ত টা কি পুরোপুরি ভুল ছিল? উহু! কখনো মনে হয় হ্যা; তো কখনো না! অপরদিকে সান্ত্বনা খুব চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে। সে সবসময় লাল শাড়ি পরে সংসারী হবার স্বপ্ন দেখেছে। কিন্তু বাস্তবে সে স্বপ্নও বৈবাহিক ধর্ষণের স্বীকার হয়ে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এই বইয়ে লেখক মেরিটাল রেইপের বিস্তারিত বর্ণনা ও কারণসমূহ ব্যখ্যা করেছেন। মেরিটাল রেইপ সম্পর্কে বাংলাদেশের অনেক নারী-পুরুষই হয়তোবা জানেন না। তাই এসকল ধর্ষণ এখনও ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হয় না, এসবের কোন বিচারও হয় না।কিন্তু সময় এসেছে এ বিষয় সম্পর্কে বর্তমানে সকলকে সচেতন করার এবং হবার। প্রেরণাকে আমার এ গল্পের সবচেয়ে ম্যাচিউরড পার্সোনালিটি বলে মনে হয়েছে। পরিবারের প্রতি তার ভালোবাসা এবং সবকিছুতে তার বলিষ্ঠ কণ্ঠ আমাকে বরাবরই মুগ্ধ করেছে। সেই যেনো ছিলো পরিবারের ঢাল।অপরদিকে সবচেয়ে কনিষ্ঠ সন্তান সমাপ্তি বড় হয়েছে অনাদরে, অবহেলায়। জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছে সেও। এই বইটি পড়ার সময় কখনো আমার কষ্ট খুব হচ্ছিল, কখনো খুব রাগও হচ্ছিল। অপরাধী মনে হচ্ছিল কিছু চরিত্রকে। আবার পরক্ষণেই মনে হচ্ছিল, এরা কি আসলেও অপরাধী? নাকি আমাদের কুসংস্কারে নিমজ্জিত সমাজের নিচে এদের বিবেক বিসর্জিত হয়ে গেছে! কখনো কখনো ভালোবাসা জেগেছে, ভালোবাসতে ইচ্ছে হয়েছে। পরমূহুর্তেই সেই ভালোবাসার প্রতি অভিমান জন্মেছে। মানুষ কি করে যানো মূহুর্তেই পশু হয়ে যায়! আবার সেই মানুষ জাতির হাত ধরেই আমরা আবার স্বপ্ন বুনি, এগিয়ে চলি, ভালোবাসি আবার ঘৃণা করি। এই বইটি পড়ার পর আমি বলবো, প্রত্যেক বাবা-মার উচিত তার সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, আরও যত্নশীল হওয়া। যাতে আপনার সন্তান তার কষ্টের কথা ছুটে এসে নিঃসঙ্গোচে সবার আগে আপনাকে বলতে পারে। সন্তান ভুল করবেই। ভুল করবে, তবেই শিখবে। একটা সন্তান যখন ভুল করে; ঠিক সেই মূহুর্তেই তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় নিজ পরিবারকে। কিন্তু, আমাদের সমাজে, মেয়ে সন্তান দ্বারা প্রেম-ভালোবাসা জনিত কোন ভুল হয়ে গেলে অভিভাবকরা সবার আগে সমাজের সম্মুখে মান-সম্মানের চিন্তায় ব্যস্ত থাকেন; এতে তার সন্তান বাঁচুক আর মরুক! মান-সম্মানের এই বর্ডার লাইনটাও কিন্তু তৈরি করে আমাদেরই সমাজ। যেই বাবা-মা, পাড়া-প্রতিবেশী একটা মেয়েকে নিরাপত্তা দিতে পারেন না, ঠিক সে ব্যক্তিরাই বিচারকের আসনে বসে খুব সহজেই একটা নারীকে অসূচি-অপবিত্র বলে ঘোষণা দিয়ে দেন। পরিবার ও সমাজের যে অন্ধকারময় কোণে এখনও রোদ এসে পৌছায় না, সেখানে কি পৌছাবে এক টুকরো রোদ? নাকি..........! 🙃

      By Priyanka Ganapati

      26 Feb 2022 12:31 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      #রিভিউ "যে কোনো আলোকোজ্জ্বল ঘরেরও একটি কোণা থাকে, যেখানে কখনও রোদ এসে পৌঁছায় না। গহীন ঘন বনে যেখানে বৃক্ষরাজি মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, পত্রপুষ্পে নিজেদের করে বিকশিত, সেইসব গাছের শিকড়েরও কোনো কোনো অংশে এসে পড়ে না রোদ। সেইসব অনালোকিত, অন্ধকারাচ্ছন্ন কোণে জন্ম নেয় ছত্রাক। জমা হয়ে ওঠে কিছু দীর্ঘশ্বাস, রচিত হতে থাকে কিছু বঞ্চনার গল্প।" আমাদের ঘরের ও সমাজের যে অংশ কখনো রোদের আলোকচ্ছটায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে না, যে অংশ সবসময় হাহাকার করে এক টুকরো রোদ প্রাপ্তির আশায়; সেই সকল অংশে সৃষ্টি হওয়া কিছু দীর্ঘশ্বাস ও বঞ্চনার গল্প নিয়েই রচিত এক সামাজিক উপন্যাসের নামই হচ্ছে 'এখানে রোদ নেই'। ★ প্রচ্ছদ, নামকরণ ও ভূমিকা : ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, "Don't judge a book by its cover"। কিন্তু অধিকাংশ পাঠকই একটি বইয়ের প্রতি প্রথম আকর্ষণ অনুভব করে বইটির সুন্দর নামকরণ ও আকর্ষণীয় প্রচ্ছদের মাধ্যমে। 'এখানে রোদ নেই' উপন্যাসের ক্ষেত্রে দুটোই যথেষ্ট সুন্দর। বইয়ের প্রচ্ছদটিকে আপাতদৃষ্টিতে সাদামাটা মনে হলেও উপন্যাসটি পড়ার পরে নামকরণ ও প্রচ্ছদ উভয়কেই কাহিনীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হবে। আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে এর ভূমিকা। কোনো উপন্যাসের ভূমিকাও যে শিক্ষণীয় হতে পারে, তার উদাহরণ এই উপন্যাসের ভূমিকায় লেখা অংশটুকু। ★ কাহিনী সংক্ষেপ : আমাদের সমাজে কোনো মেয়ে সন্তানসম্ভবা হলে বেশিরভাগ পরিবারেই পুত্র সন্তান প্রাপ্তির প্রার্থনা করা হয়। তবে সবসময় সেই প্রার্থনা ফলপ্রসূ হয় না। পুত্র সন্তান প্রাপ্তির আশায় একাধিক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়া এমনই এক পরিবারের গল্পই তুলে ধরা হয়েছে 'এখানে রোদ নেই' নামক উপন্যাসে। সেই পরিবারের চার কন্যাদের জীবনের গল্পই এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। মোহনা, সান্ত্বনা, প্রেরণা আর সমাপ্তি; এই চার বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো মোহনা। সবার ভালোবাসা নিয়ে বড়ো হওয়া মোহনাকে ঘিরে তার বাবা-মায়ের অনেক স্বপ্ন জড়িয়ে ছিল। কিন্তু মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে সে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, তখন সেই স্বপ্ন কোথাও যেন থমকে যায়; সৃষ্টি হয় দূরত্বের। অন্যদিকে তার জীবনে আগমন ঘটে আসিফের। একদিকে পরিবারের সাথে সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে হতে থাকে, অন্যদিকে আসিফের ঘোর। কী সিদ্ধান্ত নিবে মোহনা? সেই সিদ্ধান্তের পরিণতি বা কী হবে? সান্ত্বনার সব স্বপ্ন বিয়েকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে থাকে। কিন্তু বিয়ের পরে তার জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। কী ছিল সেই বিপর্যয়ের কারণ? কখনো কি সে সেই বিপদ থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে? না-কি এগিয়ে যায় চরম পরিণতির দিকে? বয়সে তেমন বড়ো না হলেও পরিবারের সবচেয়ে পরিপক্ব ও বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন সদস্য হচ্ছে প্রেরণা। সে কি তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিবারকে এবং এর সব সদস্যকে আগলে রাখতে পারবে? পারবে কি আঁধারে আলোকবর্তিকার ভূমিকা পালন করতে? সবচেয়ে ছোট সদস্য সমাপ্তির জীবনে বা কী ঘটেছিল? সব প্রশ্নের উত্তর এবং চার বোনের জীবনের গল্প জানার কৌতূহল হলে ডুব দিতে হবে 'এখানে রোদ নেই' বইয়ের পাতায়। ★ চরিত্র কথন : উপন্যাসটির কিছু অংশের কথক প্রেরণা এবং কিছু অংশের কথক লেখক। সেকারণে বইটি পড়া শুরু করার পর মনে হচ্ছিল উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র হচ্ছে 'প্রেরণা'। তবে কিছুক্ষণ পরে উপলব্ধি করেছি যে, শুধু প্রেরণাই এই বইয়ের প্রধান চরিত্র নয়। মোহনা ও সান্ত্বনা চরিত্র দুটিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও আসিফ, নিয়াজ, সমাপ্তিসহ আরও কিছু চরিত্র রয়েছে উপন্যাসটিতে। প্রতিটি চরিত্রই নিজ নিজ অবস্থানে যথার্থ। উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে মনে হবে সবগুলো চরিত্রই আমাদের পরিচিত, আমাদের আশেপাশেই এদের অবস্থান। বাস্তব চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করা প্রায় প্রতিটি চরিত্রই হৃদয়ে স্থান করে নিতে সক্ষম। ★ পাঠপ্রতিক্রিয়া : আমাদের সমাজে বহু বছর ধরে চলমান রয়েছে অসংখ্য ধ্যান-ধারণা ও রীতিনীতি। যার অনেকগুলোই আমাদের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও সেগুলো থেকে যায় অপরিবর্তনীয় ও অনুচ্চারিত হয়ে। সেসব বিষয়কেই চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে 'এখানে রোদ নেই' উপন্যাসটিতে। উপন্যাসটি চার বোনের গল্প হলেও আমার কাছে মনে হয়েছে এটি অসংখ্য মেয়ের গল্প, বিশেষ করে যাদের ভাই নেই তাদের গল্প। আমাদের সমাজের একটি প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, প্রতিটি পরিবারে একজন ছেলে থাকা আবশ্যক। যদি না থাকে তাহলে হয়তো বিরাট কোন ক্ষতি হয়ে যায়! যদি কোনো পরিবারে ছেলে সন্তান না থাকে তাহলে সেই পরিবারের সদস্যদের কোন ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তা খুব সুন্দরভাবে বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। যে মেয়েদের ভাই নেই তাদের সমাজে পদে পদে হেনস্তার শিকার হতে হয়, কখনো বা হতে হয় করুণার পাত্রী। যাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ তাদের ক্ষেত্রে এগুলো আরও প্রকট আকার ধারণ করে। কিন্তু সেই মেয়েদের যখন পরিবারের কাছ থেকে বিশেষ করে বাবা-মায়ের কাছ থেকেও লাঞ্ছনা, বঞ্চনার শিকার হতে হয় তখন হয়তো তাদের কষ্টের কোন শেষ থাকে না। এমনই কিছু মেয়েদের জীবনের গল্প পড়ে বারবার মন খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। পড়তে পড়তে শিউরে উঠেছিলাম যখন জানলাম, কোনো মেয়েকে তার মা মেয়ে হয়ে জন্মাবার অপরাধে জন্মের আগেই মেরে ফেলতে চাচ্ছিল। বইটিতে প্রতিটি চরিত্রকে যেমন দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, সেই সাথে তুলে ধরা হয়েছে তাদের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলোকেও। বিশেষ করে মোহনা, সান্ত্বনা, প্রেরণার এবং সেই সাথে কিছুটা আসিফ ও নিয়াজের। গল্পের বর্ণনা সহজ ও সাবলীল। কোথাও অতিরঞ্জিত কোন বিষয় ছিল না। তবে কাহিনীর পরিসর আরেকটু হলে মনে হয় ভালো হতো। ভালো কিছু পড়ার আকাঙ্ক্ষা সবসময় একটু বেশিই থাকে। উপন্যাসটি শুরু থেকেই আমার মনে যে মুগ্ধতার সৃষ্টি করেছে, তার রেশ ছিল সম্পূর্ণ উপন্যাস জুড়ে। উপন্যাসের চরিত্রগুলোর সুখ-দুঃখ, তাদের জীবনের গল্প আমার পাঠক হৃদয়ে রেখাপাত করেছে দারুণভাবে। সব মিলিয়ে সুখপাঠ্য এক উপন্যাসের নাম 'এখানে রোদ নেই'। ★ উপন্যাসটির শিক্ষণীয় দিক: উপন্যাসটির সবচেয়ে বেশি যেদিকটি আমার ভালো লেগেছে সেটি হচ্ছে এর শিক্ষণীয় দিক। সবার জানা প্রয়োজন কিন্তু তা কোথাও সহজে উল্লেখ করা হয় না এমন অনেকগুলো বিষয়কে লেখার মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য লেখকের ধন্যবাদ প্রাপ্ত। কারণ সবাই এই কাজটি করতে পারে না। লেখক পেশায় একজন ডাক্তার হওয়ায় হয়তো বিষয়গুলোকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন এবং তা বইয়ে তুলে ধরার সাহস করতে পেরেছেন। আমার মতে, বইটি সবার পড়া উচিৎ। শুধু মেয়েদের নয়, ছেলেদেরও। সেই সাথে সব বাবা-মায়েদেরও। ~ কোনো মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে তাকে বিয়ে দিলে শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে তার উপর কী বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে সেই সম্পর্কে অনেকেই জানে না বা জানলেও গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু বিষয়টি সবার জানা উচিৎ। আর এই বিষয়টিকে খুব সুন্দরভাবে বইটিতে প্রকাশ করা হয়েছে। 'বৈবাহিক ধর্ষণ' বিষয়টিকেও গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে কাহিনীর মধ্যে দিয়ে। ~ আমাদের সমাজে কেউ সামান্য অসুস্থ হলেই ডাক্তার দেখাতে পছন্দ করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সেটি মারাত্মক আকার ধারণ করে। অনেক ক্ষেত্রে শুধু হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার উপর নির্ভর করে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারে এসব ঘটনা বেশি হয়। কিন্তু সবসময় যে এইধরনের কাজ কোন ভালো ফল বয়ে আনে না, তা-ও বইটিতে চমৎকারভাবে দেখানো হয়েছে। ~ প্রত্যেক পিতামাতার কর্তব্য সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। কিন্তু তা করতে দিয়ে তাদের উপর যেন মানসিক অত্যাচার করা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিৎ। অন্যদিকে সন্তানেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে পিতামাতার প্রতি। তাদের অমতে কোনো কাজ করলে, তা অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। ~ ভালোবেসে ভালোবাসার মানুষটির হাত ধরলেই সম্পর্ক মজবুত হয় না। সম্পর্ক দৃঢ় করতে ভালোবাসার পাশাপাশি শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, ভরসা থাকাও প্রয়োজন। সেই সাথে প্রয়োজন সব পরিস্থিতিতে পাশে থাকার মানসিকতা। ★ সম্পাদনা ও বানান : বইটির সম্পাদনা খুব চমৎকারভাবে করা হয়েছে। তেমন কোনো অসঙ্গতি কোথাও চোখে পড়েনি। বানানের ভুলও তেমন দৃষ্টিগোচর হয়নি। লেখকের বিভিন্ন লেখা পড়ে মনে হয়েছে, লেখক বানানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট দক্ষ। এই বইয়েও সেই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। বইটি পড়তে গিয়ে কোথাও হোঁচট খেতে হয়নি, শুধু একটি জায়গা বাদে। ১৬৯ পৃষ্ঠায় একটি সংলাপ সম্ভবত এক লাইনের পরিবর্তে দুই লাইনে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। তবে সেটি সাবলীল পাঠের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করেনি। ★ প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট কিছু কথা : বইটি প্রকাশিত হয়েছে 'ভূমিপ্রকাশ' প্রকাশনী থেকে। এই প্রকাশনীর তিনটি বই আমার সংগ্রহে রয়েছে। অন্যান্য বইগুলোর মতো এই বইয়ের প্রোডাকশন, বাঁধাই, পৃষ্ঠা কোয়ালিটিসহ সবকিছুই চমৎকার। ★ প্রিয় কিছু উক্তি : ~ "আচ্ছা, আজকে আপনাদের একটা প্রশ্ন করে ফেলি। কারো মুখে 'দুই বোন' বা 'তিন বোন' বা 'চার বোন' শুনলে আপনারা আবার পাল্টা প্রশ্ন করেন কেন, 'ভাই নাই?' জানার জন্য প্রশ্ন করেন? নাকি ইচ্ছে করেই পিত্তি জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশ্ন করেন?" ~ "ছোটোবেলায় নানান ভুল স্বপ্ন দেখানো হয় আমাদের। ভুলভাবে জীবনকে চেনানো হয়। বড়ো হতে হতে আমরা আবিষ্কার করি আমাদের যা বলা হয়েছে, যা শেখানো হয়েছে তার বেশিরভাগই ভুল। বাস্তব আরো অনেক বেশি কঠিন, আরো অনেক বেশি নির্মম।" ~ "লালা শাড়ি, গয়না আর ওয়েডিং ফটোশ্যুট আসলে আমাদের বোকা বানানোর ধান্দা। আমাদের পুতুল করে রাখার বুদ্ধি। যদি ঠিকঠাক ক্লিক করে তো ভালো, আর যদি না করে তো জীবনটাই শেষ হয়ে গেল। ★ নিজস্ব কিছু অনুভূতি : উপন্যাসের কাহিনীতে বর্ণনা করা পরিবারের মতোই কোনো এক পরিবারের কন্যা সন্তান আমি। সেকারণেই হয়তো গল্পের বিভিন্ন ঘটনার সাথে সহজেই একাত্ম হতে পারছিলাম। নিজেকে কখনো মোহনা, কখনো সান্ত্বনা আবার কখনো প্রেরণার জায়গায় দেখতে পাচ্ছিলাম। ওদের কারো জীবনের গল্পের সাথেই আমার জীবনের গল্পের কোন মিল না থাকলেও কোথাও যেন অদ্ভুত এক মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম। উপন্যাসের বিভিন্ন টুকরো টুকরো ঘটনার বর্ণনা পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল তা যেন আমার সাথে ঘটা বিভিন্ন ঘটনার প্রতিচ্ছবি। আর একারণে উপন্যাসটি হৃদয়ের খুব কাছের মনে হয়। পরিশেষে বলতে চাই, সমাজের কিছু অংশে সহজে আলো না পৌঁছালেও লেখক তার লেখনীর সাহায্যে সমাজের সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশে তথা মানব মনের গোপন প্রকোষ্ঠে কিছুটা হলেও আলো ফেলতে সক্ষম হয়েছে বলে আমার মনে হয়। আর তারই ধারাবাহিকতায় 'চলন্তিকা সাহিত্য পুরস্কার'-এর উপন্যাস ক্যাটাগরিতে 'এখানে রোদ নেই' সেরা উপন্যাস হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে। লেখকের ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো। ★ বই পরিচিতি : বইয়ের নাম: এখানে রোদ নেই লেখক: মৌলি আখন্দ জনরা: সমকালীন উপন্যাস প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ প্রচ্ছদ: আবুল ফাতাহ প্রথম প্রকাশ: মার্চ, ২০২১ পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৭৫ মুদ্রিত মূল্য: ২৯০ টাকা রিভিউ লেখক ~ প্রিয়াংকা

      By Farsia Mahmud

      19 Feb 2022 08:44 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      ★বই বৃত্তান্তঃ ---------------------- বইঃ এখানে রোদ নেই লেখকঃ মৌলি আখন্দ জনরাঃ সমকালীন উপন্যাস প্রকাশকঃ জাকির হোসেন প্রকাশনীঃ ভূমি- প্রকাশ প্রচ্ছদঃ আবুল ফাতাহ প্রকাশকালঃ মার্চ ২০২১ পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৭৫ মুদ্রিত মূল্যঃ ২৯০ টাকা ★নামকরণের স্বার্থকতাঃ -------------------------------------- "এখানে রোদ নেই" বইতে চার বোনের গল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে আমাদের পরিবার ও সমাজের অন্ধকারময় সেসব দিক দেখানো হয়েছে যা আলোতে আসে না। সর্বদা আড়ালে রয়ে যায়। সেখানে রোদ পৌঁছায় না। স্যাতঁস্যাঁতে ঘর যেমন আমাদের জন্য অস্বাস্থ্যকর ঠিক তেমনি আড়ালে রয়ে যাওয়া বিষয়গুলো না জানাও আমাদের জন্য ক্ষতিকর। বইটি পড়ার পর পাঠক উপলব্ধি করবে "এখানে রোদ নেই" নামটি এ বইয়ের জন্য পুরোপুরি যৌক্তিক। ★প্রচ্ছদ বিশ্লেষণঃ ------------------------------ প্রবাদ আছে, কোনো বইকে তার প্রচ্ছদ দিয়ে যাচাই করা উচিত নয়। তবে, আমার কাছে প্রচ্ছদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি বইয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে প্রচ্ছদের ভূমিকা কম নয়।প্রচ্ছদে দৃশ্যয়িত চিত্রটি কেন দেয়া হয়েছে! এর চিত্রের সাথে বইয়ের কাহিনী কিভাবে সংযুক্ত তা জানার জন্য পাঠক হৃদয়ে আকাঙ্খা তৈরি হয়। অনেকাংশে লক্ষণীয়, বইয়ের প্রচ্ছদই মুল কাহিনীর সারাংশ। "এখানে রোদ নেই "বইতে দৃশ্যমান, একটি অন্ধকারময় কক্ষ যার এক কোণায় এক টুকরো রোদ প্রবেশ করেছে। এই এক ফালি রোদের দরুন কক্ষটি খানিক আলোকিত হয়েছে তবে অনেকাংশই অন্ধকারে আবৃত। শুধু তাই নয়, একপাশে একটি মেয়ে মাথা নিচু করে গভীর চিন্তায় মগ্ন রয়েছে যেন বহু সমস্যায় জর্জরিত তার জীবন। দেখতে সাধারণ মনে হলেও আদতে প্রচ্ছদটি বইয়ের কাহিনীর সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ★কাহিনী সংক্ষেপঃ ------------------------------ এখানে রোদ নেই আমাদের পরিবার ও সমাজের অন্ধকারময় দিকগুলোর গল্প যা অন্ধকারেই রয়ে যায় কখনো আলো এসে পৌঁছায় না অথবা আমরা পৌঁছাতে দিই না। এটি মুলত চার বোনের গল্প। মোহনা, স্বান্তনা, প্রেরণা আর সমাপ্তির। প্রথম দুই সন্তানের পর পুত্র সন্তানের আশায় প্রেরণা ও সমাপ্তির জন্ম। যেহেতু মা বাবার মনোকামনা পূর্ণ হয়নি সেহেতু কন্যারা বড় হতে থাকে অযত্ন, অনাদর ও অবহেলায়। বড় মেয়ে মোহনা পরিবারের সবচেয়ে বেশি ভালবাসা, স্নেহ পেয়েছে। মা-বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে ডাক্তার হয়ে তাদের সকল দুঃখ দুর্দশা দূরীভূত করবে।কিন্তু মোহনা মেডিকেলে চান্স না পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইকোনোমিকস এ চান্স পায়। দু দুবার পরীক্ষা দিয়েও যখন মেডিকেলে চান্স পায়না তখনই মা বাবা বিরূপ আচরণ শুরু করে। স্নেহ, ভালোবাসা কমে যেতে থাকে। পরিবারের সাথে সম্পর্ক হয়ে যায় নড়বড়ে। অন্যদিকে তারই ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র আসিফের সাথে ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হতে থাকে।এরই মাঝে পরিবার বিয়ে ঠিক করে ফেলে মোহনার চেয়ে প্রায় দশ বছর বড় একজন ব্যাক্তির সাথে। বোকা বোকা, নরম মনের মেয়েটি কি সিদ্ধান্ত নিবে? নিজের ভালোবাসার মানুষের হাত আঁকড়ে ধরবে নাকি মা বাবার পছন্দ করা পাত্রের সাথে বিয়েতে সম্মতি জানাবে? ২য় সন্তান স্বান্তনা এইচ এস সি পরীক্ষার্থী। যার ধ্যান, জ্ঞান বিয়েতে সীমাবদ্ধ। কিশোরী স্বান্তনার স্বপ্ন লাল টুকটুকে শাড়ি পরবে বিয়েতে, গা ভর্তি গহনা, দারুন মেকআপ, ওয়েডিং ফটোগ্রাফি হবে। কিন্তু বিয়ের পর কালবৈশাখী ঝড়ে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায় স্বান্তনার জীবন। জীবন মৃত্যুর মাঝখানে লড়াই করতে হয়।কি এমন হয়েছিল স্বান্তনার? পরবর্তীতে কি ঘটেছিল? ৩য় সন্তান প্রেরণা এস এস সি পরীক্ষার্থী। পড়ালেখা তার ভাল লাগে না। বিধধস্ত এ পরিবারের সবচেয়ে পরিপক্ক মেয়েটি। যে প্রতিটি সদস্যর কথা চিন্তা করে, মা- বাবা, সহোদরা এর প্রতি যার অকৃত্রিম ভালবাসা।প্রেরণা কি পারবে বিধধস্ত এ পরিবারের এক টুকরো আলো নিয়ে আসতে? অন্ধকার কোনাটিকে আলোয় পরিপূর্ণ করতে? সমাপ্তি এ পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। ক্লাস টুতে পড়ুয়া ছোট্ট এ মেয়েটি ভীষণ অনাদরে, অবহেলায় বড় হয়েছে। প্রেরণাই তার অভিভাবক। খাওয়ানো, পড়ানো সব তারই দায়িত্ব। কিন্তু ছোট্ট সমাপ্তির জীবনেও ঝড় আসে। জীবন ও মৃত্যুর মধ্যখানে অবস্থানরত সমাপ্তির পরিণতি কি ছিল? সব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে এখানে রোদ নেই বইটি পড়তে হবে। ★ চরিত্র কথনঃ -------------------------- মোহনা, স্বান্তনা, প্রেরণা ও সমাপ্তি এ বইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র। গুরুত্বপূর্ণ প্বার্শ চরিত্রদের মধ্যে রয়েছে আসিফ, নিয়াজ, নাসরিন। এছাড়াও আরো গুটিকয়েক নগণ্য চরিত্র রয়েছে বইয়ে যারা উপন্যাসের গতিময়তা বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছে। ★অনুভূতিকথনঃ --------------------------- এ বইটা পড়তে গিয়ে আমি বিভিন্ন অনুভূতির সম্মুখীন হয়েছি। কখনো ভীষণ কষ্ট হয়েছে আবার কখনো খুব রাগ হয়েছে। কখনো বুক ভার হয়ে উঠেছে আবার কখনো বিস্মিত হয়েছি। লেখক চার বোনের মাধ্যমে, একটা নিম্নবিত্ত পরিবারের মাধ্যমে আমাদের সমাজের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। সেসব নাজুক বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন যা পর্দার ওপাশে রয়ে যায়, এ পাশে আসে না কখনো। আদতে আমরাই আসতে দিইনা।সেসব ভয়ংকর ব্যাপারগুলোকে আমরা অতি সাধারণ হিসেবে দেখি। অথচ এসব বিষয়গুলো না জানার ফলে একজন মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। লেখক ব্যাক্তিজীবনে চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে বইয়ের পাতায় এসব সংবেদনশীল ব্যাপারগুলো সুক্ষভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিষয়গুলো জানতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ লেখকের প্রতি। আমাদের সমাজে যার পুত্রসন্তান নেই তাকে বলা হয় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা। ফসলের ভারে নুয়ে পরা বৃক্ষের মতো এরূপ পিতাদের অবস্থাও শোচনীয়।তাদের ধারণা, একটি পুত্রসন্তান থাকলেই তাদের সব কষ্ট লাঘব হয়ে যেত। কন্যাদের জীবনও অতিষ্ঠ হয়ে যায়, ভাই নেই? ভাই নেই? এরূপ প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে। এ যেন কাঁটা গায়ে নুনের ছিটার মতোই। কি করুণ এক বাস্তবতা! সন্তানের উপর পিতামাতার স্বপ্ন চাপিয়ে দেয়া অনুচিত। কারণ সন্তানের হৃদয়ে অন্য স্বপ্নের সুপ্ত বাসনা থাকতে পারে। আবার স্বপ্ন পুরণে ব্যর্থ হলে পিতা মাতার বিরূপ আচরণ করাও ঠিক নয়। বরং আশ্বাস দিয়ে পাশে দাঁড়ানো উচিত। নচেৎ ভঙ্গুর মানসিকতায় যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে আর হতে পারে এ ভুলের মাশুল দিতে হলো সারাজীবন। শুধুমাত্র ভালোবাসা দিয়ে কোনো সম্পর্ক টিকে না। ভিত্তি হিসেবে প্রয়োজন ভরসা, বিশ্বাস, পারস্পরিক সহযোগিতা, সবসময় পাশে থাকা।সামান্য অবহেলায় থেকেই কোনো সম্পর্কের ভাঙন শুরু হতে পারে।একবার তিক্ততা চলে আসলে সম্পর্কের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পরে। হয়তো সারাজীবন চেষ্টার পরও আর পূর্বের ন্যায় মজবুত হয়ে উঠে না। যেকোনো ব্যাধির সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এর পরিণতি ভয়ংকর হতে পারে। মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই সচেতন হওয়া উচিত প্রত্যকেরই। পরিশেষে বলতে চাই, লেখক তার চমৎকার লিখনশৈলী দিয়ে আকৃষ্ট করবে পাঠকদের। সহজ, সাবলীল, মেদহীন লেখা। পুরো বইয়ে অতিকথন নেই।লেখক অনেকগুলো মেসেজ দিয়েছেন আমাদের যেগুলো না জানলে জীবনে চলার পথে কখনো না কখনো আমরা মুখ থুবড়ে পরতে পারি। ব্যাক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বইটি নারী পুরুষ উভয়েরই পড়া উচিত কেননা এটি উভয়েই জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ★প্রিয় উক্তিঃ --------------------- ♦️"যেকোনো আলোকোজ্জ্বল ঘরেরও একটি কোণা থাকে, যেখানে কখনও রোদ এসে পৌঁছায় না। গহীন ঘন বনে যেখানে বৃক্ষরাজি মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, পত্রপুষ্পে নিজেদের করে বিকশিত, সেইসব গাছের শিকড়েরও কোনো কোনো অংশে এসে পড়ে না রোদ। সেইসব অনালোকিত, অন্ধকারাচ্ছন্ন কোণে জন্ম নেয় ছত্রাক। জমা হয়ে ওঠে কিছু দীর্ঘশ্বাস, রচিত হতে থাকে কিছু বঞ্চনার গল্প।" ♦️ছোটোবেলায় নানান ভুল স্বপ্ন দেখানো হয় আমাদের।ভুলভাবে জীবনকে চেনানো হয়। বড়ো হতে হতে আমরা আবিষ্কার করি আমাদের যা বলা হয়েছে, যা শেখানো হয়েছে তার বেশিরভাগই ভুল। বাস্তব আরো অনেক বেশি কঠিন, আরো অনেক বেশি নির্মম। ♦️দূরের ঘাস সবসময়ই বেশি ঘন আর সবুজ মনে হয়। ★ লেখক পরিচিতিঃ --------------------------------- মৌলি আখন্দ একজন স্বাপ্নিক। ১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।বেড়ে ওঠা ও বসবাস ঢাকায়। মা বাবার প্রথম সন্তান ও এক কন্যার জননী। পেশায় চিকিৎসক। বর্তমানে শিশু মেডিসিন বিষয়ে কর্মরত। কিছুদিন আগেই" এখানে রোদ নেই" বইয়ের জন্য চলন্তিকা সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। ★ ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০ রিভিউকারী- ফারসিয়া মাহমুদ

      By Farhana Cynthia

      20 Jan 2022 10:39 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      বুক রিভিউ বইঃ এখানে রোদ নেই লেখকঃ মৌলী আখন্দ প্রকাশনীঃ ভূমি প্রকাশ রিভিউঃ মোহনার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় না টিকে। বাড়ির বড় মেধাবি মেয়ের ওপর চাপিয়ে দেয়া বাবা মায়ের প্রেশার কেমন হতে পারে তা আমাদের উপমহাদেশের ঘরে ঘরে দেখা যায়। ছেলে হলে ইঞ্জিনিয়ার আর মেয়ে হলে ডাক্তার। বাবা মায়ের ভুল সিদ্ধান্তের হাত থেকে নিস্তার পেতে মোহনা যে সিদ্ধান্ত নেয় তা কি তার জীবনে সুখ নিয়ে আসে? হুদা বিউটির আই শ্যাডো প্যালেট আর ঝকমকে আলোর নিচে ছবি তোলার স্বপ্ন দেখা সান্তনার জীবন কি বিয়ের ওয়েডিঙ ফটোগ্রাফির মত সুন্দর হয়? বাস্তববাদি কঠিন প্রেরনার দীর্ঘশ্বাস ফেলে। গল্পটা স্যাতসেতে অন্ধকার কোনের; যেখানে কখনও রোদ আসে না। শেষ পর্যন্ত রোদের দেখা মিলেছিল কিনা জানতে হলে পড়তে হবে এই উপন্যাস।

    • Was this review helpful to you?

      or

      চার বোনের মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প। আশা আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা, ভুল সিদ্ধান্ত সবকিছু মিলিয়ে যেন আমাদের জীবনের অংশ। শেষটায় আশার আলো দেখিয়েছেন লেখিকা। চমৎকার একটা উপন্যাস।

      By Jolly

      07 Sep 2021 01:36 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      গল্পটার কিছু অংশ লেখিকা কিছু সাহিত্য গ্রুপে পোস্ট করেছিলেন। তারপর থেকেই অধীর আগ্রহে বইটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। চমৎকার লিখেছেন। মেয়েদের বিভিন্ন সমস্যার কথা আর তার থেকে বের আসার কথা ওনার মত এত সুন্দর করে আর কাউকে লিখতে দেখিনি। আশা করি উনি এভাবে আরও লিখবেন আর এ গল্পটার শেষ থেকে পরবর্তী একটা খণ্ড পাঠকদের উপহার দিবেন।

      By Jannatun Antora

      30 Jul 2021 09:01 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      Fantastic

      By Abu Yousuf Akash

      15 Apr 2021 04:11 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      "ছোটবেলা থেকেই 'তোমরা কয় ভাই বোন?' এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে 'আমরা চার বোন' বলার পরে মানুষ যখন পাল্টা প্রশ্ন করেছে 'ভাই নাই?' এই দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে বড় আপু সরলভাবে মাথা নেড়ে উত্তর দিত, 'না।' মেজোপা কিছুটা মন খারাপ করে বলত, 'না।' আর আমি? আমি চোখ মুখ শক্ত করে বলতাম, 'থাকলে তো বলতামই!' এর জন্য যে কতবার বেয়াদব খেতাব পেয়েছি!" আমাদের যাদের ভাই নেই, এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হরহামেশাই হতে হয়। এমনই কিছু সামাজিক সমস্যার কথা লেখক মৌলি আখন্দ তুলে ধরেছেন তাঁর উপন্যাস "এখানে রোদ নেই" তে। কাহিনী সংক্ষেপ: চার বোন মোহনা, সান্ত্বনা, প্রেরণা আর সমাপ্তির গল্প নিয়ে উপন্যাস "এখানে রোদ নেই।" বড় বোন মোহনা অনেক ভালোবাসা পেয়েছে পরিবারের। কিন্তু যখন সে মেডিকেলে চান্স পেলোনা, তখন পরিবারের সাথে সম্পর্ক একদিকে হতে থাকে নড়বড়ে অন্যদিকে আসিফের সাথে বন্ধন দৃঢ় হয়ে ওঠে। আসিফের ঘোর থেকে মোহনা বের হতে পারবে? নাকি নিয়ে নেবে ভুল কোনো সিদ্ধান্ত? সান্ত্বনার কিশোরী মনে স্বপ্ন থাকে লাল টুকটুকে বউ সেজে বিয়ে করবে। কিন্তু বিয়ের পর তার জীবনে শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। যে ঝড় তাকে ঠেলে দেয় মৃত্যুমুখে। কী হয় ছোট্ট সমাপ্তির? প্রেরণা কি পারবে এই বিধ্বস্ত পরিবারে প্রেরণার আলো নিয়ে আসতে? পাঠ প্রতিক্রিয়া: আমাদের সমাজের আনাচে কানাচে এমন অনেক সমস্যা লুকিয়ে থাকে যা খুব সহজে আমাদের চোখে পড়ে না। আমরা সমস্যাগুলোকে স্বাভাবিক ভাবেই দেখি। কিন্তু সেগুলো যে একজন নারীর জন্য কতটা বিষময় হয়ে উঠতে পারে তা এই উপন্যাসটিতে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পেশাজীবনে লেখক ডাক্তার হওয়াতে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাগুলো উপন্যাসে উঠে এসেছে। সেই সাথে সময়মতো চিকিৎসা না করার ফল কতটা ভয়ংকর হতে পারে তাও লেখক তাঁর লেখায় তুলে এনেছেন। পরিবারের সহযোগিতা না পেলে সন্তানরা কতটা খারাপ পর্যায়ে যেতে পারে তা এই বইটি না পড়লে বুঝতেই পারতাম না। প্রত্যেক বাবা- মায়েরই এই বইটি পড়া উচিত বলে আমি মনে করি। উপন্যাসটির ভাষা খুবই সহজ-সরল। যা পড়ার সময় একটা মুগ্ধতা কাজ করেছিলো। লেখকের লেখায় এতটা জাদু ছিলো যে, পুরোটা বই এক বসায় শেষ করার একটা তাগিদ অনুভব করেছিলাম। উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র ছিলো স্বমহিমায় উজ্জ্বল। তবে আমার মনে হয়েছে এই উপন্যাসের দ্বিতীয় খন্ড আসা উচিত। কারন প্রেরণা চরিত্রের আরও বিস্তৃতি হওয়া প্রয়োজন। লেখকের কাছে আমার অনুরোধ বইটির দ্বিতীয় খন্ড লিখবেন প্লিজ। যেকোনো আলোকোজ্জ্বল ঘরের এমন একটা কোণা থাকে, যেখানে কখনও রোদ এসে পৌঁছায় না। অবহেলায় সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন কোণে জমা হয় কিছু দীর্ঘশ্বাস, রচিত হয় বঞ্চনার কিছু গল্প। সেই সব বঞ্চনার গল্প নিয়ে উপন্যাসটি সৃষ্টি করা হয়েছে। সেই অন্ধকার স্থানে কখনো না কখনো প্রেরণার মতো কেউ অবশ্যই রোদ নিয়ে আসবে।

      By habambo show time

      11 Apr 2021 02:02 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      eta koto page er book

      By Shama Kabir

      04 Apr 2021 10:30 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      এত কঠিন আর না বলা সামাজিক সমস্যা নিয়ে এরকম লেখা বোধহয় মৌলী আখন্দের পক্ষেই সম্ভব। একটানে পড়ে ফেলার মতো একটা উপন্যাস।

    •  

    Recently Viewed


    Great offers, Direct to your inbox and stay one step ahead.
    • You can pay using


    JOIN US

    icon Download App

    Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money. You can buy books online with a few clicks or a convenient phone call. With breathtaking discounts and offers you can buy anything from Bangla Upannash or English story books to academic, research or competitive exam books. Superfast cash on delivery service brings the products at your doorstep. Our customer support, return and replacement policies will surely add extra confidence in your online shopping experience. Happy Shopping with Rokomari.com!