
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
রোমঞ্চকর ও এডভেঞ্জার,খুব ভালো লাগলো....
Was this review helpful to you?
or
এখনো পড়িনি, তবে আশা রাখি হতাশ করবে না ।
Was this review helpful to you?
or
চমৎকার বই
Was this review helpful to you?
or
best
Was this review helpful to you?
or
khub druto hate peyechi
Was this review helpful to you?
or
বইটার কন্ডিশন অনেক ভালো ছিল। বাচ্চাদের জন্য উপযুক্ত বই।
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ 💥💯
Was this review helpful to you?
or
রুদ্ধশ্বাস অভিযান, লোমকর্ষ ঘটনা, বন্ধুত্ব, ইতিহাস এর মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এক কাহিনি
Was this review helpful to you?
or
বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ সৃষ্টি
Was this review helpful to you?
or
বইটা এতো সুন্দর। সপ্ন পূরণের জন্য কত দূরে-ই না যেতে হয় তা এই বই না পড়লে বঝা-যাবে না। সত্যি বইটি থেকে অনেক কিছু শিখার আছে।
Was this review helpful to you?
or
চাঁদের পাহাড় বইটা খুবই ভালো। অ্যাডভেঞ্চার আর হীরের খনি নিয়ে খুবই মজার একটা গল্প৷ বইটা প্রথমদিকে পড়তে ভালো না লাগলেও পরে খুবই রোমাঞ্চিত অনুভব হয় ৷তবে চাঁদের পাহাড় অন্য প্রকাশনীর থেকে নিলে ভালো হয়৷ কারণ এই প্রকাশনীতে প্রচুর পরিমাণে বানান ভুল৷ পৃষ্ঠা ও খুব একটা উন্নত মানের না।
Was this review helpful to you?
or
আমার জীবনে পড়া শ্রেষ্ঠ একটি উপন্যাস চাঁদের পাহাড়। অসাধারণ এই উপন্যাসের পরতে পরতে রয়েছে রোমাঞ্চ আর অনুভূতি। আপনি উপন্যাস পড়তে পড়তে কখন নিজেই হারিয়ে যাবেন বুঝতে পারবেন না। আমার সবচেয়ে খারাপ লেগেছিল আলভারেজ মারা যাওয়ার সময়। আমি সত্যিই কেঁদেছিলাম। এত কষ্ট লেগেছিল। যাইহোক, যারা বইপ্রেমী তারা অবশ্যই বইটা পড়বেন। আর বয়স ১৫-২০ হলে তো কোনো কথাই নেই। চাইলে বই পড়ার পর দেব অভিনীত" চাঁদের পাহাড়" মুভিটাও দেখতে পারেন (ওড়িশা ভাষায়)...
Was this review helpful to you?
or
ভালো ,
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণবই
Was this review helpful to you?
or
বাংলা সাহিত্যের এক শ্রেষ্ঠ উপন্যাস
Was this review helpful to you?
or
বইটা সত্যিই দারুণ। বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় এর লেখাগুলো সত্যিই অসাধারণ।
Was this review helpful to you?
or
চমংকার উপন্যাস 🤗🤗!!!!!!
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 বইয়ের নাম: চাঁদের পাহাড় লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মুদ্রিত মূল্য: ২০০ টাকা জনরা: অ্যাডভেঞ্চার, থ্রিলার রিভিউ প্রদানকারীর নাম: আজমাইন রাফিন কাহিনী সংক্ষেপ: পদে পদে মৃত্যুর হাতছানি। সাথে প্রতি মুহূর্তে পথ হারানোর ভয়। শঙ্কা আছে অজানা জীবজন্তুর সামনে পড়ে বেঘোরে প্রাণটা হারানোর। পাহাড়ি বিপদসংকুল পথ, নাম না জানা জঙ্গল আর জলহীন মরুভূমি পেরিয়ে ছুটে চলা অভিযাত্রিক শঙ্কর কী পারবে রিখটারসভেল্ডের হীরের খনির সন্ধান পেতে? গ্রামের হাইস্কুলের ফুটবল টিমের সেন্টার ফরওয়ার্ড, দুর্দান্ত বক্সার, পাকা সাঁতারু শঙ্করের সামনে সুযোগ ছিল এফ.এ পাশ করে পাটকলের চাকরি নেওয়ার। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই যার নখদর্পণে রাজ্যের নক্ষত্রমণ্ডল, তাকে কেন টানবে পাটকলের চাকরি? তাইতো সুযোগ পেয়ে সে চলে গেলো পূর্ব আফ্রিকায়, উগান্ডা রেলওয়ের চাকরি নিয়ে। সেখানেই শুরু তার রোমাঞ্চকর জীবনের। প্রতি মুহূর্তেই সতর্ক থাকার কোন বিকল্প নেই। যেকোন সময়ে ঘটতে পারে সিংহের আক্রমণ। দিনে রাতে যেকোন সময়ে হামলা করে মানুষখেকো সিংহ। তবে এখানে বেশিদিন থাকতে হলো না শঙ্করকে। কিছুদিন পর তাকে যেতে হলো ত্রিশ মেইল দূরের এক রেলস্টেশনে। সেখানে নিঃসঙ্গ জীবনে তাকে মুখোমুখি হতে হয় আরো বিপদের। তবে সেখানেই তার দেখা হয়ে যায় দুর্ধর্ষ পর্তুগিজ ভাগ্যান্বেষী ডিয়েগো আলভারেজের সাথে। আলভারেজের মুখে সে শোনে রিখটারসভেল্ডের অজানা হীরের খনির কথা। দুজনে বেরিয়ে পড়ে অভিযানে। সঙ্গী হয় আফ্রিকার জঙ্গলে পায়ে পায়ে ছড়িয়ে থাকা বিপদ, দুর্গম পাহাড়ি পথ আর সাথে আদিবাসীদের সতর্কবাণী। সব বিপদ মাড়িয়ে তবু ছুটে যায় আলভারেজ আর শঙ্কর। তবুও সদা-সর্বদা নির্ভীক আলভারেজ একটু কি ভীত? কী তার ভয়ের কারণ? তাদের অভিযানের সমাপ্তি-ই বা কোথায়? কী অপেক্ষা করছে শঙ্কর আর আলভারেজের জন্য? রিখটারসভেল্ডের হীরার খনি, নাকি তার আগেই বিদেশ-বিভূঁইয়ে অজানা অচেনা জায়গায় মৃত্যুর শীতল স্পর্শ? দেখা যাক ... পাঠ প্রতিক্রিয়া: ‘চাঁদের পাহাড়’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার। বাঙালি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্নবাজ যুবক শঙ্কর আর পর্তুগিজ অভিযাত্রিক ডিয়েগো আলভারেজের আফ্রিকা-অভিযানই এই উপন্যাসের উপজীব্য। এই উপন্যাসে আফ্রিকার ঘন জঙ্গল আর প্রকৃতির যে অসাধারণ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যেভাবে ফুটে উঠেছে হিংস্র আর ভয়ানক সব জন্তু জানোয়ারের কথা, কে বলবে লেখক কোনদিন আফ্রিকা যাননি! শুধুমাত্র ম্যাপ আর বইপত্র ঘেঁটে বাংলা সাহিত্যকে এমন ‘মাস্টারপিস’ উপহার দেওয়া সম্ভব, অকল্পনীয় বললে কম বলা হয়! এবার আসি নিজের কথায়। যান্ত্রিক একঘেয়ে জীবনের চেয়ে শঙ্কর আর আলভারেজের মতো অনিশ্চিত রোমাঞ্চকর জীবন আমাকে বরাবরই বেশি টানে। অচেনা বনভূমিতে হীরার খনির উদ্দেশ্যে হার না মানা ছুটে চলা জীবনকেই আমি স্বপ্নে লালন করি প্রতিনিয়ত। ‘চাঁদের পাহাড়’কে তাই ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক, অনিশ্চয়তাকেই যে আমি দেখতে চাই জীবনের প্রতিশব্দ হিসেবে। মানুষখেকো সিংহ, প্রাণঘাতী ব্ল্যাক মাম্বা আর অজানা ভয়াল জন্তু বুনিপের আক্রমণের আশঙ্কা আছে জেনেও আফ্রিকার নিঝুম অরণ্যের মাঝে হীরক খনি খুঁজতে যাওয়ার রুদ্ধশ্বাস আর রোমাঞ্চকর অভিযানে কতবার যে কল্পনায় শঙ্কর আর আলভারেজের সঙ্গী হয়েছি, হিসাব করিনি। উপন্যাসটি মূলত কিশোরদের জন্য লেখা। তবে একবার পড়া শুরু করলে যেকোন বয়সী পাঠক তাতে বুঁদ হয়ে থাকবেন, বাজি ধরে বলতে পারি।
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 বইয়ের নামঃ চাঁদের পাহাড় লেখকঃ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রিভিউ লেখকঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ঘর ও মনকেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্য-ধারার বাইরে এসে বাঙালি জীবনের গোপন স্বপ্ন-সাধ, অর্থাৎ দুঃসাহসিক অভিযাত্রার মৃত্যুছোঁয়া অভিজ্ঞতা পূরণে ‘চাঁদের পাহাড়’ গ্রন্থটি প্রায় আট দশক পরেও বিজয়-মুকুট ধারণ করে আছে সগৌরবে। হিমশীতল রোমাঞ্চকর বর্ণনাশৈলী ও গা ছমছমে রূপকল্পের বাহারী যুগলবন্দী ঘটেছে কালজয়ী লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রন্থটিতে। স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলা অনিশ্চয়তার খেলায় কীভাবে সাহসিকতার বিজয় হয়, তা সার্থকভাবে দেখানো হয়েছে উপন্যাসটিতে। রহস্যময় আফ্রিকার শ্বাপদ অরণ্যে-পর্বতে হিংস্র জন্তু-জানোয়ার ও প্রকৃতির প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বেছে নিয়েছেন বাংলার একজন সাধারণ গ্রামীন যুবক শঙ্করকে। গ্রামীন প্রাণোচ্ছ্বল জীবনে বেড়ে উঠা শঙ্করের ভেতরে সুপ্ত অভিযাত্রিক স্বপ্নের সাহসী বিকাশ দেখিয়ে মূলত কোটি কোটি বাঙালির গোপন আকাঙ্খাকে জাগ্রত করে তুলেছেন বইটিতে। শত শত বছর ধরে পরিবারকেন্দ্রিক জীবনে অভ্যস্ত হলেও প্রতিটা বাঙালির মনে একজন শঙ্কর বাস করে। ‘চাঁদের পাহাড়’ বইয়ের মূল চরিত্র 'শঙ্কর' এফ.এ. পাশ করে পাটকলের বাবু না হয়ে তাই ছুটেছেন আফ্রিকায়; অজানার নেশায়; স্বাপ্নিক আত্মবিশ্বাসে। শঙ্করের প্রতিবেশী ঘরের মেয়ের জামাই প্রসাদদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি পালিয়ে গিয়ে সুদূর আফ্রিকায় বসবাস করতেন, তার মাধ্যমে ক্লার্ক হিসেবে নিয়োগ পান ব্রিটিশ শাসনাধীন উগান্ডার মোম্বাসা শহরের রেলওয়ে স্টেশনে। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকে তার সাথে ঘটতে থাকে একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা। কখনো নরখাদক সিংহ এসে সহকর্মী তিরুমুল আপ্পাকে খাদ্য বানায় বা কখনো বিষধর সাপ এসে জানিয়ে যায় তার রাজ্যের সীমানায় বহিরাগতের নিষেধাজ্ঞা। পানীয় জলের অভাব, বিরূপ প্রকৃতি, হিংস্র শিকারীর সাথে যাপিত জীবনে বাওবাব গাছের শীতল ছায়ায় প্রাণ জুড়িয়ে নেয় শঙ্কর। এভাবেই একদিন খুঁজে পায় পর্তুগিজ অভিযাত্রিক ডিয়াগো আলভারেজকে। তারা পরস্পরের বন্ধু হয়। বাঙালি-পর্তুগিজ জুটিতে কাহিনী মোড় নিয়ে চলে যায় রিখটারসভেল্ট পর্বতে হীরার খনির সন্ধানে। আলভারেজ এর পূর্বেই ইংরেজ বন্ধু জিম কার্টারের সাথে সেখানে অভিযানে গিয়েছিলো। কিন্তু পথে ভয়ংকর প্রাণী বুনিপের হাতে জীবন হারায় বন্ধু জিম। আলভারেজের সেই অসমাপ্ত অভিযানকে সফল করতে এই যুগল বেরিয়ে পড়ে নতুন উদ্যোমে। নানা প্রতিকূলতা ও বাঁধা পেরিয়ে এগিয়ে যায় তারা। একসময় আলভারেজকেও জীবন দিতে হয় হিংস্র বুনিপের হাতে। এতে একা হয়ে পড়ে শঙ্কর। একা একা দুর্গম আফ্রিকায় কীভাবে সে তার অভিযান শেষ করে তা নিয়েই লেখা ‘চাঁদের পাহাড়’। সহস্র বছর ধরে মানুষের চাঁদের প্রতি আকর্ষণের ন্যায় রিখটারসভেল্ট পর্বতের হীরার আকর্ষণে গল্পের অভিযাত্রিকগণ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন ও সবশেষে বিজয়লাভ করেছেন। তাই গ্রন্থের নাম হিসেবে ‘চাঁদের পাহাড়’ শব্দ যুগলটি একদম সঠিক এবং সার্থক হয়েছে। উপন্যাসটিতে শঙ্কর রায় চৌধুরী ও ডিয়েগো আলভারেজ সবচেয়ে বিকশিত চরিত্র হলেও কাহিনী প্রবাহে জিম কার্টার, আত্তিলিও গাত্তি ও প্রসাদদাস বন্দ্যোপাধ্যায় চরিত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বইটির ভাষা অত্যন্ত প্রাঞ্জল এবং সাহিত্যমানে অতুলনীয়। শঙ্করের অভিযানের বর্ণনা নৈপুণ্যে বইয়ের নির্জীব পাতায় তা প্রাণলাভ করেছে। বইটি পড়লে আফ্রিকার ভৌগলিক দৃশ্য এবং দুঃসাহসিক অভিযাত্রা একইসাথে চোখের সামনে মূর্ত হয়ে উঠে। তাই বইটিকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা রোমাঞ্চ উপন্যাস বলতে দ্বিধা নেই।
Was this review helpful to you?
or
বইয়ের নাম: চাঁদের পাহাড় লেখকের নাম: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রিভিউ লেখক: মো: নাবিল উল্লাহ বই পরিচিতি: চাঁদের পাহাড়চাঁদের পাহাড় কোন ইংরেজি উপন্যাস নয় এটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা রোমাঞ্চকর উপন্যাস। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটিই বাংলা ভাষায় সর্বাধিক জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ন উপন্যাস। ভাগ্য পরীক্ষা ও কল্পনার সত্যতা অনুসন্ধানে একজন মানুষ কতটা দুঃসাহসিক কর্মে লিপ্ত হতে পাওে তার কোন ইয়ত্তা নেই। এই অনিশ্চিয়তার খেলায় কখনও ভাগ্য কখনও বা সাহসিকতা আবার কখনও বিশ্বনিয়ত্তা বিজয়ী হয়। যদি কখনও ভাগ্য বিপর্যয়ে নিয়তির পরিহাসে পরাজয় নেমে আসে তবে এটাকে বিজয় বলেই মেনে নেয় সাহসী বীর। তবুও থামেনা বীরের সে পথচলা। তেমনি এক ভয়াবহ অভিযাত্রার নাটকীয় উপখ্যান এই উপন্যাসটি। যেখানে লেখক শঙ্কর নামক এক সাধারন বাঙালি যুবকের আফ্রিকা জয়ের টান টান রোমাঞ্চকর কাহিনীর বর্ণনা করেছেন। উপন্যাসটিতে লেখক আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা করেছেন অতিব সুন্দরভাবে। বন-জঙ্গল, পাহাড়- পর্বত, মরুভুমি পাঠকের মনকে অতি সহজেই শিহরিত করে। তবে সবই লেখকের কল্পনা। উপন্যাসটির ভূমিকাতে লেখক নিজেই সুন্দর ও সাবলীলভাবে সেকথা বিশ্লেষণ করেছেন। পাঠ পর্যালোচনা: শঙ্কর পাড়াগাঁয়ের এফ.এ (বর্তমান এইচ এস সি) পাশ করা শিক্ষিত বেকার যুবক। কিন্তু সে বুদ্ধিমান, সাহসী ও আত্নপ্রত্যয়ী। ছোটবেলা থেকেই সে রোমাঞ্চকর ও দুঃসাহসিক কাজ করতে পছন্দ করে। তবে তার সবচেয়ে বেশি পছন্দ ভূগোল ও বিভিন্ন ধরনের ম্যাপ ঘাঁটাঘাঁটি করা। বাবার অসুখ সংসারের অভাব-অনটনের করণে অকালেই তাকে পাটকলের চাকুরিতে যোগ দিতে হয়। কিন্তু পাটকলের চাকুরি তার পছন্দ ছিল না। তার মন ছুটে বেড়ায় দূর-দূরান্তে রোমাঞ্চের খোঁজে পুথিবীর দূর দূর দেশে শত দুঃসাহসিক কাজের মাঝখানে। অবশেষে তার জীবনে ঘটে সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনা যা তার স্বপ্ন পূরণের পথকে সুগম করে। তার প্রতিবেশির মেয়ের জামাই প্রসাদদাস বন্দ্যোপাধ্যায় যিনি পালিয়ে সুদূর আফ্রিকায় চলে গিয়েছিলেন। তার সহায়তায় শঙ্কর আফ্রিকার উগন্ডা এর মোম্বাসা শহরে রেলওয়তে চাকুরি পায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীতে সমস্যা জর্জরিত উগান্ডা ছিল খাবার পানির অভাব, মানুষ খেকো সিংহ ও ব্লাক মাম্বা সাপের অতর্কিত আক্রমণ সবসময় ভয়ে ভীত থাকতে হয়। ইতিমধ্যে একদিন সিংহের সাথে তার যুদ্ধ হয়। তবে এতো সব বিপদের মাঝে বাওবাব নামক একটি গাছ তার কাছে ভালো লাগে যার ছায়ায় বসলে তার প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। এসব বিপদশঙ্কুল পরিবেশ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই একদিন তার পরিচয় হয় পর্তুগিজ অভিযাত্রিক ও স্বর্ণ সন্ধানী ডিয়াগো আলভারেজের সাথে। আলভারেজকে অসুস্থ অবস্থায় শঙ্কর জঙ্গলে খুঁজে পেয়ে বাড়িতে এনে সেবা যত্ন করে সুস্থ করে তোলে। অসুস্থ থাকাকালীন সময়ে আলভারেজ শঙ্করকে তার জীবনে বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া রোমাঞ্চকর ঘটনার গল্প শোনান। আফ্রিকায় স্বর্ণ অনুসন্ধানে এসে তার ইংরেজ অভিযাত্রিক জিম কার্টারের সাথে পরিচয় হয় তারপর দুজন একসাথে অভিযানে বেড়িয়ে পরেন। তারপর তিনি ও তার সঙ্গী জিম কার্টার কিভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হীরক খনির সন্ধান পায় কিন্তু ভয়ঙ্কর দানব বুনিপ কিভাবে জিম কার্টারকে হত্যা করেছিল আর তাকে ফিরে আসতে বাধ্য করেছিল সেসব দিনের লোমহর্ষক কাহিনী। অসুস্থ অবস্থায় আলভারেজ শঙ্করকে একটি ম্যাপ দিয়েছিলেন যেখানে রিখ্টারসভেল্ট পর্বত ও যে নদীতে তারা হীরা খুঁজে পেয়েছিল তার সংক্ষিপ্ত চিত্র অংকন করা ছিল এবং বলেছিলো সাহস থাকলে যেন শঙ্কর সেখানে যায় তার হারীক খনির সন্ধান করে। পরবর্তীতৈ আলভারেজ সুস্থ হয়ে উঠলে রোমাঞ্চপ্রেমি শঙ্কর যে রোমাঞ্চের টানে এতোদূরে এসেছে সে রেলওয়েল ক্লার্কের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ডিয়াগো আলভারেজের সাথে হীরার খনির অনুসন্ধানে বেড়িয়ে পড়ে। ঘন জঙ্গল, উচু-নিচু ঠিলা ও পাহাড়-পর্বতের পথ পাড়ি দিতে তাদেরকে দূর্সহনীয় ও অবর্ননীয় কষ্টের সম্মুখিন হতে হয়। এছাড়াও জঙ্গলে বসবাসকারী উপজাতিসহ বিভিন্ন ভয়ঙ্কর জন্তু-জানোয়ারের মোকাবেলা তাদের করতে হয়। জঙ্গলে বিপদের সাথে রয়েছে ম্যালেরিয়ার ভয়। চলার পথে জলন্ত আগ্নেয়গিরি বাঁধার সৃষ্টি করে। এসব বিপদ-শঙ্কুল পথ পাড়ি দেওয়ার মাঝেই এক পর্যায়ে ভয়ঙ্কও জন্তু দানব বুনিপ আলভারেজকেও মেরে ফেলে, এতে শঙ্কর একা হয়ে পড়ে। দূর্গম অঞ্চলে একা হয়ে পড়লেও শঙ্কর মনেব্যল হারানি, ধৈয্য ও সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছেন। প্রান বাঁচাবর চেষ্টায় একাকী পথ চলতে চলতে সে নিজের অজান্তেই একটি গুহার মধ্যে ঢুকে পড়ে যার মুখে ভয়ঙ্কর জন্তু দানব বুনিপ পাহাড়া দিচ্ছিল। বুনিপের ভয়ে সে অন্ধাকার গুহার মথ্যে পথ হারিয়ে ফেলে গোঁলোক ধাঁধায় পড়ে যায়। এক পর্যায়ে সে কিছু পাথরের সাহায্যে পথ খুজে পায় ও গুহার বাইরে আসতে পারে। কিন্তু আসবার সময় সঙ্গে করে কয়েকটি পাথর নিয়ে আসে। এরপর সে ভাগ্যের উপর নির্ভর করেই সাহসিকতা ও নির্ভীকতার সাথে দুস্তর কালাহারি মরুভূমির পথ পাড়ি মিতে শুরু করে। এখানে সে একটি গুহার মধ্যে ইতালীয় অভিযাত্রিক আত্তিলিও গাত্তির কঙ্কাল খুঁজে পান, যিনি ১৮৮০ সালের দিকে হীরার খনির সন্ধানে এসেছিলেন কিন্তু বেঁচে ফিরতে পারেননি। তার মৃত্যুর সুদীর্ঘ ত্রিশ বছর পর শঙ্কর তাকে মরুভূমির গুহায় খুঁজে পায় আর সেখানে তার লেখা নোট পড়েই শঙ্কও জানতে পারে সে সাথে করে যে পাথরগুলো নিয়ে এসেছে সেগুলো আসলে কাঁচা সোনা আর যে গুহার মধ্যে সে পথ হারিয়েছিল সেই গুহাটিই ছিল বিখ্যাত হীরার খনি। যার খোঁজে এসে আত্তিলিও গাত্তি, জিম কার্টার ও ডিয়াগো আলভারেজেকে জীবন দিতে হয়েছে। গুহার মধ্যে বসে শঙ্কর ভাবতে থাকে এবার তার পালা এই মরুভূতিতেই প্রানের পরিসমাপ্তি ঘটবে কারণ কালাহারি মরুভূমিতে সে পথ হারিয়ে ফেলেছে। মরুভূমিতে একদিকে খাবার পানির অভাব, ক্ষুধার্ত সিংহের আত্রমণ অন্যদিকে মরুভূমির নৈসর্গিক মরীচিকার মাঝে দিশেহারা হয়ে শঙ্কর প্রাণের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছ। এসবের মাঝেই একদিন জোৎস্নাত রাতে দূরে পর্বতের সীমারেখা তার বাঁচার আশা সঞ্চার করে। যেভাবে পরিশ্রম ও সাহসিকতার বলে সে আজ পৃথিবীর বৃহত্তর রত্নখনির মালিক। দরিদ্র বাংলা মায়ের বুকে ফেরার প্রত্যাশায় সে আবার পথ চলতে শুরু করে। অবশেষে চলতে চলতে কুগার ন্যাশন্যাল পার্ক জরিপ করার দলের সাথে তার দেখা হয়। সার্ভে টিম তাকে মুমুর্ষূ অবস্থায় উদ্ধার করে রোডিশিয়ার সল্সবেরি হাসপালে নিয়ে গিয়ে প্রাণ বাঁচায়। ভাগ্যের খেলায় শেষ অবধি সাহম ও ভাগ্য দুই জিতে যায়, হয়ে উঠে ইতিহাসের অংশ। টান টান উত্তেজনার মধ্যে শেষ হওয়া উপন্যাসটির শেষে বাঙালি দুঃসাহসী অভিযাত্রিক শঙ্কর বলে আবার সে আফ্রিকায় ফিরে যাবে, নিজে একটি কোম্পানী খুলে আবার মুদূও রিখ্টারসভেল্ড পর্বতে পুনরায় হীরক খনির অনুসন্ধান করবে। বইটি কেন পড়বো? যারা বই পড়তে ভালোবাসে বিশেষ করে দুঃসাহাসিক, রোমাঞ্চকর, অভিযাত্রিক কাহিনী তাদেও জন্য “ চাঁদেও পাহাড়” অত্যন্ত রোমাঞ্চর ।কেটি উপন্যাস। আলোচ্য উপন্যাসের মাধ্যমে স্বপ্ন, স্বপ্নের সত্যতা অনুসন্ধান, ভাগ্যের বিপর্যয়, প্রকৃতির প্রতিকূলতার সাথে প্রতিনিয়ত মানুষের যে লড়াই, অবশেষে ভাগ্য ও বিশ্বনিয়ত্তাও যে সাহস, ধৈর্য্য, আত্মপ্রত্যয় ও বীরত্বেও নিকট পরাজিত হতে পাওে তার উজ্জ্বল উপলব্ধি। এছাড়াও বইটি পড়ে আফ্রিকার অনেক জানা- অজানা প্রাকুতিক সৌন্দর্য, জন্তু-জানোয়ার, পাহাড়-পর্বত, মরুভূমি ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যাবে। সর্বোপরি ইচ্ছাশক্তি মানুষকে কোথায় পৌছে দিতে পারে এই বইটি তার উদাহরণ।
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 বইয়ের নামঃ চাঁদের পাহাড় লেখকঃ বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় প্রকাশনীঃ প্রিয়মুখ মূল্যঃ ১২০ টাকা ক্যাটাগরিঃ বই রিভিউ রিভিউকারীঃ সুমন্ত আশরাফ "মানুষের আয়ু মানুষের জীবনের ভুল মাপকাঠি।" তাই নয় কি? মানুষের আয়ু কি কখনও তার জীবনের মাপকাঠি হতে পারে? অনেক মানুষ আছে যারা হাজার কিংবা শত বছর বেঁচে থেকেও কিছুই কটতে পারে না। আবার অনেকেই আছে মাত্র কয়েক বছর পৃথিবীতে থেকে বিশাল কিছু করে দেখায়। 'চাঁদের পাহাড়' উপন্যাসের নায়ক শঙ্কর তেমনি এক চরিত্র। 🔸'চাঁদের পাহাড়' প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা রোমাঞ্চকর উপন্যাস। ১৯৩৭ সালে প্রথম প্রকাশ পাওয়া উপন্যাসটি শঙ্কর নামের ভারতবর্ষের এক যুবকের আফ্রিকা মহাদেশ জয় করার কাহিনী। এটি বাংলা ভাষায় অন্যতম জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ রোমাঞ্চকর উপন্যাস। ভাগ্য পরীক্ষা ও কল্পনার সত্যতা অনুসন্ধানে একজন মানুষ কতটা দুঃসাহসিক কর্মে লিপ্ত হতে পারে তার কোন হিসেব নেই। এই অনিশ্চয়তার খেলায় কখনও জয় কখনও পরাজয় আসে। যদি কখনও ভাগ্যে বিপর্যয় কিংবা নিয়তির পরিহাসে পরাজয় নেমে আসে তবে এটাকে বিজয় বলেই মেনে নেয় সাহসী বীর। তেমনি এক ভয়াবহ অভিযাত্রার নাটকীয় উপাখ্যান এই উপন্যাসটি। 🔸সময়কাল ১৯০৯, বাঙালীর ছেলে শঙ্কর, পাকা খেলোয়ার, নামজাদা বক্সার, ওস্তাদ সাতারু। এফএ পাশ করে সুবোধ ছেলের মত কাজকর্মের সন্ধান করলো না সে। দেশান্তরের হাতছানি পেয়ে সে পাড়ি দিল পূর্ব আফ্রিকায়। আমরা যেমন স্বপ্ন দেখতাম একদিন খুব বড় এডভেঞ্চারে যাব, বন বাদাড়ে ঘুরে বেড়াব, হঠাৎ গুপ্তধন খুজে পাব। শঙ্করও সে রকমই একজন। ঘটনাক্রমে কিংবা সৌভাগক্রমে শঙ্করের চাকরী জুটে রহস্য আর রোমাঞ্চের দেশ আফ্রিকার উইগান্ডার (উগান্ডা) রেলওয়েতে। আর সেই চাকরী জীবনেই ঘটতে থাকে যতসব লোমহর্ষক ঘটনা। সেই লোমহর্ষক ঘটনার শুরু হয় এক ভয়ঙ্কর সিংহের নরমাংস ভক্ষণের ভীতিকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। শঙ্করের কর্মস্থল থেকে অনেকজনই সে সিংহের শিকার হয়। এর পর শংকরের বদলি হয় ছোট একটা স্টেশনের স্টেশন মাস্টার হিসেবে। কিন্তু এবার বিপদ আরও বাড়ল! এখানে সিংহের সাথে যোগ হল আফ্রিকান সাপ ব্লাক মাম্বা। যার প্রতি ছোবলে ১৫০০ মিলিগ্রাম তীব্র বিষ শিকারের শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে। এরপর শঙ্করের দেখা হয় ডিয়েগো আলভারেজ এর সাথে। লাল দাড়ি আর বড় বড় চোখের এ মানুষটি ১৯৮৮/৮৯ সালের দিকে কেপ কলোনির উত্তর পাহাড়ের জঙ্গলে খুজে বেরিয়েছেন সোনার খনির সন্ধানে। একসময় খনির সন্ধান পেয়েও তা আর জয় করতে পারেন নি। তাই আবার বেরিয়েছেন নতুন করে। শঙ্কর কে সহযাত্রী করার মধ্য দিয়ে এ গল্পের মূল কাহিনি শুরু হয়। এরপর রুদ্ধশ্বাস অভিযান, লোমহর্ষক ঘটনাক্রম, কষ্ট, সাহস, বীরত্ব আর বন্ধুত্বের নানা উদাহরণ সৃষ্টির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে থাকে উপন্যাসের কাহিনী! 🔸যারা দুঃসাহাসিক, রোমাঞ্চকর, অভিযাত্রিক কাহিনী সম্পন্ন বই পড়তে ভালোবাসে তাদের জন্য 'চাঁদের পাহাড়' একটি মাস্টারপিস। এ গল্পে আমরা গাঁয়ের ছোট্ট শঙ্করকে বড় হয়ে উঠতে দেখি, হোচট খেয়ে আবার উঠে দাড়াতে দেখি, হাল না-ছাড়ার দৃঢ়তা দেখি। শঙ্করের গল্প আমাদের মাঝে আস্থা জাগায়, ফেলে আসা ভুলগুলোকে ছোট করে দেখতে শেখায়, আবার উঠে দাড়ানোর তাড়না দেয়। 🔸বিভূতিভূষণের মত মাস্টার-রাইটারদের লেখাগুলোকে আয়নার মত মনে হয়। এদের গল্পে নিজেদেরকেই খুঁজে পাই আমরা। তাদের লেখনীর আয়নায় দেখা আমাদের সেই প্রতিবিম্ব যেন আমাদের চেয়েও গভীর। জোছনা রাতে স্রোতহীন পুকুরের টলটলে পানিতে নিজেদের আত্নার যেই অধরা প্রতিবিম্ব দেখা যায়, অনেকটা সেরকম। পরিশেষে বলব যদি 'চাঁদের পাহাড়' না পড়ে থাকেন, বিশাল কিছু মিস করেছেন। হ্যাপি রিডিং.... 🔸বি: দ্র: উপন্যাসের কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় এর পরিচালনায় ও শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের প্রযোজনায় নির্মিত হয় বাংলা চলচ্চিত্র 'চাঁদের পাহাড়'। এতে প্রধান ভূমিকা, শঙ্কর-এর চরিত্রে অভিনয় করেন দেব। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রচুর প্রশংসা পায় এবং সর্বকালের সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়ে অল-টাইম ব্লকবাস্টার হয়। সুত্রঃ উইকিপিডিয়া।
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 বই : চাঁদের পাহাড় লেখক : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রিভিউকারী : নাদিরা মুসতারী জুঁই "বাংলা সাহিত্যে এই বইয়ের ভূমিকা কতখানি তা নিয়ে কিছু বলাটা বাহুলতা। আমি বরং এইবেলা নিজের কাছে বইটা, মূলত বইয়ের চরিত্রটা কেমন লেগেছে সেটা একটু বলবার চেষ্টা করি। আমাদের বাঙালিদের 'অলস' বলে প্রায়ই ঠাট্টা করতে শোনা যায়। এই অলস বাঙালিদের তাই দাপুটে অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে ওঠার গল্পও নিতান্তই কম - আঙুলের কড়েতে গুনে ফেলা যাবে। যেই দেশে গণপরিবহন ব্যবহার করতে গেলে সকাল-সন্ধ্যা দু'বেলা শহরের চিত্তাকর্ষক দৃশ্য দেখতে দেখতে বাদুড়ঝোলা হয়ে সূয্যিমামার বিশেষ স্নেহভাজন হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়, সেখানে আর আলাদা করে অ্যাডভেঞ্চারের প্রয়োজন যে বাঙালি বোধ করবে না সে-ই তো স্বাভাবিক! সে যাই হোক, এতোসবের মধ্যেও বাংলাদেশের ছেলে শংকর কিন্তু মনের মধ্যে স্বপ্ন বোনে আফ্রিকার গহীনে গিয়ে সে দুর্দান্ত কিছু দিন কাটাবে, জয় করবে মাউনটেন অফ দি মুন - চাঁদের পাহাড়। এরপরের পাতাজুড়ে শুধুই মুগ্ধতা। কি সিংহ, কি বিষধর সাপ - শংকর ওর উপস্থিত বুদ্ধি আর দারুন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে যায় প্রতি পদে পদে। এরপর যখন পরিচয় হয় পর্তুগিজ প্রসপেক্টর ডিয়েগো আলভারেজের সাথে, জুটিটা হয়ে ওঠে আরো চঞ্চল, আরো নির্ভীক। সাধারণত এমন গহীন অরণ্যে, পর্বতের কিলবিলিয়ে ওঠা শরীর ধরে যেই যাত্রাগুলোর শুরু হয় - তার পিছনে উদ্দেশ্য থাকে অমূল্য রত্নের খোঁজ। শংকর এখানেই আলাদা। কিছুর লোভে না বরং স্রেফ অজানাকে দেখার উত্তেজনায় মাতাল হতেই শংকর ছুটে চলে সূর্যের তাপ- বৃষ্টির পাগলামো- অভিবাসীদের শত মানাকে উপেক্ষা করে। তারজন্য ওকে বিসর্জনও দিতে হয় অনেক। কিন্তু বুকের মধ্যে ওর সর্বক্ষণ একটাই তাগাদা বেজে চলে - থামলে চলবে না, এগিয়ে যেতে হবে যা কিছুই হোক! সত্যিই শংকর এগিয়ে যায়। পথে এমন কোন বিপদ নেই যার সামনে ওকে পড়া লাগে না। একটা সময় মৃত্য অনিবার্য জেনেও শংকর ভাবতে থাকে - অন্তত বীরের মতোই মৃত্যু হবে সেটা, এতটুকু ভীরুতা নেই তাতে। মরলেও যেন তাতে শান্তিই আছে - ঠিক যেমন জীবনের স্বপ্ন ও দেখতো দেশে থাকতে তার সবটুকুই তো ওর পাওয়া হয়ে গেলো। বইটা পড়ে শেষ করে কেউ যদি তল্পিতল্পা গুছিয়ে "চললাম!" বলে অদেখাকে দেখার জন্য বাড়ি ছাড়ে - তাকে আমি এতটুকুও দোষ দিই না। শংকরকে জানার পর, পাতায় পাতায় সব অসাধারণ তথ্যকে চোখ মুদলেই জীবন্ত হতে দেখলে যে কারো রক্তে যে রোমাঞ্চের নাচন পেয়ে বসবে সে আর আশ্চর্যের কি! এখন শুধু পৃথিবীর সকল অলি-গলি এক উটকো ভাইরাসের খপ্পরে পড়ে বিকল হয়ে রয়েছে বলেই নয়তো এই আমিও দিব্যি বেরিয়ে পড়তাম.. হুম! অবশ্য এটুকু পড়ার পর নিন্দুকেরা বলতেই পারে, "এযযাহ! সেই তোমার বাঙালি পরিচয়টাই কেমন ঠিকরে বেরিয়ে আসলো..!""
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 বইয়ের নামঃ চাঁদের পাহাড়। লেখকঃ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশনীঃ প্রিয়মুখ প্রথমেই প্রিয়মুখ প্রকাশনীকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি বুক রিভিউ এর আয়োজন করার জন্য। এই রিভিউ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রিয়মুখ প্রকাশিত অসাধারণ কিছু বই সম্পর্কে জানতে পারছি রিভিউয়ারদের কাছ থেকে। প্রিয়মুখের জন্যে অনেক শুভ কামনা রইলো। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, আমার অন্যতম প্রিয় একজন লেখক। এই লেখকের লেখায় অন্যরকম এক মুগ্ধতা কাজ করে। যেমন টা কাজ করেছিলো পথের পাচালী পড়ার পর৷ আমার সাথে অনেকেই একমত হবেন, লেখকের বর্ণনা গুলো এমন হয় যে, পড়ার সময় মনে হয়, দৃশ্য গুলো চোখেত সামনে স্পষ্ট দেখতে পারছি। 'চাঁদের পাহাড়' এই বইটি নিয়ে রিভিউ লিখতে গিয়ে প্রথমেই যে ভাবনাটা মাথায় এলো তা হলো, যে বইয়ে এত চমৎকার করে রোমাঞ্চকর ভ্রমণের বর্ণনা দেয়া, সে বই সম্পর্কে লিখার মতো যথার্থ শব্দভান্ডার আমার কাছে হয়তো সত্যি নেই। বইটির অন্যতম প্রধান চরিত্র শংকর, অজপাড়া গায়ের ছেলে। খেলাধুলা, সাতার, বক্সিং, গাছে উঠা, ঘোড়ায় চড়াসহ বিভিন্ন ধরণের গুণাবলীতে পরিপূর্ণ একটি ছেলে। সব কিছু নিয়ে যেন একদম মেতে থাকে সারাটাক্ষণ! কিন্তু এত সব কিছুর বাইরেও তার অন্যতম আগ্রহ ছিলো, রাজ্যের ম্যাপ ঘাটা ও বড় বড় ভুগোলের বই পড়া। ইচ্ছে তার দূর দূর দেশে যাওয়ার, দু:সাহসিক কাজ করার। আর ঘুরে বেড়াবে পৃথিবীর এ মাথা থেকে ওই মাথা পর্যন্ত! কিন্তু পরিস্থিতির চাপে তাকে যেতে হবে অবশেষে পাটকলের কাজ করতে? নাহ! কোনো এক অদ্ভুত ভাবে তার জীবনে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে গেলো। কন্সট্রাকশন ক্যাম্পে কাজের সুবাদে সে তার বাড়ির বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেলো, তাও একেবারে শংকর ঠিক যেমন পরিবেশ চেয়েছিলো ঠিক তেমনই। নিবিড় বন, স্তব্ধ রাত্রি, পশু-পাখির অবাধ বিচরণ যেথায়। এ যেন শংকরের কাছে মেঘ না চাইতেই জল! তারপর বদলি হয়ে পুনরায় সেরকম একটি জায়গায় ই গেলো, যেখানে পরিচয় হলো এক পর্তুগিজ ডিয়াগো আলভারেজের সাথে। যার অনুপ্রেরণাতেই তার হীরার সন্ধানে যাত্রা শুরু হলো। সেই যাত্রায় কত বাধা বিপত্তি, পশুদের হঠাৎ করেই আক্রমণ। এরকম দুর্দান্ত রোমাঞ্চকর কিছু মুহূর্তের বর্ণনা আছে এ বইটিতে। সব কিছুর মধ্যে জিম কার্টার, আলভারেজ, আত্তিলিও গ্যাত্তি, শংকর ওরা যারাই হীরার সন্ধানে এতটা পথ পাড়ি দিয়েছে। কি হলো তাদের শেষ মুহূর্তে? জীবিত ফিরে এলো নাকি পশুদের আক্রমণে বনেই মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে? অসাধারণ এবং বৈচিত্র্যময় কিছু কাহিনীর স্বাদ পেতে হলে পুরো বইটি পড়তে হবে আপনাকে। তাহলে আর দেরি কীসের? পড়ে ফেলুন এক্ষুণি বইটি। রকমারি থেকে সহজেই সংগ্রহ করতে পারবেন প্রিয়মুখ প্রকাশনীর এ বইটি! রিভিউটি লিখছিঃ সুমাইয়া আহমেদ নুসরাত।
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 অ্যাডভেঞ্চারের নেশা মানুষকে করে তুলে দুঃসাহসী।অজানাকে জানার, অসম্ভব কে সম্ভব করা, অদেখা কে দেখার নেশায় মানুষ হয় অসীম সাহসী তথা এ্যাডভেঞ্চারাস।তেমনই এক এ্যাডভেঞ্চারাস মানুষের কাহিনী নিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের "চাঁদের পাহাড়" উপন্যাস। যা পাঠককে দিবে একই সাথে ভ্রমণ এবং রোমাঞ্চকর অনুভূতি। শঙ্কর, বাঙালি ছেলে, পারিবারিক অবস্থা সম্পন্ন না হওয়ায়,এফএ পাশ করেই পাটকলে কাজ করে পরিবারের হাল ধরার চিন্তা করতে হয়, অথচ মানচিত্র, ভূগোল বিষয়ে তার প্রবল আগ্রহ। এই আগ্রহ বশত বিখ্যাত ভূগোলবিদের বই, ভ্রমণ কাহিনি তার পড়া। ফলে দূর দূরান্তের দেশে, পাহাড় পর্বতে, অনাবিষ্কৃত কে দেখার, জানার মনস্কামনা তার। সেই বাসনা থেকেই যেন দৈবাৎ ক্রমে সূদুর আফ্রিকার উগাণ্ডায় রেলকোম্পানিতে তার চাকরি হয়। তাতে কি জনমানবহীন রেলস্টেশনের অদূরেই ভয়াল সিংহের আনাগোনা। একটু অসচেতন হলেই সেখানে সিংহের খাবার হবার আশঙ্কা। সিংহের খাবার হয়ে হারিয়ে যায় আরো কাজ করতে আসা সহকর্মী মাদ্রাজি তিরুমল আপ্পা। সিংহ থেকে বাঁচতে আরেক স্টেশনে স্থানান্তর হওয়া, এবার সিংহের সাথে যুক্ত হয় ভয়ংকর ব্ল্যাকমাম্বা সাপ। এসব মেনেই সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে গিয়ে ঘটনাক্রমে ডিয়াগো আলভারেজ নামের এক পর্তুগীজ অভিযাত্রী কে পেয়ে যায় শঙ্কর। বইতে পড়া সেই রিখটারশসভেলড্ পর্বত, ঘণ জঙ্গল ডিঙিয়ে সোনা, রূপা কিংবা হিরের খনি অনুসন্ধানের সত্য কাহিনি জানতে পারে আলভারেজ এর কাছে, সাথে এক ভয়ংকর দানবের কথাও যার আক্রমণ এ প্রাণ হারিয়েছিল জিম কার্টার নামের আরেক অভিযাত্রী। অভিযানের নেশায় পেয়ে বসে শঙ্কর কে, আলভারেজ এর সাথে এবার রওনা দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার পানে সেই অজানা হিরের খনি উদ্ভাবনে। কখনো ঘণ জঙ্গল, সুউচ্চ পর্বতশ্রেণী, মরুভূমি, জঙলের বিষাক্ত লতাপাতা,পোকামাকড়, বৃক্ষাদি, পাহাড়ের গোলোকধাঁধাঁ, কখনো আবার আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এসব কিছুর বাধা পেরিয়ে পথ চলতে থাকে তারা। অদৃষ্টের পরিহাসে পথিমধ্যে আলভারেজ এর মৃত্যু হয় সেই অজানা জন্তুর আক্রমণে। আলভারেজ কে হারিয়ে, একা হয়ে যায় শঙ্কর। কিন্তু দীর্ঘ এই অভিজানে আলভারেজ এর সাথে থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে সঙ্গী করে সেই অজ্ঞাত পর্বত উপত্যকা অতিক্রম করতে গিয়ে এক অন্ধকার গুহায় হারিয়ে যায় পানির সন্ধানে। বিভিষিকাময় সেই গুহা থেকেও মরে মরেও বেচে ফিরে আসে, সাথে দেখা হয় প্রায় ত্রিশ বছর আগে মারা যাওয়া আত্তিলিও গাত্তি নামের আরেক অভিযাত্রীর কঙ্কাল এর সাথে যার মৃত্যু পূর্বে লিখে যাওয়া চিরকুট থেকে জানতে পারে গুহা থেকে কুড়িয়ে আনা কিছু পাথর আসলে হিরে। রিখটারসভেলড পর্বত পেরিয়ে আসলেও চিমানিমানি পর্বতে এসে আহত শঙ্কর শক্তিহীন, দিনে শকুন, রাতে কোয়াট এর খাবার হবার জন্য মৃত্যুর প্রহর গুনে, সৌভাগ্যক্রমে এবারও সে মৃত্যু মুখ থেকে ফিরে আসে আফ্রিকার ন্যাশনাল পার্ক জরিপ দলের মাধ্যমে। বিজয়ী অভিযাত্রী রুপে অবশেষে স্বদেশে ফিরে যায়। উপন্যাসটির ভালো দিক গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অভিযাত্রী হবার স্বপ্ন পুরণ হলেও শঙ্কর তার নিজ দেশের প্রকৃতি, চাঁদের আলো, গ্রামীণ মুখরতা অনুভব করে, স্মৃতিকাতর হয়। অভিযানে আলভারেজ কে নেতার মতো সম্মান করে।পাশাপাশি আফ্রিকার ভৌগোলিক ,প্রাণীজাগতিক বর্ণনা ও ছিল অসাধারণ । স্বপ্নকে জয় করার দৃঢ় প্রত্যয় এবং সাহস ছিল উপন্যাসের প্রায় পুরোটা জুড়ে। জীবনে অ্যাডভেঞ্চারাস হতে চাইলে এই বইটা দারুণ অনুপ্রেরণামুলক। বইয়ের নামঃ চাঁদের পাহাড় লেখকঃ বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় প্রকাশনীঃ প্রিয়মুখ রিভিউ কারকঃ Fatema Rupa
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 বাঙালি ছেলে শঙ্করের আফ্রিকার চাঁদের পাহাড় খ্যাত ভয়ঙ্কর রিখটারসভেল্ড পর্বতের এক লোমহর্ষক এডভেঞ্চারের গল্প বর্ণিত হয়েছে "চাঁদের পাহাড়" বইটিতে৷ টান টান উত্তেজনা, আফ্রিকার পাহাড় আর অরণ্যের এমন অসাধারন বর্ণনা আর গল্প, সবকিছু মিলিয়ে অসাধারন একটা সৃষ্টি৷ চাঁদের পাহাড় পড়েছে অথচ কল্পনায় শঙ্কর হয়ে রিখটারসভেল্ট পর্বতে দূর্ধর্ষ অভিযানে যায়নি এমন বাঙালি খুব কম আছে৷ চাঁদের পাহাড় এমন এক অসাধারন উপন্যাস যা পড়ে ইচ্ছে হয় আফ্রিকার গহীন অরণ্যের মাঝে ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতে, বিপসঙ্কুল পাহাড় আর বনের মাঝে বন্দুক কাঁধে বেরিয়ে পড়ে গহীন অরণ্যে শঙ্করের মতোই হীরের খনীর আশায় পথ চলতে, কিংবা আলভারেজের মতো অসাধারন একজন সাথীকে সাথে নিয়ে পথ চলতে। এক কথায় চাঁদের পাহাড় এমন এক সৃষ্টি যা একজন মানুষকে দিবে অসামান্য এডভেঞ্চারের ছোঁয়া যা মুগ্ধ করবে যেকোনো পাঠককেই৷ বাঙালি ছেলে শঙ্কর। ছোটোবেলা থেকেই যার ভবঘুরে হওয়ার নেশা। সেই নেশার হাত ধরেই একসময় সুদূর আফ্রিকায় রেল কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে সেখানে পৌঁছায়। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই চিনতে থাকে বন জঙ্গল, অরণ্য, পাহাড়, সিংহ আর বিভিন্ন ভয়ঙ্কর প্রাণীর দেশ আফ্রিকাকে৷ সেখানেই পরিচয় পর্তুগীজ ভ্রমনপীপাসু আলভারেজের সাথে। আলভারেজের কাছে চাঁদের পাহাড়ের হীরের খনী আর তাদের এডভেঞ্চারের কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে যায় শঙ্কর৷ আর আলভারেজের সাথেই বেরিয়ে পড়ে সেই চাঁদের পাহাড়ের সন্ধানে বিপদসংকুল রিখটারসভেল্ট পর্বতের উদ্দেশ্যে৷ একদিকে একদমই কাঁচা আর অভিজ্ঞতাহীন শঙ্কর, আর অন্যদিকে সারাজীবন এডভেঞ্চার করে বেড়ানো অভিজ্ঞতা আর জ্ঞান সম্পন্ন অসাধারন দূর্ধর্ষ আলভারেজ। অসম বয়সের এই দুজন মানুষের মাঝে গড়ে উঠে এক অসাধারন আর মুগ্ধ হওয়ার মতো বন্ধুত্ব। ভয়ঙ্কর সেই পাহাড়ে পদে পদে যখন বিপদ হানা দেয় তখন বার বার একজন আরেকজন কে বাঁচায়৷ হীরের খনীর উদ্দেশ্যে চলতে গিয়ে তারা বার বার মুখোমুখী হয় প্রাকৃতিক দূর্যোগ, আগ্নেয়গিরি, সিংহ, ব্ল্যাক মাম্বা, পাইথন, চিতা, হাতি আর বুনিপসহ আরো বহু বিপদের৷ একসাথে দুজন তবুও অটল থেকে পথ চলতে থাকে৷ স্বীকার হয় গোলকধাঁধার, যার সমাধান করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ৮০০০ ফুট উঁচুতে বিপদসংকুল পাহাড়ি বনে আটকে পড়ে জানতে পারে তাদের ম্যাপেও রয়েছে ভুল। অন্যদিকে খাবার, গুলি, কম্পাসসহ নানা প্রয়োজনীয় জিনিসের স্বল্পতা পড়তে থাকে। এমন সময় তারা সম্মুখীন হয় আরো বড় বিপদের৷ লোমহর্ষক সেই গল্পের প্রতিটা পাতায় পাতায় লুকিয়ে আছে এক দূর্ধর্ষ অভিযান। শেষে কি শঙ্কর পাবে কাঙ্খিত হীরের খনীর সন্ধ্যান? কিংবা দুজনে কি পারবে ঠিকমতো ফিরে আসতে আবার লোকালয়ে? শঙ্করের এই দূর্ধর্ষ এডভেঞ্চারের শেষ পরিণতিই বা কি হবে? সত্যিই কি চাঁদের পাহাড় বলে কিছু আছে? জানতে হলে পড়তে হবে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "চাঁদের পাহাড়"। অসাধারন এই এডভেঞ্চারটা মুগ্ধ হয়ে পড়ছিলাম আর বার বার শিউরে উঠছিলাম। মাঝে মাঝে আনমনেই শঙ্করের জায়গায় কল্পনা করছিলাম নিজেকে। শঙ্কর, আলভারেজ, আত্তিলিও গাত্তি, রিখটারসভেল্ট পর্বত এই সবকিছুই যেনো একই সূত্রে গাথা৷ শঙ্কর আর আলভারেজের সম্পর্কটা মুগ্ধ করেছে প্রচুর৷ আর এই অসাধারন সম্পর্কের কারনেই এক সময় ভিষন মন খারাপ হয়ে উঠে। না পড়ে থাকলে এক্ষুনই পড়ে নিন এই অসাধারন বইটি। আর শঙ্করের সাথে হারিয়ে যান আফ্রিকার গহীনের বিপদসংকুল সেই রিখটারসভেল্ড পর্বতের গহীন জঙ্গলে, কিংবা আফ্রিকার তপ্ত কালাহারি মরুভূমির ভয়ঙ্কর মৃত্যুজালে। এই বইয়ে যেসব বিষয়গুলো শিক্ষণীয়ঃ- ১। নিজের লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য ঠিক রেখে এগিয়ে যেতে হবে৷ ২। নিজের লক্ষ্যের পথে অনেক বাঁধা বিপত্তি আসবে। সেগুলোকে সাহসের সাথে দৃঢ়তা নিয়ে সামলাতে হবে। ৩। খারাপ সময়ে খুব তাড়াতাড়ি হতাশ হলে চলবেনা। মনে রাখতে হবে অন্ধকারকে দূরে ঠেলে একসময় না একসময় ঠিকরে বের হয়ে আসবেই। ৪। যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য্যশীল হতে হবে। সাহস রেখে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। নিজস্ব রেটিংঃ- বাংলা সাহিত্যে রচিত এডভেঞ্চারধর্মী বই গুলোর মাঝে " চাঁদের পাহাড়" অন্যতম সেরার স্থানে থাকবে আজীবন। সেইদিক থেকে এই বইটিকে ক্লাসিক বলা চলে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অসাধারন বইটিকে আমি ১০ এ ৯ দিবো। বইঃ- চাঁদের পাহাড় লেখকঃ- বিভূতিভূষণ বন্দ্যাোপাধ্যায় প্রকাশকঃ- প্রিয়মুখ
Was this review helpful to you?
or
one of the best book that I ever read 🍁
Was this review helpful to you?
or
বাংলা সাহিত্যের সর্বকালের সেরা অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস। আর প্রিয়মুখ প্রকাশনীর প্রচ্ছদটা অসাধারণ।
Was this review helpful to you?
or
বই এর কোয়ালিটি অনেক ভালো।১০০ তে ১০০
Was this review helpful to you?
or
এই বইটি যেই পড়ুক না কেন অনেকদিন মনে থাকবে মনে থাকবে,, দারুন অ্যাডভেঞ্চারের উপভোগ করতে চাইলে পড়তে পারেন, আশা করি নিরাশ হবেন না
Was this review helpful to you?
or
this book is really good , fantastic.this book is full of adventure .i really love this book.actually i like this book .it is a pleasure for me.love you
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 📘বই পরিচিতি:- 📘বই:-চাঁদের পাহাড় 🖊️লেখক:-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 📚ধরণ:- উপন্যাস 📓পৃষ্ঠা:-৯৬ 📓প্রকাশনী:- প্রিয়মুখ রিভিউ লেখক: জাভেদ আব্দুল্লাহ ▫️লেখক সম্পর্কে:- বাংলা সাহিত্যের একজন মহাপুরুষ হলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি বাংলা সাহিত্য কে নিয়ে গেছেন, এক অন্যান্য জায়গায়।লেখকের বেশ কয়েকটি উপন্যাস পড়া হয়েছে। প্রতিটি লেখায় সমাজের চিত্র কি সুনিপুণ ভবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন,অনেকটা সফলও হয়েছেন।যেমন এই "চাঁদের পাহাড়" বইটি শেষে আমার উপলব্ধি হলো,মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় হতে পারে যদি সে তার একনিষ্ঠ চেষ্টা অব্যাহত রাখে। 🔸যারা যারা আছে এই উপন্যাসে:- প্রধান চরিত্র শষ্কর,আলভারেজ,প্রসাদ দাস বন্দ্যোপাধ্যায়,আত্তিলিও গাত্তি সহ আরও কয়েকজন। 💠মূল ভাব: বইটি পড়ে বহুকাল আগের সময় থেকে ঘুরে আসা যায়।মানুষ জীবনের সাথে কতো সংগ্রাম করে চলতো। যা বর্তমান সময়ের সাথে চিন্তা করলে প্রায় অসম্ভব মনে হয়। উপন্যাসের শ্রেষ্ঠ চরিত্র শষ্কর জীর্ণশীর্ণ পরিবেশ থাকার পরও সে স্বপ্ন দেখেছিল পর্বত জয় করার।সে পেরেছে,সে পিছু হাটেনি।সে হয়তো কখনো কল্পনাও করেনি,যে অজপাড়া গাঁয়ে থেকে এতো বিশাল অর্জন করতে পারবে। বাংলায় একটি কথা আছে___ "ছেড়া কাতায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখতে নেই" কিন্তু শষ্কর দেখিয়ে দিয়েছে, কিভাবে দীর্ঘ ইচ্ছে ও অসীম সাহস থাকলেই স্বপ্ন জয় করা সম্ভব। এক কথায় বলা চলে শষ্কর হলো একজন নির্ভীক স্বপ্ন লড়ুক তরুণ। পরিশেষে, কিভাবে এই তরুণ তার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন ছেড়ে, অকল্পনীয় এই স্বপ্ন জয় করেছে।তারই সম্মেলিত প্রায়স হলো এই চাঁদের পাহাড়। পাঠক, আরও জানতে হলে ডুব দিতে হবে এই "চাঁদের পাহাড়"। কেন শষ্কর এই হিরার খনি পাওয়ার পরও ছেড়ে আসছিল। আশা করি যে কোন ধরনের পাঠক বইটি পাঠক করে মুগ্ধ হবেন। 💠পড়ার পর আমার অনুভূতি: বইটি থেকে অনেক কিছু শিখার আছে। শষ্কর তার পরিবারের জন্য, তার স্বপ্ন কে ত্যাগ করেছিল,কিন্তু পরক্ষনে সে এর চেয়ে বিশাল কিছু পেয়েছে। স্বপ্ন পূরণের জন্য কত দূরেই না যেতে হয়,শষ্কর পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তে চলে গিয়েছিল।কি অমায়িক ছিল অপরিচিত জনদের সাথে তার আচরণ। পাশাপাশি প্রমাণ হয়েছে, একজন ভ্রমণপিপাসু কতটুকু আনুগত্য হতে পারে। বিশেষ ভাবে বইটিতে আগ্নেয়গিরির সৌন্দর্য সুনিপুণ ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক পর্যায়ে শষ্কর পত্রিকার পাতায় জায়গায় করে নিয়েছিল।হিরার খনি জয় করে।যদি হিরা ছাড়াই ফিরে আসছিল।পরিশেষে গা ঝাড়া দিয়ে সকল বাধা বিপত্তি পেরিয়ে শঙ্কর আবার তার গায়ে ফিরে গেলো। 💠বইটির সাথে কয়েকটি প্রবাদের বাস্তবায়ন: 🔹ধৈর্যের ফল সুমিষ্ট হয়। 🔹পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না,আগে অথবা পরে, এটার প্রাপ্তি আসবেই।
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 বইয়ের নাম : চাঁদের পাহাড় লেখক : বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় প্রকাশনী: প্রিয়মুখ প্রকাশনী পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৯৬ রিভিউ করছি : এহসান ফারুকী গোটা বাংলার এক কালজয়ী লেখক হচ্ছেন বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়। এক পশ্চিম্বঙ্গ ছাড়িয়ে কলকাতা ছাড়িয়ে গোটা বাংলায় তিনি সুপরিচিত লেখকদের কাতারে পা রাখা একজন। এই ভারতবর্ষ ছেড়ে লেখকের কখনো যেখানে অন্যকোথাও জাওয়া হয়নি সেখানে সুদূর আফ্রিকা, তা ও ট্রপিক্যাল এই আফ্রিকাকে ঘিরেই লেখকের এমন কল্পনা, ভাবনা,চিন্তাশীলতা, স্টাডি করা সব মিলিয়ে একদমই যেনো অনবদ্য পারফর্মেন্স যেনো একেবারেই দশে দশ। স্কুলের কিছু ছেলেপেলে সবকিছুর পিছনে তাদের আগ্রহ ফেলে তাদের আগ্রগটা থাকে টিভির সেই রহস্যময়ী, ট্রপিক্যাল জিনিশের উপর যার একটাই ধরুন ডিস্কোভারি ( Discovery) চ্যানেল। আমাদের স্কুলের বন্ধুদের মাঝে অনেকেই আছে এমন যে তারা স্কুলের পড়াশোনা বাদে অন্যকিছু মানেই তাদের কাছে অই রহস্যময়ী জিনিশ নিয়ে পড়ে থাকা। চাঁদের পাহাড় বইয়ে লেখক ঠিক অনেকটাই এই ধরনের জিনিশ তুলে ধরেছে, যার মূল চরিত্রে ছিলো শঙ্কর। পড়াশোনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলে ও শঙ্করের খেলাধুলায় ছিলো একদমই জুড়ি মেলা ভার তবে বিভিন্ন রাজ্যের ম্যাপ, ভুগোল নিয়ে ঘাটাঘাটিতে ছিলো তার মন । লেখক পুরো বই জুড়ে এই এক শঙ্করকে ঘিরে যেভাবে লিখেছেন কিছু কিছু জায়গায় মনে হচ্ছিলো যেনো টিভিতে চিরচেনা বেয়ার গ্রিলসই শঙ্করের হয়ে টিভি পর্দায় শো করছে। গল্পের মোরে মোরেই বদলেছিলো গল্প। বইয়ের বিশেষ কিছু জিনিশ যা একদমই শিক্ষনীয় পার্ট ➤ স্বপ্ন দেখা ➤ সাহসী হওয়া ➤ চ্যালেঞ্জ নেওয়া ➤আত্মবিশ্বাসী হওয়া ➤ হার না মানার মানসিকতা ➤ ভুল থেকে শিখা ➤ বুদ্ধির সঠিক ব্যবহার ➤ ধৈর্য লেখক চাঁদের পাহাড় বই জুড়েই স্বপ্ন দেখা, প্রতি মুহুর্তে চ্যালেঞ্জ, নানা প্রতিকূলতায় দিন কাটানো শুধু এসবই নয় ভয়ভীতি দূর করে আত্মবিশ্বাস, বুকে সাহস নিয়ে কিভাবে বিজয়ী হতে হয় তার-ও এক অনন্য দৃষ্টান্ত লেখক নিজের বইয়ে তুলে ধরেছেন।আমরা বাঙালীরা অন্যান্য সবদিক দিয়ে অনেক সাহসী হলে ও এডভেঞ্চার, রোমাঞ্চ এসবের স্বাদ নিতে কিছুটা কার্পণ্য, দ্বিধা কিংবা ভয়ভীতি কাজ করে আমাদের। তবে, লেখক এর লেখা চাঁদের পাহাড় বই পড়ার পড় নিজেকে মনে হতেই পারে গ্রামের বাড়ির আশে-পাশে বন জঙ্গলে রাত কাটানোর কথা ভাবা , তখন আপনার নিজেকে মনে হতে পারে শঙ্কর। ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটা কথা মনে পড়ছে , ' Never ever give up. ' গল্পের মূল চরিত্র আলভারেজ নামক এক যোদ্ধার সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকে তার সাথে সাথে থাকলে ও শেষের দিকে আলভারেজ মারা যায় এবং তখন থেকে শঙ্কর একা হয়ে যায়। নানা প্রতিকূলতা পার করে সে একাই বিজয়ী হয় নিজের সাহস, আত্মবিশ্বাস, হার না মানার মানসিকতার মাধ্যমেই। পরিশেষে একটাই বলবো, যারা এডভেঞ্চার প্রিয় এই ধরনের মানুষরা বই পড়ে নিজেকে এক অন্য জায়গায় দেখতে পাবেন।
Was this review helpful to you?
or
কিশোরদের জন্য চাঁদের পাহাড় একটি টপ টেন উপন্যাস। পেপারব্যাক টাই পড়তে পারেন।
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 🔹রিভিউকারীঃ আবু তালহা 🔹বইয়ের নামঃ চাঁদের পাহাড় 🔹লেখকঃ বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় 🔹প্রকাশনীঃ প্রিয়মুখ প্রকাশনী 🔹পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৯৬ 🔹মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০ টাকা 🔹লেখক পরিচিতিঃ বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যে একজন কিংবদন্তিতূল্য নাম। প্রখ্যাত এই সাহিত্যিক ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বেশ কিছু কালজয়ী উপন্যাস রচনার মাধ্যমে তিনি জয় করেছে নিয়েছেন অসংখ্য পাঠকের হৃদয়। ১৯৫০ সালের ১লা নভেম্বর মাত্র ৫৬ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন এই প্রবাদ পুরুষ। 🔹কাহিনী সংক্ষেপঃ সময়কাল ১৯০৯, ভারত বাংলার এক নিভৃত পল্লী গায়ের সহজ-সরল, প্রাণোচ্ছ্বল ছেলে শংকর। ফুটবলের নামকরা সেন্টার ফরোয়ার্ড, জেলার হাইজাম্প চ্যাম্পিয়ন, নামজাদা সাতারু শংকরের দিনগুলো ভালোই কাটছিলো। বাবার অসুখ আর পরিবারের দারিদ্রের কষা ঘাতে পড়ে তার মা তাকে অনুরোধ করেন পাটকলে চাকুরি নেওয়ার জন্য। কিন্তু দৈববলে তিনি আফ্রিকার উগান্ডার রেলওয়ে কনস্ট্রাকশনে কাজ পেয়ে যান। সেখানেই একের পর এক ঘটতে থাকে নানান লোমহর্ষক ও রোমাঞ্চকর ঘটনা। আফ্রিকার নরমাংস খেকো সিংহের কবলে পড়ে প্রাণ হারান কনস্ট্রাকশনের বেশকিছু শ্রমিক। যা সবার মাঝেই ভীতির সঞ্চার করে। এরপর শংকর সেখান বদলি হয়ে যোগ দেয় একটা ছোট্ট রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার হিসেবে। সেখানে সিংহের সাথে যোগ দেয় আফ্রিকান কালো মোম্বা সাপের উপদ্রব। একদিন ঘটনাক্রমে মুমূর্ষু অবস্থায় শংকরের সাথে পরিচয় ঘটে ডিয়েগো আলভারেজ নামের এক পর্তুগিজ প্রসপেক্টরের। যিনি হীরার খনির সন্ধানে বের হয়েও জয় করতে পারেন নি। সুস্থ হয়ে আলভারেজ শংকরকে প্রস্তাব দেয় 'মাউন্টেন অব দি মুন' জয় করার। এরপরেই শুরু হয় তাদের লোমহর্ষক ও রোমাঞ্চকর পথচলা। সাহস আর বীরত্বের সাথে নানান বাধা-বিপত্তি আর ভয়কে উপেক্ষা করে এগোতে থাকে তাদের রূদ্ধশ্বাস অভিযান। 🔹উল্লেখযোগ্য লাইনঃ ১. সাহস ও নির্ভিকতা এক জিনিস। জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ অন্য জিনিস। ২. মানুষের জীবনে এমন সব অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। তা উপন্যাসে ঘটাতে গেলে পাঠকরা বিশ্বাস করতে চাইবেনা, হেসেই উড়িয়ে দিবে। 🔹ভালো লাগার দিকগুলোঃ উপন্যাসে বেশ কিছু শিক্ষনীয় ব্যাপার রয়েছে, যা প্রত্যেকের স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। মেধা, সাহস আর নির্দিষ্ট গন্তব্য ঠিক থাকলে কোন প্রতিবন্ধকতাই স্বপ্ন পূরণে বাধা হতে পারেনা। এমনি সব সত্যতা ফুটে উঠেছে 'চাঁদের পাহাড়' নামক অতুলনীয় উপাখ্যানে। 🔹পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ নিঃসন্দেহে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের একজন শৈল্পিক স্রষ্টা। যিনি তার পুরো জীবনে ভারতবর্ষ ছাড়া আর কোথাও ভ্রমণ করেন নি। এমনকি সেসময় ছিলো না তথ্য সরবারাহের কোন অত্যাধুনিক মাধ্যম। শুধুমাত্র কিছু ভ্রমনকারী বইয়ের সাহায্য নিয়ে কি নিখুঁত বর্ণনাশৈলীর মাধ্যমে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন সূদুর আফ্রিকার ভয়ংকর অরণ্য, রিখটারসেভেল্ট পর্বত, কালাহারি মরুভূমি, চিমানিমানি পর্বত সহ বহু অজানা স্থানের লোমহর্ষক বর্ণনা। উপন্যাসটি পড়ার শুরু থেকেই শংকরের জায়গায় স্বয়ং নিজেকে মনে হচ্ছিলো। এখানেই লেখক তার লেখনীর মূল শিয়ানা দেখিয়েছেন। মৃত্যুসঙ্কুল সেই আফ্রিকার গহীন অরণ্য, মানুষ খেকো সিংহের গর্জন, জনহীন প্রান্তর, রহস্যময়ী সেই রাত্রী কিংবা কালো মোম্বা সাপের দর্শন সব মনে হচ্ছিলো নিজের সাথে হচ্ছে। এভাবেই উপন্যাসের শংকর চরিত্রের মধ্যে মিশে গিয়েছিলাম আমি। বইটা পড়ার এক পর্যায়ে মনে দাগ কেটে যায় ইটালিয়ান যুবক আত্তিলিও গাত্তির মৃত্যু পরবর্তী অবস্থার কথা। এছাড়াও আলভারেজ, জিমি কার্টারের মৃত্যুও মনকে ব্যথিত করে। যারা স্বপ্নকে জয় করবার আশায় মৃত্যুকে বরন করে নিতেও পিছপা হয়নি। অজান্তেই শংকর আর আলভারেজের মধ্যকার বন্ধুত্বের যে উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে তাও বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয়। সর্বোপরি, উপন্যাসের কাহিনী প্লট, লেখনশৈলী ছিলো একথায় দূর্দান্ত। এখন পর্যন্ত আমার পড়া বাংলা সাহিত্যের সেরা অ্যাডভেঞ্চার ও রোমাঞ্চকর উপন্যাস এটি। যা আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে। আপনিও পড়তে পারেন। থ্রিলার প্রেমী যেকোন পাঠকের উত্তেজনার পারদকে বাড়িয়ে দিতে সামর্থ্য রাখে এই বইটি। 🔹পারসোনাল রেটিংঃ ৪.৫/৫
Was this review helpful to you?
or
অর্ডার করার একদিন পর হাতে পেলাম, খুব দ্রুত ডেলিভারি দেওয়ায় অনেক ধন্যবাদ। তবে বই পড়তে গিয়ে বেশ সমস্যা হচ্ছে, বানান প্রচুর ভুল মনে হচ্ছে, আর পড়তে গিয়ে গোছালো লাগছে না,আটকে যাচ্ছি। এমন হওয়ার কারন কি?এতো সুন্দর একটি উপন্যাস পড়তে গিয়ে বানান ভুল, চোখে লাগে।
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 #bookreview 2 বইয়ের নামঃ চাঁদের পাহার লেখকঃ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়ঃএডভেঞ্চার উপন্যাস পৃষ্ঠাঃ৯৬ প্রকাশনীঃপ্রিয়মুখ রিভিউ করছিঃ মিষ্টি জান্নাত সারসংক্ষেপঃ ★চাঁদের পাহার এমন একটি বই যেখানে খুজে পাওয়া যায়, রহস্য, এক্সসাইটমেন্ট এবং এডভেঞ্চার । বইটি সেই ১৯০৯ বা ১৯১০ সালের দিকে লেখক রচিত । তখনের সময়ে এমন একটি অসাধারণ বই লিখা। এত আধুনিক মনের চিন্তা ভাবনা পোষণ করে লাইফে কিভাবে এগিয়ে চলা যায় তা শঙ্কর নামের চরিএের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। একজন শিক্ষিত যুবক পরিবারের অভাব অনটনের কারনে কিভাবে তার স্বপ্ন ত্যাগ করতে রাজি হল এবং পরিশেষে কিভাবে সে তার স্বপ্নের ছোঁয়া পেল। এবং তার এই জার্নিটার মধ্যে অনেক আগন্তুক এর সাথে পরিচয় হয়েছে বন্ধুত্ব হয়েছে। এ সকল কিছুই অতি সাধারণ মনে হলে ও বইটা না পড়লে বুঝা যায় না আসলে কতটা অসাধারণ। মূল বিষয়ঃ ★শঙ্কর নিজ দেশ ছেড়ে তার স্বপ্ন পূরণ এর জন্য আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের পরিবেশ এর সাথে যুদ্ধ করে তার জীবন অতিবাহিত করছিল। হিংস্র তম জন্তু যেমন সিংহ, ব্ল্যাক মাম্বা আরো কত কি। হঠাৎ তার সাথে এক আগন্তুক এর সাথে পরিচয় এবং তার সাথে পথ চলা। বইটিতে সুন্দর করে বর্ণনা করা হয়েছে আগ্নেয়গিরি দেখতে ভয়ানক হলেও তার মধ্যে লুকানো আছে এক অপরুপ সৌন্দর্য। আরো বলা হয়েছে তারা একটি পাহাড়ে যায় হীরার খনির উদ্দেশ্য এবং সেখানে হীরার সন্ধান পেয়ে ও কেন ফরে আসে। শঙ্কর এক সময় মরন ফাঁদে পড়ে যায় এবং টানা ৩ দিন গুহার ভেতর কাটায় অন্ধকার এক পরিবেশ খাবার নেই এমনকি এক ফোটা পানি ও নেই এই তিনে সে হিম্মত হারে নি এবং তানা তিন দিন না খাওয়া অন্ধকার জগতটা থেকে সে যেভাবে বের হল তা সকলের জন্য অনুপ্রেরণা জোগায় । যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে হাল ছাড়া যাবে না। প্রাণ যতক্ষন আছে লড়ে যেতে হবে। এমনকি সে যখন এই মহাবিপদ থেকে বের হয়ে পৃথিবীতে আসল, তার কাছে এ যেনো স্বর্গ লাগছিল। ★(পারসোনাল অভিমত) কিছু বই এমন হয় না পড়া শেষ হয়ে গেলে মনে হয় কেন শেষ হল, এই বইটি এমন একটি বই বটে। আমার নিজের খুব ভালো লাগার একটি বই এটি। এবং যারা এই টাইপের বই পড়েন আশা করি প্রত্যেকের কাছে ভালো লাগবে। বইটা পড়ার সময় মনে হবে একটা ঘোরের মধ্যে আছেন। বইটা শেষ করা অবদি এটা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করবে না। রেটিংঃ৫/৫ এই রেটিংটি পাওয়ার যোগ্য বইটি।
Was this review helpful to you?
or
মেঠোপথে গ্রামবাংলার জীবনের গল্প বলা পথের পাঁচালী কিংবা আম আঁটির ভেপুর লেখক বিভূতিভূষণের কাছ থেকে চাঁদের পাহাড় এর মত উপন্যাস আমার কাছে একটু অবিশ্বাস্যই মনে হয়েছে প্রথমে। শুরুতে এজন্য লেখক নিজেই বলে নিয়েছেন, এটি কোনো ইংরেজি উপন্যাসের অনুবাদ নয়। রোমহর্ষক কাল্পনিক ভ্রমণকাহিনীর ও অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাসের মাধ্যমে লেখক নিজেকেই ছাড়িয়ে গেলেন বলতে হয়। বিভূতিভূষণের সবচেয়ে বড় শক্তি আমি বলবো তার বর্ণনাশৈলী এবং রূপকল্পের ব্যবহার। লেখকের অন্যান্য লেখার সাথে চাঁদের পাহাড়ের মূল পার্থক্য হলো, এবার গল্পের পটভূমি সুদূর আফ্রিকা মহাদেশ। নদীমাতৃক বাংলার বিস্তীর্ণ আকাশ কিংবা কোমল প্রকৃতির বদলে এই লেখায় স্থান পেয়েছে শ্বাপদসংকুল অরণ্য, পর্বতমালা, মরুভূমি – পরতে পরতে মৃত্যুর আলীঙ্গনের শঙ্কা। রক্তে ভ্রমণ এবং অজানার নেশা নিয়ে বাংলার আলো-বাতাসে বড় হওয়া এক তরুণকে ঘটনাচক্রে লেখক নিয়ে গিয়েছেন উগান্ডার রেলের কাজে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বছর পাঁচেক আগে সেখান থেকেই শঙ্করের দুঃসাহসী এবং অবিশ্বাস্য যাত্রার শুরু। মহামূল্যবান পাথরের সন্ধানে গল্পের মূল চরিত্র শঙ্কর এবং বর্ষীয়ান এক পর্তুগীজ ডিয়েগো আলভারেজের অবিস্মরণীয় এই অভিযানে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখী করেছেন পাঠকদের। রোডেশিয়া (বর্তমান জিম্বাবুয়ে), তানজানিয়া হয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ পশ্চিমে বিস্তৃত রিখ্টারসভেল্ড পর্বতমালার দিকে, অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ এক আদিম অঞ্চলের দিকে এগোতে থাকে দুজন। জীবন ও মৃত্যুর ব্যবধান যে কত সামান্য হতে পারে তা বোঝা গেছে বারবার। বেঁচে থাকার জন্য কিছু মুহূর্তে তাই দিতে হয়েছে স্নায়ুর পরীক্ষা, মৃত্যুমান বিভীষিকার সামনেও থাকতে হয়েছে অটল। "কত রকমের শব্দ - হায়েনার হাসি, কলোবাস বানরের কর্কশ চিৎকার, বনমানুষের বুক চাপড়ানোর আওয়াজ, বাঘের ডাক - প্রকৃতির এই বিরাট নিজস্ব পশুশালায় রাত্রে কেউ ঘুমোয় না। সমস্ত অরণ্যটা এই গভীর রাত্রে যেন হঠাৎ ক্ষেপে উঠেচে।" আধুনিক যুগে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক কিংবা ডিস্কভারি চ্যানেল দেখে বড় হওয়া প্রজন্মের জন্য এই বইটি একটি নিঃসন্দেহে চমৎকার অভিজ্ঞতা হওয়ার কথা। ব্ল্যাক মাম্বা, হায়েনা, বানর, বেবুন কিংবা হিংস্র সিংহের এত অসাধারণ চিত্রায়ন বাংলায় আর কোনো লেখক করতে পারতেন কিংবা আজ অবধি পেরেছেন কিনা আমার সন্দেহ আছে। বিদেশী লেখকদের এ ধরণের লেখা পড়েছি কমবেশি, কিন্তু বিভূতিভূষণের লেখায় সবকিছুর পরেও একটা বাঙালিয়ানা আছে – এই ব্যাপারটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়!! "শঙ্কর ভুলে গেছে চারপাশের সব আসবাবপত্র, আফ্রিকা দেশটা, তার রেলের চাকুরী, মোম্বাসা থেকে কিসুমু লাইনটা, তার দেশ, তার বাবা-মা - সমস্ত জগৎটা শূন্য হয়ে গিয়ে সামনের ঐ দুটো জ্বলজ্বলে আলোর দানায় পরিণত হয়েচে... তার বাইরে সব শূন্য! অন্ধকার! মৃত্যুর মতো শূন্য, প্রলয়ের পরের বিশ্বের মত অন্ধকার!" বিভূতিভূষণের সৌভাগ্য হয় নি জীবদ্দশায় এসব ট্রপিকাল বন কিংবা আফ্রিকান জীববৈচিত্র্যের মুখোমুখি হওয়ার। তাই পরিব্রাজকের অভিজ্ঞতার জন্য তিনি সাহায্য নিয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত ভ্রমণকারীদের – অথচ পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে, পরিব্রাজকের নেশায় লেখক পাড়ি দিয়েছেন জনমানবহীন, বিপদসংকুল এই পথ। কখনো পথ হারিয়ে উন্মত্তের মত ঘুরেছেন গভীর অরণ্য কিংবা ভীষণ অন্ধকার গুহায় – যেখানে সৃষ্টির আদি থেকে কারো পদচিহ্ন পড়ে নি। কখনো হয়তো কালাহারি মরুভূমির উত্তপ্ত বুকে মরীচিকা এবং তৃষ্ণায় মৃত্যুমুখী হয়েছেন। উপমহাদেশের মানুষের মাঝে ঘরমুখী প্রবণতা পৃথিবীর অন্যান্য জাতির তুলনায় বেশি। কিন্তু চাঁদের পাহাড় পড়লে এই ধারণায় একটু হলেও নাড়া পড়বে। আমারও মনে হচ্ছিল, শঙ্কর চরিত্রের মত না হোক, পিঠে একটা তাঁবু নিয়ে সভ্যতা থেকে বহুদূরে নিস্তব্ধ পাহাড় কিংবা বনে-জঙ্গলে দু-চারটা রাত কাটাতে না পারলে কিসের জীবন? "ছাদের আলসের দিব্যি চৌরস একখানা টালি হয়ে অনড় অবস্থায় সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার চেয়ে স্ফটিক প্রস্তর হয়ে ভেঙ্গে যাওয়াও ভাল, ভেঙ্গে যাওয়াও ভাল, ভেঙ্গে যাওয়াও ভাল।" পৃষ্ঠার হিসেবে বইটি বেশি বড় না হলেও, লেখার গভীরতা এবং উপলব্ধির ব্যাপ্তিতে লেখকের সাহিত্যমুকুটে সেরা একটি পালক, একটি মাস্টারপিস এই উপন্যাস। আরো বছর দশেক আগে বইটি কেন পড়লাম না সেটি ভেবে আফসোস হচ্ছে। তৎকালীন ইংরেজদের অধীনস্থ ‘ইস্ট ইন্ডিয়ান’ পরিচয়কে অতিক্রম করে অজপাড়াগাঁয়ের এক তরুণ যেভাবে ঘরের বাঁধন ভেঙে সৃষ্টির সেই অতীত প্রভাতে ফিরে গিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করেছে – বাঙালী এক লেখকের কলমে এমন চরিত্রের সৃষ্টি সত্যিই অভাবনীয়।
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 বইয়ের নাম: চাঁদের পাহাড় লেখক : বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় প্রকাশনী : প্রিয়মুখ পৃষ্ঠা : ৯৬ দাম : ১২০/- রিভিউয়ার : জোনাইদ হোসেন প্রথমে এই বইটি পড়ার কারণ বলি। "উগান্ডা" নামটি শুনেছেন নিশ্চয়ই । আফ্রিকার একটি গরিব দেশ। এই নামটি নিয়ে অনেক ট্রল ও হাসি তামাশা শুনেছি। বইটিতে "উগান্ডা" দেশের কাহিনী আছে, স্রেফ সেজন্যই পড়ার প্রতি আগ্রহ জন্মেছে। দেশটির প্রতি বরাবরই আমার একটি পজিটিভ ধারণা ছিল। ধারনাটি এরকম যে, ১৮৯৫ - ১৯০১সালের মধ্যে ৪০ হাজার ভারতীয় কে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার উগান্ডাতে নিয়ে গিয়েছিল। কেনিয়ার মাম্বাসা থেকে উগান্ডার কাম্পালা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের শ্রমিক হিসেবে। পরবর্তীতেও অবশ্য কিছু ভারতীয় গিয়েছিল সে দেশে। তবে অনেকেই দেশে না ফিরে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।তাহলে এমন কিছু অবশ্যই দেশটিতে ছিল , যা তাদের সেখানে আটকে রেখেছে। কিছু না কিছুর নেশায় তো তারা এই বন জঙ্গলে পরিপূর্ণ দেশে থেকে আর ভারতে ফেরেনি । যাইহোক এবার বইয়ের আলোচনা তে আসি। বইটি মূলত অ্যাডভেঞ্চারধর্মী বই। নায়ক শংকর। অজ পাড়াগাঁয়ে যার বাস। ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত প্রকৃতির। খেলাধুলায় এক নাম্বার। গাছে ওঠা, ঘোড়দৌঁড়, বক্সিং আর সাঁতারে তাকে কেউ পরাজিত করতে পারতনা। শঙ্করের আরেকটি বড় গুন ছিল বইপড়া। বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার আর ভূগোল এর বইগুলো পড়ত বেশি। ঘটনাটা ১৯০৯ সালের। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পাঁচ বছর পূর্বের।শংকর এফ. এ. পাস করে বাড়িতে এসে শুনে বাবা অসুস্থ। এবার সংসারের হাল ধরতে হবে। একটা পাটকলে শঙ্করের চাকরির অফার আসে। কিন্তু পাটকলের কাজটা ঠিক তাকে টানলনা। সে কোনো ভাবে জানতে পারে তার এক প্রতিবেশী ভিক্টোরিয়ার হ্রদ, কালাহারি মরুভূমি, বন-বনানী আর স্বর্ন- হীরার দেশ উগান্ডাতে থাকে। ওখানে রেললাইন নির্মাণের জন্য ভারত থেকে শ্রমিক নেয়া হচ্ছে। তাই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যেমন পরিবেশ খুজছিল, সে পরিবেশে কাজ করার সুযোগটা হাতছাড়া করল না। চলে গেল উগান্ডায়। নতুন দেশে আসার পরই তার স্বপ্নের সার্থকতা কে খুঁজে পেল। নির্জন মাঠ, বন এসব দেখতে বেরিয়ে পড়তো। কিন্তু ক'দিন পরেই সে আসল সত্য জানতে পারে যে, উগান্ডা সিংহের দেশ। যেকোনো সময় যে কেউ সিংহের পেটে চলে যেতে পারে। সব সময় বন্দুক সাথে থাকা চাই। তার কর্মস্থলের অনেক শ্রমিক সিংহের খাবার হয়েছে। শংকর ও কয়েকবার সিংহের আক্রমণ দেখেছে নিজ চোখে। লেখক সিংহের আক্রমণ গুলো এমন ভাবে বর্ননা করেছেন মনে হবে শংকরের সাথে আপনিও সিংহের আক্রমণ প্রত্যক্ষ করছেন। তারপর ঘটনাক্রমে শংকরের সাথে পরিচিত হয় ডিয়েগো আলভারেজ নামে এক পর্তুগিজ এর সাথে। লোকটি শঙ্করের বাবার বয়সী। আফ্রিকাতে এসেছে হীরার সন্ধানে। তার গন্তব্য উগান্ডা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার রিখটারসভেল্ড পর্বত। যে পর্বতের স্থানে স্থানে ছড়িয়ে আছে হীরের টুকরো। এর আগে একবার ওই পাহাড়ে তার ইংরেজ বন্ধু জিম কার্টারের সাথে অভিযানে গিয়েছিল। কিন্তু পথেই মারা পড়ে জিম। শুধু হলুদ এক টুকরা হীরা নিয়েই ফিরতে হয়েছিল ডিয়েগোকে । এবার আবার সেখানে যাবে ডিয়েগো। শংকর ও অভিযানে সাথী হয়। এ এক ভয়ঙ্কর অভিযান। অনেক দূরের পথ। উগান্ডা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা হাজার হাজার মাইল দূরে। মাঝে আছে ভিক্টোরিয়া হ্রদ, সিংহ আর চিতাবাঘে ঘেড়া অরণ্য, টাঙ্গনিকায়া হ্রদ, কঙ্গো নদী, সাপ আর বিচ্ছুতে ভরপুর দিগন্তবিস্তৃত মরুভূমি। কত মানুষ এমন অভিযানে গিয়ে সিংহের খাদ্য হয়েছে, বিষাক্ত সাপের কামড়ে জীবন দিয়েছে, গভীর অরণ্যে পথ হারিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছে, পানির অভাবে মারা গিয়েছে তার হিসাব নেই। খোদ রিখটারসভেল্ড পর্বতে হীরার খনি থাকলেও তা জন্তু-জানোয়ারে ভরপুর। তিন আঙ্গুল ওয়ালা এক এক প্রজাতির জানোয়ার থাকে ওই পর্বতে। বহু খনি সন্ধানী তাদের হাতে জীবন দিয়েছে । আরো আছে দুর্ধর্ষ চিতা ও বহু হিংস্র জানোয়ারের ভয়। এতকিছুর পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা রওনা হয় মহামূল্যবান হীরার নেশায়। মৃত্যুর ভয়কে উপেক্ষা করে এক টুকরা হীরার আশায় ঘন অরণ্য আর হিংস্র পশুতে ভরপুর অজানা সব জায়গা পার হতে থাকে। (হীরা কত মহামূল্যবান তা একটু পরেই বলব) । মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় পুরে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি এই বস্তুর নেশায় মাস কে মাস চলতে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি তারা যেতে পেরেছিল সে হীরের পাহাড়ে? পথিমধ্যে কি হয়েছিল ডিয়েগো আলভারেজ এর সাথে? শংকর কি নিরাপদে ফিরে আসতে পেরেছিল? যে হীরার সন্ধান তারা করছিল, পেয়েছিল কি সে মহা মূল্যবান রত্ন?জানতে হলে পড়তে হবে বইটি। এবার লেখকের কথাতে একটু আসি। লেখক হিসেবে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের পরিচয় নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই। পথের পাঁচালী, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, অশনিসংকেত তার বিখ্যাত উপন্যাস। চাঁদের পাহাড় বইটিতে লেখক শংকর আর ডিয়েগোর অ্যাডভেঞ্চার এত সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন যে, মনে হবে দুজনের সাথে যা যা ঘটেছিল তা নিজেও কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করছেন। তার এ বইটি অবলম্বনে " চাঁদের পাহাড় " নামে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পশ্চিম বঙ্গে একটি সিনেমা নির্মিত হয়েছে।যা ছিল একটি ব্লকবাস্টার সিনেমা। ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফি অসাধারণ হয়েছে। অসম্ভব ভালো লাগার একটি মুভি। মজার বিষয় হলো বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি ভারতবর্ষের বাইরে কোথাও যান নি। কিন্তু উগান্ডা দেশের বর্ণনা ও উগান্ডা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার যে রুটে শংকর আর ডিয়েগোকে নিয়ে গেছেন তার সত্যতা যাচাই করে মুগ্ধ হয়েছি। ভূগোল সম্পর্কে তার ভাল ধারনা ছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের "কপালকুণ্ডলা" এর কাহিনী ও এক অরণ্যের মধ্যে চিত্রায়িত হয়েছে। কিন্তু সে অরণ্য এর বাস্তব কোনো অস্তিত্বই নেই। চাঁদের পাহাড় উপন্যাসটি সম্পর্কে নিজের মতামত যদি বলি তবে বলবো, এটি শুধু একটি অ্যাডভেঞ্চারধর্মী বই বললে ভুল হবে। বইটি পড়ে নতুন নতুন অনেক তথ্য পেয়েছি। আফ্রিকার অজানা অনেক কথা জেনেছি। চরিত্রগুলো কাল্পনিক হলেও প্রকৃতি, পরিবেশ ও বিভিন্ন স্থানের যে বর্ণনা লেখক দিয়েছেন বাস্তবে ও তার সত্যতা পাবেন। বইটি পড়ে ইতিহাসের আরেকটি বিষয় জানতে পেরেছি।আর তা হল ইউরোপ এই ভারতীয় উপমহাদেশ মতো সারা পৃথিবী থেকে সম্পদ চুরি করে আজ ধনী হয়েছে। কিভাবে তার মহা মূল্যবান হীরা আর স্বর্ণের খোঁজে আফ্রিকা চষে বেড়িয়েছে তার কিছু বর্ণনা আছে বইটিতে। বর্তমান উগান্ডা একসময় হীরা আর স্বর্ণের দেশ ছিল। হীরার দাম কেমন তা বুঝার জন্য একটা উদাহরণ দেই। "কোহিনুর হীরা"।যা ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশরা নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে রানী এলিজাবেথের মাথার মুকুটে আছে এটি। ওজন মাত্র ২১.২ গ্রাম। একটা চকলেট থেকেও ছোট। কিন্তু দাম শুনবেন? আচ্ছা বলি তাহলে, বর্তমান বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হীরার ১ গ্রাম বিক্রি হয়েছে ১৫৬ কোটি টাকায়। জি ভুল বলিনি, মাত্র ১ গ্রাম হীরার মুল্য এটি। আর কোহিনুর হীরার ১ গ্রাম তার থেকেও বেশি দামি। সব হীরার দাম অবশ্য এত বেশি নয়। তবে একেবারে কম যে তাও নয়। বাজারে বিক্রি করা সাধারণ ১ গ্রাম হীরার মূল্য ও কোটি কোটি টাকা। অথচ ইউরোপিয়ানরা শুধু উগান্ডা নয়, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে স্বর্ণ, হীরা সহ মহামূল্যবান আকরিক চালান করে,আফ্রিকাকে সবচেয়ে গরিব মানুষের মহাদেশ এ পরিণত করেছে। প্রাসংগিক ভাবে বলি ইউরেপিয়ানদের ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন ও চুরি ডাকাতির কিছু বর্ণনা সত্যেন সেনের "মসলার যুদ্ধ" বইটিতে পাবেন। পরিশেষে বলব" চাঁদের পাহাড়" এমন একটি বই যার পাতায় পাতায় থ্রিলারে ভরপুর। আফ্রিকার অজানা প্রকৃতির বর্ননা অত্যন্ত সরল ভাষায় রচিত। একবার শুরু করার পর শেষ না করে ওঠা যায় না এমন বই এটি। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে।
Was this review helpful to you?
or
#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 বইয়ের নাম: চাঁদের পাহাড় লেখকের নাম: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ক্যাটাগরিঃ বুক রিভিউ রিভিউকারীঃ মোঃ মুজাহিদ হাসান সিফাত লেখক পরিচিতঃ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরাতিপুর গ্রামে নিজ মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁ'র নিকট বারাকপুর গ্রামে। পিতামাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে বিভূতিভূষণ সর্বজ্যেষ্ঠ ছিলেন। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৮ বঙ্গাব্দ) প্রবাসী পত্রিকার মাঘ সংখ্যায় "উপেক্ষিতা" নামক গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে তার সাহিত্যিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। এই মহান কথাসাহিত্যিক পহেলা নভেম্বর ১৯৫০ (১৭ই কার্তিক ১৩৫৭ বঙ্গাব্দ, বুধবার) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরদিন দুপুরে সুবর্ণরেখা নদীর ওপারে 'পঞ্চপাণ্ডব ঘাট'-এ তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। সূচনাঃ "চাঁদের পাহাড়" বইটি হলো এক ধরনের থ্রিলিং উপন্যাস। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসাধারণ একটা অভিযান উপন্যাস! এটি একটা বাঙালি ছেলের গল্প। বাংলার এক সাধারণ গ্রাম থেকে উঠে আসা তরুণ শঙ্করের গল্প যিনি অ্যাডভেঞ্চার করার স্বপ্ন দেখতো দিন রাত। সার সংক্ষেপঃ শংকর একেবারে অজ পাড়াগাঁয়ের ছেলে। শংকরই এই উপন্যাসের মূল চরিত্র। যিনি সব সময় অ্যাডভেঞ্চারে যেতে চাইতো। ভাগ্যের পরিহাসে চাকুরীর সন্ধ্যানে তার ঠিকানা হয় ক্লার্ক হিসেবে আফ্রিকা মহাদেশে এবং উগান্ডা রেলওয়েতে যেমনটা আসলে সে চেয়েছিলো। চাকরির কিছু দিন পর অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় শঙ্কর ক্লার্কের চাকরি ছেড়ে দিয়ে আলভারেজের সাথে খনি অনুসন্ধানে বের হয়। তারা ঘন জঙ্গলে প্রবেশ করে। পথিমধ্যে আলভারেজকে বুনিপ (একটা প্রাণী) মেরে ফেলে। শঙ্কর একা হয়ে পড়ে। বিভিন্ন বাঁধা অতিক্রম করে শঙ্কর তার জীবন নিয়ে ফিরে আসে সভ্য জগতে। মধ্যে কেমন প্রতিকূল মুহূর্ত এসেছিল সেটা জানতে হলে পড়তে হবে "চাঁদের পাহাড়" উপন্যাসটি। উপন্যাস থেকে শিক্ষাঃ বাস্তবতা যতই কঠিন হোক, জীবনে যতই প্রতিকূলতা আসুক না কেনো, মনে প্রবল ইচ্ছা আর আকাঙ্ক্ষা থাকলে জীবন যুদ্ধে নিশ্চয়ই জয়ী হওয়া সম্ভব! চরিত্র সমূহঃ শঙ্কর রায় চৌধুরীঃ শংকর একেবারে অজ পাড়াগাঁয়ের ছেলে। শংকরই এই উপন্যাসের মূল চরিত্র। ডিয়েগো আলভারেজঃ পর্তুগিজ অভিযাত্রীক ও স্বর্ণসন্ধানী। সে শঙ্করের বন্ধু ও পরামর্শদাতা। জিম কার্টারঃ ব্রিটিশ অভিযাত্রীক। কার্টার চাঁদের পাহাড় খুঁজতে গিয়ে বুনিপের হাতে মারা যায়। আত্তিলিও গাত্তিঃ ইতালীয় অভিযাত্রীক। সে ১৮৭৯ সালে সি তে নয়টি হিরের খনী আবিষ্কার করে। বই রহস্যঃ মজার ব্যাপার হলো বিভূতিভূষণ কোনদিনও ভারতবর্ষের বাইরে পা রাখেননি। তবুও তিনি আফ্রিকার এমন নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছেন যা আপনাকে মুগ্ধ করবে। সেরা উক্তিঃ ১. মানুষের জীবনে এমন সব অদ্ভুদ ঘটনা ঘটে তা উপন্যাসে ঘটাতে গেলে পাঠকরা বিশ্বাস করতে চাইবে না, হেসেই উড়িয়ে দেবে। ২. ছাদের আলসের দিব্যি চৌরস একখানা টালি হলে অনড় অবস্থায় সুখ-স্বচ্ছন্দ্যে থাকার চেয়ে, স্ফটিক প্রস্তর হয়ে ভেঙে যাওয়াও ভালো, ভেঙে যাওয়াও ভালো, ভেঙে যাওয়াও ভালো। পাঠকের উদ্দেশ্যেঃ ছোটবেলায় আমরা যেমন স্বপ্ন দেখতাম একদিন খুব বড় একটা অ্যাডভেঞ্চারে যাব, বন-বাদারে ঘুরে বেড়াব, হঠাৎ গুপ্তধন খুঁজে পাব। আমাদের সেই ছোটবেলার স্বপ্নটাই "চাঁদের পাহাড়" পড়লে পেয়ে যাবেন। আমরা ক’জনই বাইরে ঘুরতে যায় বা অ্যাডভেঞ্চারে বের হয়? অ্যাডভেঞ্চার কি, কত প্রকার ও কি কি এবং কেমন তা "চাঁদের পাহাড়" না পড়লে বুঝতেই পারবেন না। তাই অ্যাডভেঞ্চারে না গিয়েও অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ পেতে পড়ে ফেলুন "চাঁদের পাহাড়" উপন্যাসটি। " চাঁদের পাহাড়" এতটাই চিত্তাকর্ষক ও অ্যাডভেঞ্চার মূলক উপন্যাস যে, শেষ না করে উঠতেই পারবেন না! বইটা যখন পড়বেন মনে হবে আপনি আফ্রিকায় আছেন, নিজের হৃদপিন্ডের ধুকপুক নিজে শুনতে চাইলে অবশ্যই " চাঁদের পাহাড়" পড়বেন।




