
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
আলহামদুলিল্লাহ, খুবই উপকৃত হলাম।
Was this review helpful to you?
or
প্রতিটি মুসলিমের সন্দেহের অবকাশ নেই যে, আমাদের নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ নবুয়ত প্রাপ্ত মহামানব শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। যার কাছে সরাসরি আল্লাহর তরফ থেকে ওহি নাজিল হয়েছে জিব্রাঈল আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে। তিনিই আমাদের পথ প্রদর্শন, যার ছোঁয়া পেয়ে আরবের জাহিলিয়াত থেকে পেয়েছিল মুক্তি এবং প্রতিটি মানুষের অন্তরে এসেছে শান্তি। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিদর্শনা অনুযায়ী অনুসরণ করেছেন সাহাবায়ে কিরাম। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে পান করেছেন, খেয়েছে, হেটেছিলেন, কথা বলেছিলেন, ইবাদত করেছিলেন সবকিছুই খুব কাছে থেকেই সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু গণ প্রেক্টিক্যালি ভাবে পালন করেছেন। আল্লাহ তায়লা তাদের উপর রাজি খুশি হয়ে দুনিয়াতেই দিয়ে দিলেন জান্নাতের টিকেট এবং সাথে সম্মান সূচক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (রাজিখুশি) যুক্ত করে দিলেন। সাহাবিরা এমন সম্মান সূচক ব্যক্তি ছিলেন যে, আম্বিয়াদের পর দোনিয়াতে সবচেয়ে সম্মানের স্থান তাদের। যাদের ভালোবাসা ইমানের আলামত আর ঘৃণা করা নিফাকের আলামত। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে গালি দেওয়া তো দূরের কথা যদি কেউ সাহাবিদের মন্দ মানে ডাকে তবে তার ইমান হারা হয়ে যেতে পারে কারণ সাহাবিরা রাসূলের বপন করা বীজেরই ফুল, সে ফুলকে মন্দ বলা মানে রসূলকে মন্দ বলা। সাহাবিদের মাধ্যমেই আমরা কোরআনের বানী রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ গুলো জানতে পেয়েছি। যদি সাহাবিগণ সুন্নাহ সমূহ আকরে না ধরতেন মুখস্থ না করে রাখতেন তাহলে এগুলো লিপিবদ্ধ হতো না এবং আমাদের কাছেও কোরআন সুন্নাহ পৌঁছাতো না। ইসলামের জন্য তারা রেখেছেন বিরাট ভূমিকা : তারা ত লো য়া র ধরেছেন ইসলামের বিজয়ের জন্য , কেউ কেউ দিয়েছেন নিজের জীবন, ধন-সম্পদ বিসর্জন, বাকিরা থেকেছেন গাজী। অনেক সাধনার পর ইসলামের বিজয় এনে দিয়েছেন আমাদেরকে, আমরা রেডিমেড ইসলাম পেয়েছি তবুও তা আকারে ধরে রাখতে পারছি না। ইবন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেতেন, তোমরা মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবিদের গালি দিয়ো না। তাদের কারো এক মুহূর্তের সৎকাজ তোমাদের কারো সারা জীবনের সৎকাজের চেয়েও উত্তম। (১) আল্লামা মোল্লা আলী কারী হানাফি ১৬ ‘শারহু ফিকহিল আকবার’ গ্রন্থের ৬৮ পৃষ্ঠায় একই কথা ইবন আব্বাস থেকেও উদ্ধৃত করেছেন। সাঈদ ইবন যাইদ ইবন আমর ইবন নুফাইল বলেন, কোনো সাহাবির রাসূলুল্লাহ-এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তার মুখমণ্ডলে যে ধুলোবালু লেগেছে, তা তোমাদের কোনো ব্যক্তির সারা জীবনের আমলের চেয়ে উত্তম; যদিও সে নূহ -এর মতো দীর্ঘ হায়াত পায়। (২) সাহাবায়ে কিরাম রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এই গুরুদায়িত্ব ও আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। তাঁরা তাঁর সমস্ত আদেশ-নিষেধ, শিক্ষা ও হুকুম-আহকাম দুনিয়ার আনাচে-কানাচে পৌঁছে দেন। পৃথিবীর সর্বত্র তাঁর দীনের দাওয়াতের কেতন উড়িয়ে দেন। সাহাবায়ে কিরাম যেহেতু দীন ইসলামের সেতুবন্ধন, তাই ইসলামের দুশমনেরা বুঝতে পারে, নবি ও তাঁর উম্মাতের মাঝে দূরত্বের প্রাচীর দাঁড় করাতে হলে এবং ইসলামের ব্যাপারে সবাইকে সন্দিহান করতে হলে সর্বপ্রথম সাহাবিদেরকে নিশানা বানাতে হবে। কোনোভাবে মানুষের চোখে তাঁদেরকে কলঙ্কিত ও খারাপ করতে পারলে কেল্লা ফতেহ। এই জঘন্য দুরভিসন্ধি নিয়ে তারা সবার আগে সাহাবিদের বেছে নেয়। তাঁদের বদনাম ও দীনে তাঁদের অসামান্য খিদমতকে কলঙ্কিত করতে সব ধরনের কলাকৌশল ও রাস্তা অবলম্বন করে। তারা খুব ভালোভাবেই জানত, একবার তাদের এই কৌশল সফল হয়ে গেলে, ইসলামের ইস্পাতসম শক্ত উঁচু দেওয়াল এমনি এমনি ভেঙে খানখান হয়ে জমিনে মিশে যাবে। ইসলামের ভিতরে অনেক বিদআতি, রাফেজি আকিদার লোকজনও সাহাবিদের নিয়ে মন্দ বলে থাকেন বিশেষ করে মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু -এর নামে মিথ্যাচার, বিদ্বেষ রটায়, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয় তাদের ব্যাপারে আহমাদ ইবন হাম্বল (রাহী:) বলেন : যদি কাউকে কোনো সাহাবির সমালোচনা করতে দেখো, তবে তার ইসলাম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করো। (৩) একদিন ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল (রাহী:)’কে বলা হয়, এখানে এক ব্যক্তি আছে সে উমার ইবন আবদুল আযীয (রাহী:)’কে মুআবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে উত্তম মনে করে। একথা শুনে ইমাম আহমাদ বলেন, তার সঙ্গে উঠাবসা করো না, তার সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করো না, তার সঙ্গে পান করো না। আর যদি অসুস্থ হয়ে যায় তাকে দেখতে যেয়ো না।(৪) এমনকী তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি মুআবিয়া’র নিন্দা করে তার পিছনে সালাত পড়া উচিত নয়।(৫) [নোট: সফর কালীন অথবা অন্য কোনো মসজিদের অপশন নেই এমন কোনো মসজিদ সামনে পড়লে অবশ্যই জামাতে সালাত আদায় করবে] মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন আমাদের নবিজির আত্নীয় ও ওহি লেখক। ইবন তাইমিয়্যাহ (রাহী:) বলেন তিনি সম্নানিত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ব্যক্তি ছিলেন যাদেরকে দিয়ে নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহি লেখার মতো কাজে বিশস্ত মনে করেছিলেন (৬)। এ থেকে বুঝা যায় মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ইসলামের প্রতি ভূমিকা কম ছিল না, কিন্ত কিছু লোকে তাকে নিয়ে মন্দচারি করেন। আরেক পাশে শিয়া ভ্রান্ত আকিদার মানুষগুলো আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও আয়িশা রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহুর যুদ্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নামে বাজে মন্তব্য করতে ভুলেন না। যুদ্ধ, ভুল-ভ্রান্তি এগুলো ছিল তাদের ইজতেহাদি বিষয়, তাদের উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের বিজয় আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। সাহাবিদেরও ভুল ছিল তবে ভুলের কাছে সাওয়াবের কাজ অনেক বেশি। তাই আমাদের উচিৎ সাহাবিদের ভুল গুলে এরিয়ে চলা। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার সাহাবিদের (ভুলচুক) এড়িয়ে চলো। আমার সাহাবিদের ব্যাপারে মন্দ কথা বলো না। (৭) তিনি আরও বলেন, যে ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ নেকি আর যে ইজতিহাদ করে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে তার জন্য রয়েছে একগুণ নেকি।” (৮) এ থেকে বুঝা যায় সাহাবিদের নিয়ে মন্দ বলার কোনো অবকাশ নাই। ইমাম ঈসমাইল বুখারী বলেন আমি ৪৬ বছর যাব বিভিন্ন দেশে ১ হাজারেরও বেশি শাইখের সাথে সাক্ষাৎ করেছি তাদের আকিদা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন: আমি আমার কোনো শাইখ-কে সাহাবিদের সমালোচনা করতে দেখিনি সুতরাং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা হচ্ছে সাহাবিদের নিয়ে ভালো চিন্তা ভাবনা পোষণ করা। তাদেকে ভালোবাসা। সালাফগনও ভালোবেসেছেন, তাদের জন্য দেয়া করেছেন। সম্পূর্ণ বইয়ের প্রতিটি লাইন গুরুত্বপূর্ণ, কোনো শব্দ আপনি ফেলে দিতে পারবেন না। প্রতিটি কথার সাথে রেফারেন্স নং দেওয়া আছে যাতে সাথে সাথে যাচাই করতে পারেন। বইটি পড়লে ইন-শা-আল্লাহ সাহাবায়ে কেমার দের প্রতি আপনার ধারণা বদলে যাবে, সহিহ ও শুদ্ধ জ্ঞান পাবেন। জানতে পাবেন আমাদের তাদের প্রতি ধারণা কেমন রাখা উচিত। শিয়া, রাফেজি, বিদিয়াতিদের কথা-বার্তা শুনতে শুনতে আমাদের মনে কিছু সাহাবিদের প্রতি ধারণা বদলে গেছে আসলে তা করা মুটেও উচিত নয়। সাহাবিদের প্রতি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতে আকিদাহ এটা নয়, এই সম্পর্কে সম্পর্কে জানতে বইটি পড়া আমাদের জন্য আবশ্যক। বইয়ের লিখনী সাবলীল ভাষায় হয়েছে, পেজের মান আলহামদুলিল্লাহ খুবই ভালো। যদি বইটির কথা বলতে যাই তাহলে আমার রিভিউর মান হালকা হয়েছে। বইয়ের প্রতিটি পাতাই বইয়ের রিভিউ। যখন লেখকের কথা পড়বেন তখনও আপনার কাছে মনে হবে আপনি বইয়ের রিভিউ পড়ছেন। এখানে ইমাম আওওয়াম ইবন হাওশাব (মৃত্যু: ১৪৮) থেকে শুরু করে ইমাম আবু হানিফা, ইসমাইল বুখারীর, চার মাজহাবের ইমাম, নাবাব সিদ্দীক হাসান খান রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু:১৩০৭) পর্যন্ত সকল সালাফদের সাহাবিদের প্রতি কেমন ধারণা পোষণ করতেন তা রেফারেন্সের আলোকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। বইটা পড়ার মধ্যে একটা খারাপ দিক ফেস করেছি তা হচ্ছে একই টপিক নিয়ে বার বার পড়তে পাড়তে শেষ পর্যায়ে এসে বোরিং ফিল করেছি, কারণ সবার মতামত সাহাবিদের নিয়ে ঘুরেফিরে টপিক একটাই। কিন্তু একথা সত্য ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে সকলের মতামত টেনে এনে দেখাতে হয়েছে। সর্বশেষ এটাই বলব সাহাবিদের উপর সহিহ সুদ্ধ আকিদাহ বা বিশ্বাস রাখতে বইটি চোখ বন্ধ করে সংগ্রহ করতে পারেন। ভিলিয়ার্স ভিশনে ধন্যবাদ জানাই এতে সুন্দর একটি বই আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য। 🔸রেফারেন্স: [১] সুনানে ইবনু মাজাহ: ১৬২ ; [২] সুনানে আবু দাউদ: ৪৬৫০; [৩] আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া; [৪] আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলা লি-ইবন রজব আল হাম্বলী, ১/১৩৩; [৫] আল-মানহাজ আল আহমাদ, ১/২৫৫; [৬] মিনহাজুস, সুন্নাহ: ৪/১১, ২/৪৪; [৭] আলবানি, সিলসিলা সহীহাহ, ১৯২৩; [৮] বুখারী: ৭৩৫২; 🔸এক নজরে: ▪️বই: সাহাবিদের আন্ত:কলহ এবং সালাফদের অবস্থান। ▪️লেখক: শাইখ ইরশাদুল হক আসরি। ▪️অনুবাদ: ওমর ফারুক রায়হান। ▪️সম্পাদক: উস্তাজ আব্দুল্লাহ মাহমুদ। ▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৪ ▪️প্রকাশনায়: ভিলিয়ার্স ভিশন পাবলিকেশন। ~ Md Shahariar Date: 07.02.2024 #review_s
Was this review helpful to you?
or
মাস্টারপিস বই!




