
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
লেখক নিয়াজ মেহেদী এর সাথে পরিচয় এই বইয়ের মাধ্যমে। বাস্তব, পরা বাস্তব, সাইন্স ফিকশন, হিস্ট্রি, মিষ্ট্রির মিশেলে এর দারুন একটি বই। ব্যক্তিগতভাবে বইটার প্রায় প্রতিটি গল্পই ভাল লেগেছে। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধার গল্প দুইটি খুবই ভালো লেগেছে। পড়ার সময় অন্যরকম দেশপ্রেমের অনুভূতি কাজ করতে ছিল। এছাড়া বইয়ের টাইটেল গল্প মর্কট মঞ্জিলটা গল্পটিও বেশ ভাল। শুধু আমি না, আরো দুই একজন যাদের বইটি রেকমেন্ড করেছিলাম তাদেরও বইটি ভালো লেগেছে। বইটির ব্যাপারে তারাও পজেটিভ বলেছে।
Was this review helpful to you?
or
আপনার জীবন যদি সামান্যতমও বৈচিত্রময় হয়ে থাকে, তাহলে খেয়াল করবেন- চেনাপরিচিত গণ্ডির মাঝে, হয়তো বন্ধু মহলে কিংবা পরিবার-আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে এমন একজনকে পাবেন; যিনি গল্প বলায় দারুণ পটু। যার মুখ থেকে একবার শোনা যেকোনো গল্প বারবার শুনতে মন চায়। এমন কী যে ঘটনা-গল্পের আবেদন আপনার কাছে শূন্যের সমান, সেটিও গল্পবাজ সেই মানুষটির মুখে অসাধারণ হয়ে ফুটে ওঠে। ফলস্বরূপ আশপাশের মানুষজন হয়ে যান মনোযোগী শ্রোতা। আপনার কথা জানি না, কিন্তু আমি শ্রোতার বদলে ওরকমই একজন মনোযোগী পাঠক হয়ে যাই যখন লেখক নিয়াজ মেহেদী’র গল্প পড়তে বসি। শব্দের উপর অসামান্য দখল থাকা এই মানুষটি ছোটগল্পে যে দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, তা যেকোনো পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করতে বাধ্য। ‘আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল’ বইটির বিপুল জনপ্রিয়তার পর লেখক নিয়াজ মেহেদী তার বইয়ের প্রধান চরিত্র আওলাদ মিয়াকে নিয়ে আবার ফিরে এসেছেন। তবে এবার একেবারেই ভিন্ন আঙ্গিকে; ছোটগল্পে। হিস্ট্রি, হরর, থ্রিলার, সাসপেন্স, মিথ, সায়েন্স ফিকশনসহ একাধিক জনরার স্পর্শে লেখা মোট ১২টি গল্প যেন একেকটা রোলার কোস্টার রাইড। যেটাতে ওঠা মাত্রই গল্পগুলোর লৌকিক, অলৌকিক, অতিলৌকিক জগতে হারিয়ে যাবেন। অসাধারণ লেখনশৈলী, ভাষাশৈলী এবং লেখকের দুর্দান্ত গল্প বলার ক্ষমতা বইয়ের মূল আকর্ষণ। ছোটগল্প লেখার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো- অল্পকথায় পাঠককে আকৃষ্ট করা। এখানে লেখক-পাঠক উভয়েই জানেন, গল্পে বিশদ বর্ণনার অবকাশ নেই। চরিত্রের সাথে পুরোপুরি মিশে যাওয়ার জন্য যতটুকু সময় ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন, সেটাও পাওয়া যাবে না। তাহলে গল্পে কী থাকবে? যা থাকবে তা হলো- নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংক্ষিপ্ত কাহিনি, আবেগ অনুভূতির ঝড়, কতিপয় সমস্যা এবং কখনো-বা তা থেকে নিরসনের চেষ্টা, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, জিঘাংসা, রহস্য, কৌতুহল, জীবন-যাপনের নৈমিত্তিক বিষয়-আশয় ইত্যাদি। বইয়ের প্রতিটি গল্পে এসবের উপস্থিতি ছিল। শুধু ছিল বললে ভুল হবে, শৈল্পিকভাবে তা উপস্থাপিত হয়েছে। কেমন ছিল বইয়ের গল্পগুলো? না, সবিস্তারে লিখব না। ছোট্ট থেকে ছোট্টতর বর্ণনাতেও স্পয়লার হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। সেক্ষেত্রে দুই-তিন বাক্যে অল্প কয়েকটি গল্প সম্পর্কে বলা যাক, যা পাঠকমনে কৌতুহলের সৃষ্টি করবে। আহ্লাদিপাড়ার হোমিও চিকিৎসক আলতাব ও নারায়ণবাড়ির কবিরাজ হরিনারায়ণের মধ্যে পেশাগত জীবন নিয়ে উত্থান-পতন চলছে, লোকেমুখে শোনা যায়- হরিনারায়ণ রাতারাতি এক ঔষধ আবিষ্কার করেছেন যা সর্বরোগের নিরাময় করে। অপরদিকে গভীর রাতের আকাশে গ্রামবাসীরা উড়ন্ত থালা জাতীয় বস্তু দেখে যা কী না নারায়ণবাড়ির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঘটনা কী? জানতে হলে পড়তে হবে ‘অজানা উড়ন্ত বস্তু’ গল্পটি। খোকা বাড়ির চুরির দায়ে এবং গোলজার দারোগার কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে গ্রাম ছাড়তে হয় নামজাদা চোর লিয়াকত’কে। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে পালিয়ে চলে যায় আমনুরা গ্রামে, বন্ধু হরেকেষ্ট’র বাড়িতে। যেখানে সন্ধান মেলে এক অভিশপ্ত আম বাগানের। এরপর কী ঘটে? তা জানা যাবে ‘আমনুরার নাম রহস্য’ গল্পটিতে। হাটের দিনেও কুমরগঞ্জের মতো লোকসমাগমপূর্ণ এলাকা আজ নিস্তব্ধ। গোটা দেশে হাঙ্গামা শুরু হয়েছে; যা আমজাদ চেয়ারম্যানের ভাষায়- মুক্তিযুদ্ধ। আর ফজলু মৌলবির ভাষায়- গণ্ডগোল। অস্থিতিশীল এই সময়ে নাপিত বগা যখন হিন্দু পরিচয়ে পাক বাহিনির হাতে প্রাণ খোয়াতে বসে, তখন তার বোকা বন্ধু আনোয়ার নিজের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে বগাকে বাঁচাতে উদ্ধত হয়। পুরো ঘটনাটি জানতে হলে পড়তে হবে ‘দুই বন্ধু’ গল্পটি। লোকে-মুখে শোনা যায় চলন বিলের জলদেব খ্যাত রহস্য পুরুষ নিপেন হালদার না-কি জাল বড়শি ছাড়াই খালি হাতে মাছ ধরতে পারে, ডুব দিয়ে দীর্ঘ সময় থাকতে পারে পানির নিচেও। প্রথমদিকে তা বিশ্বাস না করলেও পরবর্তীতে ঘটনাটি চাক্ষুষ দেখতে সেকেন্ড অফিসার আতিকুল্লাহকে নিয়ে চলন বিলে যান থানায় নতুন জয়েন করা অফিসার। মুখোমুখি হন অদ্ভুত ঘটনার। কী সেটা? সবিস্তারিত মিলবে ‘জলদেব’ গল্পটিতে। ত্রিমোহনী ঘাটে অদ্ভুত এক ব্যক্তির কথা শোনা যায়, গ্রামবাসীরা তার নাম দিয়েছিল মাকড়া ডাকাত। জনসাধারণের বক্তব্য- বিপদে পড়লে মাকড়া মিয়া মাকড়সার রূপ ধারণ করতে পারে। তখন জল-স্থল-অন্তরীক্ষ কোনোকিছুই তার কাছে বাধা নয়; সংক্ষুব্ধ, গেরস্ত, দলবদ্ধ গ্রামবাসী, অস্ত্রধারী পুলিশ সবার নাগালের বাইরে চলে যায়। এই কিংবদন্তির জন্ম কীভাবে হলো তা কেউ জানে না। কিন্তু যা কিছু রটে, তার কিছু তো ঘটে। সেটারই দেখা মিলবে ‘রূপান্তর’ গল্পে। পলাশবাড়ির এক বৃষ্টি বিঘ্নিত রাতে হোমিও ডাক্তার আলতাব সাহেবের চেম্বারে হাজির হন এক উদভ্রান্ত মানুষ, নাম সানোয়ার সাহেব। এরপর তাদের সঙ্গে আওলাদ মিয়া যোগ দিলে সানোয়ার সাহেব এক বানরের গল্প শোনান। মধুপুরের জঙ্গল থেকে যে হাজির হয়েছে প্রেসিডেন্ট জিয়ার আমলের ঢাকা শহরে। এরপর গল্পের শাখা-প্রশাখা যত বিস্তৃত হয়, বাস্তবতা-পরাবাস্তবতা তত রহস্যময় হয়ে ওঠে। সেই রহস্যের জট খুলতে চাইলে পড়তে হবে বইটির সবচাইতে বড় গল্প ‘মর্কট মঞ্জিল’। এছাড়াও বইয়ের অন্যান্য গল্প ‘বাঘপীর’, ‘ইনস্টাগ্রাম’, ‘জবদুল হোসেনের জগৎ’, ‘নিরুদ্দেশ’, ‘পয়সা’ ও ‘প্রতিধ্বনি’ নিজ নিজ স্বকীয়তায় দারুণ ছিল। গল্পগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ, অলৌকিকতা, আধুনিক যুগের প্রযুক্তি সংক্রান্ত নির্মম ঘটনা, স্বপ্ন সাধনার পেছনে ছুটতে থাকা মানুষ, প্রেম-প্রতারণা, জাদু বাস্তবতা, অশরীরী ও ফ্যান্টাসি সম্পর্কিত বিষয়গুলো দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। সেইসাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উত্তরবঙ্গের ভাষা-সংস্কৃতি, সেখানকার জীবন ব্যবস্থা। ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন স্থান, ভিন্ন সময়কাল বর্ণনায় লেখক যে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন; তা প্রতিটি গল্পের আমেজকে করেছে ভিন্ন ও অসাধারণ। দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ এবং বইয়ের প্রোডাকশন বেশ চমৎকার। ক্রাউন সাইজ হওয়াতে হাতে নিয়ে পড়তে বা কোথাও বহন করতেও সুবিধা। আমি হয়তো জোর দিয়ে বলতে পারবো না প্রতিটি গল্পই আপনার ভালো লাগবে। তবে বইটি পড়া শেষে আপনি ঠিকই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে পারবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষ করে ‘মর্কট মঞ্জিল’ শীর্ষক গল্পটি বহুদিন মনে রাখার মতো একটি গল্প। যারা গল্পগ্রন্থ পছন্দ করেন, তারা সময় করে পড়তে পারেন বইটি। হ্যাপি রিডিং। . বই: মর্কট মঞ্জিল লেখক: নিয়াজ মেহেদী প্রচ্ছদ: পার্থ প্রতিম দাস ধরন: গল্পগ্রন্থ প্রকাশনী: সতীর্থ প্রকাশনী পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৮ মলাট মূল্য: ১৯০ টাকা
Was this review helpful to you?
or
Waste of time
Was this review helpful to you?
or
মোটামুটি ভালো লেগেছে
Was this review helpful to you?
or
হোমিও চিকিৎসক আলতাবের ব্যবসা লাটে উঠেছে হাতুড়ে হরিনারায়ণের দাপটে। কী যেন এক ধনন্তরি দাওয়াইয়ের সন্ধান পেয়েছে সে স্বপ্নে যার বদৌলতে গ্রাম শুদ্ধ লোক চিকিৎসা নিতে ছুটে যাচ্ছে তার ডেরায়। এদিকে রাত্তিরে আকাশে দেখা যাচ্ছে অদ্ভুত এক গামলা। সেটা কি নিছক লোকের দেখার ভুল নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো রহস্য? জানতে হলে পড়তে হবে গ্রাম্য পটভূমিতে লেখা সাইফাই "অজানা উড়ন্ত বস্তু"। সবাই জাতে মাতাল, তালে ঠিক হতে পারে না। হওয়াটা সম্ভবও নয়। এই যেমন লিয়াকত বিল্লাহর কথাই ধরা যাক, মাতাল হলে সে কে, তার পরিচয় কী সেসব ভুলে পরিণত হয় আশ্চর্য এক চিড়িয়ায়। রহস্যময় আমবাগানের সেই অদ্ভুত বাহাত্তরে বুড়োটাই বা কে? এরকম একটা গল্প নিয়েই লেখা "আমনুরার নাম রহস্য"। বাংলাদেশে পীর-ফকিরের দাপট স্মরণাতীত কাল থেকেই। এসব পীর-ফকিরদের মাজারগুলোকে ঘিরে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে রয়েছে হাজারো অবিশ্বাস্য গল্পের ঝুলি। " বাঘ পীর" এর মাজারেরও আছে এমন একটা গল্প যার সাথে জড়িয়ে আছে দেশের ইতিহাস। বিপদের মুখে দাঁড়ালেই আসলে বোঝা যায় কার মুরোদ কতটুকু। বিশাল সাহস দেখানো, সাহস নিয়ে বড় বড় বুলি কপচানো লোকেরা বিপদে পড়ে অনেক সময় ভয়ে সিঁটিয়ে যায়। আবার অনেক ভীতু লোকেরা সময়ে সময়ে চরম সাহসের পরিচয় দিয়ে বসে। কে কখন জার করুণার পাত্র হয়ে যাবে তাও আগে থেকে বলা কঠিন...কতকটা নিয়তির পরিহাসও এটা। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি অন্যরকম বন্ধুত্ব বা বন্ধুতে পরিণত হওয়ার গল্প "দুই বন্ধু"। বহুদিন যোগাযোগ না থাকা এক্স গার্লফ্রেন্ড হঠাৎ মুভি ডেটের আমন্ত্রণ জানিয়ে বসলে কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে একজন ক্যারিয়ারকেন্দ্রিক পুরুষের? সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি ভয়াবহ আসক্তি, অনেকের মাঝে থেকেও কুরে কুরে খাওয়া একাকীত্ব আর ভার্চুয়াল লাইফ কেন্দ্রিক জীবন মানুষকে কী অসুস্থ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে তার উদাহরণ 'ইনস্টাগ্রাম' গল্পটা। এছাড়া মানুষের দায় এড়ানো বা দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলার প্রবণতা মানুষকে কতটা আত্মকেন্দ্রীক আর নির্মম করে তোলে তারও উদাহরণ পাওয়া যায় গল্পে। স্বীয় সৃষ্টির গর্বে গর্বিত শিল্পী জবদুল হোসেন আচমকা জানতে পারে যে তাঁর চেয়েও বড় এক আর্টিস্ট তার বাড়ির কাছেই থাকেন। কিছুটা কৌতূহল আর কিছুটা ঈর্ষানুভূতি বুকে নিয়ে নানা ঝক্কি-ঝামেলা করে সে হাজির হয় সে শিল্পীর দোরগোড়ায়। আশা ভঙ্গ আর বিস্ময়ের মিশ্র অনুভূতি ছেয়ে ফেলে তার মন। " জবদুল হোসেনের জগৎ " আমাকে কিছুটা কুংফু পান্ডা সিরিযের প্রথম মুভির একটা কথা মনে করিয়ে দিয়েছে," There is no secret ingredient. " প্রায় দুই যুগ ধরে পুলিশে থাকা পোড় খাওয়া এক অফিসার মামলার সূত্র ধরে পরিচিত হল এক অদ্ভুত লোকের সাথে জলাশয় সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে যার অদ্ভুত দক্ষতা রয়েছে। তার যুক্তিবাদী মন ব্যাপারটা একইসাথে মেনে নিতে না পারলেও একেবারে উড়িয়েও দিতে পারছেনা। এক সত্য-মিথ্যের দোলাচালে আটকে আছে সে। এই অদ্ভুত চরিত্রকে নিয়েই লেখা, 'জলদেব'। 'নিরুদ্দেশ' গল্পটা একজন আত্ম গর্বে গর্বিত সেনা কর্মকর্তার। শুরুতে রোমান্টিক ঘরানার মনে হলেও পরবর্তীতে লেখা যতোই এগিয়েছে, সেটা যথাক্রমে থৃলার, সাইফাই এবং এসপিওনাজে রুপ নিয়েছে। যৌনতা আর টাকার মাঝে বেশিরভাগ সময়ই টাকা জিতে যায় রেসে। আর জীবন বা ইজ্জতের সাথে টাকার রেসে জীবন। সম্ভবত 'পয়সা' এমনই জিস্ট ধারণ করে বা হয়তো শুধু একটা ঘটনাই এটা। ডাকবাংলো নিয়ে তো ভুতের গল্প তো সেই কবে থেকেই পড়ে আসা। কিন্তু এটা একটু ব্যতিক্রম। ঠিক ভুতের গল্প গল্প নয় 'প্রতিধ্বনি'। এটাকে ভুতুড়ে গল্প বললে হয়তো ঠিকভাবে বোঝা যাবে। অতিপ্রাকৃত জীবরাও তাহলে গুজবে কান না দিয়ে পারে না? এটা গ্রাম্য পটভূমিতে লেখা একটি অতিপ্রাকৃত গল্প যা একই সাথে মজার এবং ভয়ানক। বাই দ্য ওয়ে, গুজব যে সবসময় সুবিধে দেয় না, সময়ে সময়ে ভয়াবহ অসুবিধের কারণ হয়ে দাঁড়ায় 'রুপান্তর' সেটা দেখিয়েছে। ফিরে এলেন আওলাদ মিয়া। সাথে অবশ্যই একজন নয়া গল্পকথক। গল্পটা মধুপুরের এক বান্দরের যে উন্নততর জীবনের আশায় পাড়ি জমায় শহরে যেখানে সে মুখোমুখি হয় অদ্ভুত সব ঘটনার। সংকলনের সব থেকে কড়া গল্প "মর্কট মন্জিল"। লেখকের পূর্বের গল্প সংকলন " বিস্ময়ের রাত" এর মতোই এটাও বেশ জমাটি ছিল।তবে ওটাতে সামাজিক বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পেয়েছে আর এটাতে অতিপ্রাকৃত ঘরানার গল্পই বেশিরভাগ। সমাজে নারীর অবস্থান, নিম্ন আয়ের মানুষদের থট প্রসেস, দুনিয়াকে দেখার ভঙ্গি, উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নাক উঁচু স্বভাব,সামাজিক কুসংস্কার উঠে এসেছে গল্পচ্ছলে। একটা কথা প্রায়ই শোনা যায় যে থৃলার গল্পে জীবনের গভীরতা থাকে না। কথাটার অসাড়তা বোঝা টের পাওয়া যায় গল্পগুলো পড়তে গেলে। একটু "আউট অফ দ্য বক্স" গোছের ব্যক্তিত্বের প্রতি লেখকের টান আগের লেখাগুলোতেও পেয়েছি, এবারও পেলাম। আশা করি গল্পগুলো আপনাদের ভালো লাগবে।
Was this review helpful to you?
or
মধ্যম মানের একটি বই। লেখককে গল্পের মানের দিকে আরো নজর দিতে হবে।




