User login

Sing In with your email

Email Address
Password
Forgot Password?

Not Account Yet? Create Your Free Account

Send

Recipients:
Message:

Share to your friends

Copy link:

    Our Price:

    Regular Price:

    Shipping:Tk. 50

    • Size:
    • Color:
    QTY:

    প্রিয় ,

    সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
    মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?

    Please Login to Continue!

    Our User Product Reviews

    Share your query and ideas with us!

    Customer Reviews

      By Neera Sultana

      17 Dec 2023 11:01 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      #আড্ডাখানায়_রকমারি #রিভিউ_২০২৩ বই: কালো বরফ লেখক: মাহমুদুল হক প্রকাশনী: সাহিত্য প্রকাশ মুদ্রিত মূল্য: ২৫০ শৈশবের স্মৃতিগুলো গ্লাসের ভেতর থাকা হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো রঙিন হয়। ওই যে এতটুকুন থাকব তা ভাবতে ভাবতেই আমরা হুট করে যেন বড় হয়ে যাই। স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভাসে, প্রবল নস্টালজিয়ায় ভুগি, তারপর আবার সে শৈশবে ফিরে যাবার আকুতি জানাই। ‘কালো বরফ’ দেশভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত এমনই স্মৃতিকাতরতার বিষাদময় এক আখ্যান। আবদুল খালেক মফস্বলের কলেজ শিক্ষক। তার জীবন খুব সহজ না আবার জটিলও না। খেয়ে-পরে ছেলে টুকু আর স্ত্রী রেখাকে নিয়ে কোনোরকমে আছে। সংসার জীবনে খানিকটা উদাসীন তিনি, এ নিয়ে স্ত্রীর সাথে তার ঝামেলার অন্ত নেই। মফস্বল জীবনে খাপ খাওয়াতে না পারা, চাকরির অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্যতা, মনোমালিন্যতা এ নিয়েই দিন চলছে। জীবন জীবনের মতো চলুক এই ভেবে চললেও মাঝে মাঝে স্ত্রী-সন্তানের জন্য কিছু করতে পারেনি ভেবে বুকের মাঝে তীব্র হাহাকার জন্মায়, যে হাহাকারের ভার তিনি একাই বয়ে যান। শৈশবে তার একটা ডাকনাম ছিল, পোকা। সুযোগ পেলেই পোকা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে তার রঙিন জগতে। শীতলপাটিতে বসিয়ে পরম যত্নে গল্প শোনানোর মতো পোকা গল্প শোনায় যেখানে সোনারঙা এক শৈশব ছিল, রোদজ্বলা দুপুর ছিল, ছিল তার মণি ভাই, টিপু ভাই, রানিবুবু, তুলিপাখি, পাঁচু, পুঁটি, ছবিদি, গিরিবালা, মধু, আরও ছিল তাদের সাথে কাটানো শত-শত মুহূর্ত। পোকার রঙিন জীবন রঙিন থাকে না, বাস্তবতা তাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যেখানে কোনো রং নেই কেবল ফ্যাকাশে। আবদুল খালেক আর পোকা এ দু সত্তার মাঝে এক নীরব দ্বন্দ্ব চলতে থাকে যা খালি চোখে দেখা যায় না। স্মৃতির এ জাল চিড়ে তিনি বেরুতে পারেন না কিছুতেই। ডায়েরিতে শৈশবগাঁথা লিখতে লিখতে চোখের কোণে জল জমে। বাস্তবতা আর স্মৃতির প্রহরগুলো মিলেমিশে কাটে ছেঁড়া সুতার মতো, যে সুতো কিছুতেই জোড়া লাগানো যায় না। দেশভাগ দু ধর্মের মানুষদের আলাদা করলেও কখনো বুঝতে চায়নি ছোট্ট পোকার ভেতরের কথা, বিষাদের ঘ্রাণ নিয়েই তারা লেপ্টে থাকে অক্ষরের মাঝে। বইয়ে থাকা কয়েক লাইনের মতোই— “এইভাবে সবকিছু একদিন গল্প হয়ে যায়। জামার পকেটে একটা ফিতে, ফিতেয় চুলের গন্ধ, যে গন্ধে অনেক দুঃখ, যে দুঃখে অনেক ভালোবাসা, যে ভালোবাসায় অনেক ছেলেবেলা।” মাহমুদুল হকের লেখা পড়ার সময় একটা কথাই মাথায় আসে এত সুন্দর কেন! একেকটা শব্দ জুড়ে যেন নিখাদ মায়া লেপ্টে আছে। আর উপমাগুলো যেন সাদা কালো অক্ষরে জড়িয়ে থাকা গয়না। কী ভীষণ জীবন্ত! কী ভীষণ মায়াময়! প্রতিটা চরিত্র যেন পরম যত্নে গড়া এক একটি মাটির পুতুল, যেখানে বেশিও নেই কমও নেই একদম পরিমিত। লেখক গল্পের মাঝে তুলে ধরেছেন আশেপাশের হাজারো সাধারণ অথচ কত গভীর গল্প। পোকার জগত যেখানে সবকিছুতে পূর্ণ সেখানে আবদুল খালেকের জগত নিতান্তই রিক্ততায় ভরপুর। ‘কালো বরফে’ কোনো নাটকীয়তা নেই কিন্তু আছে তীব্র বিষাদ, যে বিষাদ বুকের মাঝে মোচড় দিয়ে ওঠে। আছে তীব্র সীমাবদ্ধতা, যে সীমাবদ্ধতার কবলে পড়লে চাইলেই এক পাতে খাওয়া, এক বিছানায় শোয়া, একই সাথে দস্যিপনা করা মানুষরা গল্প জুড়তে পারে না। তাছাড়া কেবল শৈশবের স্মৃতিচারণই আসেনি খুব সূক্ষ্ণভাবে এসেছে দু'জনের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। দু'জন দু'জনকে প্রচণ্ড ভালোবাসলেও কখনো কেউই জানতে চাননি দু'জনের জমাটবাঁধা গল্প। সাংসারিক জটিলতা, দারিদ্র্যতা, অতীত-বর্তমানের মেলবন্ধনও এসেছে সুনিপুণভাবে। কেবল অক্ষরের মাঝেই না, ‘কালো বরফ’ সাহিত্যণ্ডারেও রেখে গিয়েছে নিজস্বতার ছাপ। সবমিলিয়ে রেকমেন্ড করার মতোই। শৈশবের নস্টালজিয়ায় ভুগতে চাইলে আবদুল খালেকের মতো আপনাকেও আমন্ত্রণ পোকার জগতে। যান্ত্রিকতার জগতে বইয়ের কিছু লাইনে একাত্ম হয়ে মিশে যাবেন ফেলে আসা দিনগুলোতে এতটুকুই কেবল বলতে পারি।

      By Habibur Rahman Munna

      25 Sep 2023 02:21 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      একদম পিঠাপিঠিভাবে মাহমুদুল হক দুটো বিখ্যাত উপন্যাস “জীবন আমার বোন” ও “কালো বরফ” শেষ করলাম। দুটোই খুবই ছোট সাইজের উপন্যাস। সাইজের দিক থেকে নয়, এর গুণমান বিবেচনায় উপন্যাস দুটি অত্যন্ত পাঠকপ্রিয়। দুটো উপন্যাসই ইতিহাসকে বন্দি করে; কিংবা বলতে পারি ইতিহাসকে সাক্ষি রেখে লেখা। ইতিহাসকে পুঁজি করে যে কোনো লেখা এতদিন পাঠক সমাদৃত হয়ে আসছে। বিখ্যাত যত উপন্যাস বাঙলা সাহিত্যে নিবেদিত তার অধিকাংশই ইতিহাসকেন্দ্রিক। মাহমুদুল হকের এই দুটো উপন্যাসের মধ্যে “কালো বরফ”ই সবচেয়ে বেশি পাঠকের ভালোবাসা পেয়েছে। যদিও কালো বরফের চেয়ে “জীবন আমার বোন” উপন্যাসটির মাঝে ইতিহাসের বর্ণনা অতীবগুরুত্ব পেয়েছে। কালো বরফ রচিত হয়েছে দেশ ভাগের সময়কে ধারণ করে, দ্বিজাতি তত্বের বিভীষিকাময় অনুভূতিকে চারণ করে, চরিত্রগুলোকে দোদুল্যমানতায় পর্যবসিত করে। অন্যদিকে জীবন আমার বোন রচিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে। মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব প্রস্তুতি হতে গণহত্যার শুরুর সময়টা বিবর্ধিত হয়েছে এই উপন্যাসে। লেখক জীবন আমার বোন উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ করেন সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালে একটি সাময়িকীর ঈদ সংখ্যায়, পরবর্তীতে তা ১৯৭৬ সালে পুস্তাকারে প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে কালো বরফ প্রকাশ পেয়েছে ১৯৭৭ সালে। অর্থাৎ জীবন আমার বোন উপন্যাসটি লেখক সমসময়কে সদ্য পর্যবেক্ষণ করেই লিখে ফেলেছিলেন। কিন্তু কালো বরফ লিখেছিলেন দেশ ভাগের দীর্ঘ সময় বাদে। ততদিনে ঘটনাটি শুধু অতীত নয়, বাঙলার ইতিহাসের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইনসিডেন্স বলা যায়, যা প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ে যুক্ত করেছে। দুটো সময়ে রচিত বর্তমান ও অতীতের সময়ে রচিত হওয়ায় গ্রন্থগুলোর মাঝে সিরিয়াস পাঠক আবশ্যিকভাবে কিছু পার্থক্য দেখতে পাবেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার এই পার্থক্যভিত্তিক দৃষ্টিকোণ “কালো বরফের” চেয়ে “জীবন আমার বোন” উপন্যাসকেই সবচেয়ে সফল বলে বিবেচনা করে। অতীতে গিয়ে স্মৃতিকে বিশ্বাস করে লেখার কারণে পার্থক্যের যুক্তিটা আমার যথেষ্ট নড়বড়ে কারণ আমরা জানি হাসান আজিজুল হক “আগুন পাখি”তে তা স্বচ্ছ কাচের মতো পাঠককে দেখিয়ে দিয়েছেন, কতটা সফলভাবে ইতিহাস কেন্দ্রিক একটি উপন্যাস স্মৃতিতে আঁকা চিত্রে নির্ভর করে গঠন করা যায়! যাক এতো তুলনার পর উপন্যাসের গল্পভিত্তিক অনেককিছুই উহ্য রয়ে গেল। এর বিশদ বিবরণ একটি নিবন্ধ ডিজার্ভ করে, আমি এই ডিজার্ভিং কাজটি শীঘ্রই করব। তবে যা না বললেই নয়, তার মাঝে “জীবন আমার বোন” উপন্যাসে খোকা চরিত্রের উদাসীন জীবন আর একমাত্র বেঁচে থাকা বোনকে নিয়ে চক্রাকারে ঘুরতে থাকা দিন। আর “কালো বরফে” এক বিপ্লব প্রত্যাশী লেখক বিবেচিত চাকুরিজীবী আবদুল খালেক ও তাকে আবৃত করে রাখা সংসার, দেশ, রাজনীতি, পরিস্থিতি ও আপেক্ষিক বিপর্যয়ের মুক্তি। সকল অনুভূতির কেন্দ্রে পুঞ্জীভূত অতীত যে বর্তমানকে বিভ্রান্ত করে রাখে তার প্রতিবিম্ব কালো বরফ। মাহমুদুল হকের ব্যবহৃত সকল ভাষ্য, বাক্য-বর্ণ-ব্যকরণ যেভাবে উপন্যাসগুলো গড়েছে তার পৌনঃপুনিকতা গঠন-বর্ণন-পরিমাপে বেশ আঁটসাঁট হয়ে আসার মতো। তার উপস্থাপন ও গল্প গঠনের শিল্প যে প্রবল বেগে পাঠকের হৃদয় কেড়ে উজানে ভাসিয়ে নিয়ে যায়! শুরু থেকে সমাপ্তিতেও বিছিয়ে রাখে কৌতুহলের সূক্ষ্ম জাল। বহুমুখী ভাষার ব্যবহার ও নিজস্ব লেখনরীতি তাকে এত সকল বাঙালি সাহিত্যিকের মাঝে একটি অত্যুদীপ্ত তারকার ন্যায় ধ্রুব করে রেখেছে, মর্যাদায় স্থান দিয়েছে, সবচেয়ে বড় যে অর্জন একজন লেখক আহ্বান করে- অসংখ্য পাঠক পেয়েছে। -হাবিবুর রহমান

      By Minhaj Mehtaj.

      05 Sep 2022 07:35 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      খুব সুন্দর উপন্যাস

      By Soptorshi Official

      04 Sep 2021 08:20 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      #সপ্তর্ষি_রকমারি_বুকরিভিউ_প্রতিযোগ ইমেইলঃ [email protected] জেলাঃ নারায়ণগঞ্জ বইয়ের নামঃ কালো বরফ বইয়ের ধরণঃ মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস লেখকের নামঃ মাহমুদুল হক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানঃ সাহিত্য প্রকাশ প্রকাশের সনঃ ১৯৭৭ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৩০ কালো বরফ ~ জীবনকে উপলব্ধি করার অপ্রতিম অনুষঙ্গ। বই রিভিউঃ বইয়ের পাতার কি আবার স্বাদ থাকে? কিংবা বরফের রঙ আবার কালো হয় কিভাবে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কৌতুহলী এই আমি মিশে গিয়েছিলাম "কালো বরফ" বইয়ের আলুনি স্বাদের শব্দচিত্রে, অথচ এক বুক রিক্ততা নিয়ে শেষ করতে হলো বইটি। তবে অনুভূতির এই বিন্যাসকে ঠিক শূন্যতা বলা চলে না। অদ্ভুত সব চরিত্র আর ঘটনার অভিসার বইয়ের পরতে পরতে। টসটসে হিউমারের সাথে আছে সূক্ষ্ম জীবনবোধ। বইটির সংসর্গে এসে আমার হৃদয় আকাশে ঘুরপাক খাচ্ছিল দেশভাগ, মনিদা, মা, টিপুভাই, ছবিদি, তুলি পাখি, মাধুরী, গিরিবালা, পোকা, আবদুল খালেক, রেখা; নির্বাপিত অন্য সবার গল্পও। হারিয়ে গিয়েছিলাম মাহমুদুল হকের ঘোরলাগা শব্দচিত্রের মিহি সৌকর্যে। বইটি শুরু করতেই মনে হচ্ছিল এ যেন মায়ের হাতে পিঠা খাচ্ছি। কি সুন্দর শব্দ বিন্যাস, সুললিত ভাষার সৌন্দর্য, হৃদয়কে চিরে দেখানোর উপযোগী শব্দচিত্র, ধ্বনির ইন্দ্রজাল সৃষ্টিতে নিপুণতা, প্রচন্ড সংক্রমণ শক্তিসম্পন্ন প্রকাশভঙ্গি! মনে মনে ভাবতে লাগি বাংলা সাহিত্যে এরকম উপন্যাসও বুঝি হয়! যতই এগিয়ে চললাম বইয়ের পাতায়, মুখের হাসিটা ক্রমশ সঙ্কুচিত হতে লাগলো, ধীরে ধীরে অনুভব করতে লাগলাম এ যেন বিষাদের মাইসেলিয়াম জালক। গল্পটা বোধহয় সুখের নয়। তবে কি অপ্রাপ্তির? সহজভাবে বলতে গেলে এই উপন্যাস অসামান্য জীবনবোধের, শিল্প সত্ত্বার জাগরণের, প্রেম ও বিরহের এবং নিজেকে নতুন করে খুঁজে নেওয়ার। তৎকালীন বিনোদন পত্রিকা বোধহয় সেজন্যেই লিখেছিল," শুরু থেকে শেষ অব্দি মাহমুদুল হক তাঁর উপন্যাসকে যেভাবে বুনেছেন, সেই ভাব ও আঙ্গিক খুবই আকর্ষণীয় এবং এর পরিণতিও বেশ পরিণত। তাঁর ভাষায় এমন একটা তরতাজা সৌন্দর্য আছে যা মনকে তৃপ্তি দেয়। " বাংলা সাহিত্য জগতে মাহমুদুল হকের "কালো বরফ" একটি কালজয়ী উপন্যাস। মাহমুদুল হকের লেখার মান উন্নয়নে প্রথম দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন কবি শহীদ কাদরী। লিপিকুশল বন্ধুবান্ধব ও বাসার সবার কাছে 'বটু’ নামে পরিচিত মাহমুদুল হক শুধু চরিত্রের রূপায়ণই নয়, যে শব্দচিত্র দিয়ে গড়ে তোলা হয় উপন্যাসের সুবিশাল ক্যানভাস, সেই শব্দ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মুক্তাদানা বেছে নেওয়ার দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। মুক্তাদানার মতো সব জ্বলজ্বলে শব্দে গেঁথেছেন গদ্যের অপূর্ব মালা। এই বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়। বইটির রচনাকাল ১৯৭৭ সালের (২১-৩০) আগস্ট। প্রথম প্রকাশিত হয়েছে সাপ্তাহিক পূর্বাণীর ঈদসংখ্যায় এবং ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে 'Black Ice' শিরোনামেও। উপন্যাসের প্রথম বাক্যটিতেই লুকিয়ে আছে শৈশবের এক চিরায়ত অভ্যেসের চপলতা - " তখন আমার অভ্যেস ছিল বুড়ো আঙুল চোষা। " খোঁড়া গাংশালিক তুলিপাখির জন্য সারাটা দুপুর সবকিছু জড়ো করে যেভাবে বসে থাকতো পোকা, ঠিক সেভাবেই অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে এক বসায় শেষ করেছি বইটি। কি অদ্ভুতই না ছিল আমাদের শৈশব! উপন্যাসের শুরুটা হয়েছে শৈশবের নিরাসক্ত স্মৃতিচারণা দিয়ে। পাচুর দেয়া কাঁচের চুড়ি নিয়ে প্রায়ই বিষম খেয়ে থাকতো পোকা। কারণটা ছিল আরও বেশি অদ্ভুত! হাবাগোবা ছেলেটি অনেকক্ষণ ধরে বসে দেখতো পুঁটির থালা বাসন মাজা, ধেঁড়ে মাছের সরের চাঁছি খাওয়ার আকুতি, আকন্দ ও শিমুলগাছের সাথে কথোপকথন। আহা, সে কি অনুভূতি! পুঁটির চিন্তা ভাবনা ছিল একটু অন্যরকম।হেড়েমাথার পোকাও ছিল বেঢপ ধরনের। মাথায় ঢু মারলেই শিং উঠার ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে কান্নাকাটি জুড়ে দিতো সবসময়। চোখ ফুটে কান্না করার ভয়ে পুটির থেকে মন্ত্রও শিখেছিল ছেলেটা। বিনিময়ে পুঁটিকে দিয়েছিল ঔষধ মাড়ার খল। পুঁটি যখন মনের খেয়ালে পিচ্চি পোকাকে আজগুবি সব কথা বলছিল তখন বেশ মজা পাচ্ছিলাম। বুড়ো ঝাউগাছে সাহেবদের শকুন শিকার, সৈন্যদের সাথে ইংরেজি বলা, পানুর গান আর ইংরেজি- জিনজার মানে আদা, মিনজার মানে মাদা, গিনজার মানে গাঁজা। সত্যিই একবারে ডুবে গিয়েছিলাম উপন্যাসের সুমিষ্ট দিঘির জলে। কেনারাম বাবু সেই ছেলেটির ডাকনাম রেখেছেন পোকা। এদিকে টিপু ভাইজান এবং মনি ভাইজান যোগসাজশ করে প্রায়ই ঠকাতো মাকে। রানিবুবু বুঝতে পেরে যখন সবকিছু ফাঁস করে দিত মায়ের কাছে, তখন বেঁধে যেত তুমুল ঝগড়া। উড়ে নটবরের পানি পাম্পের কাজ, কলুদের মেয়েদের সাথে গিরিবালার ঝগড়া করে ঠ্যাং ছড়িয়ে কপালে করাঘাত করা, ঝগড়া লাগলে টিপু ভাইজানের দুদু ডাক নাম ছড়িয়ে দেয়া, কুন্তি ও টোটা বিড়াল, মনি ভাইজানের পানুকে ভয় দেখিয়ে প্যান্ট খোলার মতো কান্ড; কি আনন্দেই না কেটেছে ছেলেটার শৈশব। পোকা লুকিয়ে রাখতো কাচের চুড়ির শেকল, বসে থাকতো তুলি পাখি আসবে বলে। মনিদাদা খেপাতো ছবিদিকে। গিরিবালা তার অকেজো চোখ নিয়ে বসে থাকতো বাড়িতে। টিপুভাই কলকাতার কলেজে পড়তে যেতো। মা ধরে রাখতো সমস্ত সংসার। আর আবদুল খালেক? অদ্ভূত বিষণ্ণতায় তাকিয়ে থাকতো মাঠের দিকে, কী যেন একটা খুঁজতো, অথচ খুঁজে পেতো না কখনোই। মনে পড়ে গেলো উপন্যাসের একটা লাইনঃ “ সকলের ভেতরেই বোধহয় এইরকম আরো একটা আলাদা সংসার পাতা থাকে, সেখানে সে তার খেলার পুতুলের জন্য নিজের যথাসর্বস্ব দ্যায়, এক টুকরো ভাঙা কাচের জন্য বুক ভরে কাঁদে, নিছক কাগজের নৌকা ডুবে গেলে একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে যায়।” জীবনটা হয়তো এরকমই। সত্যিই কি এমন? " মনি ভাইজান বললে, তোমার যা খুশি, যা দিতে পারো, হাতে সময় নেই, দেরি হয়ে যাচ্ছে, দাও। ফস করে মাথা থেকে ফিতে খুলে দিল ছবিদি। বললে, এটা নেবে? মনি ভাইজান ভিক্ষা নেওয়ার মতো দুহাত পেতে বললে, তোমার মাথার কাটা, ক্লিপ, যা পারো, সব দাও। ছবিদি দিলো। দিয়ে হু-হু করে কেঁদে উঠলো। বললে, মনিদা, আমি মরে যাবো, আমি মরে যাবো। " একদিন ছবিদি কাঁদে, মনিদা চিরদিনের মত হারিয়ে যায়। সময়ের আবর্তনে পোকা হয়ে যায় নিরীহ অধ্যাপক আবদুল খালেক, আর সবাই লীন হয়ে যায় রেখাটুকুতে। একদিন সিফাত হয়ে যায় জোনায়েদ করিম, সেই চুইংগাম, পেঁপে রেস্তোরাঁয় বন্ধুদের জন্মদিনে তোলা সেলফিতে বিলীন হয়ে। এইভাবে মাহমুদুল হক শব্দচিত্রের যে জাঁকালো পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন, আমার সাধ্য কী সেই কুহকের জালক ভেদ করা? আমিও মন্ত্রমুগ্ধের মত পড়ে যেতে থাকি। তবে অচিরেই এক লহমায় মাটিতে নামিয়ে আনেন লেখক। আবদুল খালেককে সাক্ষী রেখে দাঁড় করিয়ে দেন বাস্তবতার পরুষ জমিনে। বৈষয়িকতার সাথে ক্রমাগত যুঝতে থাকা খালেককে আশেপাশের মানুষগুলোর সাথে মেলাতে গিয়ে শৈশবে ফিরে যেতে খাবি খেতে হয় আমাকে। এদিকে তরতর করে এগোতে থাকে গল্প আর আবদুল খালেক ওরফে পোকার দ্বৈত বয়ান দ্বন্দ্বে ফেলে দেয় আমাকে। দুজনকে মেলাতে পারি তখন, যখন গিরিবালা ঝুপ করে নেমে আসে আবদুল খালেকের ভাষ্যেঃ " বাইরে আকাশ বলে একটা কিছু আছে, তা জান তো! সেখানে একটা চাঁদ আছে, গোল চাঁদ। ঐ চাঁদের ভেতর হাঁটুমুড়ে কতোকাল বসে আছে। চরকায় সুতো কাটছে বসে বসে। " পোকা ও আবদুল খালেকের এই আজব যুগলবন্দি চলতে থাকে উপন্যাস জুড়ে। বাবা, মা, মনি ভাইজান, টিপু ভাইজান, রানিবুবু, পুঁটি, কেনারাম কাকা, ছবিদিরা পোকাকে অহর্নিশ সুখস্বপ্ন দেখিয়ে যায়, তার ছোট্ট জগতে তারা একেকজন অধীশ্বর হয়ে ওঠে, নিজেদের অজান্তেই। কিন্তু দেশভাগের টানাপোড়েনে সে বিচলিত হয়, তার ভেতরটা পুড়ে খাক হতে থাকে। কিন্তু আর দশটা মানুষের মত সবদিক সামলে চলার ব্যাপারে সে অপটুই থেকে যায়। রেখা ও আবদুল খালেকের ছোটখাট মান- অভিমানের ভেতর দিয়ে আবদুল খালেকের কল্পনাবিলাসী মন পাঠকের কাছে আরও গভীরভাবে ধরা দিতে থাকে এইভাবে- " রেখা আর টুকু, এই দুজনের জন্যে তার ভাবনা। নিজেকে সে বাদ দেয়; নিজেকে নিয়ে তার কোন সমস্যা নেই, কোনো না কোনোভাবে তার চলে যাবে।" উপন্যাসের দ্বিতীয় অংশের শুরুটা হয় হঠাৎই "আলো ছায়ায় যুগলবন্দি" শিরোনামে। রেখা ও খালেকের টানাপোড়েন অনেকটা থিতিয়ে পড়ে এখানে, তারা সহসা আবিষ্কার করে, তাদের সম্পর্কের গাঁথুনি পলকা নয় মোটেই। কিন্তু চমকে উঠতে হয়, যখন হঠাৎ পাঠক আবিষ্কার করে, দেশভাগের সময় পোকার ঘরছাড়ার সেই স্মৃতি আবদুল খালেককে আজ পর্যন্ত বিবশ হয়ে তাড়া করে, আর কোন এক আলটপকা আচম্বিত মুহুর্তে ছাইচাপা আগুনের মত বেমক্কা জ্বলে ওঠে। পাঠক ধাক্কা খায়, যখন মনিভাইজান ছবিদির কাছ থেকে বিদায় নেয়। সেই যে সুর কেটে যায়, তাতে আবদুল খালেকের সারাটা জীবন বেসুরো হয়ে পড়ে। সম্পর্কের অতি পরিচিত কিন্তু অচেনা দিকগুলো যখন ব্যাপিত হওয়ার পরিবর্তে শীতল হয়ে জমতে শুরু করে তখন এর রঙ হালকা না হয়ে গাঢ় হয়ে যায়; বরফ সাদা না হয়ে কালো বরফ হয়ে নির্বাপিত হয়ে যায় গল্পের মতো করে। এভাবেই উপন্যাসের প্রতিটি শব্দ আমাকে স্পর্শ দিয়েছে কালো বরফের। কালো বরফ মন্থনকালে কত কথাই যে মনে আসে! এমন ভয়ঙ্কর সুন্দরভাবে কেউ কি লিখতে পারবে আরঃ ১) " হু হু বাতাসের গায়ে নকশা-তোলা ফুলের মতো অবিরল আকুলতা,পোকার বুকের ভেতরের ফাঁকা দালানকোঠা গুম গুম করে বাজে, পোকা তুই মর, পোকা তুই মর! " ২) " স্বর্গে বাস করেই মানুষ স্বর্গের জন্য কাঁদে, নরকে বাস করে অস্থির থাকে নরকের ভয়ে। " ৩) " কায়দা জানলে মার খাওয়া আর এক গেলাস দুধ খাওয়া সমান কথা। " ৪) ‘' এইভাবে সবকিছু একদিন গল্প হয়ে যায়। জামার পকেটে একটা ফিতে, ফিতেয় চুলের গন্ধ, যে গন্ধে অনেক দুঃখ, যে দুঃখে অনেক ভালােবাসা, যে ভালােবাসায় অনেক ছেলেবেলা.." ৫) " বাইরে আকাশ বলে একটা কিছু আছে, তা জান তো ! সেখানে একটা চাঁদ আছে, গোল চাঁদ। ঐ চাঁদের ভেতর হাঁটুমুড়ে কতোকাল বসে আছে। চরকায় সুতো কাটছে বসে বসে। " ৬) " হু হু বাতাসের গায়ে নকশা-তোলা ফুলের মতো অবিরল আকুলতা,পোকার বুকের ভেতরের ফাঁকা দালানকোঠা গুম গুম করে বাজে, পোকা তুই মর, পোকা তুই মর! " ৭) “ আসলে জীবন মানেই শৈশব; জীবনভর মানুষ এই একটা ঐশ্বর্যই ভাঙ্গিয়ে খায়, আর কোনো পুঁজিপাট্টা নেই তার। ” সুবিখ্যাত ঔপন্যাসিক Harper Lee তার 'To Kill a Mockingbird' গ্রন্থে লিখেছিলেন, " You never really understand a person until you consider things from his point of view. " ১৯৪৭ সালে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা, বিদ্বেষ, ক্ষোভ, দেশভাগ, প্রেম, বিরহের সাথে কাহিনী, আখ্যান, সংলাপ ও মূল চরিত্রের বিষণ্ণ দর্শন , ছেলেবেলার স্মৃতিকথন আর চরিত্রদের মধ্যে সমসাময়িক আলাপচারিতার মাধ্যমে চরিত্রের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে সবকিছুর উপস্থাপনে মাহমুদুল হক সত্যিই মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। "কালো বরফ" উপন্যাস তাই অনুভূতির একটি জীবন্ত দীর্ঘশ্বাস; বাংলা সাহিত্যের অনবদ্য এক শিল্প, যা একবার নয় বহুবার পড়া যায়, এবং প্রতিবারেই খুঁজে পাওয়া যায় নিত্যনতুন আনন্দ উপভোগ করার অনুষঙ্গ। লেখকের প্রিয় নিজামউদ্দিন ইউসুফকে উৎসর্গ করা ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যে তার অনন্যতা, নিজস্বতার জন্য পাঠক নন্দিত হবে চিরকাল। বিখ্যাত মনীষী বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছেন, “একটি বই পড়ার দুটি উদ্দেশ্য থাকা উচিত; একটি হল- বইটিকে উপভোগ করা; অন্যটি হল- বইটি নিয়ে গর্ব করতে পারা।” কালো বরফ বইটির সংসর্গে এসে একথা আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে বই পড়ার এই দুটো উদ্দেশ্যই সফল হয়েছে আমার। সবশেষে বলতে চাই এ জন্যে, তরুণ-তরুণীদের জন্যে; ছেলে বুড়ো সকল বয়সী পাঠকের জন্যে। এই বই আনন্দের জন্যে, এই বই আলোকপ্রাপ্তির জন্যে। পাতা উল্টোতে উল্টোতে কখন যে পাঠকদের চোখ আঁটকে যাবে ১৩০ পৃষ্ঠার আলুনি স্বাদের শব্দচিত্রে, পাঠক টেরই পাবে না। ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ১০/১০ জয়তু পাঠক। পৃথিবী বইয়ের হোক। দুনিয়ার পাঠক এক হও। ছবি- সংগৃহীত ~ সমাপ্ত ~ ©Fahad Hossain Fahim

      By Mahmudul karim jisan

      13 Apr 2020 04:05 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      চমৎকার 😍

      By Amit Das

      09 Mar 2020 02:24 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      #পাঠ_প্রতিক্রিয়া কালো বরফ- মাহমুদুল হক 'এইভাবে সবকিছু একদিন গল্প হয়ে যায়। জামার পকেটে একটা ফিতে, ফিতেয় চুলের গন্ধ, যে গন্ধে অনেক দুঃখ, যে দুঃখে অনেক ভালোবাসা, যে ভালোবাসায় অনেক ছেলেবেলা..' মাহমুদুল হক এর 'কালো বরফ' এর রচনাকাল ১৯৭৭ সালে! ভাবতে অবাক লাগে এটা ভেবে যে, ঐসময়ের জন্য রচনাটা কতটা আধুনিক ছিল! লেখক একটা জীবনেরই দুটি সময়ের কথা বলে গেছেন পাশাপাশি। উত্তম পুরুষে রচিত হয়েছে শৈশবের অংশ, ছেলেবেলার দিনগুলো, দেশভাগের সময়ে বাচ্চামনের চাপা কষ্ট। বড় হয়ে যাওয়ার অংশটুকু লেখক লিখেছেন নিজের বয়ানেই। বইটি হাতে নিলে অতিসাধারণ মানের একটি বই-ই মনে হবে। এখনকার সময়ের বইগুলোর মতো ব্যাক কভারে ছবিসহ লেখক পরিচিতি নেই, প্রচ্ছদও তেমন একটা টানে না। আসলে বই পড়া শুরু করেছি খুব যে বেশিদিন হয়েছে তা নয়, পাঠপ্রতিক্রিয়া কিভাবে জানাতে হয় তা জানা নেই, সাহিত্য সম্পর্কে কতটুকু বুঝি তাও জানিনা, তবে 'কালো বরফ' পড়ার পর এটাই মনে হয়েছে বইটির বাহ্যিক সৌন্দর্যের ঘাটতিকে পুষিয়ে দিয়েছে ভেতরের লেখাগুলো। মাহমুদুল হককে নিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'বাংলা গদ্যে প্রভুত্ব করার ক্ষমতা এর আছে'। 'কালো বরফ' সেটারই প্রামাণ্যচিত্র! 🖤

      By Uchsash Tousif

      09 Dec 2019 01:36 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      প্রচ্ছদ দেখে অনেকেই নিশ্চয়ই পিছিয়ে যান। লেখকও তো অতটা জনপ্রিয় নন। অথচ মাহমুদুল হকের মতো করে জীবনের বিপন্নতাকে এত মমতায় খুব বেশি মানুষ ফুটিয়ে তুলতে পারেননি। কালো বরফ ভাবায়, জীবনের ভিন্ন রঙের দিকে তাকাতে বাধ্য করে। চুপচাপ কত সময় এই বই নিয়ে ভেবেছি, সেটা ভেবে নিজেরই অবাক লাগে। তারপর, আবারো ভাবনায় ভর করে বিপন্নতা। কালো বরফ।

      By Sultan

      06 Nov 2019 07:46 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      ধর্ম, বর্ণ, জাত উপেক্ষা করে মানুষের অতি সাধারণ একটি পরিচয়— সে সামাজিক জীব। সমাজে বসবাস করতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ, বর্ণের মানুষ, বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে আলিঙ্গন করতে হয়। তৈরি হয় একটা অদৃশ্য মায়া। যে মায়ার বাঁধন ছিন্ন করা অত সহজ না। সময়ের সাথে সেই অদৃশ্য মায়ার তীব্রতা হ্রাস পেলেও ক্ষণে ক্ষণে সুপ্ত অনুভূতিকে জাগ্রত করে দিয়ে যায়। আবার সে কাতর হয়, ব্যথিত হয়, রাতের নৈশব্দে চোখের জলে চিবুক ভেজায়। টুকরো টুকরো স্মৃতিরা মায়া নামক মরীচিকার পিছনে ছুটিয়ে নিয়ে চলে জীবনভর। . 'কালো বরফ' বইয়ে আব্দুল খালেক নামের এক কলেজ শিক্ষককে শৈশবের স্মৃতিরা দুমড়ে মুষড়ে দিয়ে যায়। দেশ ভাগের আগে শৈশবের মধুর স্মৃতিরা তার বুকে চিনচিনে ব্যাথার সৃষ্টি করে। কেনারাম কাকা, ছবিদি, মনি ভাই, তুলি পাখির জন্য মন সবসময় কেঁদে যায়। অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে সে। কলেজ শিক্ষক আব্দুল খালেকের স্ত্রী রেখা স্বামীর এই অন্যমনস্কতার কারণ খোঁজার চেষ্টা করে। আব্দুল খালেকের হৃদয়ের যাতনা নিভিয়ে দিয়ে নতুন জীবন দিতে চাই রেখা। রেখার এই প্রচেষ্টা সাময়িক সময়ের জন্য কাজে লাগলেও স্মৃতিকাতর আব্দুল খালেক পরক্ষণেই স্মৃতির অতল গহ্বরে আবারও হারিয়ে যায়। . → "এক এক সময় এইরকম থাকে। মনে হয় কাউকে ছাড়া কারো চলবে না, সব সম্পর্কই দামী, সবকিছু রক্ষে করে চলতে হবে। শেষ পর্যন্ত দেখা যায় যে যার সংসারের ভিতর নাক অব্দি ডুবে গেছে, চোখ ফিরিয়ে তাকাবারও উপায় নেই তার।" → "মন সব পারে। ঐ যে এতো উঁচু হিমালয়, ইচ্ছা করলে এক লাফে ডিঙ্গিয়ে যেতে পারে ওটাকেও।" ..... পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ দেশ ভাগের মাধ্যমে একই সমাজে মিলেমিশে বসবাস করা মানুষের স্মৃতিকাতরতা, অদৃশ্য মায়ার বন্ধন তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন লেখক। শব্দের গাঁথুনি, কথোপকথন আর স্মৃতিরোমন্থনের মাধ্যমে তার পরিপূর্ণতা দিতে সক্ষম হয়েছেন।

      By Rizal Fathoni Kabir

      17 Jan 2020 03:49 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      এই লেখার ধরণকে ঠিক কি বলা যায়? সুললিত! ব্যঞ্জণাময়! সুরেলা!! লেখকের গল্প বলার ধরণটা অদ্ভুত, একই কাহিনীর দুইটি সময়কালকে ভাগ করে, সমান্তরালে বলে গেছেন। শৈশবের পোকা চারপাশে অপূর্ব মায়াময়, সরল একটা জীবন কাটাতে কাটাতে একসময় আবদুল খালেক হয়ে ওঠে। অদ্ভুত একটা সরলতা আছে বইটি জুড়ে। কিছু কিছু কথায় আছে নির্মল সরলতা, আছে হাহাকার, আছে আর্তচিৎকারের মতন কষ্ট। দেশভাগের অব্যবহিত পূর্বে গল্পের প্রধান চরিত্রের যে শৈশব, তার সাথে মিশে আছে গ্রামবাংলার আবহমান জীবনের এক অকৃত্রিম ছোঁয়া। শেষের দিকে মনি ভাইয়ের আবেগ পাঠককে স্পর্শ করতে বাধ্য, সেই আকুলতার ব্যাখ্যা নেই, বাস্তবের সামনে তার মাথা তুলে দাঁড়াবার ক্ষমতা নেই। কিন্তু তার অস্তিত্ব গোটা জীবনকে এলোমেলো করে ফেলে। লেখাতে কিছু বুনো ঘ্রাণ রয়েছে। আর আছে কিছু জীবনবোধ, সেই ছোট ছোট জীবনবোধ এক সময় বড় হয়ে ওঠে, দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে দাম্পত্যে। জীবনের জটিল প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যায় নি লেখায় - তবে লেখক খুব সাধারণ গল্প দিয়ে স্পর্শ করে গেছেন তার অনেকটাই।

      By Makhluk Hossain Prio

      18 Aug 2016 06:45 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      ভিন্নধর্মী প্লট , ভিন্নধর্মী লেখার ভঙ্গিমা , শক্তিশালী সংলাপে গড়া এক উপন্যাস । রঙিন ছেলেবেলা আর বড়বেলার জীবন বাস্তবতার পাশাপাশি ফুটে উঠেছে নিম্ন- মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তার মানসিক বিপর্যস্ত রূপ , সাধারণ বাঙালী নারীর নির্ভরশীলতা- সংশ্লিষ্ট মানসিক রূপ এবং সংক্ষিপ্ত করে দেখানো হয়েছে একটি পরিবারের উপর দেশভাগের প্রভাব । লেখক বইটি এমনভাবেই লিখেছেন যেন তিনি সকল পাঠককে আকৃষ্ট করার জন্য বইটি লিখছেন না , একটু যেন ড্যাম-কেয়ার ভাব । ভাবটা এমন যে, কোনো পাঠকের যদি বইটা ভালো লাগে তবে সে বইটি শেষ না করে উঠতে পারবে না , আবার কোনো পাঠকের বইটি ভালো না লাগলে প্রথম পরিচ্ছেদ পড়েই হয়তো আর পড়বে না । উপন্যাসটি ছোট , তবে এই উপন্যাসটি ধীরগতিতে না পড়লে আপনি বইটির প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করতে পারবেন না । কিছু না হলেও অন্তত এটুকু বলা যায়, বইটি শেষ করলে আপনি এক মুহূর্তের জন্য হলেও আপনার ছেলেবেলায় ফিরে যাবেন । এ যুগের একজন ২৫-২৬ বছরের যুবক হয়েই বইটি পড়ে আমি আমার শৈশবের প্রতি নস্টালজিক হয়ে পরেছি , একজন বৃদ্ধ যার শৈশব এই উপন্যাসের পটভূমিকার যুগে তিনি এই উপন্যাসটি পড়ে তাঁর শৈশবের প্রতি কতটুকু নস্টালজিক হয়ে উঠবেন সেটাই শুধু চিন্তা করছি বইটি শেষ করার পর থেকে । হ্যাপি রিডিং ।

      By Mahmudur Rahman

      27 May 2019 07:28 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      #রকমারি_রিভিউ_প্রতিযোগ_মে ক. ‘কালো বরফ’ নামের একটা বই অনেকবার চোখে পড়ছে। প্রথম যখন ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর সদস্য হই, তখন। এমনকি অনলাইন বইয়ের ওয়েবসাইট গুলোতেও। কিন্তু ‘স্টারডম’ নামক নেশায় আমিও বুঁদ। সুনীল, সমরেশ, রবীন্দ্রনাথ কিংবা খুশবন্ত সিং-দের মত নামী লেখকদের বই বাদ দিয়ে কোথাকার কোন মাহমুদুল হকের বই কে পড়ে! হঠাৎ এক বড় ভাইয়ের লেখার কল্যাণে নতুন করে চোখে পড়ল ‘কালো বরফ’ এবং সত্যি বলব, স্টারডমের নেশা তখনও আমার কাটেনি। তাই ‘কালো বরফ’ নিয়ে সেই লেখাটি কিংবা কমেন্ট পড়িনি। কিন্তু ‘কালো বরফ’ নিয়ে তিনি মুগ্ধ সেটা জানতাম। যাদের ‘রেকমেন্ডেশন’-এ ভরসা আছে এই লেখাটি তাদের মধ্য থেকে একজনের। তাই ভেবেছিলাম পড়বো একদিন এবং পড়লাম। খ. গল্পটা এক ছা-পোষা অধ্যাপকের। গ্রামের কলেজে শিক্ষকতা করেন তিনি। এক সন্তান আর স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। কিন্তু ক্ষ্যাপা স্বভাবের লোকটা টাকা পয়সা নিয়ে ভাবে না একদম। রাত জেগে খসখস করে কিসব লেখে, আর মাঝে মাঝে কাঁদে। দিনের বেলা স্ত্রী দেয় খোঁটা। ‘মাধুকরী’-র পৃথু ঘোষের সাথে অদ্ভুত মিল। এ যেন আরেক পৃথু ঘোষের সাথে পরিচয় হল আমার। ‘কালো বরফ’-এর শুরুটা উত্তম পুরুষে। কথক তার ছেলেবেলার কথা বলছে। ছেলেবেলা না, বরং বলতে হয় যে একদম শিশুবেলা। একটা শিশুর মনোলোক আর তার বেকুবি কাজ কারবার নিয়ে যে এমন আবেশ তৈরি করা যায়, তা কালো বরফ না পড়লে বুঝতাম না। কিন্তু মুগ্ধতা এখানেই শেষ না, শেষ হয় না গল্পেরও। কেননা গল্পের পেছনে আছে আরও কিছু গল্প। কিছু কষ্ট। নিয়তির নিয়ম মেনেই তাদের সংগঠন। আবদুল খালেকের বসত ছিল যেখানে, তার বর্তমান নাম পশ্চিম বাংলা। সেখানে কেটেছে তার ছেলেবেলা। অনেক স্মৃতি জমে আছে তার, সেখানে। মেজো ভাই মনির অনেক বাঁদরামোর স্মৃতি। সে সব ফিরে ফিরে আসে আবদুল খালেকের মনে। মায়ের সংসার টেনে যাওয়ার স্মৃতি। হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসা ভেকধারী সাধুর স্মৃতি। কিছু ভালোলাগা, ভালোবাসার স্মৃতি। স্মৃতি পিপীলিকা যেন ঘিরে ধরে তাকে। ভুলে যায় সংসার, যাপিত জীবনকে। আবদুল খালেককে ছেড়ে আসতে হয়েছিল সেই ভূমি। কেবল আবদুল খালেক তো নয়, ছাড়তে হয়েছিল অনেককেই। তাদের মাঝে একজন হয়ত আবদুল খালেক। ভিটে ছেড়ে চলে আসার সময় স্টিমারে আবদুল খালেক দাঁড়িয়ে ছিলেন তার মেজো ভাইয়ের পাশে। তার হাতে ধরা ছিল, এক বালিকার চুলের ফিতে। কেবল ওই টুকুই নিয়ে আসতে পেরেছিলেন তিনি। গ. ব্যাক্তির মন চিড়ে ভেতরে যে আরেক মন থাকে, সেই মনের ছবি তুলে এনেছেন মাহমুদুল হক। আবদুল খালেক কোন একজন মানুষ নন। তার মত, আরও অনেক মানুষ বেঁচে থাকে মনের ভেতর হাজারটা স্মৃতি, হাজারটা কষ্ট লুকিয়ে। বুকের ভেতর গুমরে কান্নার সে গল্প সব সময় লেখা হয় না। ছা-পোষা মানুষের গল্পেরা চেপে বসে থাকে বুকে। মাহমুদুল হকের লেখার হাত অসাধারণ। প্রতিটা জিনিস এমন ভাবে লিখেছেন, যেন তা আমার সামনে ঘটছে। কিংবা, আমিই আবদুল খালেক। অদ্ভুত সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন তিনি, খালেকের ছেলেবেলার। তার অন্তর্দ্বন্দ্ব হয়ে উঠেছে মূর্ত। এমনকি ছা-পোষা মানুষের জীবনেও প্রেম থাকে, রোমান্টিকতা থাকে। একটুখানি কোট করি “আবদুল খালেক রেখার ব্লাউজের বোতাম খুলে দিয়ে একটা হাত রাখল সেখানে। বললে, ‘এতো নরম, এতো মায়া!’ রেখা বললে, ‘তোমার ভালো লাগে?’ ‘মরে যেতে ইচ্ছে করে’ ‘তুমি তো আজকাল দ্যাখোই না। টুকু হওয়ার পর তোমার যেন আর ভক্তি নেই’ ‘টুকু যখন তোমার কোলে এলো, তোমাকে দেখলাম, গর্ব হল, তুমি কি সুন্দরই না হয়েছ। যখন কোলে নিয়ে বসে থাকো, নানান ছলচাতুরী করে তোমাকে দেখি। মনে হয় জীবনভর দেখি। আগে দেখতাম শুধু চোখ দিয়ে, এই প্রথম আমার মন দিয়ে দেখতে শেখা’ ঘ. সংসার জীবন আর যাপিত জীবনের প্রতিদিনের ঘটনা থেকে সরে যাওয়া একজন মানুষের মাধ্যমে মাহমুদুল হক ‘কালো বরফ’-এ আমাদের দেখিয়েছেন দেশভাগ, হিন্দু মুসলমান সম্পর্কের সেই সময়কে। ভিটে ছেড়ে আসা মানুষ আর তাদের স্মৃতির কথা লিখেছেন মাহমুদুল হক। উপন্যাসে তিনি দেখিয়েছেন এসব রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক বিষয় কোথাও তেমন দানা বাঁধে না, অথচ শেষ পর্যন্ত এই দেশ ভাগই এক স্থায়ী প্রভাব ফেলে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আবদুল খালেকের উপর। আবদুল খালেক তার স্মৃতির হাত থেকে মুক্তি পান না, পাবে না হয়ত তার মতো কোন মানুষই। ব্যক্তিগত জীবনে মাহমুদুল হক নিজেও ছিলেন এমন ছেঁড়া-স্মৃতির মানুষ। দেশভাগের উত্তাল সময়ে তাকে জন্মভূমি বারাসত ছেড়ে চলে আসতে হয় ঢাকায়। এই ঘটনার অভিজ্ঞতা তার সাহিত্য সৃষ্টিতেও ব্যাপক প্রভাবিত করেছে। তিনি আজীবন প্রায় নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেছেন। ‘কালো বরফ’-এর আবদুল খালেকের সাথে তার নিজের মিল অনেক। হয়ত নিজের সেই স্মৃতি, বেদনা তিনি প্রকাশ করেছেন আবদুল খালেকের গল্পে। মাহমুদুল হকের গদ্য অসাধারণ। ‘কালো বরফ’ একজন পরিণত পাঠককে মুগ্ধ করবে। মাহমুদুল হক সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, “বাংলা গদ্যে প্রভুত্ব করার ক্ষমতা এর আছে”। ‘কালো বরফ’ সেই প্রতিভার প্রামাণ্য রূপ।

    • Was this review helpful to you?

      or

      #রকমারি_রিভিউ_প্রতিযোগ_এপ্রিল ছোট্টমাথায় কত অদ্ভুত চিন্তাই না আসে! পৃথিবী নাকি কমলালেবুর মতো গোল, তবে তার তলার দিকের মানুষগুলো টুপটুপ খসে পড়ছে না কেন - এই চিন্তাই সে বয়সের জন্য বিষম ভাবনার একটা ব্যাপার। মনে আছে, ঘুঘু ডাকা দুপুরবেলা মা যখন আঁচল বিছিয়ে ঘুমিয়ে পড়তেন, চুপিসারে মার হাতের নিচ থেকে উঠে গিয়ে বারান্দায় বসলে কত কি দেখা যেত! কতরকম গাছ, বাড়িঘর আর ফেরিওয়ালা! কলাপাতায় ডালি সাজিয়ে 'ডালপুর-হিইই' ডেকে আসতো ডালপুরিবুড়ো। মাথায় লাল বিড়ে, পাগুলো তার ঠিক ধনুকের মতন বাঁকা। তারপর, টিনের বাক্স নিয়ে জমকালো জরির পোশাক পরা শণপাপড়িওয়ালা, লাল মিঠাইওয়ালা, কুলফি - চিনেবাদামওয়ালা। তবে এসব দেখে রাস্তায় পা বাড়ালেই চিত্তির। কানমলা তো জুটতোই, সাথে ভয় ছিল নিগ্রোদের। ছোট ছেলেমেয়ে পেলেই তারা বুঝি কড়মড়িয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে! জিপসি মেয়েরা এসে ভয় দেখিয়ে পাঁচ-দশ টাকা নিয়ে যেত। জটাধারী সাধু চিমটে হাতে এসে আগড়ম বাগড়ম বকে মাকে ঠকিয়ে টাকা সরিয়ে নিত। মা'কে ঠকানোও ছিল ভারি সহজ কাজ। এসে কেঁদে পড়লে মা কাউকে ফেরাতেন না। টিপু ভাইজান আর মনি ভাইজান তো একজোট হয়ে মাকে প্রায়ই বোকা বানাতো। পুঁটি নাকি পাখিদের কথা, মাছের কথা বুঝতে পারতো। করিমন বিবির কাশীর পেয়ারা, মাধুর বাতাসা, গিরিবালা বুড়ির তক্ষক ডাকা জঙ্গুলে বাড়ি, ছবিদির কুঁচভরা বয়াম - সেসব কত কথা! জীবন ছিল নিরবিচ্ছিন্ন, কোথাও কোনো উপদ্রব নেই। থাকলেও বোঝার বয়স হয়নি। সে এক বয়স ছিল, যখন ভাঙ্গা কাঁচের চুড়ির শেকল ছিল দুনিয়ার সবচাইতে দামী সম্পদ। তেশিরা কাঁচের টুকরোর ভেতর দিয়ে চাইলে রাস্তাঘাট সব রামধনুর মতো রঙিন দেখাতো। কিন্তু পোকার জীবন রঙিন থাকে না। শালিক পাখি আর বাগানে উড়ে আসে না। তেশিরা কাঁচ, কুঁচের বয়াম, চার ভাঁজের ছবি আর মন কেমন করা বিকেল সে হারিয়ে ফেলে। হিন্দুস্তান - পাকিস্তানের কাঁটাতারের বেড়া অন্তরে নিয়ে পোকা বড় হয়ে যায়। বিলীন হয়ে যায় আবদুল খালেকের ভেতরে। আবদুল খালেক কলেজে পড়ায়। পোকার শৈশব থেকে আছড়ে পড়েছে সে কঠিন বাস্তবে। রেখা-টুকুকে নিয়ে কোনোমতে চলা সংসার, নিজেকে নিয়ে দ্বন্দ্ব, আর শৈশবের স্মৃতিকাতরতা নিয়ে তার জীবন বেজে যাচ্ছে বেসুরো তালে। মাহমুদুল হক 'কালো বরফ' উপন্যাসটি লিখেছিলেন সেই ১৯৭৭ সালে। তবু এই রচনাটা সবকালের জন্যই চির আধুনিক। গল্পে ছোট পোকার শৈশব আর আবদুল খালেকের বাস্তবতা সমান্তরালে চলেছে। গল্পটা যতটা পোকার ছেলেবেলার, ততটাই আবদুল খালেকের দাম্পত্যের জটিলতা, বৈষয়িকতার। স্ত্রীকে সে ভালোবাসে, কিন্তু সংসারের প্রতি ঠিক একাত্ম হতে পারে না, তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে পোকা, গিরিবালা, মাধু আর মনিভাইজান। রেখার গ্রামে পড়ে থাকা ভালো লাগে না। টুকুকে শহরের ভালো স্কুলে দেওয়ার চাহিদা তার, আবদুল খালেকের গাঁয়ের ধুলোমাটি ছেলেকে চেনানোর কি যে টান তা সে বুঝতে পারে না। পারে না স্বামীর উদাসীনতাটুকু ভাগ করে নিতে, তাই নিজের ভেতরেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে। দুজন দুজনকে ভালোবেসেও বুঝতে না পারার দূরত্ব, রাতে ঘুমের ঘোরে অতিপরিচিত হাতের স্পর্শকেও যে রক্তমাংসের মনে হয় না - এই উপলব্ধি নিয়ে দাম্পত্যের অসাধারণ সমীকরণ মিলিয়েছেন লেখক গল্পে। গল্পটাতে কোনো নাটকীয়তা নেই সেভাবে। আছে একভাবে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বলে যাওয়া। আর পটভূমিতে খলনায়ক হয়ে আছে দেশভাগ। সেই দেশভাগ, যা ধর্মের দোহাই দিয়ে সবকিছুর তার চিরতরে ছিঁড়ে দিলো, চরম অবহেলায় শেকড় উপড়ে এদিকের মানুষকে নিয়ে ফেলল ওদিকে, খোঁঁজ নিলো না পোকা বা মনির মনোকষ্টের। বইটি সাহিত্য প্রকাশ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। ২০১৬ সালের পঞ্চম মুদ্রণে এসেও বইটির পাতায় পাতায় প্রচুর ভুল ছিল। প্রচ্ছদেও ভালো লাগার মতো তেমন কিছু ছিল না। তবে সবকিছু ছাপিয়ে, কালো বরফ উপন্যাসটি লেখকের নিপুণ প্রকাশের শক্তিতে পাঠককে আবিষ্ট করে রাখবে দীর্ঘদিন। প্রতিটি পাঠকের শৈশবে দোলা দিয়ে যাবে এমনভাবে, যা ঠিক লিখে মনে হয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই অনুভুতি যার যার স্বতন্ত্র। বই: কালো বরফ লেখক: মাহমুদুল হক প্রকাশনায়: সাহিত্য প্রকাশ প্রথম প্রকাশ: ১৯৯২ সাল পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৩০ বর্তমান মূল্য: ২৫০ টাকা (পঞ্চম মুদ্রণ)

      By Md shahidul islam nahid

      26 Oct 2016 01:44 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      এইভাবে সবকিছু একদিন গল্প হয়ে যায়। জামার পকেটে একটা ফিতে, ফিতেয় চুলের গন্ধ, যে গন্ধে অনেক দুঃখ, যে দুঃখে অনেক ভালবাসা, যে ভালবাসায় অনেক ছেলেবেলা... হারিয়ে যাওয়া এক ছেলেবেলার গল্প... স্মৃতিচারণ। সময়ের খামখেয়ালীতে চলে যাওয়া কিছু মুহূর্তকে পুনরায় চাওয়ার আকূলতা... দেশ বিভাগ নিয়ে এক বাচ্চামনের চাপা কষ্ট, তার আশেপাশের মানুষের কাজকর্ম, সব মিলিয়ে ছবির মতোন একটা বই। ভাল লাগার মতোন একটা বই।

      By Tareq

      07 Apr 2012 07:05 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      তারেক নূরুল হাসান ------------- মাহমুদুল হকের "কালো বরফ" পড়তে পড়তে, সম্ভবত, বার তিনেক আমাকে পাতা উল্টে প্রথম প্রকাশের তারিখটা দেখে নিতে হয়েছে। ১৯৯২ সালে বেরিয়েছিলো এই বই। ঠিক সতের বছর আগে। কিন্তু তারচেয়েও বড় ব্যাপার হলো, এটির রচনাকাল আরও পেছনে, অগাস্ট ১৯৭৭! তিরিশ কিংবা তারও বেশি বছর বাদে, আমার নিজের চেয়েও বেশি বয়েসী এই বইটা হাতে নিয়ে আমি অবাক হয়ে ভাবছি, মাহমুদুল হক কেমন করে এত বছর আগেই এরকম একটা চির-আধুনিক উপন্যাস লিখে গেলেন! চারপাশের পাওয়া বইগুলোকে চিরকালই আমি উঁইপোকার চেয়েও বেশি যত্নে আর আদরে গিলে নিয়েছি। লেখক বা বইয়ের সংখ্যা হিসেব করলে সেটা অ-নে-ক ল-ম-বা একটা লিস্টি হয়ে দাঁড়াবে কোন সন্দেহ নেই। এবং, কে জানে, মনের গভীরে কোথাও এই নিয়ে হয়তো কোন আত্মতৃপ্তিও কাজ করে আমার মধ্যে। কিন্তু সেটি যে আসলে অনেকটা বোকার স্বর্গের মতই ব্যাপার, এটা টের পেলাম সম্প্রতি "প্রতিদিন একটি রুমাল" আর "কালো বরফ" পড়ার পরে। লেখায় জাদু-টাদুর কথা শুনেছি অনেক। কালো বরফের প্রতিটা পাতায় আমি মনে হলো সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। উত্তম পুরুষে লেখা একটানা উপন্যাস। আবার ঠিক একটানা নয়। একটা জীবনেরই দুটি সময়ের কথা পরপর অথবা পাশাপাশি বলে যাওয়া, অবলীলায়। এরকমটা অবশ্য অনেক দেখেছি। এই মুহুর্তেই মনে পড়ছে দূরবীন এর কথা, শীর্ষেন্দুর, আমার খুবই পছন্দের একটা লেখা। কিন্তু সেখানে একটা আয়োজন ছিল। একটা মানুষের জীবনের গল্প ফুটিয়ে তুলবার জন্যে যে বিপুল বিস্তারের দরকার, যতখানি আড়ম্বরের দাবীদার সেটা, শীর্ষেন্দু সেসবে একেবারেই অকৃপণ। কালো বরফে তার একদম উল্টো। কোন আয়োজন নেই, যেন, আমি বলে যাচ্ছি, তুমি শুনলে শুনো না শুনলে নেই, এরকম একটা ড্যাম কেয়ার ভাব। একটু আগে বলেছিলাম উত্তম পুরুষে লেখা, আসলে পুরোপুরি তা নয়। শৈশবের অংশটুকু উত্তম পুরুষে, কিন্তু সাথে সাথেই বড় হয়ে যাবার অংশটুকু লেখকের বয়ানে বলা। কিন্তু কোথাও বেসুরো লাগেনি। বেসুরো, এই শব্দ ব্যবহারের কারণ, প্রতিটা চমৎকার গল্প বা উপন্যাসই আমার কাছে খুব যত্ন নিয়ে গাওয়া গানের মত মনে হয়। ঠিক সুরে, তালে মিলিয়ে মিশিয়ে একটা চমৎকার সঙ্গীত। কালো বরফও তাই। প্রচ্ছদ আকর্ষণীয় নয়, রঙের বাহুল্য চোখে লাগে। আমাদের এখনকার বইগুলোর মত ব্যাক কাভারে ছবিসুদ্ধ লেখক পরিচিতি নেই। কিন্তু বাইরের সৌন্দর্যের পুরো ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছে বইটার ভেতরকার সৌন্দর্যটুকু। হক সাহেব শুনেছি ব্যক্তিজীবনে রত্ন বা পাথর নিয়ে কাজ করতেন। ওনার লেখা পড়ে আমার সন্দেহ হচ্ছে, উনি গোপনে গোপনে সাপুড়ে ছিলেন না তো? তা নইলে এরম অদ্ভুত সম্মোহনী শক্তির খোঁজ উনি কেমন করে পেলেন! লেখা পড়ে যাই, কিন্তু লেখা তো নয় যেন সাপের চোখে চোখ ফেলে বশ হয়ে গেছি! তো পড়ে টড়ে, সবমিলিয়ে, নিজের প্রতি আমার গভীর অনুকম্পা হলো। এরকম দুর্দান্ত লেখা পড়তে আমার জীবনের সাতাশটা বছর খরচ করে ফেললাম, দুর!

    •  

    Recently Viewed


    Great offers, Direct to your inbox and stay one step ahead.
    • You can pay using


    JOIN US

    icon Download App

    Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money. You can buy books online with a few clicks or a convenient phone call. With breathtaking discounts and offers you can buy anything from Bangla Upannash or English story books to academic, research or competitive exam books. Superfast cash on delivery service brings the products at your doorstep. Our customer support, return and replacement policies will surely add extra confidence in your online shopping experience. Happy Shopping with Rokomari.com!