
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
সন্তু-কাকাবাবু সিরিজ বরাবরই আমার পছন্দের তালিকার শীর্ষে অবস্থানরত কয়েকটি সিরিজের মধ্যে অন্যতম। "কাকবাবুর চোখে জল" বইটি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনের শেষের দিকে লিখা। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম জীবনের লিখাগুলোর সাথে শেষ জীবনের লিখাগুলোর মিল খুঁজে পাওয়া খুব দুষ্কর। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনের প্রথম দিকের লিখা সন্তু-কাকাবাবু সিরিজের বইগুলো ছিলো অসাধারণ কিন্তু সিরিজের পরের দিকের ( বিশেষ করে ২০০০ এর পরে লিখা বইগুলো ) বইগুলোতে সেই আগের মত এডভেঞ্চার কিংবা থ্রিলারের স্বাদ নেই। সন্তু-কাকবাবু প্রেমী হলে একবার এর জন্য পড়তে পারেন কিন্তু ভয়ংকর সুন্দর, সবুজ দ্বীপের রাজা, পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক, মিশর রহস্য কিংবা বিজয়নগরের হিরের মত আপনার মনে দাগ কাটবে না এটা নিশ্চিত। আনন্দ পাবলিশার্স এর অরিজিনাল বই বাংলাদেশে পাওয়া বেশ দুষ্কর কিন্তু রকমারির মাধ্যমে অরিজিনাল বইটি নিজের সংগ্রহে যুক্ত করতে পারলাম সেজন্য রকমারি কে অসংখ্য ধন্যবাদ।
Was this review helpful to you?
or
বাচ্চা ছেলেটির নাম বিল্টু। সন্তুর বন্ধু রিনির ছোট ভাই বিল্টু। বন্ধুত্বের সুবাদে সন্তুদের বাড়িতে রিনির হরহামেশাই আসা-যাওয়া হয় বিল্টুকে নিয়ে। সেই পিচ্চি বিল্টু অল ইন্ডিয়া পেইন্টিং কম্পিটিশনে ফাস্ট হলো। এই নিয়ে সবাই মহাখুশি। রিনিদের বাড়ির সবাই যেমন খুশি তেমনি খুশি সন্তুদের বাড়ির সবাই।আর কাকাবাবু তো এমনিতেই বাচ্চাদের ভীষণ ভালবাসেন। বিল্টুকেও তিনি দারুণ পচ্ছন্দ করেন। সরকারিভাবে বিল্টুকে প্রাইজ দেয়া হবে দিল্লীতে। কাকাবাবুরও দিল্লি যাওয়ার কথা আছে তাই ভাবছেন বিল্টুর সাথেই যাবেন। এই পর্যন্ত বেশ ভালোই চলছিলো। বাধঁ সাধঁলো বিল্টু কিডন্যাপ হওয়ার পর...! স্কুল থেকে প্রতিদিন বিল্টু বাড়ি ফেরে দুপুরবেলা। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাড়ি ফিরলো না বিল্টু। কোন এক অচেনা লোক বাড়িতে ফোন দিয়ে বললো, সে নাকি এ্যাকসিডেন্ট করেছে। তবে খারাপ কিছু হয় নি। তিনি বিল্টুকে বাড়ি পৌছেঁ দিচ্ছেন। তার পরপরই আরেকটা ফোন আসে এবং বিল্টুর মুক্তিপণ চাওয়া হয় বিশ লাখ টাকা। এও বলে দেয়া হয় কাকাবাবু রাজা রায়চৌধুরী কিংবা পুলিশ কেউ যদি এর ভেতর আসে তাহলে বিল্টুকে জীবিত পাওয়া যাবে না। নিজেদের ছেলের কথার ভেবেই বিল্টুর পরিবার কাকাবাবুকে কিছু জানায় নি। নিজেরাই মুক্তিপণের টাকা যোগাড় করে বিল্টুকে আনতে যায়। কিডন্যাপারদের হাতে টাকা পৌছাঁনো হলেও বিল্টু ফিরলো না। বিল্টুর বদলে এলো পরমজিৎ সিং। আর কাকাবাবু..? কারো বিপদের কথা শুনে হাত গুটিয়ে বসে থাকার মানুষ তো তিনি না..! সেখানে নিজের জীবন ঝুঁকি থাকলেও পরোয়া নেই তার..! একাই খুজঁতে বের হয়ে গেলেন বিল্টুকে...! কিন্তু কোথায় খুজঁবেন তাকে..? আদৌ কি পাবেন বিল্টুর খোজঁ..?
Was this review helpful to you?
or
'কাকাবাবু ও সন্তু' সিরিজের আরও একটা বই। সত্যি কথা বলতে কি, কাকাবাবুকে নিয়ে লেখা অন্যান্য অ্যাডভেঞ্চার কাহিনীর তুলনায় এই কাহিনীটা আমার কাছে খুব একটা ভাল লাগেনি। তাই বলে যে খুব মন্দ লেগেছে তাও না। তবু কাকাবাবুর অন্যান্য গল্পের অনেক উপাদানই এই গল্পে মিসিং ছিল যে কারণে সত্যিকারের কাকাবাবু সিরিজের স্বাদ এই গল্পে পাইনি। প্রথমত, এই গল্পে সন্তু আর জোজোর উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য। যেটুক সময় তারা ছিল তখনো গল্প মূল কাহিনীতে প্রবেশই করেনি। দ্বিতীয়ত, কাকাবাবু যথারীতি এই গল্পের শেষেও শেষ হাসি হেসেছেন কিন্তু এখানে কিভাবে তিনি শত্রুদের ডেরায় পৌঁছোন তা দেখানো হয়নি। হঠাৎই দেখা গেল তিনি শত্রুদের ডেরায় পৌঁছে গেলেন কিন্তু তার আগে তিনি কি করলেন না করলেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত কেন, সামান্য সূত্রও তুলে ধরেননি লেখক। তৃতীয়ত, এই গল্পের আকার খুবই সংক্ষিপ্ত। তারচেয়েও বড় কথা, গল্প মূল কাহিনীতে প্রবেশ করেছে খুবই ধীর গতিতে। আর যখন কাহিনী জমে উঠতে শুরু করল, তখনই হঠাৎ করে দেখা গেল আমরা গল্পের ক্লাইম্যাক্সে চলে এসেছি। কাকাবাবুর অন্যান্য গল্পে এরকমটা আগে দেখিনি তাই একটু অবাকই হয়েছি। এই গল্পের নামকরণ নিয়েও কিছুটা সংশয় আছে আমার। কাকাকাবু নাকি আগে কখনো কাঁদেন নাই যে কারণে এই গল্পে তিনি প্রথম কেঁদেছেন বলে গল্পের নাম রাখা হয়েছে 'কাকাবাবুর চোখে জল'। কিন্তু আমার যতদূর মনে পড়ে, এই সিরিজের ঠিক আগের গল্প অর্থাৎ 'এবার কাকাবাবুর প্রতিশোধ'-তেই কাকাবাবু কেঁদেছিলেন যখন শত্রুর গুলি বুকে লেগে সন্তুর জীবন শংকা দেখা গিয়েছিল। যাইহোক, এই গল্পের মূল কনসেপ্ট হল শিশু চুরি ও তাদের পাচার। এই কনসেপ্টটাও এমন নতুন কিছু না। 'কাকাবাবু ও শিশুচোরের দল' এর কাহিনীও অনেকটা এরকমই ছিল। এই গল্পে দেখা যাবে বিল্টু নামের আট বছরের একটা ছেলেকে যে কিনা রিনির ছোট ভাই। সম্প্রতি সে অল ইন্ডিয়া পেইন্টিং কম্পিটিশনে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। আর তার মাত্র কদিনের ব্যবধানেই স্কুলের সামনে থেকে তাঁকে অপহরণ করা হল। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করে বলল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে বিল্টুকে আরবে পাচার করা হবে। আরও শর্ত দিল, পুলিশ বা রাজা রায় চৌধুরীকে খবর দেয়া যাবে না। তবু কাকাবাবুর কানে খবরটা পৌঁছুল। এই খবর পেয়েই তাঁর চোখে জল এল কেননা তিনি ছোটদের বড্ড ভালোবাসেন। একসময় তার দুঃখ ক্রোধে রূপান্তরিত হল এবং একা তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন বিল্টুকে উদ্ধারের জন্য। কিভাবে একক প্রচেষ্টায় তিনি বিল্টুকে উদ্ধার করলেন সেটা নিয়েই কাহিনী। আমার কাছে মনে হয়েছে, এই গল্পের কাহিনীতে কোন নতুনত্ব নেই। আর কাকাবাবু যেভাবে এই গল্পের শেষে জয়ী হলেন সেটাও ঠিক কাকাবাবুসুলভ নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, হুট করে শেষ হয়ে যাওয়া এই গল্প থেকে বিন্দুমাত্র রোমাঞ্চিত হওয়ার সুযোগ পাইনি। তাই বলতে বাধ্য হচ্ছি, 'কাকাবাবুর চোখে জল' আমাকে কিছুটা হতাশই করেছে। তারপরও কাকাবাবু ভক্তরা যারা চান সিরিয়াল মেইন্টেইন করে 'কাকাবাবু ও সন্তু' সিরিজের গল্পগুলো পড়তে তারা এই বইটি পড়ে দেখতে পারেন।




