
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
“অন্ধ মেয়েটি জোৎস্না দেখার পর” বইটা শেষ করার পর থেকে মনের শরীরে জ্বর। ধর্ষণ, খুন, খান ও চৌধুরীদের আজন্ম শত্রুতা, রাজনীতি থেকে শুরু করে গ্রাম্য রাজনীতির জঘন্য প্রতিহিংসা, সবকিছুই নির্মমভাবে উঠে এসেছে এতে। ইমতিয়ার শামীম এর "আমাদের চিঠিযুগ কুউ ঝিকঝিক" পড়ার পর তার অন্যান্য বই গুলোপড়ার প্রতি আগ্রহ জন্মে । 💚
Was this review helpful to you?
or
বাংলা সাহিত্যের সাম্প্রতিক ধারার উপন্যাসের ক্ষেত্রে দারুণ একটি সংযোজন "অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর "উপন্যাসে একটি মেয়ের ধর্ষণের বিষয়কে কেন্দ্র করে কাহিনী এগিয়ে গেলেও উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু গ্রামীণ নোংরা রাজনীতির নগ্ন রূপl
Was this review helpful to you?
or
GOOD BOOK
Was this review helpful to you?
or
চমৎকার বই। গ্রাম্য নোংরা রাজনীতির নগ্ন রূপ খুব সফলতার সাথে উপস্থাপন করেছেন লেখক।
Was this review helpful to you?
or
বৃষ্টি দিয়েই দৃশ্যের শুরু।কিন্তু এই বৃষ্টি শুভ না অশুভ তা বোঝা যায় না।কিন্তু এক ধর্ষিতার গ্লানি কি মুছে যাচ্ছিলো? গল্পের নায়িকা সোনালি।বড় বংশের মেয়ে।তাছাড়া পড়ালেখায় এত ব্যস্ত ছিল যে মনে হতো এ মেয়ে পৃথিবীতে আর কিছু দেখে না অন্ধ।কিন্তু বিয়ের পর সোনালিকে ধর্ষণেরশিকার হতে হয় কলেজ জীবনের এক সহপাঠি যে কি না তাকে টিজ করত।সেই ছেলেও প্রভাবশালী মাতব্বরেরই ছেলে।জানা ছিল এ সুষ্ঠু বিচার হবে না।তাই সোনালি মামা কাম ভাই খুন করে দিল ধর্ষককে।ব্যস! তারপর উপন্যাসের গতি ঘুরে গেল।একটা ধর্ষণ থেকে পুরো গ্রাম তছনছ প্রায়।অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর আর কিছুই আগের মত রইল না।ইমতিয়ার শামীম আমাদের লোকাল পলিটিক্সকে যেভাবে আতস্থ করেছে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন,এভাবে হয়ত এতটা ব্যবচ্ছেদ কেউ করতে পারেনি যুদ্ধের পরের সাহিত্যে।যেখানে সবাই নাগরিক লেখায় ব্যস্ত সেখানে বারবার তাঁর বিষয় হয়ে উঠে গ্রাম,গ্রামীণ নোংরা রাজনীতি। এই বই ইমতিয়ার শামীমের অন্যতম সেরা বই হিসেবে পাঠকের মনে জায়গা করে নেবে।
Was this review helpful to you?
or
তিন মাস আগে বন্ধু বায়েজিদ আমাকে ইমতিয়ার শামীমের 'অন্ধ মেয়েটি জোৎস্না দেখার পর' উপন্যাসটি দিয়ে গিয়েছিল। অবশ্য রকমারি থেকে আমার হাতেই কেনা। বলে দিয়েছিলাম পড়া শেষ হলে যেন আমাকে ও পড়তে দেয়। সপ্তাহখানেক পরেই বইটা দিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমার কাছে অপঠিত অনেক বই থাকায় আর পড়তে পারিনি। দীর্ঘদিন পর পরশু সকাল থেকে বইটা পড়া শুরু করলাম এবং গতকাল রাতে শেষ করলাম। ইমতিয়ার শামীমের উপন্যাস যে আমাকে মুগ্ধ করবে এবং আকৃষ্ট করবে তা আমি ভাবতেই পারিনি। লেখকের শব্দ নিয়ে খেলা করার যে অসাধারণ গুণ তা আমার পড়ার সময় ক্ষণেক্ষণে মনে পড়েছে। উপন্যাসটি পড়ার সময় আমার অনেকবার আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের কথা মনে পড়েছে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস যেভাবে নিখুঁত ভাবে একটা সমাজকে তুলে ধরতে পেরেছিলেন ইমতিয়ার শামীম ও তার ব্যতিক্রম নন। পার্থক্য অবশ্যই আছে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাসে আঞ্চলিক ভাষার আধিক্য পাওয়া গেলেও ইমতিয়ার শামীমের উপন্যাসে বিভিন্ন শব্দের অসাধারণ প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। উপন্যাসটি মূলত জিয়ার আমলে (আনুমানিক) টাঙ্গাইলের খড়খড়িপুর নামের এক গ্ৰামে ধর্ষণকে উপজীব্য করে পুরো সমাজকে তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসটি শুধু সত্তর দশকের শেষ ভাগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কখনো চরিত্রগুলোর পরিচয় করিয়ে দিতে লেখক দু'তিন পূর্বপুরুষের কাছে চলে গেছেন। সমাজে আধিপত্য বিস্তারের অশুভ প্রতিযোগিতা এখনকার সময়ে সুপ্ত হয়ে থাকলেও তৎকালীন সময়ে এটা ছিল প্রকট। উপন্যাসটিতে রইস চৌধুরী এবং ওবায়েদ খান দুই পরিবারের বংশ পরম্পরার যে শত্রুতা আমরা দেখতে পাই তা মূলত আধিপত্য বিস্তারের। রইস চৌধুরীর বিবাহিতা শিক্ষিত মেয়ে সোনালি'কে ধর্ষণ করে ওবায়েদ খানের ছেলে সিরিয়াল ধর্ষক আইয়ুব খান ও তার তিন বন্ধু। ধর্ষণের নিকটতম সময়েই পরিকল্পনাহীনভাবে আইয়ুব খানকে খুন করে বসে রইস চৌধুরীর শালা তাহের। ধর্ষিতা সোনালীর ওপর ধর্ষণের প্রভাব তেমন পড়েনি যদিও তার প্রফেসর স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হয়েছিল।তার জীবন স্বাভাবিক ভাবেই চলতে থাকে এবং পরিবার কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনাকে যারা ছড়িয়ে বেরাচ্ছে তাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাহেরকে মূল আসামি দিয়ে গঙ করে মামলা করেন ওবায়েদ খান। এখানে দারোগাদের প্রভাব কিরকম ছিল তা বুঝতে সাহায্য করবে কদ্দুস দারোগা। কুদ্দুস দারোগাদের প্রভাব এখনও আছে বরংচ তা বেড়েছে তবে তা ভিন্ন পরিসরে। তাহেরকে তো আগেই বাড়ি থেকে পাঠিয়ে দিয়েছে রইস চৌধুরী। আরেকটা কথা না বললেই নয় এই দুই বংশের প্রধান বিভেদ হচ্ছে জাত। রইস চৌধুরী হচ্ছে জোলা বা তাঁত আর ওবায়েদ খান হচ্ছে পাওফাটা মানে কৃষক। এই বিভেদকে পুঁজি করে বংশপরম্পরায় তাদের মধ্যে দুটি দলও সৃষ্টি হয়েছে। ওবায়েদ খানের উস্কানিতে আইয়ুব হত্যার প্রতিশোধ নিতে পশ্চিমপাড়ার পাওফাটারা আক্রমণ করে পূর্বপাড়ার জোলাদের উপর। আক্রমণের ফলে চারজন খুন এবং বিশজন নারী ধর্ষিত হয়। এবার উল্টোভাবে দৌড় শুরু হয় খানদের। বাড়ি ছাড়া হতে হয় জেল খাটতে হয়। সহায় সম্বল কমে আসে। গ্ৰামের স্কুলে প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন মিলিতা নামের এক নারী। সেও ধর্ষিত হয় আইয়ুবের সঙ্গপাঙ্গদের হাতে। ধর্ষণের পরে খুন হয়। সে ছিল নিয়মানুবর্তিতার উপর খুবই কট্টর। চেয়ারম্যান রহিমের স্কুলের বাজেট মেরে দেওয়া এবং এক শিক্ষককে অনুপস্থিতির জন্য বরখাস্ত করা তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। উপন্যাসটিতে এছাড়াও আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হচ্ছে নব্য ধনী শুক্কুরালী। তিনি সফল কৃষক এবং কোরিয়ান শ্রমিকদের যৌন ক্ষুধায় নারী যোগানদাতা। তিনি কিছুটা বিপ্লবী চরিত্রের ছিলেন ও বটে। জক্কু, জহুরা, কাজেম, মাধাই এবং তাহেরের তিন বিশ্বস্ত বন্ধুরও দেখা মিলবে উপন্যাসটিতে। মাধাই জাতিতে গারো, বন থেকে সমতলভূমিতে এসে দোকান দিয়েছে খড়খড়িপুর গ্ৰামে।জহুরা পেটের দায়ে শুক্কুরালির হয়ে নারী যোগান দেয়। পেটের জ্বালা মানুষকে কত পথেই না টেনে নেয়। আর লিখব না। যদি লিখেই ফেলি তাহলে তো আর উপন্যাসটি পড়বেন না। রিভিউ পছন্দ হলে এবং আমার প্রতি আস্থা থাকলে উপন্যাসটি পড়ে দেখতে পারেন। বলে দিচ্ছি আমার মতো আকৃষ্ট না হলেও খারাপ লাগবে না। ধন্যবাদ।




