আলম বাঙালি
২রা মার্চ ১৯৮৫ সালে সবুজের শহর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় আলম বাঙালির জন্ম।
আলম বাঙালি একজন কবি, আবৃত্তিশিল্পী, প্রশিক্ষক ও গবেষক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কবিতা ও আবৃত্তির তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত। আবৃত্তিকে কেবল পরিবেশনা নয়, একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ শিল্পমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর কাজের মূল লক্ষ্য। তিনি “আবৃত্তিবাড়ি” নামের আবৃত্তি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও মূখ্য প্রশিক্ষক।
কিছু মানুষ শব্দ লেখে, আর কিছু মানুষ শব্দকে বুঝে নেয়। আলম বাঙালি সেই বিরল মানুষদের একজন—যিনি কবিতার আবেগ আর আবৃত্তির শৃঙ্খলাকে একই সুতোয় গেঁথে কাজ করেন।
তাঁর কবিতায় ভালোবাসা কোনো রোমান্টিক বিলাস নয়; বরং তা ক্ষয়, প্রশ্ন আর নীরবতার মধ্য দিয়ে হাঁটে। “ভালোবাসা ভালো নেই”—এই শিরোনামেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। এখানে প্রেম মানে শুধু পাওয়া নয় বরং না-পাওয়ার ভাষা, অপেক্ষার ভার আর সম্পর্কের অনুচ্চারিত সত্য। এই কাব্যগ্রন্থে পাঠক নিজের অভিজ্ঞতার ছায়া খুঁজে পান—কখনো ক্ষত হিসেবে, কখনো স্মৃতি হিসেবে।
অন্যদিকে, “আবৃত্তির ভেতর বাহির” বইটি বাংলা আবৃত্তি জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাধর্মী সংযোজন। আবৃত্তিকে কেবল কণ্ঠস্বরের বিষয় না ভেবে, শব্দ, ভাব, শ্বাস, ছন্দ ও দর্শনের সমন্বিত শিল্প হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন লেখক। এই বইটি আবৃত্তিশিল্পী, প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একাধারে গাইড, রেফারেন্স ও ভাবনার খোরাক।
আলম বাঙালির কাজের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি একা আলোকিত হতে চান না। সেই ভাবনা থেকেই গড়ে তুলেছেন “আবৃত্তিবাড়ি”—যেখানে নতুন প্রজন্মের আবৃত্তিশিল্পীরা কণ্ঠের পাশাপাশি চিন্তার প্রশিক্ষণও পায়। তাঁর বিশ্বাস, আবৃত্তি মানে শুধু উচ্চারণ নয় বরং দায়িত্বশীল পাঠ।
যারা কবিতায় সহজ আবেগের চেয়ে গভীর অনুভব খোঁজেন, যারা আবৃত্তিকে শিখতে চান শিকড় থেকে— তাদের জন্য আলম বাঙালির বই শুধু পাঠ নয়, এক ধরনের প্রস্তুতি। এই লেখকের বই পড়া মানে—
শব্দকে নতুন করে দেখা,
আর নিজেকে নতুন করে শোনা।
উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা: আবৃত্তির ভেতর বাহির, ভালোবাসা ভালো নেই (কাব্যগ্রন্থ), সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থ ইতি ১৯৫২, কাব্যকথা, কাব্যপ্রজন্ম, কাঁটাতার, দুই মেরু, আলোর মিছিল।