তিপান্ন বছর, সাত মাস, এবং এগারো দিন ও রাত ধরে অনাকর্ষণীয় ও বিমর্ষ প্রকৃতির ফ্লোরেন্টিনো আরিজা, এই উপন্যাসের তিনজন কেন্দ্রীয় চরিত্রের একজন, অপেক্ষা করে আছে ফার্মিনা দাজাকে পাওয়ার জন্য, সেই যুবতী মহিলা যে একদা তাকে ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তারপর এক ধরনের বাধ্যবাধকতা ও অন্তর্দৃষ্টির মুহূর্তে তাকে অস্বীকার করেছিল। ফ্লোরেন্টিনো তার নিশি-জাগরণের বহুদীর্ঘ বছর কাটিয়ে চলতে সে ছয়শ বাইশটা অবৈধ যৌনসঙ্গম এবং “অসংখ্য অস্থিরমতি অভিযানে” মেতে ওঠে। অন্যদিকে ফারমিনা একটা ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত নগরের এক বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে বিবাহ-বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে এবং তার পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে এক নিষ্করুণ জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়। লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা সেই সম্পর্কেরই অতুলনীয় কল্পনার নির্ঘন্ট, বিশ্ব সাহিত্যের ইতিহাসে তার শুধু গুটি কয়েকই নিদর্শন হয়ে আছে- সেই কল্পনার সঙ্গে রয়েছে এমনই এক মানবিক মোহভঙ্গ যার মাধুর্য, মহানুভবতা ও প্রজ্ঞা বিস্ময়কর। এটা আমাদের এমন এক আনন্দঘন অনুভূতি ও শিক্ষার জন্য একটা মহান স্তোত্রসঙ্গীত উপহার দেয় যাতে রহস্যময় উপায়ে মানবীয় আত্মা ট্র্যাজেডি ও কামাত্মক ভালোবাসার রূপান্তর ঘটায় এবং তার দ্বারা তারও রূপান্তর ঘটে।
মার্কেসের আর সব বইয়ের মতো, এর সবথেকে বড় গুন হলো একটা রহস্য, গা-ছমছমে ভাব জাগিয়ে তোলার বিলাসিতা, বাস্তবতার নিয়মকে সম্পূর্ণত একটা বোধগম্যতার মধ্যে ঝুলিয়ে রাখা... এই শতাব্দীর সবথেকে আলোচিত একজন লেখকের কথিত একটা কালহীন মানবীয় কাহিনি।
-এ্যান টাইলার, শিকাগো সান-টাইমস বুক উইক
মন কেড়ে নেওয়ার মতো উচ্চতম পর্যায়ের শিল্প। ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচুডের পর এটাই তাঁর শ্রেষ্ট সৃষ্টি। তাঁর অন্তর্বিক্ষণ অত্যন্ত প্রগাঢ়, গভীর।
-ক্লিভল্যান্ড প্লেইন ডিলার
বিস্ময়কর ক্ষমতার আর সুস্বাদু মিলনরসের এক প্রেম-কাহিনি... ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচুড-এর অনুরাগীদের বিশ্বাস করা কষ্টকর হতে পারে যে গার্সিয়া মার্কেস এর থেকেও আরও ভালো উপন্যাস লিখতে পারেন। কিন্তু তিনি ঠিক সেটাই করেছেন।
-নিউজউইক
এই বই আবেগ প্রকাশের দিক দিয়ে অত্যন্ত উৎকৃষ্ট ও খুব চমৎকার- বৃদ্ধ বয়সের অসাধারণ কাব্যায়ন। সবকিছু চোখের সামনে উঠিয়ে নিয়ে আসে। বেহাল করে দেওয়ার মতো গরম, সাগরের উপস্থিতি, ঝড়ের উচ্ছাস... সেই বিশাল উপকূলীয় জলাভূমি যেখানে ১৯২৮ সালে গার্সিয়া মার্কেস জন্মেছিলেন, ঋতুচক্র ফিরে আসার মতো গৃহযুদ্ধের প্রাদুর্ভাব। এতে বলা হয় যে ভালোবাসা অন্ধ নয়, কিন্তু সব দোষত্রুটি দেখতে পায়, তবুও তাতেকিছু এসে যায় না।
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ১৯২৭ সালে কলোম্বিয়ার আরাকাতাকায় জন্মগ্রহন করেন। তিনি বোগোতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীকালে তিনি কলোম্বিয়ার এল এস্পেক্তাদর সংবাদপত্রের রোম, প্যারিস, বার্সেলোনা, কারাকাস ও নিউ ইয়র্কের বৈদেশিক সংবাদদাতা হিসাবে কাজ করেন। তিনি বেশ কয়েকটি উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থের রচয়িতা, তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল: আইজ অব আ ব্লু ডগ (১৯৪৭), লিফ স্টর্ম (১৯৫৫), নো ওয়ান রাইটস টু দ্য কর্নেল (১৯৫৮), ইন ইভিল আওয়ার (১৯৬২), বিগ মামা’স ফিউনারেল (১৯৬২), ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচুড (১৯৬৭), ইনোসেন্ট এরেন্দিরা এ্যান্ড আদার স্টোরিজ (১৯৭২), দ্য অটাম অব দ্য প্যাট্রিয়ার্ক (১৯৭৫), ক্রনিকল অব আ ডেথ ফরটোল্ড (১৯৮১), লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা (১৯৮৫), দ্য জেনারেল ইন হিজ ল্যাবেরিন্থ (১৯৮৯), স্ট্রেঞ্জ পিলগ্রিমস (১৯৯২), অব লাভ এ্যান্ড আদার ডেমনস (১৯৯৪) এবং মেমোরিজ অব মাই মেলানকলি হোরস (২০০৫)। দীর্ঘ রোগভোগের পর গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ১৭ এপ্রিল ২০১৪ সালে প্রয়াত হন।