কুরআন, সুন্নাহ (সনদ ও মতন সহীহ হাদীস) ও Common sense (আকল, নুহা, সাফাহ, বিবেক, বোধশক্তি, কা-জ্ঞান, হুশ, Logic, Conscience, Reasoning, Justification, Instinct, Rationality) অনুযায়ী মু’মিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তথা সবচেয়ে বড়ো সাওয়াবের কাজ হলো কুরআনের জ্ঞানার্জন করা এবং সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয় তথা সবচেয়ে বড়ো গুনাহ হলো কুরআনের জ্ঞান না থাকা। যে দুটি বিষয় কুরআনের সঠিক জ্ঞানার্জনের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে তা হলো- কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা (তাফসীর)। তাই, কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা জানা-বোঝার সহায়ক বিষয় কী কী, তা ইসলামের অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুতরাং, এ বিষয়ে কুরআন ও সুন্নায় অবশ্যই তথ্য থাকবে এবং আছেও। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, আল কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা জানা-বোঝার সহায়ক বিষয় সম্পর্কে বর্তমান মুসলিম সমাজে যে সকল কথা চালু আছে তা কুরআন, সুন্নাহ ও Common sense-এর তথ্য থেকে বহু দূরে। এর ফলস্বরূপ কুরআনের অনেক বিষয়ের সঠিক শিক্ষা থেকে বর্তমান মুসলিম সমাজ অন্ধকারে। মুসলিম উম্মাহর বর্তমান চরম অধঃপতন এবং বিশ্বের বর্তমান অশান্তির এটি একটি মূল কারণ।
পুস্তিকাটিতে কুরআনের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা জানা-বোঝার সহায়ক বিষয় সম্পর্কে কুরআন, সুন্নাহ (সনদ ও মতন সহীহ হাদীস) ও Common sense-এর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আশাকরি উপস্থাপিত তথ্যগুলো জানার পর পাঠক সমাজ বর্তমানে কুরআনের অর্থ জানা-বোঝা কত সহজ তা অনায়াসে বুঝতে পারবেন। আর আরব ও অনারব মানুষেরা কুরআনের ব্যাখ্যা জানা-বোঝার অতীব সহজ উপায়টিরও সন্ধান পেয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। এর সম্মিলিত ফল হবে মানবতার কল্যাণ। কারণ, কুরআন শুধু মুসলিম জাতির কল্যাণের কিতাব নয়; বরং বিশ্বমানবতার কল্যাণের কিতাব।
Title
গবেষণা সিরিজ - ৩৪ : কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা জানা-বোঝার সহায়ক বিষয় হিসেবে ব্যাকরণ, অনুবাদ, উদাহরণ, আকল ও সাধনার গুরুত্ব
প্রফেসর ডা. মো. মতিয়ার রহমানের জন্ম বাংলাদেশের খুলনা জেলার ডুমুরিয়া খানার আরজি-ডুমুরিয়া গ্রামের এক ধার্মিক পরিবারে। নিজ গ্রামের মাদ্রাসায় তাঁর শিক্ষা জীবন আরম্ভ। ছয় বছর মাদ্রাসায় পড়ার পর তাঁকে ডুমুরিয়া হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালে তিনি যথাক্রমে ডুমুরিয়া হাইস্কুল ও সরকারী বি.এল কলেজ, দৌলতপুর, খুলনা থেকে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি পাস করেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে MBBS পাস করেন। দ্বিতীয় ও ফাইনাল প্রফেশনাল MBBS পরীক্ষায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাক্রমে ৬ষ্ঠ ও ১০ম স্থান অধিকার করেন।
MBBS পাস করে তিনি সরকারি চাকুরীতে যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে ইরাক সরকারের চাকুরী নিয়ে সেদেশে চলে যান। ৪ বছর ইরাকের জেনারেল হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে চাকুরী করার পর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান এবং ১৯৮৬ সালে গ্লাসগো রয়েল কলেজ অফ ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জনস থেকে জেনারেল সার্জারিতে FRCS ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশে ফিরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে কনসালট্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রফেসর এবং সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।। তিনি ল্যাপারোসকোপ (Laparoscope) যন্ত্র দিয়ে একক হাতে (Single handed) পিত্তথলির পাথর (Gall Bladder Stone) অপারেশনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ সার্জন (Surgeon)।
প্রফেসর ডা. মো. মতিয়ার রহমান চিকিৎসক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি দীর্ঘ দুই দশক ধরে কুরআন গবেষক হিসেবে ব্যাপক ও মৌলিক কাজ করে আসছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় হলো- ইসলামের সে সকল মূল বিষয়, যা সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের বক্তব্য এবং বর্তমান বিশ্বের মুসলিমদের জ্ঞান ও আমলের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। ইতোমধ্যে তাঁর লেখা ৪৩টি গবেষণাধর্মী পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে। এসব পুস্তিকায় তিনি মুসলিম সমাজে প্রচলিত জ্ঞানগত ভুল ধারণার সংস্কার করে কুরআন, সুন্নাহ ও Common sense-এর আলোকে ইসলামের সঠিক তথ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হলো 'আল কুরআন যুগের জ্ঞানের আলোকে অনুবাদ' এবং 'সনদ ও মতন সহীহ হাদীস সংকলন'। এ দুটির সম্পাদনা পরিষদের নেতৃত্ব তিনি দিয়েছেন। এ ধরনের কুরআনের অনুবাদ ও হাদীস সংকলন পৃথিবীতে এ দুটোই প্রথম।