পবিত্র মক্কা শহরের নামের সাথে আমার হৃদয়ের আবেগের সম্পর্ক আশৈশব। যে শহরে জন্মেছিলেন আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মদ সা.। যে শহর আবাদ করেছেন আল্লাহর অনুগত বান্দা হজরত ইবরাহিম আ., কুরআনে তাঁর দীর্ঘ পথ পরিক্রমার বিস্তৃত বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহর প্রতি তাঁর স্ত্রী হাজেরা এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল এর অসাধারণ আনুগত্য এবং আল্লাহর আদেশ পালনে আন্তরিকতার ইতিহাস পবিত্র কুরআনে প্রশংসার সাথে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর প্রেরিত নবিদের মধ্যে ইবরাহিম আ. কে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়েছে দুটি উপায়ে, প্রথমত, তাকে মুসলিম জাতির পিতা সম্বোধন করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত: তাঁকে হানিফা বলা হয়েছিল যার অর্থ হচ্ছে একনিষ্ঠ ও ধৈর্যশীল। হজরত ইবরাহিম আ. ইরাক বা মেসপটিমিয়া বা ব্যাবিলনীয় সভ্যতার অঞ্চলে এক মূর্তিপূজারী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ঐতিহ্যগতভাবে তার পিতা মূর্তিপূজাকে কেন্দ্র করে মূর্তি নির্মাতা ছিলেন। হজরত ইবরাহিম আ. স্বপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিভিন্ন মাধ্যমে স্রষ্টাকে খুঁজে বেড়ান। প্রথমত, তাদের সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন মূর্তির মাঝে শক্তির সন্ধান করে দেখেন মূর্তিগুলো আসলে শক্তিহীন। আকাশের সূর্যকে আলোকোজ্জ¦ল এবং তাপ প্রদানকারী দেখে সেটিকে স্রষ্টা মনে করেন। দিনের শেষে সূর্যকে অস্ত যেতে দেখে তার ওপর আস্থা হারান। অতঃপর আকাশের তারকারাজিকে স্রষ্টা ভাবেন, আবার চাঁদের আলোয়
তারাগুলো ম্রিয়মান হয়ে যেতে দেখে তারাগুলোর উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন। অবশেষে, তিনি আল্লাহর ইলহাম পেয়ে বলেন, ‘ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজ হিয়া লিল্লাজি ফাতারসসামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকিন’ ভাবার্থ ‘আমি তো একমুখী হয়ে নিজের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সেই মহান সত্তার দিকে কেন্দ্রীভূত করছি যিনি পৃথিবী এবং জগৎসমূহের স্রষ্টা এবং আমি কস্মিনকালেও মুশরিকদের মধ্যে শামিল নই’ (সুরা আন’আম, ৬: ৭৯)।
ড. আবু খলদুন আল-মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী, বারডেম একাডেমি থেকে এমফিল এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সাইন্স মালয়েশিয়া থেকে কেমিকেল প্যাথলজিতে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজে বায়োকেমিস্টি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক Index Journal-এ এ পর্যন্ত তার বিশটি মৌলিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ইসলাম সম্পর্কে তার প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা পাঁচটি। তার রচিত Insulin Resistance উপর গ্রন্থ জার্মানী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বিদেশী গ্রন্থের বাংলা অনুবাদে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৭ সালে নজরুল একাডেমী'র মাওলানা আকরাম খাঁ পদক সম্মাননা লাভ করেছেন তিনি।