নবী-রাসুল 4 -গণের জীবনীর দিকে লক্ষ করলে একটি বিষয় চোখে পড়ে কের্মি সম্প্রদায়ের কাছে দাওয়াহ দেয়ার সময়, তাঁরা ঐ ওই সম্প্রদায়ের মূল সমস্যাকে চিহ্নিত করতেন, সরাসরি সতর্ক করতেন। মূল সমস্যাকে ফেলে রেখে বিভিন্ন গৌণ বিষয়ে মনােযােগী হতেন না তাঁরা 40। এটাই নববী দাওয়াহর বৈশিষ্ট্য। দুঃখজনকভাবে এ বৈশিষ্ট্য আজ বিরল। ইসলামের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের যুদ্ধের এ কালে আমাদের সামনে তুলে ধরা হয় কাটছাঁট করা এক ইসলামকে। ড.ইয়াদ কুনাইরী ওইসব দা’ঈদের একজন, যাদের লেখা এবং বক্তব্যে ওপরে বল নববী দাওয়াহর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তিনি ওই কথাগুলাে বলেন, যেগুলাে আমরা শুনতে চাইনা, কিন্তু আমাদের শােনা দরকার। এমন-সব কথনাে অপ্রিয় কিন্তু সবসময় প্রয়ােজনীয় চি, কথা আর উপলব্ধি দিয়ে সাজানাে হয়েছে আয়নাঘর। আমরা আশা করি এ বই পাঠককে সাহায্য করবে নিজের, বর্তমান ও ভবিষ্যতকে ইসলামের আয়নায় যাচাই করছে। এ আয়নায় ফুটে ওঠা প্রতিবিম্ব অনেক সময় আমাদের পছন্দ নাও হতে পারে৷ কিন্তু কষ্ট হলেও এ প্রতিবিম্বকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেথা আমাদের নিজেদের এবং উম্মাহর সংশােধনের জন্য জরুরি। ২য় ফ্লাপের কিছু কথা:
আয়না! হয়তাে আমরা খেয়াল করি অথবা করি না, কিন্তু আমাদের জীবনের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার সাথে জড়িয়ে থাকে আয়না৷ জীবনপথে ক্লান্ত হয়ে আয়নায় | আশ্রয় খুঁজি আমরা। জান্নাত বা জাহান্নাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই পথে চলতে গিয়ে ধুলাে জমে আমাদের হৃদয়েও। চিরচেনা আয়নায় বিকৃত হতে থাকে প্রতিবিম্ব। পরহের পর পরত জমে ময়লা। একের পর এক হাতে তুলে নিই নানা মতবাদ, নানা তত্রমন্ত্রের আয়না। ধরা পড়েনা অসুখ। ক্রমাগত | আয়না বদলাই। ভুল প্রতিবিম্ব আর ভুল চিকিৎসায় আরও বাড়ে যক্ষ্মণা। পুরু হতে থাকে ময়লার পরত... কিন্তু জানেন, রূপকথার স্নাে-হােয়াইটের সেই জাদুর আয়নার চাইতেও শতগুণ বেশি নির্ভুল আয়ন ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে? সেই আয়না দেখে, পরিপাটি করে তাঁরা সাজিয়েছিলেন নিজেদের। সাজিয়েছিলেন এই পৃথিবীকে৷ সেজেছিল মেঘ; রােদ, জোছনা; সেজেছিল মরু, নদী, সাগর। তাঁরা মানুষকে ডেকেছিলেন সৃষ্টির দাসত্ব থেকে স্রষ্টার দাসত্বের দিকে; এ দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রশস্ততার দিকে। লিখেছিলেন মাটির পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে মহাকাব্যিক অধ্যায়টি.. ধুলাে পড়া সময়ে হারিয়ে যাওয়া সেই আয়নার কথা মনে করিয়ে দিতেই আমাদের এই আয়ােজন...