এককালে নায়িকাদের সঙ্গে প্রেম করত ডিরেক্টর জাহিদ। এখন নায়িকাদের ভাল লাগছে না। জাহিদের ধারনা নায়িকারা এখন অফ স্ক্রিনেও অভিনয় করে। জাহিদ পর্দার বাইরের অভিনয় আজকাল ধরতে পারছে না। জহুরির চোখেও ছানি পরে এমন মনে হয় জাহিদের। অদিতি মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে এর নায়িকা হবার দরকার ছিল। যদিও চেহারা খুব তীক্ষ্ণ নয় তবে একটা বুনো সৌন্দর্য আছে। ধারালো চিবুক আর চৌকোনো মুখে পুরোনো দিনের নায়িকাদের মুখের আদল আছে। সাদা কালো টোনে পুরনো দিনের একটা সিনেমা বানানোর কথা ভাবছিলেন ওখানে একে মানাত খুব। এই মেয়ের চেহারায় বিগত দিনের অভিনেত্রি শর্মিলা ঠাকুরের বেশ মিল আছে। যার যেমন প্রতিভা আছে ঠিক তার উলটো করবে মেয়েগুলো। এরা সবসময় দুই লাইন বেশি বোঝে। এই মেয়ের নায়িকা হবার কথা ছিল; এই মেয়ে হয়েছে কথাশিল্পী। এখন বললে ধরেই নেবে জাহিদ ওর সঙ্গে প্রেম করতে চায় বা এমন কিছু। মেয়েটা সুন্দর করে কথা বলে নয়ত জাহিদ রাজি হত না ওর গল্প শুনতে। এর গল্প ও ক্লিশে হবে ধরে নিল জাহিদ। “আসলে আপনাকে আমি ছয়টা গল্প শোনাব। একেকটা গল্প আধ ঘণ্টার। সবাই থ্রিলার বানাচ্ছে। ভালবাসার গল্পে মধুর সমাপ্তি খুব ক্লিশে। আমি আপনাকে অন্যরকম গল্প শোনাব। গল্পে সব এলিমেন্ট থাকবে। একটু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট না থাকলে ওটিপির গল্প গুলো ঠিক জমে না। যা হোক আমার ছয়টা গল্প এক সুত্রে বাঁধা। আমরা ষড়রিপুর গল্প বলব অর্থাৎ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য। অবশ্য আপনার যদি পছন্দ হয় তাহলেই তো একসঙ্গে গল্প বলা হবে”। জাহিদ ঘড়ি দেখল তারপর অদিতির দিকে তাকিয়ে বলল, “ আপনার গল্প শুনব। তবে আপনি আধ ঘণ্টার বেশি এক মিনিট ও পাবেন না। অযথা ভুমিকা বলে আর আমার অফিসে ঢুকতে প্রায় পাঁচ মিনিট সময় নষ্ট করেছেন। আপনার কাছে সময় আছে পচিশ মিনিট আর বলতে হবে ছয়টা গল্প”। “ যদিও রিপুর প্রথম রিপু কাম আমরা প্রথমে শুনব অহংকারের গল্প। আমার প্রথম গল্পের নাম “আয়নাঘর”। এই গল্প মদ বা অহংকারের”।
ফারহানা সিনথিয়া শৈশব কেটেছে ঢাকায় বাংলাদেশে। এরপর কানাডা। বাবা চার্টার্ড একাউন্টেন্ট ছিলেন আর মা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা। বই পড়া শুরু অধ্যাপক নানার ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায়। সেখানেই ম্যাক্সিম গোর্কির বাংলায় অনূদিত লেখা পড়ে বিদেশি সাহিত্যের সঙ্গে পরিচয়। ইংরেজিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা স্বত্তেও বাংলা সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ ছিল ছেলেবেলা থেকেই। কানাডা থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে চাকরি করছেন । জনপ্রিয় দৈনিক প্রথম আলোতে ও ভোরের কাগজে নিয়মিত ছোট গল্প লেখেন। লেখালেখি করে সবচেয়ে বড় অর্জন বাংলাদেশের সাথে পুনরায় মনের সংযোগ স্থাপন। ২০২১ বইমেলাতে এসেছে ডিটেক্টিভ থ্রিলার “আবর্ত”। ২০২২ বইমেলাতে প্রকাশিত হয় প্রবাসী জীবনের আখ্যান নিয়ে রচিত " দ্বিতীয় জীবন"। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার " কৃষ্ণচূড়ার দিন" ২০২৩ এর বইমেলায় পাঠকপ্রিয় হয়। ২০২৪ এর বইমেলাতে প্রকাশিত হল সামাজিক উপন্যাস " শরতের শেষ থেকে" আর গল্পগ্রন্থ "ষড়রিপু"।২০২৫ বইমেলায় এসেছে সমকালীন উপন্যাস " বৃষ্টির রং হয়ে যাবে নীল" আর রহস্য উপন্যাস " কুহকিনী"।