ইকিগাই
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি দীর্ঘআয়ু মানুষের দেখা পাওয়া যায় জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে আর সেই সব মানুষের দীর্ঘ ও সুখী জীবনের রহস্য নিয়ে লেখা 'ইকিপাই' এই বইটি। আর সে জন্য সুখী ও দীর্ঘ জীবন যাপনের রহস্য জানার জন্য এই বইটি সবার পড়া উচিত। যা আপনার সুখী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা মানুষ, আমাদের প্রত্যেকের জীবনের 'ইকিগাই' ভিন্ন রকম, কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই জীবনের অর্থ খুঁজতে থাকি। যখন আমরা নিজেদের 'ইকিগাই'-এর সাথে যুক্ত হতে পারি তখন আমাদের কাছে জীবন অর্থপূর্ণ বলে মনে হয় এবং কাজ আমাদের আনন্দ দিতে শুরু করে। যখন আমাদের 'ইকিগাই-এর সাথে সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, তখন আমাদের কাছে জীবন অর্থহীন হয়ে ওঠে।
আধুনিক জীবন আমাদেরকে আমাদের প্রকৃত স্বভাব থেকে দূরে নিয়ে যায়। পয়সা, ক্ষমতা ও পদোন্নতি আমাদের মূল স্বভাবের থেকে দূরে নিয়ে যায়। এই তিনটি জিনিসকে কখনই নিজের জীবনে চেপে বসতে দেবেন না। আমাদের ভেতরে যে উৎসুকতা এবং ইন্টিউশন আছে তাকে দিক নির্ধারণ যন্ত্রের মতো ব্যবহার করুন। তাই আমাদের 'ইকিপাই পর্যন্ত নিয়ে যাবে। তার থেকে লাভবান হন ও নিজের প্রকৃত আনন্দ পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। যা পছন্দ হয়না, তার থেকে দূরে থাকুন।
নিজের ভেতরের উৎসুকতাকে মরতে দেবেন না, কারণ সেটাই আপনার জীবের আসল অর্থ খুঁজে বার করে। কোনো মহান কাজ করা জীবনের উদ্দেশ্য, এমনটা নাও হতে পারে, হয়তো ভালো বাবা-মা হওয়া বা আপনার প্রতিবেশীকে সাহায্য করাও আপনার ইকিগাই হতে পারে। জীবন কোনো ধাঁধাঁ নয়, যে আপনি এর উত্তর খুঁজে পাবেন। শুধুমাত্র এমন কিছু ভাবুন যার দ্বারা আপনি নিজের সবচেয়ে পছন্দের কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন। আর সেই কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকুন, যেকোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন যাতে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা করতে পারেন।
কাইজেন
"ছোটো ছোটো বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল। ঠিক তেমনি ছোটো ছোটো কিছু সুঅভ্যাসের ধারাবাহিক প্রয়োগের মাধ্যমে আপনার জীবনেও আসতে পারে কাঙ্ক্ষিত ও বড় মাপের ইতিবাচক পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের পদ্ধতিই জাপানী ভাষায় পরিচিতি কাইজেন' নামে। কাইজেন মূলত দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত, কাই পরিবর্তন, জেন = ভাল। ভালোর জন্য যে পরিবর্তন তাকে বলে কাইজেন। স্বভাবসুলভভাবেই জাপানিজরা শব্দটিকে বাস্তবে প্রয়োগ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি তাদের কর্ম জীবনেও এই শব্দের যথাযথা ব্যবহার করেছেন, এনেছেন সাফল্য। সেই একই পদ্ধতি কার্যকর অন্যান্য দেশ ও সংস্কৃতিতেও, যার প্রয়োগে সেখানকার মানুষের জীবনেও আসতে পারে ইতিবাচক ও দীর্ঘস্থয়ী পরির্তন।
দি থিংস ইউ ক্যান সি অনলি হোয়েন ইউ স্লো ডাউন
হেমিন সুনিম দক্ষিণ কোরিয়ার প্রভাবশালী জেন লেখকদের একজন। এ পর্যন্ত তার বই তিন মিলিয়ন কপিরও বেশি বিক্রি হয়েছে। বইটি শুধু যে ধ্যান বা মেডিটেশনের গাইড হিসেবে জনপ্রিয় তা নয়, এতে দৈনন্দিন জীবনের বাধা বিপত্তি কাটিয়ে ওঠার চমৎকার সব পদ্ধতি দেয়া আছে। ব্যস্ততায় আপনার নাভিশ্বাস উঠছে? মেজাজ খারাপ? সবকিছুই করছেন অথচ কিছুই হচ্ছে না? এদিকে আবার কিছু মানুষ সবসময় হাসিমুখে শান্ত থেকেই জীবনে উন্নতি করছে। কীভাবে করছে তারা? কী জাদু জানে এই মানুষগুলো? মানুষের কাছ থেকে আঘাত পেতে পেতে পাথর হয়ে গিয়েছেন? সবাই শুধু নিজের স্বার্থটাই বোঝে, আপনাকে শুধু ব্যবহার করতে চায়? মন চায় নিজেও স্বার্থপর হয়ে যাই। এরই মাঝে কিছু মানুষ আবার সবার কাছেই প্রিয়। কি কৌশলে এমন হয়? জীবন চালিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন কিন্তু কাজটা পছন্দ হচ্ছে না? আপনার সব থাকার পরেও মনে হয় জীবনটা শুন্য? আবার আপনার ভালো লাগার কাজ করতে গিয়ে পিছিয়ে পড়ছেন?
এরই মধ্যে দেখবেন কিছু লোক নিজের প্যাশন নিয়েই জীবনে উন্নতি করছে। কিভাবে করছে তারা এটা? কাউকে ভালোবাসেন? কিন্তু ভালোবাসার মানুষটি একের পর এক আপনার অনুভূতিতে আঘাত দিয়েই যাচ্ছে? ভালোবেসে নিজেকে ব্যর্থ মানুষ মনে হচ্ছে? এরই মাঝে কেউ কেউ অনেক ভালোবাসা পাচ্ছে, সুখে আছে। এই ভালোবাসা তারা কীভাবে পায়? জীবন চলার পথের কাজগুলো হয়তো আপনাকে করতে হবে। কিন্তু এমন কিছু জ্ঞান আমাদের দরকার যাতে জীবনটা সহজ হয়, সুন্দর হয় কিন্তু ফলপ্রসূও হয়। আমাদের মনের নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাছে থাকা জরুরি। কিন্তু আমরা শুধু ভেবেই যাই, শেষ পর্যন্ত ভাবি এ ব্যাপারে কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই। কিন্তু হেমিন সুনিম এর মতে আছে। এই বইটি একটি উপদেশ মূলক বই। উপদেশ তো সবাই দিতে পারে। কিন্তু এই বইটি সচরাচর উপদেশমালা থেকে আলাদা। কারণ এতে কী করতে হবে তাই শুধু বলা হয়নি, সেটা কিভাবে করতে হবে তাও বলা আছে। ছোট হয়ে আসা এ পৃথিবীতে ছুটতে ছুটতে কখনো কি মনে হয়েছে আসলে আমি কি করছি? কি আমার উদ্দেশ্য? জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে সবারই এমন মনে হয়। হেমিন সুনিম কাব্যিক ঢঙে জীবন নিয়ে কথা বলেছেন, জীবনের বাস্তব সমস্যা গুলোর দিকে আলাদাভাবে তাকানো শিখিয়েছেন। বই পড়ে কখনো আপনার মনে হবে বৈষয়িক, জাগতিক উন্নতির পথ দেখানো হয়েছে, আবার কখনো গভীর আধ্যাত্মিকতার স্বাদ পাবেন এতে। পড়ে দেখুন, কাজে লাগবে।
লাভ ফর ইমপারফেক্ট থিংস
"আগে নিজে ভাল হও, তারপর অন্যদের কাছে যাও" কথাটি শুনে বজ্রপাতের মতই মনে হল। আমাদের মধ্যে অনেকেই মানসিক ভাবে এবং সমস্যাগুলিকে উপেক্ষা করে জীবনের ব্যস্ততার দিকে সাড়া দিই, ফলশ্রুতিতে তা মাঝেমাঝেই হতাশা বা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাড়ায়। অন্যরা অফিসে, স্কুলে বা বাড়িতে কঠোর পরিশ্রম করে এই আশায় প্রতিক্রিয়া দেখায় যে, এটি নিজেদেরকে এবং আমরা যাদের ভালোবাসি তাদের আরও সুখী করে তুলবে। কিন্তু নিজের জন্য হলে কি যথেষ্ট হবে? যেমন বিমানে আগে আমাদের নিজেদের অক্সিজেন আগে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয় তারপর অন্যদের সাহায্যের কথা বলে, তেমনি আমাদের এই বিশ্বের চারপাশে শান্তিতে থাকার আগে আমাদের অবশ্যই নিজেরদের মধ্যে শান্তি থাকতে হবে।........
ওয়াবি সাবি
এই বই অতি সাধারণ উপাদান দিয়ে নান্দনিক জীবন তৈরীর বই। দৈনন্দিক জীবনে নান্দনিকতা, প্রশান্তির মূল উৎস খোঁজার বই। রুচি কাকে বলে, একটা জিনিস কেন রুচিশীল হয়, কীভাবে হয় সেটা আছে এই বইতে। সৌন্দর্য সৃষ্টি, নিজের চারপাশে সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয়ার পিছনে যে দর্শন আছে সেটাই ব্যাখ্যা করা হয়েছে এতে। ওয়াবি সাবি একটা জাপানি দর্শন। জাপানে এক কালে এখনকার মত এত ঐশ্বর্য ছিলনা, ঐশ্বর্য নিজ হাতে অর্জন করে নিয়েছে এরা। কিন্তু এরা এত মারাত্মক রকম পরিশ্রমী হয়ে গেল কীভাবে? কোথা থেকে এত কাজ করার আর মেধা অর্জনের শক্তি আসে? যখন কিছুই ছিল না, তখন কোথা থেকে তাগিদ আসত, কোথা থেকে উৎসাহ আসত? আত্মহত্যার জন্য আমাদের কাছে জাপানের কুখ্যাতি আছে। কিন্তু দেশটা যে বছরের পর বছর সুখী দেশের তালিকায় শীর্ষ দশে থাকে, সে খবর আমরা রাখিনা।
কখনো ভেবে দেখেছেন জাপানি সব কিছু এত ডিটেইলে নজর দেয়া কেন? এত নিখুঁত কেন? অকল্পনীয় সব উদ্ভাবনের পাশাপাশি অবাক করা চমক থাকে এদের প্রত্যেকটা কাজে। শুধু প্রযুক্তির চমক দিয়ে এদেরকে বিচার করলে বিরাট একটা ভুল হবে। দৈনন্দিন জীবনে সব কলাকৌশল আর পদ্ধতি থাকে এদের। "Proof that Japan is living in the future" লিখে সার্চ করে দেখুন, অবাক হবেন।
বাংলাদেশ সহ তৃতীয় বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এখন জাপানের সেই মধ্যযুগের দুঃসহ পরিস্থিতি। আমরা কি জাপানিদের কোন কৌশল, জীবনপদ্ধতি কাজে লাগাতে পারি?