বইটি সম্পর্কে প্রকাশকের সংক্ষিপ্ত কিছু কথা: আল কুরআন বুঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হচ্ছে তাফসীর ও মুফাসসিরদের ইতিহাস জানা। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সালাফ'রা যেভাবে কুরআন বুঝেছেন ও নিজেদের জীবনে ধারণ করেছেন আমাদেরও সেইভাবেই বুঝতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় সেভাবে না বুঝে আমরা আমাদের আকল ও মনগড়া যুক্তি দিয়ে, আল্লাহর (কালাম) কথা'কে বুঝতে চাই! আর এভাবেই কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা করে মুসলিম জাতি আজ বহুদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অথচ কুরআন আমাদের প্রিয় রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অহিরুপে নাযিল করা হয়েছে, যা মানব জাতির মুক্তির একমাত্র পথপ্রদর্শক। কুরআন'কে ভালোভাবে বুঝতে গেলে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবিদের মত করে বুঝতে হবে। আবার তাদের কাছ থেকে যারা বুঝেছেন তাদেরও বুঝ নেওয়া যাবে। আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবিদের বুঝ ব্যাখ্যা'কে সামনে রেখে তাবেঈগণ তাবে-তাবেঈগণ থেকে শুরু করে ইমামগণ ও পরবর্তী একই পথের সকল অনুসারী তাফসীর কারকগণের থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তবে অত্যান্ত দুঃখের বিষয় ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায় অনেক তাফসীর কারক এই মূলনীতি অনুসরণ না করে ভুলে ভরা তাফসীর আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। যা যুগে যুগে এই উম্মাকে বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ-কারণে আল-কুরআনের সঠিক তাফসীর ও তাফসীর কারকদের ইতিহাস জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর তারই উপর ভিত্তিকরে উপমহাদেশের বিখ্যাত আলেম "ড. গোলাম আহমাদ হারীরী (রাহিমাহুল্লাহ) এক সুবিশাল গ্রন্থ রচনা করেছেন যেখানে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাহাবাগণ, তাবেঈগণ ও তাবে- তাবেঈগন থেকে পরবর্তী ইমামগণের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কুরআনের বহু অপব্যাখ্যা ও অপব্যাখ্যাকারীদের বাতিল ফিরকা তুলে ধরা হয়েছে। যা থেকে বেচে থাকা না গেলে ঈমানহারা হবার সম্ভাবনা বেশি। তাই আমাদের যেমন কুরআন থেকে সঠিক ব্যাখ্যা জানতে হবে ঠিক সেভাবে অপব্যাখ্যাকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। আমরা আশা করি সেই কাজের সাহায্যকারী হিসেবে বইটি আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, ইনশাআল্লাহ।