জন্মগতভাবেই মানুষ রহস্যময়। আদি পিতা হযরত আদম হাওয়া আ. থেকে শুরু করে সদ্যভূমিষ্ট হওয়া নবজাতক শিশুটির ধরন-বরন সবকিছুই ভিন্ন ও অনন্য। কেউ কারও মতো নয়, সবাই আলাদা। সেজন্যই বোধহয় সক্রেটিস বলেছিলেন Know Thyself অর্থাৎ নিজেকে জানো। মানুষ এতটাই রহস্যময় যে সে আজও পর্যন্ত নিজেকেই ঠিকভাবে জানতে পারেনি। তাহলে অন্য মানুষকে জানবে কী করে? আসলে জানা এবং চেনা দুটো শব্দের অর্থগত কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কাউকে জানতে হলে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ এমনকি সারাজীবনও লেগে যেতে পারে। কিন্তু কাউকে চিনতে হলে লাগে কিছু কৌশল, নিদর্শন এবং বুদ্ধিমত্তা। সেজন্য আমরা বইটির নাম দিয়েছি "মানুষ চেনার কৌশল"। এখানে আমরা এমনকিছু নিদর্শন, যুক্তি এবং কৌশল তুলে ধরেছি, যেগুলো প্রয়োগ করে যেকোনো মানুষকে খুব সহজেই আপনি চিনতে পারবেন। মানুষের মুখের মুখোশটা সরিয়ে দিলেই তার আসল রূপ আপনি দেখতে পাবেন। আমরা সেই মুখোশ সরিয়ে দেয়ার পদ্ধতিটাই আপনাকে শিখিয়ে দিচ্ছি। বইটি যখন পড়তে শুরু করবেন তখন আপনার পরিচিত প্রতিটি মানুষকে বইয়ের পাতায় উপলব্ধি করবেন। মনে হবে তারা আপনার চোখের সামনে বসে আছে, হাটা চলা করছে—কিন্তু আজকে তাদের মুখে কোনো মুখোশ নেই। কারণ মুখোশটি খুলে দিয়েছে আপনার প্রিয় মানুষ চেনার কৌশল বইয়ের প্রতিটি যাদুময় কৌশল।
আপনার শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস, এলার্জি কিংবা উচ্চরক্তচাপ যাই হোকনা কেনো—বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আপনাকে বলবে, সয়াবিন তেল খাবেন না কারণ পার্শ প্রতিক্রিয়া আছে।
বেশি বেশি ঔষধ সেবন করবেন না, কারণ পার্শ প্রতিক্রিয়া হবে।
বেশি টেনশন করবেন না৷ কারণ এরও পার্শ প্রতিক্রিয়া আছে।
কিন্তু কখনো কি কেউ আপনাকে বলেছে যে খারাপ মানুষের সঙ্গে চলবেন না কারণ এদেরও পার্শ প্রতিক্রিয়া আছে?
কেউ বলুক বা না বলুক, আমি আপনাকে বলছি প্রত্যেকটা মানুষের পার্শ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কারও প্রতিক্রিয়া ভালো, কারওটা মন্দ।
কারওটা উপকারী কারওটা ক্ষতিকারক।
আপনার বিয়ে, ব্যবসা, বন্ধুত্ব, বেচা বিক্রি, সন্তান লালন, টিম ম্যানেজমেন্ট কিংবা যে কোনো সম্পর্কের প্রথম পদক্ষেপ হলো মানুষকে চিনতে পারা। কারণ এইসব ক্ষেত্রে একবার যদি ভুল করে ফেলেন সারাজীবন এই ভুলের মাশুল আপনাকে দিতে হবে। তাই মানুষ চেনার কৌশল শেখাটা আপনার জন্য অনেক বেশি জরুরি।
আশরাফুল ইসলাম জীবন লেখক, উদ্যোক্তা, ট্রেইনার ও হিউম্যান কোচ ব্যক্তিজীবনে তিনি স্বপ্নবাজ, সুখী এবং সমৃদ্ধ। তিনি স্বপ্ন দেখেন—সমাজের পিছিয়ে থাকা, হেরে যাওয়া, প্রতারিত হওয়া, আপনজন থেকে কষ্ট পাওয়া, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিজীবনে ঠকে যাওয়া এবং সুবিধাবঞ্চিত স্বপ্নবাজদের সাফল্যের সূত্র শিখিয়ে সফল হওয়ার পথ প্রদর্শন করবেন। সেই চাওয়া থেকেই ২০২০ সালের পহেলা নভেম্বর শুরু করেন ‘স্বপ্নিল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তার লক্ষ্য, আগামী দশ বছরের মধ্যে অন্তত দশ হাজার মানুষকে তিনি এডুকেশন, বিজনেস, সাকসেস এবং হ্যাপিনেসের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের—টাকা, সম্মান এবং খ্যাতি অর্জনে সহযোগিতা করবেন। তিনি মনে করেন—মানুষের D.N.A ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং চোখের রেটিনার মতো প্রতিটি মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাও ভিন্ন এবং অনন্য। সেই প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো মানুষ সফল হতে পারে। তৈরি করতে পারে নিজের একটা শক্তপোক্ত আইডেন্টিটি। মানুষ ভালোবেসে তার প্রশিক্ষণে মুগ্ধ হয়ে তাকে ‘কথার জাদুকর’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। তিনিও তাদের এই ভালোবাসা সাদরে গ্রহণ করে নিজেকে ‘কথার জাদুকর’ হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দশ লক্ষ মানুষকে কথার জাদুকর হওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়ে, মানুষের কমিউনিকেশন এবং লিডারশিপ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীতে মানবতা, ন্যায্যতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমৃত্যু কাজ করে যেতে চান। বৈষম্যমুক্ত, সুন্দর ও সমৃদ্ধ পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখেন আশরাফুল ইসলাম জীবন।