২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় তারেক রহমানের ভাষণ-বক্তৃতা শোনার জন্য মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছে। ৫ আগস্টে ফ্যাসিবাদী সরকারের পলায়নের পর তিনি যখন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনে চলেছেন তখন ১৭ কোটি মানুষ তাঁর কণ্ঠস্বর শোনার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে চেয়ে থেকেছে। ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ একজন সৎ ও যোগ্য নেতাকে খুঁজে ফিরেছে। খুনি হাসিনার বিদায়ের পর তারেক রহমান একটির পর একটি ইস্যুতে সাবলীলভাবে বলে গেলেন দেশকে এগিয়ে নেবার কথা। তার বক্তৃতায় আছে—দেশের কথা, মানুষের কথা, মানবতার কথা, শিক্ষার কথা, সমাজের কথা, আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা, সংস্কৃতির কথা, ঐক্যের কথা, মঙ্গল, কল্যাণ, ভালোবাসা, সত্য, সুন্দর তথা ইতিবাচক চেতনা ও আত্মিক শুচিতা অর্জনের কথা। সকল ক্ষুদ্রতা পরিহার করে গণতন্ত্র ও দেশপ্রেমের অনবদ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তারেক রহমান বিজয়ী বীরে পরিণত হয়েছেন।
তারেক রহমানের ভাষণ বা বক্তৃতা দেশ-জাতির আলোকবর্তিকা বলেই রাজনীতিবিদ ড. সাইফুল ইসলাম সুন্দর, সহজ-সরল ভাষায় ও যুক্তিপূর্ণভাবে মানুষের চাওয়া-পাওয়া, প্রত্যাশার কথাগুলো সংকলন করেছেন।
সংকলনে যেসব ভাষণ বা বক্তৃতায় মানুষের মুক্তির কথা, স্বাধীনতার কথা, বাকস্বাধীনতার কথা, সমতার কথা, সমবণ্টনের কথা, অধিকারের কথা, গণতন্ত্রের কথা, একতার কথা বলা হয়েছে রাজনীতি ও ইতিহাসের রসায়নে তা অনন্য হয়ে উঠেছে। ভাষণ ও বক্তৃতায় রয়েছে অন্যায়, অবিচারের প্রতিবাদ এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি সহিষ্ণু থাকার আহ্বান। তারেক রহমানের ভাষণ-বক্তৃতাগুলো ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
বলাবাহুল্য, এই সংকলন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এখন তারেক রহমান দূর প্রবাসে কিন্তু তাঁর কণ্ঠস্বর তাঁকে আমাদের মনের মণিকোঠায় স্থান দিয়েছে। বিএনপি’র কোনো মঞ্চে তাঁর যুক্ত থাকাটা অনিবার্য হয়েছে বলেই মানুষের মনে একটা কৌতূহল থাকে, তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য মানুষ বসে থাকে মঞ্চের সামনে।
কালের পরিক্রমায় তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের মনে চির জাগরূক থাকবেন তাঁর ভাষণ, বক্তৃতা, বিবৃতির মধ্য দিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবে লাখো মানুষ দেখেন ঠিকই কিন্তু বই ছুঁয়েও দেখতে চান কোটি মানুষ।
সেসব কৌতূহলী মানুষের কাছে গ্রন্থটি সাদরে গৃহীত হবে বলে আমরা মনে করি। সংকলিত বিবৃতি, বক্তৃতা, ভাষণ তথ্য হিসেবে এবং বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সকল শ্রেণির পাঠকের জাতীয়তাবাদী মানস গঠনে চিরায়ত বাণী হিসেবে কাজ করবে। গ্রন্থটি ইতিহাসের পাঠচক্রে বিবেচিত হবে জনাব তারেক রহমান সম্পর্কে ডিকশনারি হিসেবে।