হ্যামলেট উইলিয়াম শেকসপিয়রের অন্যতম বিখ্যাত ট্র্যাজেডি নাটক। এটি রাজপরিবারের প্রতিহিংসা, প্রতারণা, এবং নৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে রচিত। নাটকের প্রধান চরিত্র হ্যামলেট, ডেনমার্কের যুবরাজ। নিচে নাটকের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
---
প্রথম অংশ (পটভূমি):
ডেনমার্কের রাজা সম্প্রতি মারা গেছেন। তার ভাই ক্লডিয়াস সিংহাসন দখল করে এবং রাজার স্ত্রী (হ্যামলেটের মা) গারট্রুডকে বিয়ে করেন। রাজপ্রাসাদে এই ঘটনাগুলো হ্যামলেটকে গভীর দুঃখ ও ক্রোধে আচ্ছন্ন করে তোলে।
দ্বিতীয় অংশ (প্রেতাত্মার আগমন):
হ্যামলেট জানতে পারে যে তার বাবার আত্মা রাজপ্রাসাদে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রেতাত্মা জানায়, ক্লডিয়াস রাজাকে হত্যা করে সিংহাসন দখল করেছে। প্রেতাত্মা হ্যামলেটকে তার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বলে।
তৃতীয় অংশ (হ্যামলেটের দ্বিধা):
হ্যামলেট ক্লডিয়াসের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে দ্বিধান্বিত হয়। সে নিশ্চিত হতে চায় যে প্রেতাত্মার কথা সত্যি কিনা। এজন্য, সে একটি নাটক মঞ্চস্থ করে যেখানে হত্যার দৃশ্য প্রদর্শিত হয়। ক্লডিয়াস নাটক দেখে অস্থির হয়ে ওঠে, যা তার অপরাধের প্রমাণ দেয়।
চতুর্থ অংশ (হ্যামলেটের প্রতিহিংসার পরিকল্পনা):
হ্যামলেট ধীরে ধীরে প্রতিশোধের পথে এগোয়। কিন্তু তার ক্রোধ ও দ্বিধার কারণে রাজপ্রাসাদে আরও জটিলতা দেখা দেয়। এ সময়, হ্যামলেট ভুলবশত পলোনিয়াসকে হত্যা করে। এতে পলোনিয়াসের মেয়ে ওফেলিয়া পাগল হয়ে যায় এবং মারা যায়।
পঞ্চম অংশ (পরিণতি):
ওফেলিয়ার ভাই লারটিস, ক্লডিয়াসের প্ররোচনায় হ্যামলেটের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। একটি তরবারি লড়াইয়ে হ্যামলেট এবং লারটিস একে অপরকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। এদিকে, ক্লডিয়াসের দেওয়া বিষাক্ত পানীয় হ্যামলেটের মা ভুল করে পান করে মারা যান।
অবশেষে, হ্যামলেট ক্লডিয়াসকে হত্যা করে এবং নিজেও বিষের প্রভাবে মারা যায়। নাটক শেষ হয় রক্তক্ষয় ও ধ্বংসের মধ্য দিয়ে, যেখানে ডেনমার্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
---
মূল ভাবনা:
নাটকটি মানব প্রকৃতির গভীর বিশ্লেষণ এবং প্রতিশোধ, নৈতিকতা, এবং জীবনের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। হ্যামলেটের চরিত্র তার অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মানবিক দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি।