লেখক হওয়ার ভাবনাটা সেভাবে মাথায় ছিল না। থাকবে কী করে? পড়াশোনার বাইরে ক্রিকেট ছাড়া আর কিছু মনের মাঝে থাকলে তো? কীভাবে ‘বাংলাদেশের ইয়ান বোথাম’ হওয়া যায় সেটিই ছিল ধ্যানজ্ঞান। মাঠের বাইরেও ক্রিকেট সাহিত্যের প্রতি দুর্বলতা ছিল প্রকট। কিন্তু জন্মটা চরম রক্ষণশীল পরিবারে হওয়ায় একসময় বুঝে ফেলি যে, ইয়ান বোথাম তো দূরে থাক ব্রায়ান ম্যাকমিলান হওয়াটাও কপালে নেই আমার। তবে পত্রপত্রিকার পাঠক ছিলাম ক্লাস ফোর থেকেই। এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে মনে হলো, এবার লেখালেখিটাও চলুক। চুটিয়ে লিখতে থাকলাম স্পোর্টস ম্যাগাজিনে, একাধিক পুরস্কারও জেতা হলো।
২০০২ সালের মধ্যভাগ থেকে দৈনিক পত্রিকায় লেখা শুরু। লেখাটা সত্যিই নেশার মতো হয়ে গেছে, না লিখলে দুই সপ্তাহকেও দুই বছর মনে হয়। শুরুতে সমস্ত মনোযোগ ছিল খেলাধুলার দিকে আর প্রতি সপ্তাহে গোটা দুয়েক অনুবাদ না করলে পেটের ভাত যেন হজম হতে চাইতো না। ২০০৮ সাল থেকেই ঝুঁকলাম প্রবন্ধ ও ভ্রমণগল্পে। ভ্রমণগল্পে সাড়া মিললো একটু তাড়াতাড়িই। মূলধারার প্রবন্ধে সাফল্য পেলাম ২০১২ সাল থেকে। ২০১৮ সাল থেকেই প্রবন্ধ লেখার স্পিডোমিটারের কাঁটা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে লাগলো। আর এতে বড় একটা অবদান জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘জাগোনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম’-এর।
২০১৮ সালে সেখানে লেখালেখির অভিষেক হওয়ার পর বিদেশি পত্রিকা থেকে অনুবাদ হয়ে গেল ডালভাত, পাঠকরাও এতে খুব খুশি। ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’, ‘দ্য নিউ আরব’, ‘গালফ নিউজ’, ‘বিবিসি অনলাইন’ প্রভৃতি পত্রিকা থেকে অনুবাদ করা প্রবন্ধ ও ভ্রমণগল্পগুলো যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা শহরের জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল ‘আইনিউজ ডটকম’-এ প্রকাশিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু প্রবন্ধ ও ভ্রমণগল্প। এসব কাজ দেখে আমার কয়েকজন শুভাকাক্সক্ষী তাগিদ দিলেন গোটা পঁচিশেক প্রবন্ধকে একটি বইয়ের মলাটবন্দী করার জন্য। নিঃসন্দেহে উত্তম প্রস্তাব!
তবে দায়িত্বটা নেবে কে? এই চিন্তাও দূর হলো জনপ্রিয় সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা ‘কারুবাক’-এর সহায়তায়।
সেরা লেখাগুলির মধ্য থেকে বাছাই করা ২৮টি লেখা নিয়েই ‘জানা পৃথিবীর অজানা কথা’ বইটি। বইটির শেষভাগে নয়টি ভ্রমণবিষয়ক গল্প ছাড়া বাকি ১৯টি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিচিত্র বিষয় নিয়ে লেখা, যা পাঠকের জ্ঞানপিপাসা মেটানোর পাশাপাশি চিন্তারও খোরাক যোগাবে। বিশেষ করে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এবং সাংবাদিকদেরও যথেষ্ট কাজে লাগতে পারে বিপুল তথ্যে ঠাসা বইটি।
জীবনের প্রথম বই বলে আমি এটিকে পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত বলতে পারবো না। বইটি সম্পর্কে যেকোনো সুচিন্তিত পরামর্শকে আমি অবশ্যই স্বাগতম জানাবো। সবশেষে আমাকে সার্বক্ষণিক উৎসাহ যুগিয়ে সাহস দেওয়ায় ভাগ্নে রাহাত, নাঈম, সম্মানিত শাকিলা ভাবী ও ছোটমামী সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
ব্যতিক্রমী এই বইটি প্রকাশে সহযোগিতা করায় অশেষ ধন্যবাদ কারুবাক প্রকাশন ও তার স্বত্বাধিকারী শ্রদ্ধেয় গোলাম কিবরিয়া ভাইকে। বাংলাদেশ সমৃদ্ধি লাভ করুক। আল্লাহ হাফেজ।