আধুনিক দুনিয়ার সবচাইতে নির্মম উপনিবেশের নাম ফিলিস্তিন। বর্তমান গ্রন্থে ফিলিস্তিনের ইতিহাস খুঁড়ে লেখক বর্তমান সংকটের উৎস সন্ধান করেছেন।
ফিলিস্তিন নিয়ে অজস্র ‘খবর’ চারদিকে থাকলেও ফিলিস্তিন সঙ্কটের স্বরূপটিই আসলে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সবচাইতে চাপা পড়ে যাওয়া বিষয়। এই গ্রন্থটি সেই অভাব অসনেকখানি দূর করবে; পাঠককে শুধু ফিলিস্তিন বিষয়ে একটা বুদ্ধিবৃত্তিক শক্ত জমিনই দেবে না, বইটি পাঠে পাঠক যে কোন নতুন অগ্রগতিকেও পাঠ করতে পারবে নৈব্যক্তিকভাবে।
আমাদের অজ্ঞাত কিংবা স্বল্পজ্ঞাত বহু আলোড়নের ফল আজকের ফিলিস্তিন সঙ্কট। জনপ্রিয় সূত্রগুলোতে কয়েকহাজার বছর আগে ইহুদি জনগোষ্ঠীকে উৎখাতকে যার সূচনা হিসেবে দেখানো হলেও আসলে তার উৎস আধুনিক ইউরোপে। ফরাসী সম্রাট নেপোলিয়নের ফিলিস্তিনে ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার তৎপরতার ইতিহাস আমাদের জানিয়ে দেয়, ইউরোপে ইহুদীদের নিয়ে সংকটটি শুধু হিটলারের সাথেও সম্পর্কিত নয়। ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো ইহুদী বাসিন্দাদের অধিকারের প্রশ্নটিকে সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোকাবেলা না করে কিভাবে এই জনগোষ্ঠীকে পৃথিবীর অন্য কোথাও চাপিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চেয়েছে, সেই ইতিহাসও প্রসঙ্গক্রমে এই গ্রন্থে আলোচিত হয়েছে।
ফিলিস্তিন: একুশ শতকের উপনিবেশের ইতিহাস বইটির কেন্দ্রীয় অংশ ফিলিস্তিনে দখলদারিত্বের এবং তার বিরুদ্ধে এই জনগোষ্ঠীর সংগ্রামের ইতিহাস। কয়েক হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিন জনগোষ্ঠীকে নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ করার মহাবিপর্যকর ‘নাকবা’ থেকে শুরু করে গাজা ভূখণ্ডে হামাসের প্রতিরোধ যুদ্ধ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সকল ঘটনার বিবরণ যেমন পাঠক এখানে পাবেন, তেমনি মিলবে ফিলিস্তিনের সংগ্রাম পৃথিবীর দর্শন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও মনোবিজ্ঞানের মানচিত্র কতটা বদলে দিয়েছে, তার হদিসও।
জায়নবাদের ভাবাদর্শিক শক্তির উৎস কী? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেন ‘ইজরায়েলের উকিল’ বলে ডাকা হয়? নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত স্বাধীন ফিলিস্তিন স্লোগান কি ইহুদি নিধনের ডাক নাকি সাম্য ও মানবিক মর্যাদার সাথে সহাবস্থানের প্রস্তাব?
‘ফিলিস্তিন প্রশ্ন’ পাশ্চাত্য দর্শনের বহুল প্রশংসিত স্বাধীনতা ও উদারতার সীমা উন্মোচন করেছে। অজস্র প্রতিকূলতার নিচে চাপা পরে থেকেও ফিলিস্তিনিদের অদম্য প্রাণশক্তির উৎস কী সেই প্রশ্নের উত্তরের অনেকটাই মিলবে এই গ্রন্থটিতে।