আধুনিক কথাসাহিত্যের স্রষ্টা ও পাঠক-সমালোচককে দুই ধরনের সংকটে পড়তে হয়। একটি এর বিষয়গত, অন্যটি আঙ্গিক-প্রকরণগত। বিষয়গত এই অর্থে, যে-সব বিষয় নিয়ে কথাশিল্পীরা সাহিত্য রচনা করেন, সে-সব বিষয় সম্পূর্ণ নতুন, না চর্বিতচর্বণ-এই নিয়ে সমালোচক-পাঠকমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অর্থাৎ রোমান্টিক যুগের কবিতার বিষয়াবলিও আধুনিক কথাসাহিত্যের বিষয় হতে পারে কি না, তা নিয়ে পাঠক-সমালোচকমনে প্রশ্ন জাগে। এই প্রশ্নের সহজ উত্তরও দেওয়া সম্ভব। কারণ, বিষয় যেমন চিরপুরাতন, তেমনি চিরনতুনও। সুতরাং কথাসাহিত্যের বিষয় নির্বাচনে কথাশিল্পীকে কৌলীন্য ধরে রাখার চেষ্টা না করলেও চলে।
এরপর আসা যাক আঙ্গিক-প্রকরণগত দিকে। কথাসাহিত্যে আখ্যান-চরিত্র-সংলাপের ব্যবহার ও প্রয়োগরীতি জানা ও মানা জরুরি, তেমনি এর আঙ্গিক-প্রকরণগত দিকের জ্ঞান থাকাও আবশ্যক। বাংলা কথাশিল্পের আদিম দেবতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে হালের কোনো নবীন কথাসাহিত্যিকও বিষয়ের পাশাপাশি আঙ্গিক-প্রকরণের বিষয়ে বেশ সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু তাদের এই সচেতনতার নেপথ্যে যে নিয়ামকটি কাজ করেছে, সেটি হলো চিন্তাসূত্র। বর্তমান গ্রন্থে কথাসাহিত্যের চিন্তাসূত্র অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলা কথাসাহিত্যের পাঠক-সমালোচক-গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মনে যেন অনেক প্রশ্নের বীজ বুনে দেয়, সে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এই বইয়ে।
বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে জলধির কর্ণধার কথাশিল্পী ও ছোটকাগজ সম্পাদক নাহিদা আশরাফীর ভূমিকা অগ্রগণ্য। তার প্রশ্রয় না পেলে এই বই এখনই প্রকাশিত হতো কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। বই প্রকাশের পেছনে অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী হওয়ায় তাঁর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।