বিদ্রোহ, প্রেম, স্বপ্ন ও সংগ্রামের উপন্যাস ‘খ্রাফস্তার’। যেখানে জীবন অভিশপ্ত বাস্তবতার মুখোমুখি। যেখানে ভালোবাসা মৃত্যু সংকটকেও হার মানায়।
কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি প্রধান চরিত্র—মিথ এবং জুনা। দুজনই ঘটনাক্রমে এক অন্ধকার, নিষ্ঠুর এবং অভিশপ্ত ইয়োমা পাহাড়ের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে বন্দী হয়ে পড়ে। এই ক্যাম্পটি এক ধরণের প্রাকৃতিক জেলখানা, যেখানে বন্দীদের ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন। এসব নির্যাতনের খবর কখনোই বাইরের পৃথিবীতে পৌঁছায় না। বন্দীদের আহাজারি, কান্না, চিৎকার এবং মৃত্যু হয়ে পড়ে স্বাভাবিক ঘটনা। এসব ক্যাম্প থেকে পালানোর কোনো পথ নেই—মৃত্যুই একমাত্র মুক্তির পথ।
মিথ ছিল একসময় একজন অনুভূতিপ্রবণ প্রেমিক যুবক, যার জীবন ছিল আবেগে পরিপূর্ণ। কিন্তু সময়ের করাল গ্রাসে, ক্যাম্পের কঠিন বাস্তবতা এবং নানান নির্যাতন দেখতে দেখতে তার অনুভূতি ভোতা হয়ে যায়। বরং মৃত্যুর অপেক্ষাই করছিল সে। কিন্তু ঘটনাক্রমে ক্যাম্পের কমান্ডার রক্ষিতা হিসেবে ধরে আনে জুনাকে। ঘটনাক্রমে জুনাকে এক পলক দেখার পরই মিথের সময় যেন থেমে যায়। তার পুরনো অনুভূতিগুলি আবার জেগে ওঠে।
মিথ এবং জুনা— দুজনই তাদের মনের অজান্তেই এক গভীর গোপন ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়ে। এই প্রেম ছিল কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের নিয়মের বিপরীতে। তারা জানে, তাদের সম্পর্কের বিষয়টি যদি জানাজানি হয়, তবে সাক্ষাত মৃত্যু।
এমন এক পরিস্থিতিতে, ঘটনার প্রেক্ষাপটে বন্দী নুরেল ক্যাম্পে বিস্ফোরণ ঘটায়। মুর্হর্তে ক্যাম্পের কঠোর নিয়ম ভেঙে পড়ে। ক্যাম্পের পরিবেশ এলোমেলো হয়ে যায়। সুযোগ তৈরি হয় পালানোর। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মিথ এবং জুনা নতুন জীবনের খোঁজে পালায়। কিন্তু তারা কি সত্যিই মুক্তি পাবে, না কি এই নিরন্তর যন্ত্রণা ও মৃত্যুর সঙ্গে তাদের সম্পর্কেরও শেষ হয়ে যাবে?
‘খ্রাফস্তার’ একটি দুঃখময়, চিরন্তন সংগ্রামের গল্প। যেখানে প্রেম এবং মানবিকতার অদম্য চেতনা বন্দী থেকেও তাদের অস্তিত্বের জন্য লড়াই করে। মিথ ও জুনার চরিত্র, তাদের ভালোবাসা, সংগ্রাম এবং মুক্তির আশা পাঠককে এক অনবদ্য অভিজ্ঞতার দিকে নিয়ে যাবে। যেখানে পৃথিবীর কঠিনতম পরিস্থিতিতেও মানবিক সম্পর্ক, প্রেম ও আশা বেঁচে থাকে চিরকাল।
Ahmed Faruq নিজেকে সুখী মানুষ ভাবতে ভালোবাসেন। লেখেন ইচ্ছে হলে, ইচ্ছে না হলে কিছুই লেখেন না। স্বপ্ন দেখেন “লাইটহাউজ” নামক এক মিলনকেন্দ্রের। যেখানে কিছু নিঃস্ব মানুষের গল্প লেখা হবে। ছোটবড় মিলে বই লিখেছেন ২৭। ছোটগল্প লিখেছেন সবচেয়ে বেশি। ‘কাক” তার লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্পগ্রন্থ। এ ছাড়াও লিখেছেন উপন্যাস, গল্প এবং নাটক। প্রচারবিমুখ নিভৃতচারী এই কথাসাহিত্যকের জন্ম ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৮। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে পুরোদমে লেখালেখি আর প্রকাশনার সাথে যুক্ত। বাবা মরহুম সামছুল হক ছিলেন কৃষিবিদ। মা ফাতেমা খাতুন, স্ত্রী জেবা, মেয়ে নাবা এবং পুত্র অবনীলকে নিয়েই তার যাপিত জীবন।