মেগামার্কেটিং পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেলের মতো কোনো মেগা প্রজেক্ট নয়, অতিকায় বাজারজাতকরণও নয়; বরং তৃতীয় পক্ষকে প্রভাবিত করার বাজারজাতকরণ অ্যাপ্রোচ। বিক্রেতা তার ক্রেতার ভ্যালুকে অনুধাবন করবে, সে অনুযায়ী অর্পণ তৈরি করবে, যথাযথভাবে সেটা ক্রেতার নিকট উপস্থাপন এবং ডেলিভারি দিবে এবং ক্রেতার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে বিক্রেতা ভ্যালু (বিক্রয়, মুনাফা, সুনাম, আনুগত্য) অর্জন করবে, এটাই বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটিকে সরলভাবে দেখলে মনে হবে এটা যেন একটা ডাবল লাইনের রেলওয়ে ট্র্যাক, একটা দিয়ে রেল গাড়ি আসে, আরেকটা দিয়ে যায়। বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রেতার নিকট সন্তুষ্টি যাবে, বিনিময়ে ক্রেতা বিক্রেতার জন্য মুনাফা পাঠাবে। বাস্তবে বিষয়টা রেল লাইনের মতো অত সোজা নয়। ক্রেতা-বিক্রেতার বাইরেও বহু পক্ষকে সন্তুষ্ট বা মানিয়ে বাজারজাতকরণ করতে হয়। এই পক্ষগুলোর অবস্থান কোম্পানির অভ্যন্তরে বা আশেপাশে যেমন থাকে, কেউ কেউ অনেক দূরে অবস্থান করেও প্রভাব বিস্তার করে। এদেরকে আমরা পরিবেশের নায়ক বা চলক হিসেবে দেখতে পাই। বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপকদের অনেককেই এবং অনেক কিছুকেই ম্যানেজ করতে হয় বা মানিয়ে চলতে হয়। বাজারজাতকরণের ব্যষ্টিক ও সমষ্টিক পরিবেশের উপাদানগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আলোচনাই এই বইয়ের উপজীব্য।
বাজারজাতকরণকারীদের নৈতিকতার বিষয়টি আজ প্রশ্নবিদ্ধ। টেকসই বাজারজাতকরণ মতবাদে মনে করা হয় বাজারজাতকরণ পদ্ধতির দীর্ঘমেয়াদি সফলতা বাজারজাতকরণকারীদের নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। প্রাজ্ঞ জ্ঞাননির্ভর সংস্কারমুক্ত টেকসই বাজারতকরণে নৈতিকতার দার্শনিক ও প্রায়োগিক দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে পৃথক একটি অধ্যায়ে। বাজারজাতকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপকরা প্রায়ই হিমশিম অবস্থায় পড়ে যান। কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রধান উপাদানগুলো নিয়েও একটি অধ্যায় সংযোজিত হয়েছে এই বইয়ে। বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপকরা পণ্যের ব্র্যান্ডিং নিয়েই সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন। তারা নিজেদের কীভাবে ব্র্যান্ডিং করবেন তার একটি পথ-নকশা এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। ব্যবসায় পরিবেশকে যথাযথ অনুধাবন করে নৈতিক বাজারজাতকরণ চর্চার মাধ্যমে বাজারজাতকরণ ম্যানেজার নিজেই যেন একটি ব্র্যান্ড হয়ে উঠতে পারেন সেই ব্যাপারে সর্বশেষ অধ্যায়টি তাদেরকে সহায়তা করবে বলে আশা করি। এর বাইরেও যারা সমাজে ব্র্যান্ড হতে চান তারা নিজকে নিজে পণ্যে রূপান্তর করবেন কিনা পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথমেই এই নৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং দৈবের উপর ছেড়ে দিয়ে বেশি দূর যাওয়া যাবে না। এই পথ চলা অনেক দীর্ঘ এবং কষ্টকর। যারা পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংয়ের এই কঠিন পথ পরিক্রমা পরিহার করতে চান তাদের জন্যও সুপারিশ আছে এই বইয়ে।