২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে যা ঘটে গেল তা বিপ্লব নাকি অভ্যুত্থান, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। আমার বিবেচনায় এটি বিপ্লব, বিপ্লবের চেয়েও বেশি। কেন, সে ব্যাখ্যায় এখানে যাওয়া যাবে না। শুধু এটুকু বলব, যদি এই বিপ্লব না ঘটত তাহলে স্বেচ্ছা-নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার চিন্তা করতে পারতাম না। এই সামান্য কবিতার সংকলনটিও প্রকাশ করতে পারতাম না।
ছিলাম বিজ্ঞান-দর্শনের ছাত্র, লিখতাম প্রবন্ধ-নিবন্ধ। কিন্তু জীবন-স্বপ্নের ঘূর্ণিঝড়ে এমন অনেক সময় আসে যখন প্রবন্ধ-নিবন্ধ উপযুক্ত মনে হয় না। মনের গভীরতম ঝড়ঝঞ্ঝাগুলো শুধু কবিতাতেই প্রকাশ করা যায়।
২০০৯ সালে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ধ্বজাধারী আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর সমগ্র মানবিকসত্তাটাই বাড়ি খায়। অনতিবিলম্বে গভীরভাবে অনুভব করি যে প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখে, তথ্য-যুক্তি দিয়ে কাউকে বোঝানোর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। দেশে অনাচার-অত্যাচার, লুটপাট-দুর্নীতি এবং চিরকাল ক্ষমতায় থাকার যে উলঙ্গ নৃত্য শুরু হয় তা কাউকে দেখিয়ে দেবার প্রয়োজন নেই। বুঝি যে, যারা করছে এবং যারা দেখেও দেখতে পাচ্ছে না, অর্থাৎ আমাদের তথাকথিত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা তারা জেনেশুনেই করছে। করছে তাদের মনের গভীরের আগ্রাসী আধিপাত্যবাদিতা চরিতার্থের জন্য, সুবিধা বজায় রাখার জন্য। প্রবন্ধ লিখে আর কাকে বোঝাব আমি। জনগণও জানে চরম সত্যটা কী। তাই জাতির মনের গহিনের গভীর স্বপ্ন এবং স্বপ্ন ভাঙার বিলাপ নিয়ে কবিতা লেখা শুরু করি। তারই প্রকাশ এই শত কবিতার সংকলনটি।
কবিতাগুলোর মধ্যে মানুষের স্বপ্ন এবং গণতন্ত্র হারানোর যন্ত্রণা শুধু নয়, তার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং রাজনৈতিক কারণগুলোও শনাক্ত করার চেষ্টা করেছি। আশা করি পাঠকের চিন্তার খোরাক জোগাবে।