২০১২ সালের ৪ জুলাই সুইজারল্যান্ডের ‘ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ’ বা CERN থেকে আসা এক বিশেষ ঘোষণা সারা বিশ্বে তোলপাড় ফেলে দেয়- বিজ্ঞানীরা ‘হিগস বোসন’ বা ‘গড পার্টিকেল’ আবিষ্কার করেছেন। কণা পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি ছিল ঐতিহাসিক এক ঘটনা।
হিগস বোসন খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা রীতিমতো একটি দক্ষযজ্ঞ আয়োজন করেছিলেন। যে যন্ত্রটি ব্যবহার করে হিগস বোসন আবিষ্কার করা হয়েছিল, সেটি আজ পর্যন্ত মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড়ো যন্ত্র। শুধু তাই নয়, এটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবিষ্কার।
হিগস বোসন বা গড পার্টিকেল বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে কী এই হিগস বোসন? কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ? কেনই বা একে গড পার্টিকেল নামে ডাকা হয়? আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণা বইটিতে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেমন, কণা তত্ত্ব থেকে কীভাবে তরঙ্গ তত্ত্বের সূচনা হলো, ধাপে ধাপে কীভাবে কণা পদার্থবিজ্ঞানের স্টান্ডার্ড মডেলটি গড়ে ওঠে, কীভাবে এর সাহায্যে হিগস ফিল্ড ও হিগস বোসন সম্পর্কে অনুমান করা হয়েছিল এবং কীভাবে হিগস বোসন আবিষ্কার হলো, তার ধারাবাহিক ইতিহাস।
লেখকের সময় : বিজ্ঞান ও অনুভবে, ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি এবং মস্তিষ্ক : বিজ্ঞান ও রহস্যের গভীরে বইগুলো দেশ-বিদেশের হাজারও পাঠককে টেনে নিয়ে গেছে মহাবিশ্বের নানা রহস্যের গভীরে। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, লেখকের এই নতুন যাত্রায় সামিল হয়ে বিজ্ঞানপ্রেমী পাঠক আবারও হারিয়ে যেতে পারবেন মহাবিশ্বের গভীর আরেক রহস্যে, অন্তর্চক্ষু দিয়ে অবলোকন করতে পারবেন আরেক মহাবিস্ময়!
হাসান তারেক চৌধুরী (জন্ম ২৩ মে ১৯৭০), একাধারে দুইটি ভিন্ন ঘরানায় তার সফল পদচারণা- বিজ্ঞান ও প্যারাসাইকোলজি ফিকশন। ২০১৮ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত প্রথম বই প্যারাসাইকোলজি গল্প-সংকলন ‘দ্বিখণ্ডিত’ ভাষাচিত্রের সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের তালিকায় স্থান করে নেয়। ২০২০ সালে প্রকাশিত হয় বিজ্ঞানবিষয়ক জনপ্রিয় বই ‘সময় : বিজ্ঞান ও অনুভবে’। বিজ্ঞানের জটিল সমস্যাগুলোকে তিনি তার বইতে ভিন্ন আঙ্গিকে গল্পে গল্পে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করেছেন। একাধিক মুদ্রণের পর সম্প্রতি বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে প্রকাশিত হয় বিজ্ঞানবিষয়ক বই ‘ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি’। এটিও দ্রুত পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে। দেশের পাশাপাশি বইগুলো দেশের বাইরেও বাংলাভাষী পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। ‘সময় : বিজ্ঞান ও অনুভবে’ কলকাতা থেকেও প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞান বইয়ের পথ ধরে তার প্যারাসাইকোলজি ও অতিপ্রাকৃত উপন্যাসগুলোও সমানভাবে পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তার রচিত উপন্যাসগুলো হলো : যুগল মানব (২০১৯), প্রত্যাবর্তন (২০২১) এবং সমান্তরাল (২০২২)। একটি তারা ও হাজার চাঁদের রাত (২০১৯) তার প্রকাশিত একমাত্র কবিতার বই। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন। বর্তমানে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত রয়েছেন। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি একজন শখের ফটোগ্রাফার ও ভ্রমণপ্রিয় ব্যক্তি।