জার্মান দার্শনিক ভিক্টর ইমিল. ফ্রাঙ্কল ভিয়েনা মেডিক্যাল স্কুলের স্নায়ুরোগ ও মনোরোগচিকিৎসার প্রফেসর, লোগোথেরাপির উদ্ভাবক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটির লোগোথেরাপির খ্যাতনামা প্রফেসর। থার্ড ভিয়েনিজ স্কুল অব সাইকোথেরাপি (ফ্রয়েডের মনোবিশ্লেষণ ও এডলারের ব্যষ্টি মনোবিজ্ঞান-এর পর) নামক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। ইহুদি বংশোদ্ভূত ভিক্টর ফ্রাঙ্কলও নাৎসীদের বিভিন্ন শিবিরে তিন বছর বন্দি ছিলেন। তিনি তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সাহায্যে বন্দিশিবিরে নির্যাতিত ও মৃত্যু পথযাত্রীদের মনঃসমীক্ষণের দিকেই বিশেষ মনোযোগী ছিলেন। তিনি বন্দি, নির্যাতিত, অভুক্ত, অপুষ্ট, অসুস্থ, হতাশাগ্রস্থ’ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষগুলোকে জীবনমুখী করার এবং জীবনকে শত কষ্টের মধ্যে দিয়েও ভালোবাসায় দীক্ষিত করার প্রয়াস নিয়েছিলেন। যে বিষয়টি জীবনের অর্থ অন্বেষণে এবং মনোরোগচিকিৎসায় লোগোথেরাপি উদ্ভাবনে তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ফ্রয়েডের পর তিনিই বিশ্ববিখ্যাত মনোরোগ চিকিৎসক হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছেন। তিনি পৃথিবীব্যাপী অসংখ্য সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন।
বন্দিত্ব থেকে মুক্তির পর ‘জীবনের অর্থ অন্বেষণে মানুষ’ শীর্ষক গ্রন্থ ছাড়া তিনি আরও ২৭টি গ্রন্থ লিখেছিলেন। ‘জীবনের অর্থ অন্বেষণে মানুষ’ গ্রন্থ পৃথিবীর ১৯টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ইংরেজি ভাষায় গ্রন্থটির ২৫ লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে। গ্রন্থটি চরম হতাশা, দুঃখ-কষ্ট, রোগ- শোক, অমানুষিক নির্যাতন, বর্বরতা-নিষ্ঠুরতা, অগণিত শবের মিছিল ও অহরহ মৃত্যুভীতির মুখোমুখী দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মনে আশার বাতিঘর হিসেবে ভূমিকা পালন করছে এবং জীবনের অর্থ অন্বেষণে মানুষকে প্রেরণা ও ভরসা যুগিয়ে যাচ্ছে।
সাধারণ পাঠক ছাড়াও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান ও মনোরোগচিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দও গ্রন্থটি পাঠ করে উপকৃত হবেন বলে সঙ্গত প্রত্যাশা।