তরুণ প্রজন্মেরসাহিত্যিক দীপংকর দীপক। তিনি একাধারে কবি, গল্পকার, সাংবাদিকও গবেষক। ‘নিষিদ্ধ যৌবন’ (দুই খণ্ড), ‘নাস্তিকের অপমৃত্যু’, ‘ঈশ্বরের সঙ্গে লড়াই’ ও ‘হে বঙ্গ’ শিরোনামের বইগুলো তাকে আলোচনায়নিয়ে এসেছে।লেখনীর গুণে তিনি চিরাচরিত প্রথা ভেঙে সাহিত্যেনতুনধারা সৃষ্টির চেষ্টা করে চলছেন। তার সাহিত্যকর্মে মানবিক মূল্যবোধ, শ্রেণিচেতনাও সমাজ বাস্তবতাজীবন্ত উপাদান হয়ে পরিস্ফুটিত হচ্ছে। তার জীবনবাদী গণমুখীধারারলেখনী বুর্জোয়াবাদী সমাজস্তরেবজ্রের মতো আঘাত হানছে।তিনি বাংলার আবহমানতা, চিরন্তনতা, সমকালীনতা ও লোকায়ত জীবনধারারঅক্ষরেখার ওপর দিয়ে মহাপাদবিকের মতো পথপরিক্রমা করে চলছেন।ঐতিহ্যচেতনা, সমাজচেতনা, ইতিহাসচেতনা, জনগণচেতনা, আত্মচেতনা ও স্বাধীনতাচেতনা তার সাহিত্যধারাকে সমৃদ্ধ করছে।জীবন ও জীবিকারনানা বাঁক, দৃষ্টিদৃক্ষাও চর্চিত অভিজ্ঞতারআলোকে তিনি তার সৃষ্টিকর্মকে বাস্তবতায়রূপদান করছেন।পঠনে, বোধে ও বিশ্লেষণে তার সাহিত্যধারা ও সাহিত্যচেতনা সত্যিকারার্থেনতুনত্ব, ভিন্নতা ও উত্তরাধুনিকতার গুণে অনন্য হয়ে উঠেছে।
মানুষের মধ্য থেকে অলৌকিক-অবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারাও কুসংস্কার-অন্ধবিশ্বাসবিষয়ক ধ্যান-ধারণাকে দূর করার প্রত্যয়নিয়ে দীপংকর দীপক লেখালেখির পথকে বেছে নিয়েছেন। ধর্মনিরপেক্ষতা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, স্বদেশপ্রেম, প্রকৃতিপ্রেম, সময়ের সঙ্গে জীবনের সমন্বয়, মানবমনের দুঃখবোধ, মৃত্যুভাবনাও বিদ্রোহদ্যোতক বাক্যবাণেতার গল্পের অবয়ব সুসজ্জিত হয়ে ওঠে।এবারই প্রথম তিনি অণুগল্প লিখেছেন। এ বইয়ের প্রতিটিগল্পই সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রম বিষয়বস্তুনিয়ে সাজানো হয়েছে। আশা করি, গল্পগুলোপাঠক হৃদয়কে কিছুটা হলেও নাড়া দিতে সক্ষম হবে।
দীপংকর দীপক গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার তুলসী বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছেলেবেলায় তার লেখালেখিতে হাতেখড়ি। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করার পর বাংলা সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। ছাত্রাবস্থা থেকেই সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে দৈনিক কালের কণ্ঠের বার্তা বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে একুশে টেলিভিশন, দৈনিক যায়যায়দিন ও দৈনিক আলোকিত সময়ে সিনিয়র সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারও আগে সাপ্তাহিক সূর্যোদয়ে প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তা ছাড়া দীর্ঘদিন জাতীয় দৈনিক সমকাল ও সাপ্তাহিক প্রতিচিত্রে সাংবাদিকতা করেছেন। ২০০৬ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যৌবনের করুণ ব্যথা’ প্রকাশিত হয়। এর কয়েক বছর পর ২০১০ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয় ‘নিষিদ্ধ যৌবন’। অঙ্কুর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এ বইটি কবিতাপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরে শুভকাঙ্খি ও পাঠকদের অনুরোধে ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয় এর সিক্যুয়াল গ্রন্থ ‘নিষিদ্ধ যৌবন- দ্বিতীয় খণ্ড’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এটিই প্রথম কবিতার সিক্যুয়াল বই। তা ছাড়া ২০১৭ সালের বইমেলায় প্রকাশিত ‘কালচক্র’ শীর্ষক কাব্যগ্রন্থটি নিয়েও বেশ সাড়া পেয়েছেন। দীপংকর দীপকের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘বুনো কন্যা’। ২০১৩ সালের একুশে বইমেলায় এটি প্রকাশ করে আকাশ প্রকাশনী। ২০১৪ সালে কলি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘ঈশ্বরের সঙ্গে লড়াই’। বইটি আলোচনার পাশাপাশি পাঠকমহলে সমলোচিতও হয়। পরের বছর প্রকাশ পায় তার আরেকটি আলোচিত গল্পগ্রন্থ ‘নাস্তিকের অপমৃত্যু’। ২০১৭ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম গল্প সংকলন ‘প্রহেলিকা’। ২০১৮ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হল দ্বিতীয় গল্প সংকলন ‘ছায়ামানব’ ও শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ ‘ধূর্ত শিয়াল’। ২০১৯ সালের বইমেলায় তার দুটি বই প্রকাশিত হবে। এগুলো হচ্ছে ‘বাবা আমার রাজাকার’ ও ‘বাংলা ও বঙ্গবন্ধু’।