আমাদের দেশে সমস্যার শেষ নেই। যে কোনো পরিসরে, যে কোনো পরিস্থিতিতেই সবাই কোনো না কোনো সমস্যার সম্মুখীন। কিছু সমস্যা আমরা নিজেরাই সামলে উঠতে পারি। কিছু সমাধান হয় না। আর কিছু সমস্যা সমাধানে অন্যের সহায়তা লাগে, আর কিছু সমাধানে লাগে কেবল আরেকজনের আমাদের পাশে থাকা।
যারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়, হয় অনুপ্রেরণার জন্য কিংবা সাহায্যের জন্য, তারা কীভাবে, কোথা থেকে উদয় হয় আমাদের জীবনচলায় সেটার হিসেব হয়তো আমরা কেউই কখনো ঠিকমতো করতে পারিনা।
এমনই এক ঘটনার গল্প এই কান্তজীর কাকতালীয় কান্ড। দিনাজপুরে নাসিম, সায়েম, ও জুয়েল - তিন উঠতি সাংবাদিক বন্ধুদের কাজের সুবাদেই যাত্রা। এক পুরোনো বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে, নিজের পশ্চিমা সংস্কৃতি ও উড়নচন্ডী বেপরোয়া জীবনের বিকল্প এক পৃথিবী, বাংলাদেশের সরল সাধারণ জীবন ধারা দেখাতে, তানিয়া ও তার ছেলে অয়নকে নিয়ে দিনাজপুর যাত্রা। বান্ধবী তানিয়াকে বহুদিন পর কাছে পেয়ে দিনাজপুর ঘুরে বেড়ানোর প্রস্তুতি নেয়া শিপা ও তার মেয়ে শিশির। শিপার সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার নেতৃত্বে দিনাজপুরে পরিবেশ, সংখ্যালঘু ও নারীদের অধিকার আদায়ে সুশীল সমাজ সংস্থার জোট গঠনের প্রচেষ্টা। ধর্মের নামে, রাজনীতি ও অর্থের অপব্যবহারে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার, অন্যায় করা ভূমিদস্যূ স্থানীয় রাজনীতিবিদ হোসেন মোল্লা। সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ে, এবং নিজের ভিটেমাটি ভূমিদস্যূদের থেকে রক্ষায় সচেষ্ট নিলয়। মোল্লার আর্থিক যোগানদাতা ও ভূমিদস্যূতার ইন্ধন যোগানদাতা স্বার্থান্বেশী বিদেশি শক্তি ও তাদের প্রভাবশালী দোসর চৌধুরী পরিবার। দিনাজপুরে চৌধুরী পরিবারের স্থানীয় সহায়ক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিকদার। দিনাজপুরের ঐতিহ্যশৈলী কান্তজী মন্দিরের সংস্কার কাজ করতে আসার আরেক আত্মস্বার্থকেন্দ্রীক শেতাঙ্গ রাফায়েল। পর্যাপ্ত অর্থ ও সঠিক প্রভাবের অভাবে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ না হয়ে ওঠায় বিড়ম্বিত নগেন, যে নিজে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী সদস্য, কিন্তু কতগুলো বেআইনী কার্যকলাপের সঙ্গেও জড়িত।
এসকল ও আরো কতিপয় চরিত্র কাকতালীয়ভাবে কীভাবে এক কঠিন, বিপদজনক ও পরস্পর নির্ভরশীল এক ঘটনাচক্রে আবদ্ধ হয় এবং পরবর্তীতে সেটা সুরাহা করে, সেই গল্পের মধ্য দিয়ে এদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাম্প্রদায়িক, ও ব্যক্তিপর্যায়ের কতগুলো বিষয়ের উদ্ধৃতি ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে এই গল্প গড়ে উঠেছে। সঙ্গে কল্পনা ও রোমাঞ্চ উদ্দীপক রহস্যেরও সংমিশ্রণ রয়েছে এই উপন্যাসে। প্রাচীন আমলে লুক্কায়িত এক রহস্যের সন্ধানের মাধ্যমে এক নতুন উপন্যাস সিরিজেরও আরম্ভ হয়েছে এই গল্পের মাধ্যমে। পাঠকরা, আমার বিশ্বাস, হতাশ হবেন না।