দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মাতা অভিধায় সমাদৃত। তিনি আপোষহীনা, সংগ্রামী। এক কঠিন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনে তিনি জয়ী হয়ে দেশে সংসদীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শত নির্যাতন, হয়রানি এবং জীবনের হুমকিকে পরাস্ত করে ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনের আলোকে নিজের দলকে সংগঠিত করেছেন। জাতি তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রতি আস্থাবান হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই দল সবচে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে, তিনি সংসদ নেতা হন এবং প্রধানমন্ত্রী হন সেই নব্বইয়ে।
পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। সরকার প্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলেও সুখ্যাতি অর্জন করেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়, দেশ উন্নয়নে এবং স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অবদান চির ভাস্বর হয়ে আছে। তিনি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে দেশমাতা হিসেবেও আখ্যায়িত হয়েছেন।
সামগ্রিক অর্থে বেগম খালেদা জিয়া সমকালীন ইতিহাসে মহান ও বরেণ্য ব্যক্তি। কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল ও তার নেত্রী, তাঁর জনপ্রিয়তার আকাশছোঁয়া উচ্চতায় ঈর্ষণীয় হয়ে প্রতিহিংসার পথ বেছে নেয়। ভোট ডাকাতি, বিনা ভোট ও গভীর রাতে ভোট জালিয়াতির তথাকথিত নির্বাচিত ঘোষণায় গঠিত সরকার দেশনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করে, সাজানো মামলার সাজানো রায়ে দণ্ড দেয়। তিনি কারাগারে বন্দি। এক দুঃসহ ও নজিরবিহীন পরিবেশে তিনি জীবন যাপন করছেন। পরিত্যক্ত ভবনে স্যাঁতস্যাতে ঘরে তাঁকে রাখা হয়েছে। যেখানে সূর্যের আলো যায় না, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে নতুন করে রোগক্রান্ত হচ্ছেন তিনি। এমন নৃশংসতা বর্বরতার নজির দেখা যায় না। তিনি কেমন আছেন এবং তাঁর জেল জীবনের কষ্টকর অনুভূতি কী এসব নিয়েই ছড়াকার শামীম আনসারী লিখেছেন অসংখ্য ছড়া ‘জেল থেকে বলছি’ যা বইতে সে সব ছড়ার অংশ বিশেষ সন্নিবেশিত করা হয়েছে। নিশ্চয়ই পাঠক ছড়াগুলো পড়ে জানতে পারবেন অনেক কিছু। এ ছাড়াও সমকালীন রাজনীতি, সামাজিক অবক্ষয়, দুঃশাসন, অনিয়ম, অবিচারসহ নানা সমস্যা ও সংকট সম্পর্কে লেখাও ছড়ার বইতে স্থান পেয়েছে। সমাজ সচেতনতামূলক ছড়ায় তিনি তুলে ধরেছেন বাস্তবভিত্তিক চিত্র। ছড়াকার শামীম আনসারীর এই বই সকলের কাছে সমাদৃত হবে সেই আশাই করছি।