আমি এক চুম্বনাষক্ত প্রেমিক তোমায় অমৃত বলে ডাকি ‘হেমলতার বিষ পেয়ালা’ এটি কবি মোঃ ওসমান গনির চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ। সম্মোহনী প্রাকৃতিক শব্দমালা এবং নান্দনিক ছন্দের গাঁথুনিতে কাব্যগ্রন্থের প্রতিটা কবিতাই আন্দোলিত। নারীর সৌন্দর্য পিপাসায় পুরুষ জন্ম-জন্মান্তরের কাঙ্গাল-দেশান্তরী। অপরদিকে একই বাক্যে তিনি নারীকে ‘রমনী কেবলই এক প্রলুব্ধের মায়াজাল’ বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি নারীকে প্রবলভাবে অবিশ্বাস করে বলেছেন, ‘কুকুরে বিশ্বাস রাখো, রমনীতে নয়। প্রয়োজনে তিনি সমুদ্রকে প্রমদতরঙ্গ আবার কখনোবা উত্তাল মৃত্যুরও নিয়ামক হিসাবে সঙ্গায়িত করেছেন অসাধারণ চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে।
কবিতার প্রতিটা শব্দই যেনো এক একটি অলংকার। তিনি বলেছেন" যুদ্ধ হবে তোমাতে আমাতে আবাদি ফসলের ক্ষেতে, লাঙ্গলের ফলায়, অনাবৃত জোছনার চাদরে"। রূপক এবং উপমার অপূর্ব সংমিশ্রণে তিনি গ্রন্থটি এমনভাবে চিত্রায়ণ করেছেন যে মন্ত্রমুগ্ধের মতো কবিতার প্রতিটা পঙ্ক্তিতে হারিয়ে যেতে হয় গ্রাম বাংলার শিশির ভেজা সবুজ মাঠে, জোছনার কাছে রংতুলির চিত্রপটের মতো। একদিকে নির্মোহ প্রেম অন্যদিকে বলিষ্ঠ কণ্ঠে সমাজের নিপীড়ত-অসহায় মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে আওয়াজ তুলেছেন,
‘ওরে ও বুদ্ধিজীবী! মেধাটা আর কেমনে খাবি’ কিংবা
‘ঐ নাঙেতেই দণ্ড যে দেয়, রাইতে যে দেয় ঠাপ’।
কবি তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘হেমলতার বিষ পেয়ালার’ প্রতিটি চরণে একই তুলির আঁচড়ে প্রেমের সমধুর মন্থর, প্রকৃতির রূপ-রস এবং অবিশ্বাসের চরম মতদ্বৈধতা এমনভাবে সাজিয়েছেন যা পাঠক সমাজকে আপ্লূত এবং দুদণ্ড স্থির করতে বাধ্য করবে তা বলাই বাহুল্য। সব শেষে তিনি বলেছেন, ‘প্রেম জ্বলে অন্ধকারে, আলোতে তার সর্বনাশ’।