প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 25 Mar 2025 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
“ক্লিওপেট্রা”, হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যাকে আমরা “কিং সলোমনস মাইনস” এবং “শী” বইয়ের লেখক হিসেবেও জানি। ক্লিওপেট্রা বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।
গল্পটি প্রাচীন মিশরীয় ইতিহাসের টলেমীয় যুগের এবং আইসিসের পুরোহিত দ্বারা সুরক্ষিত একটি রাজবংশের বংশধরের চারপাশের কাহিনি নিয়ে আবর্তিত হয়। প্রধান চরিত্র হারমাসিসকে (ফারাওয়ের বংশের জীবিত বংশধর) পুরোহিত কর্তৃক কথিত ভন্ড ক্লিওপেট্রাকে উৎখাত করা, রোমানদের তাড়িয়ে দেওয়া এবং মিশরকে তার স্বর্ণযুগে ফিরিয়ে আনার জন্য দায়ী করা হয়।
কিন্তু ক্লিওপেট্রার মতো একজন লাস্যময়ী সম্রাজ্ঞীকে উৎখাত করা কি এতোটাই সহজ ছিলো হারমাসিসের জন্য? সে’ও তো একজন পুরুষ! তার মনে তো চায় এমন একজন লাস্যময়ীকে ভালোবেসে নিজের করে পেতে। হারমাসিস তাই করে, ক্লিওপেট্রা হত্যা করতে এসে তাকে ভালোবেসে ফেলে...পেতে চায় নিজের করে...কিন্তু ক্লিওপেট্রা কি ধরা দিবে তার এই ভালোবাসার কাছে? বা ক্লিওপেট্রাকে ঘিরে যে বিশাল ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাতা হয়, যেটার মূল সুতা হারমাসিসে হাতে। ষড়যন্ত্র সফল হতে হলে ক্লিওপেট্রাকে মরতে হবে হারমাসিসের হাতে। তবেই হারমাসিস তার পৈত্রিক রাজসিংহাসন ফিরে পাবে।
এখন প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে, হারমাসিস কি পারবে এই ষড়যন্ত্র সফল করতে? সে কি পারবে তার ভালোবাসাকে খুন করে তাঁর অধিকার ফিরিয়ে নিতে?
...সবই পাবেন এই বিখ্যাত অ্যাখ্যানে...
হ্যাগার্ডের বেশিরভাগ কাজের মতো এই গল্পটিও অ্যাডভেঞ্চার নির্ভর। মিশরীয় পুরোহিত হারমাসিসের দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পটি বর্ণনা করা হয়েছে, যা একটি সমাধিতে পাওয়া যায় প্যাপিরাস স্ক্রোলের আকারে। হ্যাগার্ডের ক্লিওপেট্রার প্রতিকৃতিটি বেশ অত্যাশ্চর্য, যা তার বুদ্ধি, তার বিশ্বাসঘাতকতা এবং তার অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি প্রকাশ করে।
ভাইয়ের সাথে বাজি ধরে অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী লেখা শুরু করার পর যিনি শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম সেরা দুঃসাহসিক ও রোমাঞ্চকর গল্পের স্রষ্টা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন তিনি হলেন স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড। কম বয়সে চাকরিসূত্রে তিনি আফ্রিকা চলে যান এবং সে অঞ্চলের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ান, যার ফলে আফ্রিকা মহাদেশের নানা জানা-অজানা বিষয় সম্পর্কে তিনি প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেন এবং এই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে ব্যবহার করেন তার রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস ও গল্পসমূহ রচনায়। দশ ভাই-বোনের মধ্যে অষ্টম হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড জন্মগ্রহণ করেন ১৮৫৬ সালের ২২ জুন, ইংল্যান্ডের নরফোকে। খুব অল্প বয়সেই কর্মজীবন শুরু হয়ে যায় পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে। মাত্র উনিশ বছর বয়সেই তাঁকে চাকরিসূত্রে পাড়ি জমাতে হয় আফ্রিকায়। সেখান থেকে ৬ বছর পর ফিরে এসে তিনি আইনশাস্ত্রে পড়াশোনা শুরুর পাশাপাশি সাহিত্যে মনোনিবেশ করেন এবং তাঁর জাদুকরী লেখনীর মাধ্যমে সৃষ্টি হতে থাকে 'সলোমন'স মাইনস্', 'শী', 'অ্যালান কোয়াটারমেইন' এর মতো অমর সকল দুঃসাহসিক ও রোমাঞ্চকর কাহিনীর। হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর বই সমূহ যুগে যুগে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পাঠকদের দিয়ে গিয়েছে নানা বিচিত্র কল্পকাহিনীর এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যার মূলে রয়েছে 'আমস্লোপোগাস', 'রিলিজিয়ন', 'অ্যালান কোয়াটারমেইন', 'শী' ইত্যাদি বিখ্যাত সিরিজ। হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর বই সমগ্র এর মধ্যে 'ক্লিওপেট্রা', 'মন্টেজুমা'স ডটার', 'লিসবেথ', 'কুইন অফ দ্য ডন', 'ভার্জিন অফ দ্য সান', 'দ্য ঘোস্ট কিংস', 'মেরি', 'দ্য ট্রেজার অফ দ্য লেক', 'রেড ইভ' ইত্যাদিও উল্লেখযোগ্য। তাঁর বেশ কিছু বই বাংলাদেশি পাঠকদের সুবিধার জন্য অনূদিত হয়েছে বাংলা ভাষায়। বাংলা ভাষায় অনূদিত হেনরি রাইডার হ্যগার্ড এর অনুবাদ বই এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'শী', 'রিটার্ন অফ শী', 'দ্য ইয়েলো গড', 'দ্য ঘোস্ট কিংস', 'কিং সলোমন'স মাইনস', 'মন্টেজুমা'স ডটার', 'অ্যালান অ্যান্ড দ্য হোলি ফ্লাওয়ার', 'মার্গারেট', 'দ্য পিপল অফ দ্য মিস্ট' ইত্যাদি। এই খ্যাতিমান কাহিনীকার ১৯২৫ সালের ১৪ মে ৬৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন। এর পূর্বে তিনি ১৯১২ সালে ইংরেজ রাজপরিবারের পক্ষ থেকে 'নাইটহুড' উপাধি লাভ করেন।