বাংলা গীতি, কবিতা, সাহিত্যে ও নাট্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অমর-অজেয়-অধরা এক মহান পুরুষ। তাঁর অনুপম সৃষ্টি বিশাল গল্পভাণ্ডার। এসব গল্পে বাঙালি জনজীবনের অনেক বাস্তবতা তাঁর জাদুকরী ছোঁয়ায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর গল্পকে নাট্যরূপ দিয়ে তাকে নাটক বলার মতো দুঃসাহস আমার নেই। তবে কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নাট্যদলের প্রয়োজনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প নিয়ে নাটকের চিন্তা মাথায় এসেছে। ‘দেনাপাওনা’ গল্পে সেই কত্তো বছর আগে রবীন্দ্রনাথ পণপথা নিয়ে যে করুণ গল্প উপস্থাপন করেছেন, তা যুগ-কাল পেরিয়ে এখনো বাস্তব। ‘মাল্যদান’ এক বঞ্চিত ভালোবাসার গল্প। অতিসাধারণ, অথচ হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্প অনেকে নাট্যরূপ দিয়েছেন, চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, তবুও আমার কাছে কাবুলিওয়ালা এক অনন্যমাত্রায় মূর্ত হয়েছে। কবির ‘মুসলমানীর গল্প’ নামের গল্পে সমাজের তৎকালীন ছুত-অচ্ছুত বাস্তবতায় হিন্দুসমাজের যে চিত্র পাওয়া যায়, তাকে ‘যখন বৃত্তের বাইরে’ নাট্যরূপে দর্শক-পাঠকের কাছে উপস্থাপন করেছি।
চারটি নাটকই বারবার মঞ্চায়িত হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে আমার নিজের দল ‘কক্সবাজার থিয়েটার’ ‘যখন বৃত্তের বাইরে’ ও ‘দেনাপাওনা’ মঞ্চায়িত করে দর্শকনন্দিত হয়েছে বারবার। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ‘দেনাপাওনা’ ও ‘কাবুলিওয়ালা’ ঢাকা জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চায়িত হয়ে বিশেষ সমাদৃত হয়েছে। দর্শক-পাঠকের কাছে এই চারটি নাটক একসাথে করে প্রকাশনা করার দুঃসাহস দেখালাম ‘কারুবাক’-এর কর্ণধার গোলাম কিবরিয়া ভাইয়ের ভালোবাসার কারণে। তাঁর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। ধন্যবাদ প্রুফরিডার, মুদ্রক, বাইন্ডার, প্রকাশক ও বিপণনের সাথে জড়িত সবাইকে। নাটকগুলোর কোনোটি কোনো নাট্যদল মঞ্চায়িত করলে দয়া করে মুঠোফোনে জানালে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ থাকবো।