সাইবার সিকিউরিটি ফর বাংলাদেশী সিটিজেন্স” বইটি সাইবার নিরাপত্তার একটি সমন্বিত নির্দেশিকা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যা জেড জেন ডিজিটাল যুগে তথ্য সুরক্ষা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইবার হুমকির মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সাহায্য করে। এখানে লেখক সাইবার নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। দ্রুত অগ্রসরমান প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে তথ্য চুরি, ফিশিং, ম্যালওয়্যার ও অন্যান্য আক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
বইটি বিভিন্ন আক্রমণ যেমন—ফিশিং, ম্যালওয়্যার, র্যানসমওয়্যার , সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিনায়াল অফ সার্ভিস (DoS ও DDoS)—এর কার্যপ্রণালী ও লক্ষণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিটি আক্রমণের ক্ষেত্রে কীভাবে ক্ষতি রোধ করা যায় এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা যায়, তার উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক কৌশল তুলে ধরা হয়েছে ।
সংযোজিত হয়েছে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA), ভিপিএন (VPN) ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইন কার্যক্রমকে এনক্রিপ্ট করা এবং সফটওয়্যার আপডেটের গুরুত্ব এখানে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।এসব প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে সিস্টেমের দুর্বলতা কমানো সম্ভব, যা সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ব্যপক সহায়তা করবে।
এরপর ডিজিটাল তথ্যের গোপনীয়তা ও সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রাইভেসি সেটিংস, ফেক নিউজ ও স্ক্যাম থেকে রক্ষা পাওয়ার কৌশল, এবং সোশ্যাল মিডিয়া হাইজ্যাকিং-এর থ্রেট তুলে ধরা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের উপদেশ দেওয়া হয়েছে কিভাবে তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা যায়, যাতে অনধিকৃত ব্যক্তিরা এগুলো অ্যাক্সেস করতে না পারে।
এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নীতি ও পরিচালনার বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা সার্টিফিকেশন, নিয়মিত কর্মচারী প্রশিক্ষণ এবং সিইও ও সিআইএসও-এর ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নীতি ও রোডম্যাপ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানই সঠিকভাবে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না, এজন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড যেমন ISO 27001, PCI DSS ইত্যাদির প্রয়োগ অপরিহার্য।
পরবর্তীতে বইটি পেনেট্রেশন টেস্টিং, এথিক্যাল হ্যাকিং, সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স এবং ইনসাইডার হুমকি নিয়ে আলোচনা করে। ভবিষ্যতে এআই ও মেশিন লার্নিং-এর ব্যবহার সাইবার হামলার পূর্বাভাস, সনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে কীভাবে সহায়ক হবে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সমাপনী অধ্যায়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। লেখক বলেন, সাইবার নিরাপত্তা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সমাধানে সীমাবদ্ধ নয়; মানব সম্পদের সচেতনতা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও নীতি-নির্ধারণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নতুন প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে চলার প্রয়োজনীয়তাও এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
সার্বিকভাবে, বইটি সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি ও প্রতিরোধের কৌশলগুলিকে একত্রিত করে একটি সুসংগঠিত রোডম্যাপ প্রদান করে। প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা এই বইটি থেকে শিখতে পারবেন কিভাবে সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সমাধান ও মানবসম্পদের সচেতনতার মাধ্যমে সাইবার হুমকি মোকাবিলা করা যায় এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
লেখক মনে করেন, এই নির্দেশিকা আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকরী ও প্রাসঙ্গিক, এবং প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য অপরিহার্য রিসোর্স হিসেবে কাজ করবে। তাই বইটি বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য প্রযোজন বলে লেখক মনে করেন এবং তিনি বলেন তথ্য ও সাইবার নিরাপত্তা হলো মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে দাড়িয়েছে। যা ব্যক্তি, সমাজ, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সমসহযোগীতার মাধ্যমে এ অধিকার অক্ষুন্ন রাখা সম্বভ।