মানব সভ্যতা ও সৃষ্টির আদি নিদর্শন সমূহের আসল এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রের অভাবে প্রাচ্য কিংবা পাশ্চাত্যে প্রায় সর্বত্রই সংগীতের উৎপত্তি বিষয়ক সঠিক ইতিহাস কেবলই রহস্যাবৃত থেকেছে। সংগীত আসলে কোথা থেকে এসেছে। কৃষি, শিকারী, যাযাবর, যোদ্ধা, পরিবার, সমাজ, ধর্মাচার নাকি লোকাচার থেকে? সংগীত বিষয়ে গবেষক ও শিল্পীগণ একারণে বিভিন্ন লৌকিক উপাখ্যান কিংবা কল্পকাহিনির উপর নির্ভর করে মানুষ কীভাবে প্রথম গান করেছে? সে বিষয়ে নানা প্রকার ব্যাখ্যা প্রদানের চেষ্টা করেছেন। অনেকে সেটাকে গ্রহণ করেছেন আবার অনেকে তা করেননি। সংগীত বিষয়ের এসব কল্পকথাকে অনেক সময় বাস্তবতার থেকেও বেশি শক্তিশালী মনে হয়েছে। বেশিরভাগ সময়ে সংগীতের সাধকগণ একটা মনে করেছেন তো— বিজ্ঞান আরেক তথ্য কিংবা ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। পৌরাণিক মতবাদের সাথে কখনো সখনো লৌকিক বা প্রচলিত মতবাদের বিরোধও লক্ষ করা গেছে। বাংলার লোকজীবনে সংগীত একটি অন্যতম চর্চিত উপাদান। দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে সংগীতের প্রভাব আমরা দেখতে পাই। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রায় সকল স্তরে সংগীতের চর্চা এবং প্রতিষ্ঠানিকভাবে এটাকে গ্রহণের বিষয়টিও আজ অনেকখানি স্বীকৃত। আমাদের সংগীত ইতোমধ্যেই ভাষাগত ও মর্যাদার দিকথেকে একটি পাকাপোক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেছে। বর্তমানে অধিক বা উন্নততর সংগীত সৃষ্টির লক্ষ্যে এদেশীয় সংগীতের উদ্ভবের উৎস সন্ধান করা প্রয়োজন বলে মনে করছি। শিক্ষার্থী, সাধক, সাংস্কৃতিক কর্মী সকলের জন্যই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির উৎসমূল বিষয়ে জ্ঞানার্জন করা প্রয়োজন। ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রভাব হতে মুক্ত হয়ে আত্ম—পরিচয়ের অন্যতম বাহন ‘সংগীত’ এদেশের লোকসমাজে বা জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে জানাটা অতি জরুরি। ‘বাংলা সংগীতের উৎস সন্ধান ও আমাদের লোকজীবনে সংগীত চর্চার প্রচলন’ বিষয়ে যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে আমাদের সংগীতের সঠিক উৎসের অনুসন্ধান করা সম্ভব