আমাদের জীবনযাপন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর নিজেদের পূর্ণনিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। অর্থাৎ আপনি যা চিন্তা করছেন, বিশ্বাস করেন, যে লাইফস্টাইল বেছে নিয়েছেন কিংবা যে রাজনৈতিক আদর্শকে সাপোর্ট করেন তা একান্তই আপনার বুদ্ধি, বিবেক ও চিন্তার ফসল। কারও কথায় আপনি সেগুলো করছেন না বা করতে বাধ্য নন। চাইলে আপনি সেটা বদলেও ফেলতে পারেন- এমনটাই বিশ্বাস। কিন্তু সত্যি কি তাই? ব্যাপারটা এতই সহজ?
না, একদম না। বরং তা প্রায় শতভাগ অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো- আমাদের উপর অন্যদের প্রভাব শুরু হয় জন্মের আগে থেকেই। অর্থাৎ আপনার মায়ের জীবনযাপন পদ্ধতি ও চিন্তার ধরন মাতৃগর্ভে আপনার মস্তিষ্ক গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তারপর বেড়ে উঠার পরিবেশ, তথ্যের ইনপুট সোর্স, শিক্ষা পদ্ধতি, কর্মক্ষেত্রের বৈশিষ্ট্য... এমন অসংখ্য বিষয় দ্বারা প্রতিনিয়ত আপনি প্রভাবিত হচ্ছেন। ফলে আপনি যেটাকে একান্তই নিজের সিদ্ধান্ত ভাবছেন বাস্তবে তা আপনার হৃদয়কে প্রভাবিত করার সামর্থ্য রাখা অসংখ্য তত্ত্ব ও তথ্যের সমন্বিত আউটপুট।
অসংখ্য ব্যক্তি, বোধ, আদর্শ ও বিশ্বাস আপনার উপর এত প্রভাব রাখে যে তার মর্যাদা রক্ষায় অকাতরে নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে পারেন... মানব সন্তানের এই বৈশিষ্ট্যকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতেই কোম্পানিগুলো খ্যাতিমান সব ব্র্যান্ড তৈরি করছে। আপনি-আমি জাস্ট তাদের শেখানো পন্থায় জীবনযাপন করে ধন্য হচ্ছি, নিজেকে আধুনিক এমনকি স্মার্ট ভাবছি। এভাবে তারা শুধু আমাদের। মস্তিষ্ক নয় বরং হৃদয়ের উপর পূর্ণ দখল নিয়ে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করছে।
এসব বিষয় উপলব্ধি করার পরও কি তাদের অন্ধ অনুসরণ করা উচিত? নাকি বিবেক ও যুক্তির আলোকে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা দরকার? সেটা সত্যিই অনুভব করলে নিজের হৃদয়ের মালিকানা পুনরুদ্ধারের সচেষ্ট হওয়া জরুরি। সে ক্ষেত্রে বইটি আপনাকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করতে সক্ষম হবে বলে আশা করছি।
পড়তে ভালোবাসেন। দেশ-বিদেশের বইতো বটেই...পরিত্যক্ত ঠোঙ্গা, পুরনো সংবাদপত্র, ব্যবহৃত পণ্যের প্যাকেট, এমনকি পরীক্ষার খাতা সবই পড়েন নিবিষ্ট মনে। তবে কখনো সেগুলো মনে রাখতে চেষ্টা করেন না। ফলে পড়াটা হয়ে উঠে দারুণ উপভোগ্য। মেলে বহুবিধ চিন্তার খোরাক। ছাত্রজীবনে বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতায় ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রতিফলন দেখা যায় বিভিন্ন লেখায় ও পাবলিক লেকচারে। বাই চয়েস শিক্ষকতা পেশায় আসা এই মানুষটি ভালোবাসেন নতুন নতুন বিষয়ে জানতে ও অন্যদের সাথে শেয়ার করতে। তাঁর যে কোন লেখা পড়তে থাকলে মনে হয় যেন ক্লাসে বসে লেকচার শুনছি। অর্থাৎ স্বকীয় বাচনভঙ্গীকে তিনি অতি দক্ষতায় লেখনীর মাধ্যমে সাবলীলভাবে প্রকাশ করেন-- যা সচরাচর দেখা যায় না।