টমাস এস. কুনের পুস্তক The Structure of Scientific Revolutions প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। প্রথাগত বিজ্ঞানের অগ্রসরমানতার বিপরীতে এটি জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির বৈপ্লবিক ধারা তুলে ধরেছে এবং সেইসূত্রে নিজেই একটি বিপ্লবাত্মক পুস্তক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বইটি বিজ্ঞান-ইতিহাসের বই হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। কিন্তু তারও অধিক, এটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, তথা জ্ঞানের পরিবর্তন ও বিকাশ (যদি অগ্রগতি বলা যায়, তবে তা-ই) নিয়ে একটি দার্শনিক পুস্তক হয়ে উঠেছে এবং বিংশ শতাব্দীর বিভিন্ন বিদ্যাবিভাগে তার প্রভাব রেখে চলেছে। সাধারণ বুদ্ধি বলে যে, জ্ঞান অগ্রসর হয় পুঞ্জীভবনের মাধ্যমে (বেকন যেমন বলেছেন)। মানুষ কালের প্রবাহে যতই এগিয়ে যায় জ্ঞান আহরণ করতে থাকে; জ্ঞান ততই বৃদ্ধি পায়, পরিশুদ্ধ, নিখুঁত ও লাগসই হতে থাকে এবং পৃথিবী শুদ্ধতর আলোতে প্রকাশিত হয়। টমাস কুন এ বইতে জ্ঞানের বিকাশ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এর বিপ্লবাত্মক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন জ্ঞান পুঞ্জীভবনের মাধ্যমে অগ্রসর হয় না; এটি কোনো সরলরৈখিক অগ্রগতি নয়। জ্ঞান বুদ্ধিদীপ্ত অনুমান ও তার খণ্ডনের মাধ্যমেও অগ্রসর হয় না (পপার যেমন বলেছেন) বরং জ্ঞানের, তথা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্যারাডাইমের পরিবর্তন ঘটে (paradigm shift) এবং তার মাধ্যমেই জ্ঞান পরিবর্তিত হয়, বিকশিত হয়; তা এক অন্তহীন বিপ্লবী কাঠামোবদ্ধ ধারা। তাই তাঁর এ পুস্তকের নাম 'বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের কাঠামো'। পুস্তকটির অর্ধশত বর্ষ-পরবর্তীকালের সম্পাদক আয়ান হ্যাকিং লিখেছেন “মহান পুস্তক অত্যন্ত বিরল; এটি সেই বিরল প্রকৃতির একটি পুস্তক।" এর জনপ্রিয়তাও নির্দেশ করে এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক। কেবল বিক্রয়সংখ্যার বিবেচনায় নয়-ভাবের গভীরত্ব এবং অন্যান্য দার্শনিক ও সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বাদিকে চ্যালেঞ্জ করে এই পুস্তকটির তত্ত্ব পৃথিবীব্যাপী ভাবজগতে এক বিপ্লবের সূচনা করেছে।