নানা কারণেই ঊনবিংশ শতাব্দী আমাদের ইতিহাসের ঘটনাবহুল সময়। যদিও তখন আমরা একটি ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে ছিলাম। এই অধীনতা রাষ্ট্রিকভাবে থাকলেও চিন্তা ও কর্মের জগতে ঘটছিল নানা পরিবর্তন-বিস্ফোরণ। সমাজ-ধর্ম-শিক্ষা-রাজনীতির ক্ষেত্রে নব নব চিন্তার উন্মেষ যেমন ঘটছিল প্রবলভাবে, তেমনি নানা কর্ম-উদ্যোগও তৈরি করছিল বৃহৎ সম্ভাবনার দ্বার। এমন প্রেক্ষাপটে জন্ম নিয়েছিলেন ইতিহাস তৈরি করা বহু মানুষ। এঁদের মধ্যে অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং স্বামী বিবেকানন্দ।
সমসাময়িক এই দুই বঙ্গ সন্তান হয়েছেন জগৎ-বরেণ্য; জননী সারদাদেবীর সন্তান বিশ্বখ্যাত হয়েছেন সারদা-সরস্বতীর বরপত্রে কবি-লেখক হিসাবে, আর জননী ভুবনমোহিনীর সন্তান স্বামী বিবেকানন্দ নামে ভুবনবিজয় করেছেন সন্ন্যাসী হিসাবে। এই কবি আর সন্ন্যাসী চিন্তানায়করূপে ভারতবর্ষকে দিয়েছেন নতুন মহিমা, এই উপমহাদেশের মানুষের মনন ও জীবনকে দিয়েছেন নতুন চরিত্র, একইসাথে ভক্তি, জ্ঞান ও কর্মে খুলে দিয়েছেন নতুন দিগন্ত।
দেড় বছরের ব্যবধানে জন্ম গ্রহণ করা এবং কাছাকাছি জায়গায় বেড়ে ওঠা এই দুই কালজয়ী মনীষীর সম্পর্কের রসায়নটি কেমন ছিল, এ নিয়ে প্রচুর কৌতূহল আছে। বিভিন্ন আলোচনায় তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নানা কথা উঠে এসেছে। আবার কখনো কখনো একজনকে বড়ো করতে গিয়ে অন্যজনকে ছোটো করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। দু’জনই আমাদের ইতিহাসের অনিবার্য চরিত্র। স্ব স্ব ভূমিকায় রেখে গিয়েছেন জ্যোতির্ময় স্বাক্ষর, যার কিরণে এখনও আলোকিত হচ্ছে পৃথিবীর অগণিত মানুষ। এই একবিংশ শতাব্দীতেও এতটুকু কমেনি সেই জ্যোতির্ময়তা এবং অনিবার্যতা। আর এ কারণেই আরও বেশি করে বোঝাপড়া করা প্রয়োজন তাঁদের সম্পর্কে।
এই বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ-বিবেকানন্দ : কাছে ও দূরে বইটি কিছুটা হলেও নতুন চিন্তার খোরাক যোগাবে।