ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, দোয়া, বিনয়, সালাম ও শুভকামনা। আমার এ লেখাটা আসলে একটা চিঠি; আমি আমার ছোট মেয়ে ‘ইউমনাকে’ লিখতে গিয়ে শুরু করেছিলাম। ইউমনা ক্লাস নাইনে পড়ছে এখন ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। লিখতে লিখতে ক্রমেই বড় হতে লাগলো; বিষয়বস্তুরও বৈচিত্র্য আসলো। ভাবলাম একটু বিস্তার পেলেও মন্দ হয় না যে কোনো শিক্ষার্থীদের জন্য! আমার মেয়ে যদি এ লেখাটা পড়তে পারে তবে যে কোনো শিক্ষার্থীই নয় কেন? আসলে আমরা যখন শিখতে চাই তখনই আমরা শিক্ষার্থী। মানুষ মাত্রই শিক্ষার্থী, আজীবন তাকে শেখার মধ্যেই থাকতে হয়। সেই অর্থে মানুষ মাত্রই শিক্ষার্থী, সৃজনশীল।
লেখাটার আসল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের আত্মোউন্নয়নের জন্য তথা মানবিক উন্নয়নের জন্য উপদেশনা ও নির্দেশনা প্রদান। এসব বিষয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে ও হচ্ছে। লেখাটি লিখতে গিয়ে আমি কিছু মনোবিজ্ঞান ও আনুষঙ্গিক বইয়ের সহায়তা নিয়েছি; সে বইগুলো আমার প্রিয় বই। বইগুলোর নাম আমি ‘সহায়ক গ্রন্থাবলিতে’ উল্লেখ করলাম। আমি উক্ত লেখকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। মানবিক উন্নয়নে সহায়ক বিষয়গুলোকে উক্ত বইগুলো থেকে সংক্ষেপে তুলে আনবার চেষ্টা করেছি; আশা করি আমার দীর্ঘদিনের (প্রায় ৫ বছর) পরিশ্রম কিছুটা হলেও সার্থক হবে বলে বিশ্বাস। কারণ বইগুলো পড়ে আমি দারুণভাবে উপকৃত হয়েছি; আর আমার এই বইটি আসলে একের ভেতরে অনেক বইয়ের মূলকথাগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ। আর আমি আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও শিক্ষণের মূলভাবকেও বর্ণনা করেছি সহজভাবে যা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে ইনশাআল্লাহ।
বইটিতে মানবিক উন্নয়ন সম্পর্কিত মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও তথ্য এবং তত্ত্বের গবেষণালব্ধ ফলাফল সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি; যা মানুষের আচরণকে নতুনভাবে, সহজভাবে জানতে ও বুঝতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।
ধর্মমত নির্বিশেষে সকল মানুষ মাত্রই মানবিক বোধ অর্জন জরুরি। যে বিষয়গুলো মানবিক গুণাবলি অর্জনে সহায়ক সে বিষয়গুলোকে আমার লেখায় তুলে আনার চেষ্টার করেছি। বিষয়গুলো যে কোনো ধর্ম ও মতের অনুসারীদের জন্যও সাধারণভাইে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমার বিশ্বাস। তবুও আমি আমার এই লেখা সম্পর্কে পাঠকদের কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি কামনা করছি।
“প্রিয় পাঠকদের ক্ষমাসুন্দর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি একান্তভাবেই কাম্য। ভালো থাকুন, ভালোবাসুন, সুস্থ থাকুন। আরো ভালো ভালো বই পড়ুন, পড়ুন, পড়ুন এবং পড়ুন।”—এই প্রার্থনা জ্ঞানপিপাসুদের উদ্দেশ্যে। কারণ মানুষকে বড় হতে হবে আরো আরো ধ্যানে, জ্ঞানে ও মনে।
আমি আমার এ লেখায় ‘প্রিয় শিক্ষার্থী’, ‘প্রিয় পাঠক’ এবং ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করেছি কেবলমাত্র পাঠকদের ভালোবেসেই; অন্যভাবে নিবেন না প্লিজ!
আবারও বলছি, ‘প্রিয় পাঠক ও শিক্ষার্থী আমার জন্য দোয়া করবেন। আর যাঁরা আমাকে বইটি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছেন তাদের সবার প্রতিই রইলো কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।