প্রেমাঞ্জলি প্রেমা কখনও খিরু নদীতে ঢেউ তুলেছে, কখনও কলকল জল তার ছলছল হাসিতে ভাসিয়ে দিয়েছে। প্রেমাঞ্জলি প্রেমা কখনও খিরু নদীর স্নিগ্ধ, শান্ত জলে ডুবেছে, আবার কখনও ভেসেছে। রহস্যময় ভাবে নীল যখন বেঁচে যায় তখন তার জীবনে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উঁকি দেয় উপজাতি কন্যা মেরিনা। তবে তাদের দুজনের প্রেম দুজনের হৃদয়েই গোপন থেকে যায়! এক সময় নীলের জীবনে আসে জেবিন । জেবিন বার বার নীলকে ধরতে গিয়ে প্রতিবারই হারিয়ে ফেলে। তবুও জেবিন নীলকে পেতে চায়। কারণ জেবিন যখন নীলকে পায়, নীল তখন হারিয়ে যাওয়া অনেক দূরের পথিক! অন্যদিকে নীলের বাল্যবন্ধু আকাশ, নীল আর আকাশ মিলে দুজন ছিল এক সাথে নীলাকাশের মতো! কিন্তু নীলাকাশ ভেঙে খানখান হয়ে যায়! আকাশ যেন ভেঙে পড়ে নীলের মাথায়। তাহলে শেষ পর্যন্ত কে কাকে আপন করে পেল, কেনো পেল, কেমন করে পেল? এক দিকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে নীল, একই হাসপাতালের আরেক বেডে মুমূর্র্ষ অবস্থায় শুয়ে আছে প্রেমা। বাঁচতে হলে জরুরি রক্ত প্রয়োজন, কিন্তু কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না রক্ত। নীলের রক্তের গ্রপের সাথে মিলে; কিন্তু অসুস্থ নীল কি রক্ত দিয়ে বাঁচাতে পারবে তার প্রেমাকে? শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে গ্রামে ফিরে যায় কেউ একজন, কিন্তু কে সে? এক সময় আকাশ থেকে ফোটা ফোটা নীল মেঘ ঝরে পড়ে, শান্ত হয় দুরন্ত পৃথিবী, ক্লান্ত হয় খিরুর তীর ভাঙা ঢেউ! দুফোঁটা অশ্রুতে ভিজে যায় কোনো এক সমাধি! পাথরচাপা কষ্ট নিয়ে কেউ একজন দাঁড়িয়ে থাকে সমাধির পাশে, চোখের জল মুছতে মুছতে কেউ ফিরে যায় ব্যর্থ মনোরথে! এক সময় সমাধির বুকে জন্ম নেয় নরম দূর্বাঘাস! শিশিরবিন্দু জমা হয় সেই দূর্বাঘাসের শীষে! তবে কী এখানেই থেমে গেল প্রেমাঞ্জলি! নাকি দূর্বাঘাসে শিশিরবিন্দু হয়ে রয়ে গেল অনন্তকাল? পাঠকের ভালো লাগবেই