সময়ের একচ্ছত্র চলাচলের মধ্যে মানুষের অনুভূতি সংবেদনা স্বপ্ন কল্পনা যুক্তি চিন্তা—এসবের অজস্র রূপবদল কিংবা পরিগঠন একটি চলমান মিশ্র প্রক্রিয়া। পাঠবস্তুর স্রষ্টা হিসেবে লেখকের অস্তিত্বের ইতিহাসও এই আওতার মধ্যেই পরিক্রমশীল। তার প্রকর্ষ কেবল নয়, তার প্রকাশও এই অমোঘতার মধ্যেই সক্রিয়। প্রকৃতি সভ্যতা উন্নয়ন প্রভৃতি সূচকের ঘাত সয়েই লেখক তার সত্তার প্রসারণে দায়বদ্ধ। এই ‘সত্য’কে গ্রাহ্য করেই সুজন তাজওয়ার তাঁর ফিকশনের পরিসর রচনা করেন। ফলে গ্রাম শহর মফস্বলে ভাগ-করা তাঁর যাপন-ভূমির ত্রিভুজ ভূমিকাটি তাঁর পক্ষে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। এর নজির তাঁর গল্প-কলেবরে অনায়াসে লক্ষ করা সম্ভব। লেখককের প্রাত্যহিক/প্রথাগত জীব(ন)যাত্রার বেগের সঙ্গে যা-কিছু জড়িত, তারই ফলন্ত দৃষ্টান্ত তাঁর গল্পগুলো। এক্সপেরিয়েন্সের সতেজ প্রয়োগে তাঁর গল্প সহজ ও স্বাভাবিক। বৈশ্বিক অবলোকনের তরফে ফিকশন-জগতে কাহিনির সীমা ছাপিয়ে চিন্তা-ভজনার যে গরজ দেখতে পাই, সুজনের গল্পে তার ‘ফলন’ বা ‘প্রতিফলন’ চোখে পড়বে না। একে ঠিক নেগেটিভ বিবেচনা বলবো কি-না, কাহিনির মোহ তাঁকে এখনো অবশ করে রাখে। জীবনের মধ্য থেকে নিজ হাতে ছেকে আনা একটা সহজ রস তাঁকে পরিবেশন করতে দেখি। কাঁচা স্বাদের আস্বাদ এতে জরুরি মাত্রায় অনুভূত। এটি তাঁর গল্পের একটি স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য বলেও বিচার করা যায়।
-ফারহান ইশরাক
মাটিলগ্ন জীবনের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ কবি সুজন তাজওয়ার ইতপূর্বে একাধিক গল্পের বই লিখেছেন এবং প্রকাশ করেছেন। কবিতা লেখার অভ্যেস সুজনের গল্পে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। মূলত নিম্নবিত্তের যাপিত জীবনের অনুষঙ্গসমূহের একটি বাছাইকৃত রূপ তার গল্পে খুঁজে পাওয়া যায়। সুজনের গল্পজীবন দীর্ঘ ও সাফল্যমন্ডিত হোক এই কামনা করি।