বিভিন্ন লেখকের বিভিন্ন লেখা পত্র-পত্রিকায় অথবা বইতে পড়তে গিয়ে বিরামচিহ্নের
নানান রকম প্রয়োগ দেখি। পড়তে পড়তে ইচ্ছে হলো বিরামচিহ্ন ব্যবহারের বৈশিষ্ট্যগুলো
একত্রিত করা দরকার। যেই ভাবনা সেই কাজ, তবে বিরামচিহ্নের ইতিহাস এই গ্রন্থে
অন্তর্ভুক্ত করি নাই। প্রত্যেকটি বিরামচিহ্নের একদম শুদ্ধ নিয়ম বা ব্যবহার
আবিষ্কার করা অত্যন্ত কঠিন।
যেকোনো বাক্য পড়তে গেলে একটা ষড়মরপধষ ঢ়ধঁংব প্রয়োজন পড়ে; এই যে,
একটা যৌক্তিক বিরতি বা বিশ্রামের প্রয়োজন–থএই প্রয়োজনটা কোথায় কতটুকু
হবে বা কোথায় কী ধরনের বিশ্রামের প্রয়োজন সেটা বিরামচিহ্ন নির্দেশ করে।
বিরামচিহ্ন যেমন শ্বাস বিরতির সুযোগ করে দেয় তেমনি বাক্যের সম্পূর্ণ স্বাধীন
অর্থ প্রকাশেও সহায়তা করে। বহু লেখক বাক্যে বিরামচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে
উদাসীন। লেখকের সেই উদাসীনতা যদি পাঠককে বাক্য এবং বাক্যের অর্থ
বুঝতে অসুবিধার মুখোমুখি দাঁড় করায়, তবে সেটা লেখকের দুর্বলতা।
কবিতা আবৃত্তির ক্ষেত্রে একজন আবৃত্তিকারকে বিরামচিহ্ন নির্দেশ করে দেয় যে–
কণ্ঠস্বর, মৌখিক উচ্চারণ এবং ভাষাগত অভিনয়টা কেমন হবে। এসব ক্ষেত্রে
যথোপযুক্ত বিরামচিহ্নের ব্যবহার একজন কবিকে আরো শক্তিশালী কবিতে
পরিণত করে।
ভূমিকায় অনেক কথা বলা যেতো; কিন্তু এখানে বাহাদুরি না করে পাঠককে
বইয়ের ভিতরে নিয়ে যেতে চাই। বইটি কিভাবে পাঠকের কাছে সর্বাধিক
গ্রহণযোগ্যতা পাবে সেই চেষ্টা করেছি। পাঠকের যেকোনো অভিমত বা মতামত
আমার শিরিধার্য।
কারুবাক প্রকাশনীর প্রকাশক গোলাম কিবরিয়া ভাইয়ের অত্যন্ত সহযোগিতা
ও আন্তরিকতার কারণে বইটা পাঠকের কাছে তুলে দেয়া সম্ভব হয়েছে। তাকে
অন্তরঙ্গ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।