শাসন ব্যবস্থায় সরকার কাঠামো নিয়ে বহুমত ও মতবাদ রয়েছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বে সরকার কাঠামো সাধারণতঃ দু’টিÑ সংসদীয় বা পালামেন্টারি পদ্ধতি এবং রাষ্ট্রপতি বা প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতি। সাংবিধানিক সরকার হিসেবে এই দু’টি শাসনব্যবস্থা প্রচলিত আছে। তবে সবকিছু নির্ভর করে রাষ্ট্রের সংবিধানের ধারা ঐ সরকারের চারিত্র্য কিভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছে তার উপর। গণতান্ত্রিক দেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় ও ও যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার রীতিনীতিগুলো অনুসৃত হয়ে থাকে এবং এই দু’টি রীতিকেই মোটামুটি বিশুদ্ধ ও স্বয়ংসিদ্ধ হিসেবেই ধরা হয়। তবুও বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সরকারের শাসন ব্যবস্থা হিসেবে সংসদীয় পদ্ধতি কতটুকু নিখাদ এবং কতটুকু মুক্ত ও জনকল্যাণমুখীÑ এনিয়ে আশংকা ও সংশয় দেখা দিয়েছে। কেননা সরকারের চারিত্র্য যদি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠে তা হলে তা কিছুতেই সর্বজনীন ও জনকল্যাণমুখী হতে পারেনা। তাই আমরা দেখি সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সংসদীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী অধিকতর ক্ষমতাবান হওয়ায় একনায়কত্বের চেহারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে গণতন্ত্রের পরমত সহিষ্ণুতার আপ্তবাক্যটি গৌণ হয়ে পড়ে এবং ‘আমার’ ও ‘আমিত্ব’ বড় হয়ে উঠলে সর্বজনের মতামত দলিত হয়। অর্থাৎ গণতন্ত্রের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাপকাটিতে সংখ্যালঘিষ্টের সাংবিধানিক অধিকার লুণ্ঠিত হবার উপক্রম হয়। এ সংসয় অমূলক নয়। কেননা সংসদীয় পদ্ধতির সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠাতার জোরে সংখ্যালঘিষ্টের উপর আধিপত্য বিস্তার করে। এমনকি ‘কালাকানুন’ও চাপিয়ে দেয়। এর ফলে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের সাথে স্বৈরতান্ত্রিক সরকার ও স্বৈরশাসকের কোন পাথর্ক্য ধরা পড়েনা। তাই স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, সাংবিধানিক বিধি বলে সংসদীয় সরকার পদ্ধতিও গণতান্ত্রিক চারিত্র্য হারাতে পাড়ে।