ইসলামে নারীদের সম্মান ও মর্যাদা
نَحْمَدُه وَنُصَلِّي عَلَى رَسُوْلِهِ الْكَرِيمِ أَمَّا بَعْدُ.
মুহতারাম ভাই ও বোনেরা।
মহান আল্লাহ নারীদেরকে শরিয়তের এ দায়িত্ব দেননি যে, তারা স্বামীদের জন্য রুটি তৈরি করবে, তাদের কাপড় ধুয়ে দেবে। কাপড় প্রস্তুত করবে, খাবার প্রস্তুত করবে। চা-নাশতা প্রস্তুত করবে। এমনকি বাচ্চাদের জন্য ক'টি তৈরি করবে। এটা নারীদের প্রতি এহসান। এগুলো যখন তাদের শরিয়তের দায়িত্ব নয়; তখন তাদের শরিয়তের দায়িত্ব কী? হ্যাঁ, তাদের শরিয়তের দায়িত্ব হলো উত্তম বংশধর তৈরি করা। শুধু সন্তান জন্ম দেওয়াই উদ্দেশ্য নয়; এমন বংশধর তৈরি করা যাতে সে মায়ের কোল থেকে পূর্ণ ঈমানদার হয়, পূর্ণ লজ্জাশীল হয়।
পনেরো বছর, তেরো বছর, বারো বছর, বালেগ হওয়ার আগেই সন্তানদেরকে তাদের মায়েরা এমনভাবে গড়ে তুলবে, যেনো তারা আল্লাহর হুকুমের অনুগত হয়। আল্লাহর প্রতিটি হুকুম যথাযথভাবে পালন করে। এটা খুবই জটিল কাজ। তাই আল্লাহ নারীদেরকে বাইরে বের না হয়ে সন্তানদেরকে লালনপালন করার আদেশ দিয়েছেন। আর বাইরে বের হওয়ার, উপার্জন করার দায়িত্ব স্বামীদের দিয়েছেন। ইসলাম আসার আগে নারী ছিলো পশুর মতো। ইহুদিদের কাছে নারী ছিলো জন্তু-জানোয়ার।
আরবদের কাছে নারী ছিলো দাসী। প্রয়োজন পূরণ হওয়ার পর পুরাতন জুতার মতোই তাদেরকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হতো। ইসলামে নারীর মর্যাদা ইসলাম আগমন করার পর নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সমাজে নারীর
অবস্থান সুস্পষ্ট হয়েছে। নারীর কোনো উত্তরাধিকার ছিলো না। বর্তমানে হিন্দু সমাজেও মেয়েদের উত্তরাধিকার নেই। আজকাল মুসলমানরাও বিভিন্নভাবে মেয়েদেরকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। আমরা আসলে
হিন্দুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছি। মহান আল্লাহ নারীদের অবস্থান সুস্পষ্ট করার জন্য তাদের অধিকার বর্ণনা করেছেন। উত্তরাধিকারের কথা বলতে গিয়ে আল্লাহ প্রথমে নারীদের কথা বলেছেন, তারপর পুরুষের কথা বলেছেন। 'যথাযথভাবে পুরুষের ওপর নারীদের অধিকার রয়েছে যেমন পুরুষের অধিকার রয়েছে নারীদের ওপর। আর নারীদের ওপর পুরুষের রয়েছে মর্যাদা।'
পুরুষের মর্যাদা উঁচু তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহ প্রথমে আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর হাওয়া আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন। হযরত আদম আলাইহিস সালামকে খেলাফত দিয়েছেন, কিন্তু নারীকে খেলাফত দেননি। কিন্তু অধিকারের ক্ষেত্রে নারীর কথা আগে এসেছে। অর্থাৎ নারীর অধিকার হলো মৌলিক; তার ওপর ভিত্তি করে পুরুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অথচ পুরুষের মর্যাদার দিকে লক্ষ রেখে তাদের অধিকারের কথা আগে আনার দরকার ছিলো। কিন্তু আল্লাহপাক নারীদের অধিকারের কথা আগে বলেছেন
'তোমাদের (পুরুষদের) ওপর নারীদের অধিকার। যেমন নারীদের ওপর তোমাদের (পুরুষের) অধিকার রয়েছে।' তো এখানে নারীদের অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে এবং তার ওপর পুরুষের অধিকার অনুমান করা হয়েছে। সামান্য ত্রুটিতেই মেয়েদের ধমক দেওয়া হয়, গালি দেয়া হয়। কেনো? চা বানায় নি, কাপড় ধোয় নি, জামার বোতাম লাগায় নিড়এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। কিন্তু সন্তানকে আদব-আখলাক শেখায়নি, আল্লাহপাকের হুকুম শেখায় নিড়এ নিয়ে তাদের মাঝে কোনো ঝগড়া হয় না। আর স্ত্রী স্বামীর সাঙ্গে ঝগড়া করে; তুমি আমাকে গহনা দাওনি, ভালো শাড়ি দাওনি, সামনে ছেলের বিয়ে অথচ আমার ভালো গহনা নেই-এইসব অভিযোগ করে। অথচ আল্লাহপাকের হুকুম যে বিষয়ে সে বিষয়ে তাদের কোনো হুঁশ নেই।