সারসংক্ষেপ রসূল মুহাম্মাদ (স.)-কে অনুসরণ করা সকল মুসলিমের জন্য ফরজ। এ কাজে সফল হওয়া না হওয়ার ওপর নির্ভর করে একজন মুসলিমের দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা ও ব্যর্থতা। বর্তমান বিশ্বের মুসলিমদের রসূল (স.)-এর অনুসরণ করার বিষয়টি পর্যালোচনা করলে সহজে বুঝা যায়- মুহাম্মাদ (স.)-কে প্রেরণের উদ্দেশ্য এবং তাঁকে যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা বুঝার মাপকাঠি সম্পর্কে অধিকাংশ মুসলিমের ধারণার সাথে কুরআন, সুন্নাহ ও Common sense-এর তথ্যের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। রসূল মুহাম্মাদ (স.)-সহ সকল নবী-রসুল (আ.) প্রেরণের মূল উদ্দেশ্য হলো- মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য (কুরআনকে সকল জ্ঞানের নির্ভুল, পরিপূর্ণ উৎস ও মানদ- মেনে নিয়ে জন্মগতভাবে জানা সকল ন্যায় কাজ বাস্তবায়ন ও অন্যায় কাজ প্রতিরোধের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ করা) বাস্তবায়ন করে পৃথিবীর মানুষকে দেখিয়ে দেওয়া। এটি করার একমাত্র উপায় হলো ইসলামকে সমাজে বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। আর রসূল মুহাম্মাদ (স.)-কে সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা বোঝার মাপকাঠি হলো- বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিরোধ আসা। মুসলিমদের বর্তমান চরম অধঃপতনের একটি মূল কারণ হলো- রসূল মুহাম্মাদ (স.)-কে সঠিকভাবে অনুসরণ না করা। তাই, পুস্তিকাটিতে মুহাম্মাদ (স.)-কে প্রেরণের উদ্দেশ্য এবং তাঁকে যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা বুঝার মাপকাঠি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পুস্তিকাটি বিষয় দুটি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের পথে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ। আমিন! ছুম্মা আমিন
Title
গবেষণা সিরিজ - ০২ : মুহাম্মদ (সা:) কে প্রেরণের উদ্দেশ্য এবং তাঁর সঠিক অনুসরণ বুঝার মাপকাঠি
প্রফেসর ডা. মো. মতিয়ার রহমানের জন্ম বাংলাদেশের খুলনা জেলার ডুমুরিয়া খানার আরজি-ডুমুরিয়া গ্রামের এক ধার্মিক পরিবারে। নিজ গ্রামের মাদ্রাসায় তাঁর শিক্ষা জীবন আরম্ভ। ছয় বছর মাদ্রাসায় পড়ার পর তাঁকে ডুমুরিয়া হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালে তিনি যথাক্রমে ডুমুরিয়া হাইস্কুল ও সরকারী বি.এল কলেজ, দৌলতপুর, খুলনা থেকে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি পাস করেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে MBBS পাস করেন। দ্বিতীয় ও ফাইনাল প্রফেশনাল MBBS পরীক্ষায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাক্রমে ৬ষ্ঠ ও ১০ম স্থান অধিকার করেন।
MBBS পাস করে তিনি সরকারি চাকুরীতে যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে ইরাক সরকারের চাকুরী নিয়ে সেদেশে চলে যান। ৪ বছর ইরাকের জেনারেল হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে চাকুরী করার পর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান এবং ১৯৮৬ সালে গ্লাসগো রয়েল কলেজ অফ ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জনস থেকে জেনারেল সার্জারিতে FRCS ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশে ফিরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে কনসালট্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রফেসর এবং সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।। তিনি ল্যাপারোসকোপ (Laparoscope) যন্ত্র দিয়ে একক হাতে (Single handed) পিত্তথলির পাথর (Gall Bladder Stone) অপারেশনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ সার্জন (Surgeon)।
প্রফেসর ডা. মো. মতিয়ার রহমান চিকিৎসক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি দীর্ঘ দুই দশক ধরে কুরআন গবেষক হিসেবে ব্যাপক ও মৌলিক কাজ করে আসছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় হলো- ইসলামের সে সকল মূল বিষয়, যা সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের বক্তব্য এবং বর্তমান বিশ্বের মুসলিমদের জ্ঞান ও আমলের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। ইতোমধ্যে তাঁর লেখা ৪৩টি গবেষণাধর্মী পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে। এসব পুস্তিকায় তিনি মুসলিম সমাজে প্রচলিত জ্ঞানগত ভুল ধারণার সংস্কার করে কুরআন, সুন্নাহ ও Common sense-এর আলোকে ইসলামের সঠিক তথ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হলো 'আল কুরআন যুগের জ্ঞানের আলোকে অনুবাদ' এবং 'সনদ ও মতন সহীহ হাদীস সংকলন'। এ দুটির সম্পাদনা পরিষদের নেতৃত্ব তিনি দিয়েছেন। এ ধরনের কুরআনের অনুবাদ ও হাদীস সংকলন পৃথিবীতে এ দুটোই প্রথম।