আলোচ্য বিষয়ের সারসংক্ষেপ মহান আল্লাহ তা‘য়ালা মানুষকে দুনিয়ার কর্মের ভিত্তিতে পরকালে বিচার করে পুরস্কার বা শাস্তি দেবেন। এ বিচার হবে সর্বোচ্চ মানের ন্যায়বিচার। কর্মের ভিত্তিতে দেওয়া পুরস্কার বা শাস্তি ন্যায়বিচার হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হলো- করণীয় ও নিষিদ্ধ কাজ কোনগুলো তা মানুষকে জানিয়ে দেওয়া বা তা যেন মানুষের অজানা না থাকে। এ পূর্বশর্ত পূরণ করার জন্য আল্লাহ তা’য়ালা তিনটি কাজ করেছেন- ১. করণীয় ও নিষিদ্ধ বিষয়ের বর্ণনা ধারণকারী নির্ভুল কিতাব পাঠিয়েছেন। ২. কথা, কাজ ও সমর্থন বা সুন্নাহ এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে কিতাবকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নবী-রাসূল (আ.) পাঠিয়েছেন। ৩. কিতাব ও সুন্নাহর বক্তব্য যেন কোনো মানুষের অজানা না থাকে সেজন্য কিতাব ও সুন্নাহর বক্তব্য অন্যের কাছে পৌঁছানোকে সকলের জন্য ফরজ বা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তাই, কুরআন ও সুন্নাহর বক্তব্য অন্যের কাছে পৌঁছানো উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য ফরজ। ইসলামে এটিকে দাওয়াতী কাজ বলে। দাওয়াতী কাজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো- বক্তব্য বা ওয়াজ-নসীহতের মাধ্যমে ইসলামের তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছানো। এ কাজটি মুসলিম বিশ্বে পূর্বের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে কুরআন ও সুন্নাহর নিষিদ্ধ বিষয়ের আমল মুসলিম বিশ্বে আগের তূলনায় অনেক বেশি। কেন এমনটি হচ্ছে তা সকল চিন্তাশীল মুসলিমকে বিশেষভাবে ভাবতে হবে এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের পর্যালোচনায় যেটি প্রমাণিত হয়েছে সেটি হলো- কুরআন ও সুন্নাহ দাওয়াত উপস্থাপনের যে নীতিমালা দিয়েছে, সেটি অনুসরণ না করাই এর প্রধান কারণ। তাই, কুরআন ও সুন্নাহ এবং Common sense-এর আলোকে দাওয়াতী কাজের যে নীতিমালা পাওয়া যায় সেটি এ পুস্তিকাটিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। দাওয়াতী কাজের বিষয়ে উম্মাহকে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিতে এ পুস্তিকা বিশেষ ভূমিকা রাখবে- ইনশাআল্লাহ।
Title
গবেষণা সিরিজ - ২৯ : ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় বক্তব্য বা ওয়াজ-নসীহত উপস্থাপনের নীতিমালা
প্রফেসর ডা. মো. মতিয়ার রহমানের জন্ম বাংলাদেশের খুলনা জেলার ডুমুরিয়া খানার আরজি-ডুমুরিয়া গ্রামের এক ধার্মিক পরিবারে। নিজ গ্রামের মাদ্রাসায় তাঁর শিক্ষা জীবন আরম্ভ। ছয় বছর মাদ্রাসায় পড়ার পর তাঁকে ডুমুরিয়া হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালে তিনি যথাক্রমে ডুমুরিয়া হাইস্কুল ও সরকারী বি.এল কলেজ, দৌলতপুর, খুলনা থেকে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি পাস করেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে MBBS পাস করেন। দ্বিতীয় ও ফাইনাল প্রফেশনাল MBBS পরীক্ষায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাক্রমে ৬ষ্ঠ ও ১০ম স্থান অধিকার করেন।
MBBS পাস করে তিনি সরকারি চাকুরীতে যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে ইরাক সরকারের চাকুরী নিয়ে সেদেশে চলে যান। ৪ বছর ইরাকের জেনারেল হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে চাকুরী করার পর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান এবং ১৯৮৬ সালে গ্লাসগো রয়েল কলেজ অফ ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জনস থেকে জেনারেল সার্জারিতে FRCS ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশে ফিরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে কনসালট্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রফেসর এবং সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।। তিনি ল্যাপারোসকোপ (Laparoscope) যন্ত্র দিয়ে একক হাতে (Single handed) পিত্তথলির পাথর (Gall Bladder Stone) অপারেশনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ সার্জন (Surgeon)।
প্রফেসর ডা. মো. মতিয়ার রহমান চিকিৎসক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি দীর্ঘ দুই দশক ধরে কুরআন গবেষক হিসেবে ব্যাপক ও মৌলিক কাজ করে আসছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় হলো- ইসলামের সে সকল মূল বিষয়, যা সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের বক্তব্য এবং বর্তমান বিশ্বের মুসলিমদের জ্ঞান ও আমলের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। ইতোমধ্যে তাঁর লেখা ৪৩টি গবেষণাধর্মী পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে। এসব পুস্তিকায় তিনি মুসলিম সমাজে প্রচলিত জ্ঞানগত ভুল ধারণার সংস্কার করে কুরআন, সুন্নাহ ও Common sense-এর আলোকে ইসলামের সঠিক তথ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হলো 'আল কুরআন যুগের জ্ঞানের আলোকে অনুবাদ' এবং 'সনদ ও মতন সহীহ হাদীস সংকলন'। এ দুটির সম্পাদনা পরিষদের নেতৃত্ব তিনি দিয়েছেন। এ ধরনের কুরআনের অনুবাদ ও হাদীস সংকলন পৃথিবীতে এ দুটোই প্রথম।