আল কুরআনের অনুবাদ (তরজমা) ও ব্যাখ্যা (তাফসীর) করার প্রচলিত ও প্রকৃত নীতিমালা আলোচ্য বিষয়ের সারসংক্ষেপ আল কুরআন বর্তমান পৃথিবীতে উপস্থিত থাকা একমাত্র নির্ভুল ঐশী গ্রন্থ। এটি পৃথিবীর সকল মানুষের জীবন পরিচালনার তথ্য ও বিধি-বিধান ধারণকারী গ্রন্থ। আল কুরআনের ভাষা আরবী। তাই, আরবদের জন্য কুরআনের অনুবাদ লেখার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের (মুসলিম ও অমুসলিম) মাতৃভাষা আরবী নয়। তাই অনারব মানুষদের কুরআনের জ্ঞান অর্জনকে সহজতর করার নিমিত্তে অন্য ভাষায় কুরআনের অনুবাদ (Translation) লেখা বা বলা বিশেষভাবে প্রয়োজন। অনুবাদে যদি ভুল থাকে তবে তা পড়ে মানুষ ভুল জ্ঞান অর্জন করবে। তাই, অনুবাদককে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে নির্ভুল অনুবাদ লেখার জন্য। আর এটি করতে হলে কুরআনের অনুবাদের সঠিক নীতিমালা জানতে হবে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আল কুরআনের অনুবাদের প্রকৃত নীতিমালা বর্তমান মুসলিম জাতির নিকট উপস্থিত নেই। তাই, প্রচলিত প্রায় সকল অনুবাদে মৌলিক ত্রুটি উপস্থিত আছে। অন্যদিকে আল কুরআনের অনুবাদ জানলে কুরআনের সব জানা হয়ে গেলো বিষয়টি মোটেই এরূপ নয়। কুরআন সঠিকভাবে জানতে হলে কিছু কিছু শব্দ বা বাক্যের ব্যাখ্যা জানা খুবই প্রয়োজন। এটা আরব ও অনারব উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। উদাহরণ হিসেবে ‘আকিমুস্ সালাত’ কথাটি ধরা যায়। ‘আকিমুস্ সালাত’-এর অনুবাদ হলো ‘সালাত প্রতিষ্ঠা করো’। কিন্তু ‘আকিমুস্ সালাত’ কথার শুধু এ অনুবাদটি জানলে আল্লাহ তা’য়ালার দেয়া এ মহাগুরুত্বপূর্ণ আদেশটির তেমন কিছুই জানা হলো না। এ আদেশটিতে আল্লাহ তা’য়ালা কি বলেছেন তা জানতে হলে সালাত প্রতিষ্ঠা করা কথাটির ব্যাখ্যা জানতে হবে। আর ‘আকিমুস্ সালাত’ কথাটির সঠিক ব্যাখ্যা করতে হলে কুরআন ব্যাখ্যার (তাফসীর) নীতিমালা জানতে হবে। অনুবাদ করার ন্যায় কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা করতে হলেও কুরআন ব্যাখ্যার সঠিক নীতিমালা অবশ্যই জানতে হবে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আল কুরআনের ব্যাখ্যারও প্রকৃত নীতিমালা বর্তমান মুসলিম জাতির নিকট উপস্থিত নেই। তাই, কুরআনের প্রচলিত প্রায় সকল ব্যাখ্যা (তাফসীর) গ্রন্থে মৌলিক ত্রুটি উপস্থিত আছে। আর তাই, কুরআনের অনুবাদ ও ব্যাখ্যার প্রকৃত নীতিমালা মুসলিম জাতি ও বিশ্বমানবতার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয়। আলোচ্য বইটিতে মুসলিম জাতি ও বিশ্বমানবতার মহাকল্যাণের জন্য আমরা এ বিষয়টি উপস্থাপন করার চেষ্টা করবে, ইনশাআল্লাহ।
Title
গবেষণা সিরিজ - ২৬ : কুরআনের অর্থ (তরজমা) ও ব্যাখ্যা (তাফসীর) করার প্রকৃত নীতিমালা
প্রফেসর ডা. মো. মতিয়ার রহমানের জন্ম বাংলাদেশের খুলনা জেলার ডুমুরিয়া খানার আরজি-ডুমুরিয়া গ্রামের এক ধার্মিক পরিবারে। নিজ গ্রামের মাদ্রাসায় তাঁর শিক্ষা জীবন আরম্ভ। ছয় বছর মাদ্রাসায় পড়ার পর তাঁকে ডুমুরিয়া হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালে তিনি যথাক্রমে ডুমুরিয়া হাইস্কুল ও সরকারী বি.এল কলেজ, দৌলতপুর, খুলনা থেকে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি পাস করেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে MBBS পাস করেন। দ্বিতীয় ও ফাইনাল প্রফেশনাল MBBS পরীক্ষায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাক্রমে ৬ষ্ঠ ও ১০ম স্থান অধিকার করেন।
MBBS পাস করে তিনি সরকারি চাকুরীতে যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে ইরাক সরকারের চাকুরী নিয়ে সেদেশে চলে যান। ৪ বছর ইরাকের জেনারেল হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে চাকুরী করার পর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান এবং ১৯৮৬ সালে গ্লাসগো রয়েল কলেজ অফ ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জনস থেকে জেনারেল সার্জারিতে FRCS ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশে ফিরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে কনসালট্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রফেসর এবং সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।। তিনি ল্যাপারোসকোপ (Laparoscope) যন্ত্র দিয়ে একক হাতে (Single handed) পিত্তথলির পাথর (Gall Bladder Stone) অপারেশনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ সার্জন (Surgeon)।
প্রফেসর ডা. মো. মতিয়ার রহমান চিকিৎসক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি দীর্ঘ দুই দশক ধরে কুরআন গবেষক হিসেবে ব্যাপক ও মৌলিক কাজ করে আসছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় হলো- ইসলামের সে সকল মূল বিষয়, যা সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের বক্তব্য এবং বর্তমান বিশ্বের মুসলিমদের জ্ঞান ও আমলের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। ইতোমধ্যে তাঁর লেখা ৪৩টি গবেষণাধর্মী পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে। এসব পুস্তিকায় তিনি মুসলিম সমাজে প্রচলিত জ্ঞানগত ভুল ধারণার সংস্কার করে কুরআন, সুন্নাহ ও Common sense-এর আলোকে ইসলামের সঠিক তথ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হলো 'আল কুরআন যুগের জ্ঞানের আলোকে অনুবাদ' এবং 'সনদ ও মতন সহীহ হাদীস সংকলন'। এ দুটির সম্পাদনা পরিষদের নেতৃত্ব তিনি দিয়েছেন। এ ধরনের কুরআনের অনুবাদ ও হাদীস সংকলন পৃথিবীতে এ দুটোই প্রথম।